নতুন দিনের অপেক্ষায়

রিমি রুম্মান ৭ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ০৬:৫৮:০৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৫ মন্তব্য

২০২০ সালের মার্চে নিউইয়র্কে করোনাভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়লো। অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হল। শহর জুড়ে ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা নেমে এলো। সেই নিস্তব্ধতার দেয়াল ভেদ করে এ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন কামানদাগার মতো বিকট শব্দে ঘরে ঘরে পৌঁছাল। স্বেচ্ছায় গৃহে বন্দী মানুষজনের অন্তরাত্না শুকিয়ে গেল। শহরের বড় বড় সড়কে নেমে এল শ্মশানের নিরবতা। কিছু বুঝে উঠার আগেই হুটহাট অগণিত মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। দিনের পর দিন ঘরে আবদ্ধ থাকা আমাদের খাবার এক সময় ফুরিয়ে এল। আমাদের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হল। আমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে যাবার মতো করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিয়ে মাস্ক, গ্লোভস, জ্যাকেট, জুতায় সর্বাঙ্গ ঢেকে রাতের কোনো এক নিরিবিলি সময়ে বাজার করে ঘরে ফিরতাম। জনমানুষের কোলাহল এড়াতে রাতকে বেছে নিতাম। বাড়ি ফিরে গোসল করা সহ সব রকম সতর্কতা অবলম্বন করতাম। অজান্তে সঙ্গে করে শত্রুকে বাড়ি নিয়ে এলাম কিনা সেই ভয়ে তটস্থ থাকতাম ক’দিন। কমপক্ষে এক সপ্তাহ বাচ্চাদের কাছে ঘেঁসতে দিতাম না। বৃদ্ধ শাশুড়ির জন্যে ভয়টা আরও বেশি জেঁকে বসত। এমনই আতংকে ৩/৪ মাস অতিবাহিত হল। এরই মাঝে চেনা-অচেনা হাজারো মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। বুকের ভেতরটা হারানোর বেদনা মোচড় দিয়ে উঠল। কিন্তু এই মোচড় বেশিদিন স্থায়ী হল না। জানালা দিয়ে যখন বাইরে সুনীল আকাশ দেখি,ঝলমলে রোদ দেখি, গাছে গাছে ঘন সবুজ পাতা আর রঙ বেরঙের ফুল দেখি, তখন নিজেকে সামলে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘরের ভেতরে অক্সিজেনের অভাব প্রকট মনে হয়। আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসে। হাঁসফাঁস করতে থাকি। আমরা একটু একটু করে বাইরে বেরিয়ে আসার অজুহাত খুঁজতে থাকি। সহসাই আমাদের ভয় উবে যেতে থাকে। আমরা অজুহাত খুঁজে পাই। বাচ্চারা প্রযুক্তি নিয়ে বেশি সময় কাটায়। শারীরিকভাবে চলাফেরা, পরিশ্রম না থাকায় তাদের ওজন বাড়তে থাকে। আমরা তাদের নিয়ে নিরিবিলি নদীর ধারে, পাহাড় কিংবা সবুজ প্রকৃতির সান্নিধ্যে যাওয়া শুরু করি। বন্ধুরাও সপরিবারে একে একে মিলিত হতে থাকে। বাচ্চারা দলবেঁধে বল খেলে। ছুটোছুটি করে। বাবারা ব্যাডমিন্টন খেলে। কখনোবা আমরা মায়েরাও যোগ দেই। সপ্তাহে ২/৩ বার আমরা অসাধারণ, স্বর্গীয় সময় কাটাই। সঙ্গে থাকে চা-নাস্তাসহ যাবতীয় খাবার। এরই মাঝে অপ্রত্যাশিতভাবে যেতে হল বাফেলো। দূরের পথ বিধায় আমরা হোটেলে রাত্রি যাপন করি। অন্য সময়ের মতো পর্যটকদের উপস্থিতি নেই। নির্জন হোটেল লবি, ক্যাফেটেরিয়া, হলওয়ে, এলিভেটর। আমরা নিরাপদ বোধ করি। একবারের জন্যেও মনে হয়নি, এই মহামারী কালে সন্তানদের নিয়ে এভাবে হোটেলে থাকাটা ঠিক হল কিনা! পরদিন বন্ধুদের সঙ্গে নায়াগ্রা ফলস ঘুরে বেড়াই। আছড়ে পড়া জলের শব্দ শুনি। ছিটকে আসা জলে গা ভেজাই। দিন শেষে আট ঘণ্টার পথ ড্রাইভ করে বাড়ি ফিরি মধ্যরাতে। গ্যারেজে গাড়ি রেখে ক্লান্ত পায়ে গেটের দিকে হেঁটে যেতেই নজরে পড়ে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা আমাদের অন্য গাড়ি দুটি। গাড়ির সামনের দিকে আটকে রাখা কমলা রঙের দুটি খাম চোখ মেলে তাকিয়ে আছে। অর্থাৎ সেদিন রাস্তা পরিস্কারের দিন ছিল। গাড়ি সরানো হয়নি বলে জরিমানা গুণতে হবে। ৬৫ ডলার করে মোট ১৩০ ডলার। নির্বুদ্ধিতার জন্যে নিজেকে নিজে ভৎসনা করি। দুটি গ্যারেজ খালি পড়ে আছে, অথচ গাড়িগুলো কেনো যে রাস্তায় পার্ক করে রেখেছিলাম! অর্থ হানি হলে নাকি দুঃখ করতে নেই। আম্মা প্রায়ই বলতেন, ‘জানের উপর দিয়ে এসে মালের উপর দিয়ে চলে যায়’। অর্থাৎ কোনোভাবে আমাদের আরও বেশি ক্ষতিও তো হতে পারত। এইসব ভেবে নিজেকে সান্ত্বনা দেই। আম্মা পৃথিবীর মায়া ছেড়ে গেছেন আট বছর হয়। কিন্তু বিপদে এইভাবে তিনি সবসময় আমাদের সঙ্গেই থাকেন।

