নশ্বর জীবন!!!

মনির হোসেন মমি ২৯ জানুয়ারী ২০১৪, বুধবার, ০৮:২৪:৩৪অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ১০ মন্তব্য

জম্মিলে যদি মরিতে হইবে

মরনের ঊল্টো পিঠ যদি হয় জীবন

লোভ কেনো বাসা বাধে হৃদয়ে

মনুষ কেনো হয়ে যায় অমানুষ।

বিশ্ব ভ্রাম্মন্ডের শ্রেষ্ট জীব মানুষকে কয়

সত্যি কি তাই?

তবে কুকুর কেনো জাগ্রত থাকে রাতের অন্ধকারে,

মানব কেনো সিং কাটে মানবের ঘরের কোণে

 উত্তম অধম প্রশ্নের মাঝে, খুজিঁ মানবের চরিত্র।

কিসের আশায় কিসের মোহে

পড়ে আছি জড়পদার্থের মত পৃথিবীর বুকে,

হাত বাড়িয়ে আহবান করি যত আছে পাপ

বুঝেও না বুঝি হায়!যায় যদি প্রান।

ঘুমিয়েছ তুমি জাগার আশায়,হয়নি জাগা আর

 ঘুমের মাঝেও নেই আশা তোমার প্রানের,

কেড়ে নেবে প্রান করবে নিঃস্ব,পৃথিবী হবে পর শুধু

হুকুমের অপেক্ষায় আজরাইল তোমার কয়।

দেখেছি কত ক্ষমতাবান,দেখেছি সম্পদের পাহাড়

করেছে শাষক, শাসনের বহিঃভূর্ত নিয়মে,

নেই কোন লাভ রবে পড়ে সব, যত আছে দম্ভ অহমিকা

সাড়ে তিন হাত মাটিতে সূভ্র কাফনের বিছানা শুধু

চিরসত্য তোমার-আমার অন্তিম ঠিকানা।

ভিন জগতে পরকালে অসহায় তুমি,বাদশা

যত আছে পূর্ণ্যের ভান্ডার

পাপকে করো ঘৃণা পাপিকে নয়,মনে রেখো

হবে স্বাক্ষী তোমার সৎ-অসৎ কর্মের,

দেহের সব অঙ্গ-প্রতেঙ্গ।

বহু দিন আগের কথা সন তারিখ মনে নেই মনে আছে শুধু ঘটনাটা।আমার একমাত্র বড় বোনের দুই তিন বছরের মেয়ে নাম রেখেছিল ঝুমুর।পাপ পূর্ণ্য কাকে বলে তার মনে পরিপক্কতা পায়নি তখনও একদিন হঠাৎ এক অসূখে মৃত্যু দেবতার কাছে ধরা দিল সে।পৃথিবীর মোহ মায়া ছল চাতুরী জীবনে উপলদ্বি না করতে পারলে তাকে জীবন বলা যায় না।সে জীবনের রসের নাগাল না পাওয়ার আগেই এসেছলি কূলে বোনকে হাসিয়ে নিজেকে কাদিয়েঁ পৃথিবী বিয়োগে রেখে যায় সে সবার চোখের জলের বন্যায়।সন্ধ্যায় তাকে ইসলামি শরিয়া মোতাবেক আতর গোলাপ চন্দন ছিটিয়ে নীমপাতার গরম জলে গোছল করিয়ে জানা শেষে দাফন কাফনে সমাধি হয়  মিজমিজি কবরস্হানে।সবার খুব আদরের ছিল সে এবং দুই তিন বছর বয়সে সে সবাইকে মায়ার জালে বন্দী করে এমন ভাবে যে, এত অল্পতে পৃথিবীকে ছেড়ে চলে যাবে তা কেউ কল্পনাও করিনি।এ ভাবে নিশ্চিত ধরা দেবো একদিন চিরসত্য মৃত্যুর কাছে এখানে কোন বাহানা কিংবা অজুহাত চলবে না এটাই বোধ হয় জীবনের নিয়ম।

একদিন পর!বোন জামাই আমার বাসায় সন্ধ্যায় আসেন।ছোট মেয়ের এমন অকাল বিয়োগে বেশ মন ভেঙ্গে পড়েছে তার।চোখে মুখে পিতৃস্নেহের হাহাকাররের আভা স্পষ্ট দেখতে পাই। সে তার বিদায়ী আদুরী মেয়েটি কেমন আছে ,অন্ধকার সাড়ে তিন হাত মাটির ঘরে তার আত্মা এক নজর ফের দেখতে ব্যাকুল।আমাকে সঙ্গে নিয়ে কবর স্হান যাবে আমিও ভাগ্নীর কবরটি কেমন আছে, গত রাতে শিয়ালেরা তুলে নিলো কিনা তা দেখার আগ্রহ দেখালাম।

