সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

নীলার ডায়েরী ৫

ইসিয়াক ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শনিবার, ০৭:১২:১৭অপরাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

অলক চলে যেতেই নীলার মাথায় অন্য এক চিন্তা বাসা বাধলো। বাক্সটা আকারে বেশ বড়।টুপ করে কোথাও লুকিয়ে ফেলবে সেই সুযোগ ও কম।বাসা ভর্তি লোকজন ,কম বেশি সবাই জানতে চাইবে কি আছে এতে? সে কী জবাব দেবে ,আর এতে কি আছে কে জানে বাবা।
বেশ ভাবনায় ফেলল ব্যপারটা,একবার মনে হলো ছুড়ে ফেলে দেবে।যত্তসব ঝামেলা, তারপর মনের ভিতর থেকে কে যেন বলল,কি আছে এতে তোর জানতে ইচ্ছা করছেনা? আসলে তাই খুব জানতে তো ইচ্ছা করছে। কি আছে এতে?

দুপুরের এই সময়টাতে সবাই ভাত ঘুমে ব্যস্ত। এটা এ বাড়ির অনেকদিনের নিয়ম।তাই নিয়ম করে এই সময়টা পুরো বাড়ি থাকে শুনশান নিরিবিলি।নীলা মনে মনে ভাবলো ভালোই হলো,সবাই ঘুমে এই সুযোগে ঘর পর্যন্ত পৌছাতে পারলেই কেল্লা ফতে।কেউ আর বাক্সটির ব্যপারে জানতে চাইবে না্।

সিড়িতে পা দিতেই দেখা হলো রসুল চাচার সাথে সাধারণত এই সময়টাতে পারভীনের মা আর রসুল চাচা ছাড়া আর কারো তেমন একটা সাড়া শব্দ থাকে না।বাড়ীর বড়রা যার যার নিজের ঘরে আর বাড়ীর ছেলে মেয়েরা এখন বৈঠক ঘর লাগোয়া বড় ঘরে।সবাই একরকম বন্দী বলা চলে,বাইরে বের না হওয়ার কড়া নির্দেশ আছে আছরের আজান অব্দী । বাধ্যতা মুলক বিশ্রামের সময় নির্দিষ্ট্ করে দেওয়া । কেউ অমান্য করলে কঠিন শাস্তি।রসুলকাকার চোখ কিছুতেই এড়ায় না।এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হলো না ।
-নীলা মামণি আজ একটু দেরী হলো মনে হয়?
-কই কাকা ,বেশি দেরি তো হয়নি। স্যারের সাথে একটু কথা বলছিলাম পরীক্ষার ব্যপারে। মা কি উপরে?
-হ্যাঁ।
-দাদু ফিরেছে?
-হ্যাঁ বড় আব্বাতো সেই কখন ফিরেছে?
পারভীনের মা কথার আওয়াজে রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে এলো।
-তাড়াতাড়ি গোসল সেরে এসে খেয়ে নাও্ তোমার ভাত নিয়েই বসে আছি। আমি একটু গড়াগড়ি দেবো।
-কখন এলে তুমি?
-তুমি বেরিয়ে যাওয়ার পরপরই।
-পারভীনরা ভালো আছে? ওর বাচ্চারা?
-হ্যাঁ সবাই ভালো আছে।
রসুলকাকা আর পারভীনের মা ,দুজনের সাথে এ বাড়ির কারো রক্তের কোন সম্পর্ক নেই। তাতে কি? তাদের সাথে এ বাড়ির সম্পর্ক হলো আত্মার। কবে থেকে তারা এবাড়িতে আছে দুজনের একজন ও সঠিক করে মনে করতে পারবেনা । শোনা কথা রসুলকাকাকে নাকি ষ্টেশনে কুড়িয়ে পেয়েছিলো দাদু।দাদী তাকে নিজের ছেলেমেয়েদের সাথে মানুষ করেছেন ,দুই চোখে দেখেননি কখনো। এখনো তার সেই সম্মান অটুট আছে। আর পারভীনের মায়ের জন্ম এই বাড়িতেই। মা বাপ হারা মেয়েকে তারা বিয়ে দিয়ে সংসারী করাতে চেয়েছিলেন।কিন্তু বিধাতার লেখন না যায় খণ্ডন।অকালে পারভীনের বাবার মৃত্যুতে আবারো ঠাই হলো এ বাড়িতে।তার পর পারভীন বড় হলো ।একদিন পারভীনের বিয়েও হলো। ওর মা স্থায়ীভাবে থেকে গেলো এ বাড়িতে।

২৭২জন ১৯৬জন
4 Shares

১৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য