.বর্তমান`প্রেক্ষাপট_
ধর্ষণের জন্য যারা কারনে অকারণে নারীর পোশাক কিংবা নারীর স্বাধীনভাবে চলাচলকে দায়ী করে,তারাই ধর্ষণের উস্কানিদাতা তারাই পরোক্ষভাবে ধর্ষণের সমর্থক।তারা ইঞ্জয় করে এইসব প্রেক্ষাপট।যে পুরুষ প্রতিদিন একশত নারীকে মাল মাল বলে কুচকাওয়াজ তোলে,তার মুখে নারীর জীবন পরিক্রমার উত্তরণ বানী আদৌ শোভা পায়না। ধর্ষণ বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত নিজস্ব মাত্রা ছাপিয়ে জ্বালের মতো ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাচ্ছে লোকালয় হতে জনহীন অরণ্যে।এর জন্য আমরা পুরুষেরা কিছুতেই নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারিনা।আমরা বারবার নারীর লজ্জা সেই নারীকেই ছুড়ে দিতে পারিনা/
.
……কারণ,সামনে এই পরিনতি আমাদের পরিবারের কারো জন্য অপেক্ষা করছে।আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি বাংলাদেশের কোনো মেয়েই একা সন্ধ্যার পর কম লোকালয় প্রবন এলাকায় চলাচল করার সাহস রাখেনা।
যারা বারবার এই একই আওয়াজ তুলে নারীর ব্যক্তি স্বাধীনতাকে হেয় করে চলেছে,নারীকেই অপরাধী বানাতে উৎসুক হয়ে উঠছে,তারা আর যাই হউক নারীর নিরাপদ জীবনের জন্য আশির্বাদক নন,তারা চাননা নারী জীবনে পরিপূর্ণভাবে মুক্তি আসুক।
.
………….তারা ধর্ষণের পুরো দায়ভার সেই ভুক্তভোগী নারীর উপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেদেরকে স্বচ্ছ সৎ নিষ্ঠাবান চরিত্র হিসেবে উপস্থাপন করতে চায়_এটাই তাদের মূল উদ্দেশ্য।
অথচ ধর্ষণের পুরো দায়ভার পুরুষের উপর বত্যায়।অন্তত এই ইস্যুতে আপনি নারীর উপর দোষ চাপাতে পারেননা।যখন ধর্ষণের মতো পাশবিক প্রেক্ষাপটের আবির্ভাব হয় তখন নারী অসহায়,পুরুষ হিংস্র দানব।
_প্রতিদিন শত শত নাবালিকা শিশু ধর্ষণের স্বীকার হচ্ছে বাংলাদেশে।পরিনত বয়সীদের সংখ্যা তো লিমিটের বাহিরে। যে শিশুটিকে ফুসলিয়ে ভুল ভাল বুঝিয়ে ধর্ষণ করা হচ্ছে,সে কিন্তু আদৌ জানেনা এর পরিনতি কি।
.
..সে জানেনা তার অপরিপক্ক যোনিদার কতোটা ক্ষত বিক্ষত হতে পারে,সে জানেনা বাঙলার সমাজ ব্যবস্থায় শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকদের মাঝেও লুকিয়ে আছে এমন বিকৃত চেতনা।তবে সে কার কাছে নিরাপদ! এইসব অন্তঃস্পর্শক ইস্যুতে বারবার নারীর উপর ব্লেইম চাপানো বন্ধ করুন।পোশাক,স্বাধীন চলাচলের অজুহাত বারবার টেনে আনবেন না।এই ইস্যুকে তুচ্ছ হেয় করার প্রয়াস চালাবেননা। সেটা বলার অধিকার আপনার মানে পুরুষের নেই।যে জীবন যার সে জীবন নিয়ে তাকেই ভাবতে দিন।সে কি পরবে,কোথায় যাবে,কি খাবে,কি করবে সেটা তার ব্যক্তিগত অধিকার।
.
_একটি মেয়ে টি শার্ট এ লিখেছে’গা ঘেঁষে দাঁড়াবেননা’আমার প্রশ্নটা হচ্ছে তিনি এটা কেনো করেছেন?ভুক্তভোগী কি তিনি নাকি আপনি!অবশ্যই তিনি বা তেনার মতো হাজার হাজার নারী। এ নিয়ে পুরুষ সমাজ ঝড় তুলে দিলো নারীর বিপক্ষে ।সেই টি শার্টে ফটোশপের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ অশ্লীল বিকৃত শব্দ বসিয়ে প্রচার প্রচারণা শুরু করলো। এর মানে কি আপনি অস্বীকার করেন যে,এদেশে নারীরা এই সমস্যা ফেইস করেনা!এ-ই প্রশ্নটার উত্তর নারীরাই দিক।সেটা দেওয়ার রাইট আমার বা আপনার নাই।এসব ট্রল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।এদেশে নারীকে এখনো ভোগ্য পন্য হিসেবে চিন্তা করেন বিশাল সংখ্যক মানব সার্কেল।নারীর উপর ব্লেইম চাপিয়ে তারা নিজেদের বিকৃত স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়।
(মাসুদ চয়ন)