এই যে বহুদূর ঘুরে এলাম। হোটেলে রাত্রি যাপন করলাম। আমাদের তো কোভিড-১৯ ছুঁতেই পারলো না। আমরা আগের চেয়ে সাহসী হয়ে উঠলাম। সপ্তাহে ২/৩ বার ঘুরে বেড়ানোতে মন যেন ভরছিল না। আমরা পেছনের কালের স্মৃতি রোমন্থন করে হাহাকার করলাম এই বলে যে, প্রতিবার সদলবলে বহু দূরের শহরে কয়দিনের জন্যে ঘুরতে চলে যেতাম, হোটেলে থাকতাম, দর্শনীয় স্থান দেখতাম। এবার তেমন কোথাও যাওয়া হল না। এবার সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে লম্ফঝম্ফ হল না। এইসব আক্ষেপ কুড়ে কুড়ে খেল। নিজেদের মাঝে বলাবলির সময়ে আমরা বিষণ্ণ হলাম। বড় বড় শ্বাস নিলাম। জীবনটা নিরানন্দ আর পানসে মনে হল। আমাদের ধৈর্যের বাঁধ তলানিতে নেমে গেল। আমরা ভুলে গেলাম দিনরাত এ্যাম্বুলেন্সের ভয়াবহ সাইরেনের শব্দ। ভুলে গেলাম মহামারিতে জলজ্যান্ত হাসিখুশি টগবগে মানুষদের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার কথা। অতঃপর বন্ধুরা মিলে আটলান্টিক সিটি যাবার সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম। আটলান্টিক সিটি ক্যাশিনো, চকচকে হাই-রাইজ হোটেল এবং সমুদ্র সৈকতের জন্যে বিখ্যাত। এটি আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলে অ্যাবেসকান দ্বীপে অবস্থিত। বন্ধুদের কেউ কেউ বলছিল, বড় হোটেলে থাকলে সমস্যা হবে না। যথেষ্ট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং জীবাণুমুক্ত পরিবেশে থাকা হবে। এ কথায় বাকিরা সহমত প্রকাশ করলাম। হোটেল বুকিং দেয়া হল। সুউচ্চ প্রাসাদের জানালার শার্সির ভেতর দিয়ে সমুদ্র দেখার স্বপ্নে বিভোর হলাম।

