নাম কথন//

বন্যা লিপি ১২ জুলাই ২০২০, রবিবার, ০২:২৫:৫৭পূর্বাহ্ন আড্ডা ৩৫ মন্তব্য

ফেসবুক ওয়ালে গতবছরের কোনোএক সময়ে আমি আমার বন্ধুদের ( সব পুরোনো স্কুল বন্ধু এবং আমার স্থানীয় পুরোনো স্বজন) সাথে শেয়ার করেছিলাম নাম কথন। ছেলে বেলায় কার কয়টা নাম ছিলো? অনেকেই এখানেও আছেন,  স্কুল কিংবা পিতা মাতার আকীকা দিয়া নাম করনের পরেও বন্ধু বান্ধব বা কোনো না কোনো গুণের কারনে, কোনো নির্দিষ্ট কাজের ধরন অনুযায়ী জীবনে কেউ না কেউ উপাধি মূলক নাম আয়ত্ব করে নিয়েছেন বা পেয়েছেন। খুব ছোটবেলা থেকেই জেনে আসছি আমার কয়েকটা নামের পেছনে কারন।  জিসান সাহেব সে বিষয়ে লিখেছিলেন একবার এক কাহিনী। ব্লগ বাসী জানেন সে বিষয়ে। আমিও ভেবেছি সে বিষয়ে নিজের মতো কিছু লিখবো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তি  কিছু মাসের মধ্যে যে ঘটনার কারনে আমাকে অনেকেই অনেক কাল পর্যন্ত সে নামেই মনে করত!বেড়ে উঠতে উঠতে লিপি নামটাই সবার মুখে মুখে।

একটা মজার কাহিনী একটুখানি বলি এখানেঃ-

আমি তখন দুই বাচ্চার মা, ছেলের বয়স এক বছরও হয়নি। মেয়েটা প্রায় ৪ বছর বয়স। শশুড় বাড়ির এক আত্মিয়ার বিয়ে হয়েছে আমার বাপের বাড়ির গ্রামে। সম্পর্কে ননদ হয়। অনেকদিন অনেক করে বলাতে একদিন বিকেলে নদী পেরিয়ে ওপারের গ্রামে শেফালীর শশুড় বাড়ি দেখা করতে গিয়েছি মেয়ে আর আমার কজিন বোনকে নিয়ে। প্রচুর খুশি আমাকে আর ভাস্তিকে দেখে। অনেক আপ্যায়ন করলো। সবচে মজার বিষয় হলো,  আমি যাওয়াতে ভীড় পরে গেলো শেফালীর শশুড়ের ঘরে। তাঁরা ভাবতেই পারছিলোনা আমি( চাঁদ স্যারের মেয়ে)  তাঁদের বাড়িতে যেতে পারি কখনো তাও তাঁদের বাড়ির বউএর ভাবি হয়ে। যাই হোক। এরকম কাহিনী আমার সাথে প্রায়ই ঘটে আমার শশুড় বাড়িতে। -‘ ওমা! বড় মেয়ার  (আমার শশুড়কে গ্রামের সবাই বড় মিঞা’ বলে সম্বোধন করতেন/ করেন এখনো। আজিজ বড় মিঞা।)  মোগো বাড়ি আইবে বা মোগো বাড়ি আনতেআরমু,  এয়া ভাবজি কোনোসময়?’ আমি অবাক হতাম। এমন কইরা কয় ক্যা? আমি কি হাতি না ডাইনোসর?  তো যাই হোক,  যে কথা বলছিলাম! আচ্ছা- কি যেন বলছিলাম?…………………………. দাঁড়ান একটু উপর থেকে আবার লেখা পড়ে আসি…………..   . ওহ্.. হ্যাঁ মনে পড়ছে। শেফালী বসলো আমাকে তাঁর শশুড় বাড়িতে কতটা ভালো আছে সে গল্প শোনাতে। সন্ধ্যার আগেই আমাকে ফিরতে হবে। কিছুতেই সহজে ছাড়বে না। অনেক বলে কয়ে বিদায় নিয়ে রাস্তায় বেড়োলাম। পিছু পিছু অনেকটা এগিয়ে দিলো পুরো একটা দল।

গ্রামের ভেতর দিয়ে মহাসড়কে উঠে এলাম,  যাকে বলে বিশ্বরোড বা হাইওয়ে। একটা বহু পরিচিত স্কুল আছে ওখানে।  ইছানীল স্কুল। ও পর্যন্ত আসতেই কোনো এক বাড়ির আঙিনা থেকে একজন বৃদ্ধা এগিয়ে এসে আমার পথরোধ করে দাঁড়ালেন। আমি থতমত!….. কপাল কুঁচকে তাকালাম ব্যাপার কি? চোখ মুখে সটান প্রশ্নঃ ‘ মনু,  তুমি কি মৌজালী( মৌজে আলী সরদার) সরদারের নাতী? চানের ( আমার আব্বার নাম শামসুল ইসলাম চাঁদ) মাইয়া স্মৃতী?  আমি কি জবাব দেবো এ প্রশ্নের? দাদা বাবা’দের নাম তো ঠিকঠাকই বললেন কিন্তু শেষে আমার নামটাতেই ঘাপলা? কিছু সময়ের জন্য হয়ত বিস্মৃত হয়ে গিয়েছিলাম। পরমুহুর্তেই আচুক্কা মনে পরছে……আরে!! আমার নামই  তো সবাই স্মৃতী বলে জানতো! এটা সেই এলাকা, যেখানে এখনো অনেকেই বেঁচে আছেন মৌজে আলী সরদারের নাতী আর তাঁর বড় ছেলের মেয়েকে স্মৃতী নামেই চেনে।