তখন প্রায় সন্ধ্যা, সূর্য্যের পশ্চিমাকাশেঁ অস্তিমত হবার ঘন্টা আধ ঘন্টা সময় বাকী।যথারিতি জুতা জোড়াদ্বয় সংগৃহিত স্হানে রেখে সালাম করে কবর স্হানে ঢুকলাম।হাতের ডানে বায়ে সম্মূখে পশ্চাৎতে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে কেউ নরকে কেউবা বেহেস্হে অনন্তঃকালের আয়ুতে। এই মাটির ঘরে পড়ে আছে শুধূ তার দেহ ,আত্মারা চলে যায় স্রষ্টার কাছে।মুরব্বীদের কবর যেয়ারত করে আমরা চলে গেলাম আমাদের লক্ষ্যস্হান ভাগ্নীর কবরের পাশে।কবরে চোখ পড়তেই চোখে পড়ে কবরের এক পাশে অল্প গর্ত তা দেখে বোন জামাই হঠাৎ হাউ মাউ করে কান্না জুড়িয়ে দেন।সে বসে পড়ে কবরের পাশে সাথে আমি বসি।বোন জামাই আমাকে অনুরোধ করে কবরের ঐ গর্ত দিয়ে ভাগ্নীকে দেখতে..ও’ কবরের ভিতরে আছে কি না, নাকি শিয়ালেরা তুলে নিয়ে গেছে।তখন মাগরিবের আযানে পনের বিশ মিনিট বাকী তার এমন আবদারে ততক্ষনাৎ আমার শরীরে কাপনঁ ধরে যায়… এক দিকে পিতার আবদার অন্যদিকে আমারও জানার ইচ্ছে কবরে অক্ষত আছে কিনা অসার ভাগ্নীর দেহটি শেষ পর্যন্ত মনে সাহস এলো মুহুর্তে ভূলে গেলাম আমি কোন এক পৃথিবীর মানুষ আমার পাশে বোন জামাইয়ের উপস্হিতি যেন অনুভূতির শূণ্যের কোটায় হঠাৎ গর্তে দু চোখ দিয়ে দেখার চেষ্টায় চোখ রাখতেই আমি যেন এক পাথরের মূর্তির মত স্হির দৃষ্টি দিয়েই রাখছি ভাগ্নীর অসার দেহের উপর।ততক্ষনে মাগরীবের আযান শেষ পৃথিবী অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়, আমি যেন কবরে ভিতরে অন্ধকারতো দূরে থাক অন্ধকারের একটি ছায়াও দেখতে পেলাম না লাইটের আলোর চেয়েও তীব্র আলোতে ভাগ্নী আমার শুয়ে আছে এক দিন আগে যেমনি রেখে গিয়েছিলাম কবরে ঠিক তেমনি।নাকের ডগায় একটি অভূতপূর্ব ঘ্রানের অনুভূতি আমাকে কিছুক্ষনের তরে পৃথিবী হতে আলাদা করে দেয়..আমি হতভম্ভ আমি আশ্চর্য্য হলাম স্রষ্টার নিয়মের সৃষ্টিতে।হঠাৎ একটি বিকট শব্দে আমি যেন ফিরে এলাম মায়ার পৃথিবীতে।বোন জামাই যেন এক প্রকার রাগ হয়ে যায়।আমি গর্ত হতে হঠাৎ চোখ ফিরিয়ে আনি।কবরের পাশে নিধর দেহের মত বসে আছি কে কি বলছে কিছুই যেন আন্দাজ করতে পারছি না।

-তোমারে এত ডাকছি, তুমি কোন কথাই বলছো না গর্ত থেকে মাথাই তুলছ না, কি দেখলে, মেয়েকে কেমন দেখলে,শিয়ালে আঘাতের কোন চিহৃ দেখেছ কি না তুমি কোন উত্তরই দিচ্ছ না….তখনও আমি স্তব্ধ!বোন জামাই যখন আমার গায়ে জোরে ধাক্কা দিল তখন আমার জ্ঞান স্বাবাভিক হতে থাকে।তখনও আমি তার কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি শুধু ধুম ধরে রিক্সায় চড়ে বাসায় ফিরে এসে শুয়ে পড়ি খাটে, মা মাথায় নারিকেল তৈল দিলে মাথা ঠান্ডা হয় এবং অজান্তেই ঘুমিয়ে পড়ি।সারা রাত্র আর জাগিনি ফজরের আযানে ঘুম ভেঙ্গে যায়।নামাজ পড়ে আবার শুয়ে পড়ি এভাবে নিস্তব্ধতায় কেটেছে তিনটি দিন তার পর স্বাভাবিক হই ধীরে ধীরে কিন্তু কি দেখেছি কিছুই মনে করতে এখনও পারিনা।

ধন্যবাদ সবাইকে বিশেষ করে যারা ঘটনায় একটি সত্য উপলব্ধি করতে পেরেছেন….পৃথিবীর চিরসত্য বাণী মৃত্যুর কাছে একদিন আগে পরে সবাইকে স্যারেন্ডার করতে হবে।তাই আসুন আমরা ভুলে যাই পৃথিবীর ক্ষনিকের চাকচিক্যকে স্বাগত জানাই মানবের চিরস্হায়ী ব্যাবস্হাকে…ঝাপিয়ে পড়ি

“মানুষের তরে মানুষই আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে”।।।

২০৫জন ২০৫জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