নির্বাক

অনুশঙ্কর গঙ্গোম্যাক্সিম ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, সোমবার, ০৪:৫৫:২৩অপরাহ্ন বিবিধ ৯ মন্তব্য

ফাল্গুনের পরন্তু বিকেল,দুপুরের তপ্ত
রোদের উষ্ণতা কমে এসেছে।
বাড়ি হতে ফিরে ক্লান্ত শরীর
বিছানায় উপর
লেলিয়ে দিয়ে শুয়ে আছে আবিদ। আবদ্ধ
জানলা দিয়ে পেছনের
বাড়ি হতে পুরনো দিনের
হিন্দি গানের হালকা সুর
ভেসে আসছে। জানলার
পর্দা সরিয়ে দিতেই
সোনালি বিকেলের সিদুঁর
রাঙা আলোয় আলোকিত হয়ে গেল
পুরো রুম। পিছনের তন্দ্রাদের
বাড়িতে কার যেন বিয়ে হচ্ছে। এতদিন
গ্রামের বাড়িতে থাকায় কার
বিয়ে জানা নেই, সন্ধ্যায়
তন্দ্রা ছাদে উঠলে হয়তো জানা যাবে।
সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তার ঘুম
ভাঙে,জানলা পর্দা সরিয়ে তন্দ্রাদের
বাড়ির দিকে চেয়ে আছে। আকাশ পূর্ণ
চন্দ্রালোকে আলোকিত, দূরদৃষ্টির
সীমান্তে নক্ষত্রের মেলা। নিয়ন
আলোর রঙিন আলোয়
রাঙিয়ে আছে তন্দ্রাদের বাড়ি, কিন্তু
ছাদে কেউ নেই কেন? প্রতিদিন এই
সময়টায়তো তন্দ্রা ছাদে আসে, ইশারায়
কথা হতো আবিদের সাথে। আবিদ এই
বাসায় আছে আজ প্রায় চার বছর,
প্রতিদিন সন্ধ্যা নেমে এলে চা এর কাপ
হাতে বেলাকনিতে বসে তন্দ্রাদের
বাড়ির ছাদে দৃষ্টি দেওয়া ছিল
নিয়মিত কাজ। প্রথম যে দিন বৃষ্টিস্নাত
বিকেলে এলোমেলো চুলে তাকে দেখে মনে হয়
যেন সদ্য ফোটা কোন পদ্মফুল।এরপর থেকেই
চোখে চোখ রাখা ,ইশারায় কথা বলা।
গত চারটি বছরেও বড় লোকের
মেয়ে ভেবে কখনও সামনে যাওয়ার
সাহস হয়নি, মনের কথা হয়নি বলা।
নীরবে মনের গহীনে লালিত
ভালোবাসা আজ যেন অস্থির
হয়ে উঠেছে। আজ কেন জানি সবকিছু
এলোমেলো মনে হচ্ছে। আবিদ বাড়ির
ছাদে গিয়ে তন্দ্রাদের বাড়ির
গেইটে দিকে তাকাতেই চোখের
দৃষ্টিশক্তি যেন ঝাপসা হয়ে আসছে।
সোডিয়াম আলোর
অক্ষরে লিখা (তন্দ্রার শুভ পরিনয়) একবার
জ্বলে আর নিভে। আবিদের দুচোখে যেন
আজ ভাসছে শ্রাবণ রাতের প্রথম
দেখা তন্দ্রার মুখশ্রী। চাঁদনী আলো যেন
পৃথিবী বুকে আলতো দুধ ঢেলে দিচ্ছে।
কিন্তু হাজার আলোকবর্ষ দূরের
চন্দ্রালোকের আলো আজ আবিদের মনের
ঘরে পৌঁছে দিতে যেন অপারগ। নিশীথ
অমাবশ্যার নিকষ
আধাঁরে ডুবে আছে আবিদের মন।

২১৮জন ২১৮জন
0 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য