তো যাই হোক—,  বড় হতে হতে মজার মজার কত নাম থেকে যে উৎরে এসেছি তার ইয়ত্তা নেই। বহু পর্যায় ভেঙে ভেঙে বহু নাম পাওয়াও ইতিহাসের সামিল।  বন্ধুরা কেউ কখনো সুযোগ পায়নি কোনোরকম ব্যাঙ্গাত্বক নাম দেবার। মামা বাড়ি জন্ম আমার। ছোট মামা নাম দিয়েছিলেন শিমুল। তারাও অনেক বছর এ নামেই সম্বোধন করতেন। তারপর সব ভুলে গেছে। বিয়ের পরে কত নাম পেয়ে যাই এমনিতেই, শাশুড়ির ডাক, বউ, দেবর ননদদের ভাবি,ননসের ছেলে মেয়ের মামি, দেবরদের বিয়ের পরে তাঁদের বাচ্চাদের বড় মা, চাচাতো ভাই বোনদের বড় আপু, বুজি। এসব নাম নয়, আমিও জানি, এসব ডাক, সম্পর্কের ডাক / সম্বোধন।

ভালবাসা বা আদরে আমরা প্রিয়জনদের কত নামে ডাকি। তেমনি সোনেলায় ভর্তি হয়ে নিজের নাম লেখাবার পরে এখানেও পেয়েছি এরকম অনেককে। তবে সেই কাহিনীতেই আসি এবার–>>>>

আইডি খোলার পরেও ব্লগে ইন করতে পারিনি বহুদিন। গ্রুপে টুকটাক লেখা ওয়াল থেকে শেয়ার দেই। একদিনের শেয়ারকৃত লেখা পড়া বা লিংক ওপেন না হওয়াতে ব্লগার সাবিনা ইয়াসমিন মন্তব্যের ঘরে জানতে চাইলেন কারন কি? আমি কারন বলবো কি ঘন্টা? কিছু বুঝিইনা!  কি দিয়ে কি হয় না হয়! কি ভেবে বললাম, আপনি আমার ওয়াল থেকে পড়ে দেখতে পারেন। তিনি আমার ফ্রেন্ড লিষ্টে যুক্ত হলেন। আমাদের কথা হয়নি তখনো কোনোরকম। একটা ছবিতে মন্তব্য করায় তিনি রিপ্লাই দিলেন……’ কোনো নতুন গল্পের শিরোনাম? ‘ -না, আপনার ছবিটা দেখে ক্যাপসন দিলাম।

— আপনাকে যেটা করতে বলেছিলাম করেছেন?

: আমি আসলে মোবাইল সম্পর্কে এত আপটুডেট না।  অনেক কিছুই বুঝি না।

– আচ্ছা,  আমি আপনাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে ব্রিলিয়ান্ট মাস্টারনীর মতো আমাকে শেখালেন।আরেকদিন আবার বললেন, – আপনার লেখাগুলো ব্লগে দিচ্ছেন না কেন?

: কি না কি লিখি! কিছু হয় কিনা তাই বুঝি না!

–ব্লগে দিলেই বুঝবেন কি হয় না হয়।আপনার আইডি করা নেই?

: আমি ব্লগে ইন করতেই তো পারছি না!

–জিসান সাহেবকে বলুন, শিখিয়ে দেবে।

জিসান সাহেবও ধৈর্য ধরে শিখিয়ে দিলেন। তারপরে ব্লগইন করলাম। সহজে লেখা দেইনা। লেখা পড়ি,  মোটামুটি রকম মন্তব্য করার সাহস করি। অনেক পরে কথকতা নিয়ে ব্লগার হয়ে লেখায় প্রবেশ।  তখন কয়েকজন ব্লগার ছিলেন যারা ব্লগের মধ্যমনি পরিচয় ধারন করতেন। সাবিনা ইয়াসমিনের কোনো এক পোষ্টে সাবিনাকে ভালবেসে উপাধি মূলক নামে সম্বোধন করলেন। ওই নামটাতে চোখ আটকে গেলো আমার। কি মনে হলো কে জানে? ওখানে টপকে পড়লাম, সাবিনাকে উদ্দেশ্য করে বললাম,’ আপনি ময়না?😊😊 আমাকেও কেউ এ নামে ডাকে। না বলে পারলাম না।’ সাবিনাও উত্তরে বলে উঠলেন ” তবে তো ভালোই হলো – আজ থেকে আপনি ময়না-১ আর আমি ময়না-২”  আমরা আপনিতে রয়ে গেলাম বহুদিন।  তারপর উপরে উঠে এলো আমাদের বন্ধুত্ব।

আমরা আজো কেউ কাউকে চামরা চোক্ষে দেখিনাই। আমরা কেউ কারো কন্ঠস্বরও শুনিনাই। আমরা খুব বেশি ইনবক্স মেসেঞ্জারে টিকটকও করিনা।

তবু আমরা খুব ভালবাসার দুই ময়না।এই ব্লগবাসী গত একবছর এগারো মাস সতের দিন ধরে আমাদের এই দুই ময়নার ময়না কাহিনী দেখে আসছে। নামকরনের উতপত্তি জানতো না।

আজ আড্ডাচ্ছলে জানিয়ে গেলাম।এবার আপনারা যে যার এরকম ভালবাসায় পাওয়া বা বন্ধুদের থেকে পাওয়া কোনো মজার নাম কথন নিয়ে মন্তব্যে চলে আসুন। আগামী দু’দিন ধরে চলুক এই নামকথনের আড্ডা।

কি বলেন প্রিয় ব্লগবাসী????

 

* ছবি নেট থেকে।

৪০২জন ৪জন
29 Shares

৩৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