2015-05-26 08.51.54ঘটনাগুলো যদিও বাস্তব তবুও বলতে হচ্ছে কাল্পনিক কেননা স্বাধীনতাত্তোর এই বর্তমান বাংলাদেশের রাজনিতীবিদদের নীতিহীনের কালো থাবা অক্টোপাশের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বাংলাদেশের প্রতিটি সেক্টরে। প্রচীন প্রবাদ বাক্য ” দেয়ালেরও কান আছে” তা এখন বাস্তব।কে কোথায় কার কখন কল্লা ফেলে দিবে বোধ করি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও আগ বাগ জানতে পারছি না কেননা শত্রুর বীজের জাল দেশের প্রতিটি সেক্টরে বিছানো।তবুওতো আল্লাহ মুখ যখন দিয়েছেন তখনতো কিছুটা হক কথা না বললে নিজেকে নিজের কাছে অপরাধী হয়ে যাবো তাই ভয়ে নয় এক প্রকার দায়েই শুরু করছি  ঘূণে ধরা সমাজের ব্যাঙ্গাত্তক কয়েকটি পর্বে ভাগ করা একটি গল্প “নেতিবাচক কল্প গল্পের বাকী ইতিহাস”।কারো জীবনের সাথে মিলে গেলে ক্ষমা করবেন। -{@  -{@  -{@ 

একটি অতি আধুনিক সম্ভ্রান্ত পরিবার যাদের সকল আত্তীয় স্বজন দেশের এক একটি সেক্টরের কর্ণধার।কেউ ডিজি,কেউ সেনাবাহিনীর বড় কর্তা কেউ বা রাষ্ট্রের গুরুত্তপূর্ণ পদে অধিষ্টিত।গল্পের নায়কের নাম আতাউর রহমান দেশে এবং বিদেশ থেকে উচ্চতর ডিগ্রী নেয়া।চরিত্রের দিক দিয়ে সলিড কালার।তার জীবনের প্রথম চাকুরী সরকারী এক বড় কর্মকর্তা।ধরা যাক ভূমি মন্ত্রনালয়ের এক জেলা শাখার বড় কর্তা মিঃ আতাউর রহমান।ভূমি মন্ত্রনালয়ের কোন এক শাখায় চাকুরী পেতে মনে হয় এই এক জন ই যে, কাউকে কোন ঘোষ দিতে হয়নি তবে বড় কোন সুপারিশ ছিল বলেই হয়তো চাকুরীটা পাওয়া তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল।

 -{@ জীবনে প্রথম অফিস করা:
অফিসে ঢুকে সে অবাক হন,কি বিশাল আয়োজন।তার টেবিলের এক পাশে প্রচুর নামী দামী গিফ্ট যার যার নাম ও কর্ম পরিচয়ের ষ্টিকার লাগিয়ে সারি বদ্ধ ভাবে সাজিয়ে রেখেছেন অফিসের কর্মচারীরা।সে সিম্পল একটি নীল সলিড কালারের হাফ শার্ট ও ক্রীম কালারের একটি পেন্ট পড়ে অফিসে ঢুকেন।পায়ে ছিল চটি স্যান্ডেল তাকে দেখে প্রথমে পিয়নই ঢুকতে দিল না,সেও কোন পরিচয় দিলেন না কাজের অজুহাতে ভিতরে ঢুকে বসে আছেন পাবলিকের সোফায় দেখছেন..তার কর্মকর্তাদের কাজ কর্ম আর লেন দেনের অদেখা সব দৃশ্য।

তার পর সে তার রুমে ঢুকে বসে পড়েন চেয়ারটিতে সবাই তখন অবাক এত ক্ষণ যিনি ছিলেন দর্শক সারিতে সেই এখন সিনেমার মূল নায়ক।তার অধিনস্থ সব কর্মকর্তারা তার সম্মুখ বরাবর জড়ো হলেন।সেখানের একজন পরিচয় জানতে চাইলে সে তার অফিসের পরিচয় দেন এবং নিয়োগ পত্র সো করেন।সবাই স্যার স্যার বলা শুরু করল।ধীরে ধীরে রুমের লোকজন যার যার টেবিলে গিয়ে কানাঘোষা করতে থাকেন।এবার সবাই যেন শতর্ক।

