স্মৃতিকথা” বলতে আমরা ঠিক কি বুঝি? কেন বুঝি?—-সেটাই ঠিক করে বুঝতে পারি না—সেলিব্রিটি দের ই কি স্মৃতি থাকে মানে স্মৃতিকথা মানেই বড় বড় ব্যাপার স্যাপার সেটা কিন্তু ঠিক না/ আপনি সাধারন মানুষ হিসেবেই আপনার স্মৃতি থাকতে পারে / খুব আহামরি স্মৃতি না থাকলেও আপনার কাছে সেটা অমূল্য—আপনি নিজে থেকে অমূল্য ভাবলে কারোর সাধ্য নেই মূল্যহীন ভাবে–

নীরা সাধারন বাড়ির মেয়ে –সরল সাধারন তাঁর ক্ষেত্রে সম্ভব না শুধুমাত্র স্মৃতিকথার জন্য ঠাকুরবাড়িতে জন্ম হওয়া বা শুধুমাত্র স্মৃতি ধরে রাখতে গান্ধী পরিবারে হানা দেওয়া –বড্ড সাধারন এক দুষ্টু মিষ্টি মেয়ে তবে বাংলা সিনেমা গরিব মেয়ে বলেই যে খুব সাধাসিধে মার খাচ্ছে ভালো সেরকমটি ভাবতে যাবেন না কারন গরিবরা মার খেতে যেমন জানে দিতেও তেমন জানে/

নীর ছোটোবেলায় নাকি খুব দুষ্টু ছিল মা নেই ছিল না তাই নাকি দুষ্টুমিটা খুব বেশি–যাদের নাকি বাবা মা থাকেনা তাঁরা যেমন দুঃখে থাকে তেমনি খুব রাগী আর দুষ্টু ও হয় — নীরা ছোটবেলায় খুব আনমনা ছিল –কথায় কথায় রেগে যাওয়া মারধর এগুলো বাড়ির নিত্যদিনের ঘটনা—/ বাবা মা না থাকার ই মত —বাবা মা আপনজনেরা ভালো না হলে পুরো সমাজটাই তাঁর কাছে নেকড়েবাঘ হয়ে ওঠে–সমাজ হচ্ছে তেল মাখানো বড় কূপ–যতই ঢালবেন ততই তেল পাবেন না ঢালবেন তো কূপে পড়ে যাবেন–

যাইহোক নীরা র চারবছর। স্কুলে যাওয়া শুরু –কেমন একা একা লাগত–কল্পনা করতে ভালোবাসত –কখনো কখনো রাতে দিনে স্বপ্নে হাসত কাঁদত–আর সারা দিন স্বপ্নের জালে নিজেকে বিছিয়ে রাখত— কা খা গা শিখতে হল। কি খি শিখতে হল। ধারাপাত যুক্তাক্ষর নামতা সব শিখল। সব কিছুর মধ্যে সে কোন কিছু খুঁজে বেড়াত । কত প্রশ্ন জটিলতার সমুদ্র তাঁর মাথার মধ্যে ঘুরপাক খেত।

কখনো বলত সে ছেলে হয়ে গেছে? কখনো বলত মেঘের ওপার থেকে আলদীন ডাকছে? আবার বলত স্বয়ং ভগবান নাকি তাঁর কাছে এসেছিল তাঁর প্রসাদ খেয়ে গেছে?

নানরকম আজগুবি চিন্তাধারা র ঝড় বইতো মাথার ভিতরে । সবাই বাচ্চার কারচুপি বলে উড়িয়ে দিত।

নীরার দিন এমনি কাটছিল। কল্পনা খেলাধুলা আর গরিবের সংসারের খাওয়া দাওয়া –কখনো আমের টুকরো তালের শাঁস পেন খাতা রোদে বসা নিয়ে মারামারি কে আগে যাবে ?কে আগে স্নান করবে? এগুলো নিয়েই কেটে যাচ্ছিল—

নীরার ১২ একটু বুঝতে শিখল। বড় হচ্ছে আস্তে আস্তে। বই পড়তে ভালো লাগত আর সিনেমা দেখতে। আর কল্পনা গুলো সেতু বাঁধতে শুরু করেছে–গভীর মনোযোগ আর গাঢ় কল্পনার জগতে মেতে থাকতে পছন্দ করত –তখন থেকেই মাথার মধ্যে প্রেম জিনিসটা জট পাকিয়ে যায় –তাঁর প্রেম ভালোবাসা অনেক আশা স্বপ্ন ছিল –দিনে রাতে তিন চারটে করে স্বপ্ন দেখে ফেলত– কিন্তু হায়রে বাস্তব বড় কঠিন প্রেম গরিবের রক্তে রিক্সাটানায় মাত্র ফুরফুরে ভালোবাসায় ভরায় না/ পেটে টান পড়লে ভালোবাসা ও ফুরিয়ে যায় –বাস্তব বড় কঠিন সেখানে কোন কল্পনা ডানা মেলে না ডানা কেটে তাঁকে কাজের মেয়ে বাচ্চা জন্ম দেয়ার মেশিনে পরিনত করা হয় !

নীরা বড় হচ্ছে! রামায়ন মহাভারত আরব্য উপণ্যাস ওই বয়েসে শেষ করে ফেলে — আধ্ম্যাত্মিক ব্যাপারেও তাঁর খুব আগ্রহ– সর্ব বস্তুতে ভগবান থাকে –এই ব্যাপারটা তাঁর মনকে খুব নাড়া দেয় –স্বপ্নে কৃষ্ণকে দেখে চমকে ওঠে— না খাওয়া অবস্থায় ভাবতে শুরু করে — কল্পনায় ভগবান কে দেখে কেঁদে ফেলে–সন্ন্যাস নিতে ইচ্ছে করে তাঁর–সবাই হাসাহাসি করে –নীরা র চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে যায় —নীরা কাতর হয়ে ওঠে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে চায়–এ কেমন নারীজীবন? সবসময় পরাধীন?

কেমন জীবন? পরনির্ভরশীল?

শৈশব কৈশোরে জ্যাঠা দাদু কাকা? যৌবনে স্বামী?বৃদ্ধ বয়সে ছেলেমেয়ে —নিজের অবস্থান কোথায়?

এইসব চিন্তা ভেবে ভেবে কেঁদে ওঠে! তাঁকেই রানুদিদির মত বিয়ে করতে হবে?মার খেতে হবে? ভেজা শাড়িতে সারারাত দাঁড়িয়ে থাকতে হবে? রক্তে ভিজেও চিৎকার করা যাবেনা?মারলেও হাসিমুখে থাকতে হবে?

ইচ্ছার কোন দাম থাকবে না? কাজের লোক আর গরিবের ঘরের বৌ র মধ্যে কোন ফারাক নেই?

৪৭৪জন ৩৯৩জন
3 Shares

৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য