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে এক রৌদ্রোজ্জ্বল ঝলমলে সকালে আমরা বন্ধুরা সপরিবারে রওয়ানা দিলাম। বাইরের খাবার যেন পারতপক্ষে খেতে না হয়, তাই পর্যাপ্ত খাবার, পানি সঙ্গে নিলাম। তিন ঘণ্টা দূরের পথ। পথিমধ্যে যাত্রাবিরতিতে কিছু খাবার সাবাড় হল। নির্দিষ্ট সময়ে হোটেলে পৌঁছালাম। হোটেল ‘বেলি’তে ছয়টি রুম ভাড়া নিলাম আমরা। রিসেপশন ডেস্ক থেকে যার যার রুমের কী কার্ড বুঝে নিয়ে নয়তলায় নিজেদের রুমে গেলাম। শাদা তুলার মতো নরম বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম। আহ্‌ শান্তি শান্তি। পরক্ষণেই মনে হল,বাহিরটা ঘুরে ফিরে না-ই যদি দেখব,তবে কেনোইবা এলাম! শুয়ে বসে সময় কাটাবার জন্যে তো নিজের ঘর আছে। সবাই যার যার রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে কাপড় পাল্টে নিলো। এত কাপড় চোপড় এনেছি দুই দিনের জন্যে! পরে শেষ করতে হবে যে! সাজুগুজু করে সবাই বেরিয়ে পড়লাম একযোগে। আটলান্টিক মহাসাগরের তীরে চোখ ধাঁধানো আলোর শহর। ভূগোলে পড়েছিলাম, পৃথিবীর মোট আয়তনের পাঁচভাগের একভাগ হচ্ছে আটলান্টিক মহাসাগর। এর পশ্চিমে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজটি এই আটলান্টিকেই ডুবেছিল ১৯১২ সালে।

আমরা যখন সাগরজলে পা ভেজাই, তখন শেষ বিকেল। অস্তমিত সূর্যের কমলা আভা সাগরের জলে এসে পড়েছে। সোনালী জল চিকচিক করছিল। বড় বড় ঢেউ এসে আমাদের পায়ে আছড়ে পড়ছিল। হাতের তর্জনীকে পেন্সিল বানিয়ে বালুচরে বড় বড় হরফে লিখলাম ‘ বাংলাদেশ’। এ আমার পুরনো স্বভাব। গত বছর ফ্লোরিডার মায়ামি বীচে সূর্যাস্তের সময়টাতে সবাই যখন জলে পা ভেজাচ্ছিল, ছবি তুলছিল, তখনও অস্তমিত সূর্যকে সাক্ষী রেখে জলের দাগ রেখে যাওয়া বালুচরে লিখেছিলাম ‘বাংলাদেশ’। সেই একই আটলান্টিক মহাসাগর। একই জল। শুধু দুই স্থানের দূরত্ব ১,২৪২ মাইল। বুকের গহিনে সযত্নে লালিত ‘বাংলাদেশ’ নামটি পৃথিবীর যে প্রান্তেই যাই, লিখতে ভাল লাগে। কিন্তু সহসাই প্রবল এক ঢেউ এসে তা মুছে দিয়ে গেল। অদূরেই শিশুরা আনন্দে চিৎকার করছিল। তাদের উচ্ছ্বসিত আওয়াজ গর্জনরত সমুদ্রের শোঁশোঁ শব্দের সাথে মিলিয়ে যাচ্ছিল। সাগর তীরে অন্ধকার গাঢ় হলে আমরা হোটেল রুমে ফিরি। ভেজা পোশাক পাল্টে গায়ে হাল্কা জ্যাকেট চাপিয়ে আবারও বেরিয়ে পড়ি। বাইরে হিমেল বাতাস বইছিল। মধ্যরাত অব্দি বাচ্চাদের নিয়ে বোর্ডওয়াকে হেঁটে বেড়াই। দীর্ঘতম বোর্ডওয়াক। রাত বাড়ার সাথে সাথে জনমানুষের কোলাহল বাড়ছিল। পৃথিবীর নানান দেশের মানুষ। কেউ রিক্সার আদলে তৈরি বিশেষ যানে চড়ে চারপাশ দেখছিল। বোর্ডওয়াকের একপাশে সারি সারি গিফট শপ। সেখান থেকে কেনাকাটা করা হল। কিছুদূর এগোতেই বাচ্চাদের খেলার নানান রকম মেশিন নজরে এলো। শিশুদের ‘প্লে জোন’। মহা আনন্দে তারা কেউ গাড়িতে, কেউ ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলো। মেশিনে পয়সা দিয়ে খেলল যতক্ষণ না ক্লান্তি বোধ করে। মধ্যরাতে হোটেল রুমে ফিরে খাবারের আয়োজন চলে। বরাবরের মতো এবারও আমার রুমে হয় এই আনন্দ আড্ডা এবং ভোজন। প্রবাসে বন্ধু থেকে বিশাল এক পরিবার হয়ে উঠা আমরা ভাগাভাগি করে খাবার খাই। একে অন্যকে ঘুমোতে যাবার তাগিদ দেই। নইলে যে সকালে উঠতে পারব না। আমরা মায়েরা সন্তানদের নিয়ে যার যার রুমে শুয়ে পড়ি। বাবারা হোটেলের নিচতলায় ক্যাশিনোতে খেলতে যায়। ক্যাশিনোর শহরে আসবে, কিন্তু স্লট মেশিনে খেলবে না, তা তো হয় না।

