নিরন্ন পথিক

খাদিজাতুল কুবরা ৮ নভেম্বর ২০২১, সোমবার, ১২:৪৪:১০পূর্বাহ্ন কবিতা ১৫ মন্তব্য

তোমাকে আশ্রয় করে জন্মেছিলো যে কাব্যের ছত্রাক,

আমিই তার জননী ‘পরজিবী অকবি ‘।

তোমার সাথে সাথে আমি এবং আমার আত্মজা অকবিতা বিলুপ্ত প্রায় ।

আজ বুঝতে পারছি,

আমিই সেই নিরন্ন শব্দহীন পথিক।

আমার নিজের কোন বর্ণমালাই নেই, শব্দতো অবান্তর,

আর কাব্যিক চরণ “আকাশ কুসুম কল্পনা”।

তাই তো শৈশব, কৈশোর এবং  তারুণ্য অরণ্যে রোদন করেছে অহেতুক জিদে; কতিপয় অজ্ঞাতনামা শব্দের খোঁজে,

ফলাফল বরাবরই শূন্যের কোঠা পূর্ণ করেছে।

পৌঢ়ত্বে সূর্য যখন মাথার উপর খাড়া

হিমেল হাওয়ার পরশ নিয়ে কে ঝাপটা দিয়ে বেরিয়ে গেলো

সম্পূর্ণ অপরিচিত হয়ে ও এক লহমায় চিনতে পারলাম তুমিই সে যাকে এতোকাল খুঁজছিলাম।

ব্যস হয়ে গেল __

পড়ি কি মরি করে বোবা প্রাণে শব্দের সঞ্চার হলো, সঞ্চার কি গো!

ওরা জ্বলোচ্ছাস বইয়ে দিলো

খাঁ খাঁ বুকটা পলিতে তখন উর্বর।

নব উদ্দমে এক এক করে শ’য়ে শ’য়ে কাব্যের চাষ হলো।

সুজলা সুফলা কবিতারা উজালায় নিত্য নতুন রুপে।

যখন পৌরাণিক  ব্যাখ্যামতে তুমি আপনালয়ে।

একটি প্রশ্ন বোধকে ভূলুণ্ঠিত সব শব্দের শাব্দিক অর্থ!

আমি কাকে ভালোবাসতাম?

কিন্তু তোমার জন্য আমার আনকোরা কষ্টরা খন্ড খণ্ড বিভক্ত হয়,

কখনো জোট বেঁধে আকার নেয়না।

আমি এ পর্যায়ে দ্বিধাবিভক্ত / চরম বিরক্ত!

তবে কী আমি শব্দ কুহকে জড়িয়ে পড়েছি?

কিন্তু তুমি যে হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালা,

আমার বর্ণ, গন্ধ, রক্তিম হৃদপিণ্ডটা ও তোমার পিছু নিয়েছে!

ওদের কী হবে?

শব্দগুলো ও দেখছি ছুটছে বিচ্ছিন্ন ভাবে….

আমি জানি ওদের জলাঞ্জলি হবে তোমার বাঁশরীর হাতে।

আমি ফিরে এসেছি পথে নিরন্ন পথিক বেশে।

২১৩জন ২৫জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য