নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে ব্যবস্থা নিন

বাংলাদেশের নদীগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। অনিয়ন্ত্রিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশ ক্রমশ ভেঙে যাচ্ছে। এর ফলে নদীর নাব্যতা কমছে, নদীর তীর ধসে যাচ্ছে, এবং বন্যা, জলাবদ্ধতা, এবং ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট কার্যকর হচ্ছে না। কারণ, অবৈধ বালু তোলার পেছনে রয়েছে একটি শক্তিশালী চক্র। এই চক্রের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা, ইত্যাদি। তারা অবৈধ বালু তোলার মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভবান হচ্ছে।

নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাও জরুরি। অবৈধ বালু তোলার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে হবে।

নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:নদীতে বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ করতে হবে।নদী থেকে বালু উত্তোলনের জন্য কঠোর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে।অবৈধ বালু তোলার বিরুদ্ধে সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা চালু করতে হবে।অবৈধ বালু তোলার পেছনে থাকা চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।অবৈধ বালু তোলার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে।নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে। তাহলেই নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে।

নদী থেকে অবৈধ বালু তোলার ফলে যেসব ক্ষতিকর পরিণতি হতে পারে সেগুলো হলো:নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদীর তীর ধস,বন্যা,জলাবদ্ধতা,ভূমিক্ষয়,পরিবেশ দূষণ,জীববৈচিত্র্য হ্রাস,অর্থনৈতিক ক্ষতি।নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধ না হলে এসব ক্ষতিকর পরিণতি আরও প্রকট হবে। তাই নদী থেকে অবৈধ বালু তোলা বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

শিক্ষার্থী সৌরভ হালদার ব্যবস্থাপনা বিভাগ সরকারি ব্রজলাল কলেজ খুলনা

0 Shares

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