সকালে উঠেই ব্রেকফাস্টের আয়োজন চলে। রুমে রুমে ফোন করে সবাইকে ডাকা হয় খাবারের জন্যে। খাওয়া শেষে বীচে যাবার প্রস্তুতি নেয় সকলে। আবহাওয়া অনেকটাই ঠাণ্ডা। তবুও সিদ্ধান্ত হয়, সমুদ্রে গোসল না হোক অন্তত পা ভেজাবার। আমরা হাঁটু জলে নামি। কিন্তু বড় বড় ঢেউ তেড়ে এসে আমাদের পুরোপুরি ভিজিয়ে দেয়। উত্তাল ঢেউ যাবার সময় আমাদের পায়ের তলার বালি টেনে নিয়ে যায়। সমুদ্রের ফেনায়িত ঢেউয়ের সাথে আমরা পেরে উঠছিলাম না। বাচ্চারা হুটোপুটি খেলল বালিতে, পানিতে। একঝাঁক নির্ভীক সিগাল বালুচরে ছায়া ফেলে মাথার খুব নিকট দিয়ে উড়ে গেল। রুমে ফিরে তৈরি হই দুপুরের খাবারের উদ্দেশ্যে বের হতে। সঙ্গে করে নিয়ে আসা খাবার যে ফুরিয়ে গিয়েছে। মোট ১৮ জন মানুষের বহর। আমরা একে অন্যের গাড়িকে অনুসরণ করছি। খাবারের সন্ধানে শহরময় ঘুরছি। ম্যাকডনাল্ডস, বার্গার কিং, পিৎজা স্টোর কোথাও ডায়নিং রুম খোলা নেই। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শুধুমাত্র টেক আউটের ব্যবস্থা আছে। অবশেষে পিৎজা স্টোরের পার্কিং লটে দাঁড়িয়ে দুপুরের খাবার শেষ করি আমরা। ততক্ষণে বিকেলের সোনালি নরম আলো উঁচু উঁচু দালানের গায়ে মাখামাখি। কফি হলে মন্দ হয় না। স্টারবাকস থেকে কফি নেই। কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে সকলে গল্পে মশগুল। কিন্তু আমি যেন গল্পে আগ্রহ পাচ্ছিলাম না। শীত শীত অনুভব করছিলাম। সাগরের শীতল জলে ডুবে ডুবে গোসল করেছি বলে নিজের উপর বিরক্তির উদ্রেক হয়। বাড়ি ফিরি যখন, তখন নিউইয়র্ক নগরী নিয়নের কমলা আলোয় আলোকিত। রাতে ঘুমোতে গিয়ে টের পাই সমস্ত শরীর জুড়ে ব্যাথা। মনে হচ্ছিল কেউ বুঝি আচ্ছা মতো পিটিয়েছে। সকালের দিকে হালকা জ্বর। রাজ্যের ক্লান্তি। বন্ধুরা মুঠোফোনে একে অপরের খোঁজ নেই। জানলাম, তারাও সকলে অসুস্থ। কেউ কেউ করোনা টেস্ট করালাম। কোভিড-১৯ পজেটিভ রেজাল্ট পেলাম। কেউবা টেস্ট না করিয়ে ঘরেই আইসোলেসনে থাকল। কেউ অল্পতে সেরে উঠলাম। কেউবা ভুগেছে খুব। এই যে বেঁচে আছি, এ আনন্দের অনুভূতিটুকু আমাদের ভুলগুলো শুধরে দিল। একটি উপলব্ধির ভেতর দিয়ে অগ্রসর হতে সাহায্য করল। নতুন নিরাপদ দিনের অপেক্ষায় আমরা আরো সচেতন হয়ে উঠলাম। জীবন আসলেই বিস্তারিত কিছু নয়। বলা চলে সার-সংক্ষেপ।

সকলে ভালো থাকুন। নিরাপদ থাকুন।

রিমি রুম্মান
কুইন্স, নিউইয়র্ক।

২৫৯জন ১৮৬জন
0 Shares

৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য