বলতে না বলতেই টেবিলে চা নিয়ে ঢুকেন অফিস বয়।
-আপনি বলতে পারেন সাজানো এই সব কি?
-স্যার,আমাকে আপনি না বলে তুমি করে বললেই খুশি হবো।
-হুম!ভালইতো জ্ঞান বুদ্ধি আপনার..তেল মারতেও পারেন দেখছি….যাকগে যা বলছিলাম… ওসব কি?
-এগুলো স্যার অত্র জেলার বড় বড় লোকদের উপহার সামগ্রী।
-কার জন্য?
-জি,সব আপনার।
-হুম!তা আমার পূর্বে যিনি ছিলেন সেও কি এ সব দামী দামী উপহার পেয়েছিল?
-জি স্যার।
আতাউর সাহেবের বুঝতে আর বাকী রইল না যে এ উপহারগুলো তার জন্য কেনো পাঠিয়েছেন, এ সমাজের গণ্য মান্য ব্যাক্তিরা।কেউ কাউকে কিছু উপহার দিলে অন্ততঃ এই ডিজিটাল জগতে কেউ কাউকে নিস্বার্থ ভাবে দেন না এর বিনিময়ে অবশ্যই তারা কোন না কোন লাভ জনক সুবিদা তার কাছ থেকে নিতে চাইবে।এমন চিন্তা ভাবনার মাঝে টেলিফোন আসে।ক্রীং ক্রীং রিং হচ্ছে অনেক ভেবে চিন্তে টেলিফোনটা ধরলেন।
-সালামুআলাইকুম।
সালামের জবাব পেলেন না ফোনের অপর প্রান্ত থেকে।
-আতাউর সাহেব নাকি?
-জি বলছি, আপনি আমার নাম জানলেন কি করে?কে আপনি?
-আমাকে জানতে হয় না আমি জেনে যাই।বাই দ্যা বাই আপনার কাছে কিছু উপহার আছে সেখানে একটি প্যাকেটে জামদানী শাড়ী আছে দুটো।দুটো শাড়ীই হেড অফিস পাঠিয়ে দিবে বাকীগুলো তোমার যাকে দিচ্ছে হয় অথবা তুমি রেখে দিয়ো আরো একটি কথা মন দিয়ে শোন….ভাগের অংশটি মাসের দুই তারিখের মধ্যে আমার টেবিলে পাঠিয়ে দিবে কিন্তু।
-জি স্যার আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না….ভাগের অংশটিকে কি বুঝাতে চাচ্ছেন।
-আমার সাথে ফাজলামি করো…আলগা কামাই বুঝো?
-আমিতো স্যার ওসব করতে পারব না…আমার শিক্ষা আমাকে ঘুষ খেতে বলেনি।
-তুমি কি করবে আর কি না করবে সেটা তোমার ব্যাপার….কোথা থেকে কি ভাবে দিবে তাও জানতে চাই না,তোমার ঐ চেয়ারটায় বসে থাকতে চাইলে আমাকে আমার ভাগের অংশটি প্রতি মাসের দুই তারিখেই পাঠাবে…..বুঝলে?
-জি স্যার!
অপর প্রান্তের ব্যাক্তিটি টেলিফোন রেখে দেন।আতাউর সাহেব মনের ভিতর ভাবনা চলে এলো…তাহলে কি শ্রদ্ধেয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা “সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি”কবি এখন যদি জীবিত থাকতেন তাহলে এই রকম কবিতা কি লিখতে পারতেন!মনে হয় না!আশ্চর্য গুরু জনের বচন বাক্য “সদা সৎ পথে পথ চলিবে” কি মন থেকে মুছে ফেলতে হবে তাকে এখন?বিশাল টেনসনে পড়েন আতাউর সাহেব।কি করবেন কি করবেন না বুঝতে পারছেন না।কি যেন মনে করে তার টেবিলের ড্রয়ার টান দিয়ে খুলে আরো অবাক হন সে…ড্রয়ারে বিদ্যমান পাচশ এক হাজার টাকার নোট বেশ কয়েকটি সে তার অফিস বয়কে ডেকে জিজ্ঞাসা করেন।
-এই এখানে এত টাকা কার?
-স্যার সব আপনার!
-চউপ…আমাকে বোকা ভাবছো!পহেলা এপ্রিল কি আজ যে আমাকে এপ্রিলের ফুল বানাবে?
-না স্যার সত্যি বলছি এগুলো আপনার।
-মানে?খোলে বলো?
-এখানে বিশ হাজার দিয়েছেন তাল তলা ইউনিয়নের মেম্বরের একটি জমির কাজে পূর্ববর্তী স্যার এর বকসিস।স্যার বদলি হবেন সে বুঝতে পারেননি আর মেম্বার সাহেব পরবর্তী কাজে যাতে কোন আপনি বাধা সৃষ্টি না করেন সে জন্য এগুলো আপনাকেই মেম্বার দিতে বলেছেন.. আমিই আপনার ড্রয়ারে রেখেছিলাম,আপনাকে বলব বলে বলার সময় আর পায়নি।
-ঠিক আছে এগিকে..আসো।টাকাগুলো হাতে নাও।
অফিস বয় টাকাগুলো হাতে নিলেন।
-আমি কি করছি না করছি অফিসের আর কাউকে কিচ্ছু বলবে না।তোমার ব্যাংক এ্যাকাউন্ট আছে?
-জি স্যার আছে।
-আমি যে ক’দিন এই অফিসে থাকি যত টাকা আমার জন্য আসবে সব তোমার ব্যাংকে রাখবে,ঠিক আছে?
-জি স্যার,
-আজ এক্ষুনিই এই টাকাগুলো তোমার এ্যাকাউন্টে জমা করে আসবে।আর এখানে যা উপহার আছে,জামদানী শাড়ী দুটো হেড অফিসের সোবহান সাহেবের জন্য পাঠিয়ে দাও আর বাকীগুলো তোমাদের অফিসে যারা আছো তোমার ইচ্ছে মতো ভাগ করে দাও।
-স্যার আপনার জন্য?
-বাড়তি কোন কথা আমার সাথে বলবে না যা বলব তা শুনবে যা করতে বলব তাই করবে.. ঠিক আছে?
-জি,
-যাও টাকাগুলো ব্যাংকে রেখে আসো।
অফিস বয় টাকাগুলো জমা দিতে ব্যাংকে চলে গেলেন।আতাউর সাহেব অফিসের ফাইলগুলো এক এক করে দেখছেন।লাল ফিতে বাধা ফাইলগুলো কোনটা ময়লা পড়ে ফাইলের নাম মুছে গেছে কোন টা বা যকযকে পরিষ্কার অথচ ময়লাযুক্ত ফাইলগুলো ছেড়ে দেবার তারিখ বহু পূর্বেই গত হয়েছে হয়তো কোন দৈব কারনে সেগুলো আটকে পড়ে সেলের ভিতরে মাসকে মাস তা বলাবাহুল্য।

আতাউর সাহেব অফিস শেষ করে ঠিক পাচটায়,তার অধীনেস্ত অন্যান্য কর্মকর্তারা কেউ তিনটায় কেউ বা লাঞ্চের পূর্বে বলে অফিসে আর ফেরেননি।তার বাসায় চার পাচ বছরে এক প্রতিবন্দ্বী শিশু এবং এক মেয়েকে নিয়ে মোটা মোটি সূখী সংসার তার বলা চলে।ভার্সিটি জীবনে প্রেম করে বিয়ে করেন।স্ত্রী এখন একটি বেসরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসাবে কর্মরত আছেন।
রাতে বাসায় ফিরে সে আর ঘুমোতে পারেননি।সিদ্ধান্তহীনতায় ভূগছিলেন। চাকুরীটা করবেন নাকি ছাড়বেন যদিও আর্থিক টানাটানি সংসরে তবুও  শেষ পর্যন্ত সে বিবেকের কাছে হেরে গেলেন।
পর দিন অফিস হতে অফিস বয়কে সাথে করে গেলেন তার হেড অফিসে।বড় কর্তা সোবহান সাহেব তার পরিচয় পেয়ে একটু বিচলিত হলেও পরক্ষনে সে স্বাভাবিক ভাবে কথা বললেন।
-কি খবর আপনার?অফিস পছন্দ হয়নি!…বসুন।
-জি স্যার অফিসতো পছন্দ হবার মতোই তবে স্যার যদি কিছু মনে না করেন তবে আমার কিছু কথা ছিল।
-বলুন অবশ্যই বলুন,নতুনতো প্রথম প্রথম একটু ধাক্কা খাবেনই তার পর ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে।
-না মানে স্যার বলছিলাম কি….এই যে এই প্যাকেটটা আপনার।কোন পরিবর্তন হয়নি একে বারে খাটি জামদানী।আর এই প্যাকেটটায় কিছু অর্থ আছে যা আপনার জন্য।
-আপনার জন্য কিছু রাখেননি?
-না স্যার আমার লাগবে না তবে….।
-কি তবে, বলুন।
-এটা আমার চাকুরীর ছাড়ার দরখাস্ত…দয়া করে যদি গ্রহন করেন তবে বেশ উপকৃত হব।
-আপনি কি বুঝতে পারছেন আপনি যে ভাগ্য লক্ষীকে ফেলে দিচ্ছেন।
-সরি স্যার,তিক্ত কথায় যাব না,আল্লাহর রহমতে প্রত্যহ ডাল ভাত পেলেই জীবন ধন্য।
-তাহলেতো আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই…আপনার যা ইচ্ছে।দেখি কি করা যায়।

আতাউর সাহেব অফিসের বাহিরে এসে জিরাফের ন্যায় মাথা উচু করে তার হেড অফিসটা আরেক বার দেখলেন।মোটামোটি নিজেকে অনেক দিন পর মনে হলো কোন এক বন্দীশলা হতে এই মাত্র ছাড়া পেয়েছেন।মন মানষিকতায় যে চাপ তা বেশ হালকা লাগছে।সত্যি বলতে কি সৎ পথে চলার মজাই আলাদা কোন টেনসন নেই তাইতো প্রচন্ড খরমে ঘেমে যাওয়া দেহটাকে প্রকৃতির নির্মল শীতল বাতাসে নিজেকে আরাম করে নিলেন।,ইহকালে না পরকালে কোন কালেই নেই দেনা,নেই জীবনের উপর বাড়তি কোন বিশেষ চাপ… শুধু আছে প্রাপ্তি আর প্রাপ্তি।

 চলবে..
৩৫৩জন ৩৫১জন
0 Shares

১৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