২৮২জন ২০জন
20 Shares

২৫টি মন্তব্য

  • মনির হোসেন মমি

    আসলে এ সমাজে নারীরা খুবই চাপের মাঝেই বসবাস করে। যদিও আমরা মুখে বলি নিষ্পাপ কথা কিন্তু অন্তরে আমাদের পাপে ভরা।খুব ভাল লাগল লেখাটি।এ থেকে উত্তরনের একমাত্র পথ নিজেকে প্রকৃত মানুষ ভাবা।

  • নাজমুল আহসান

    ধর্ষণের মতো অপরাধের দায়ভার অবশ্যই নারীর নয়, প্রশ্নই ওঠে না। কিন্তু নারীদের পোশাকের যে এখানে একটা ভূমিকা আছে, সেটা বুদ্ধিজীবীমহল কখনোই স্বীকার করে না। আপনিও করেননি। চলুন ব্যাখ্যা করি।

    দেশের কিছু এলাকায় ছেলেদের চুলের “বখাটে ছাট” না দিতে নরসুন্দরদের পরামর্শ/নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবী এতে বখাটেপনা বাড়ে। এবার বুদ্ধিজীবীরা হা-রে-রে-রে করে উঠেছেন। বলেছেন, কে কীভাবে চুল কাটাবে সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার। ইভটিজিং কিংবা এজাতীয় অপরাধের সাথে এসবের সম্পর্ক নেই।

    কোথাও কোথাও পার্কের আনাচে কানাচে প্রেমে মশগুল ছেলেমেয়েদের পুলিশ ধরে এনেছে। মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। আবার হা-রে-রে-রে করে উঠেছেন বুদ্ধিজীবীরা। প্রাপ্তবয়স্ক ছেলেমেয়ে কী করবে, না করবে তাতে পুলিশের কী?

    উগ্র পোশাক নিয়ে একই বক্তব্য দিয়েছেন জ্ঞানীমহল। কে কী পোশাক পরবে এটা ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ব্যাপার। স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা অসভ্যতা, মৌলবাদী কাজ।

    বুদ্ধিজীবী মহলের প্রতিনিধিদের কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন, দয়া করে আমাকে বুঝান, কেউই যদি দায়ী না হয়, ইভটিজিং কিংবা ধর্ষণ তাহলে বেড়ে গেল/যাচ্ছে কেন?

    অনেকেই উলটা প্রশ্ন করবেন, বোরকা পরা মেয়ে ধর্ষিত হচ্ছে কেন? শিশুরা ধর্ষিত হচ্ছে কেন? মাদ্রাসা-পড়ুয়া ছেলেরা ধর্ষণ করছে কেন?
    এখানে দুইটা ব্যাপার। প্রথমত, খোঁজ নিয়ে দেখুন, এই হার আসলেই কম। দ্বিতীয়ত, উগ্র পোশাকের নারী কিংবা গাঁজাখোর বখাটেগুলোই এই পথ খুলে দিয়েছে।

    আরেকটা ব্যাপার আছে। নারী স্বাধীনতা বা আধুনিকতা নিয়ে কথা না বললে আসলে ইজ্জত থাকে না। নারীকে পণ্য বানানোর যে প্রতিযোগিতা, সেটা গ্রামের কৃষক শুরু করেননি। করেছে আপনাদের এইসব বুদ্ধিজীবীরা। যতোই নারী স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা যাবে, ততোই সুবিধা। চট করে একটা “নারীকে” আপনার বেডরুমে নিয়ে আসা যাবে। যে ডিসি কুকর্ম করতে গিয়ে সম্প্রতি ধরা খেয়েছেন, তিনি এ বছরই কী যেন একটা “শুদ্ধাচার” পুরস্কার পেয়েছিলেন। অন্যের বউয়ের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা সহজ। ঘরও থাকল, বাহিরও থাকল।

    এবার বুদ্ধিজীবী মহলের কাছে এই নাদানের দ্বিতীয় প্রশ্ন, আপনি কি কখনো চেয়েছেন আপনার স্ত্রী বা মেয়ে বিকিনি পরে ঘুরুক? আপনার ছেলে গাঁজা খেয়ে পার্কের অন্ধকারে বিকিনি পরা কোনো মেয়েকে নিয়ে সময় কাটাক?

    আমাদের সমস্যাটা হল, না পারি কইতে, না পারি সইতে। কিছু বললেই আবার বলবেন, হাজি সাহেবের মুখ খারাপ। মৌলবাদী, জঙ্গি ট্যাগ লাগিয়ে দিবেন।

    • মনির হোসেন মমি

      ভাইজান নাজমুল মাইন্ড কইরেন না যেহেতু আমি অনধিকার চর্চা করছি…কিন্তু আপনার মন্তব্য পড়ে একটা প্রশ্নই মাথায় আসছে সেটা হল-যদি নারী পোষাকে সমস্যা হয় তাহলে আমাদের চেয়ে অনেক উন্নত সভ্যতায় শিক্ষায় অর্থ বিত্তে জ্ঞানে গুণে বিদেশ মানে উন্নত দেশগুলোতেতো প্রায় দেখা যায় মেয়েরা প্রায় পোষাক না পড়ে উলঙ্গই থাকে কৈ সেখানেতো আমাদের দেশে ধর্ষণ বা নারী হেরেজম্যান্ট সম্পর্কে এতো মহামারী ঘনটা শুনি না।আমার প্রশ্ন হল যদি শুধু পোষাকেই সমস্যা হত তবে সেখানে কেন আমাদের মত সমস্যাগুলো হয় না? আমি সিঙ্গাপুর ছিলাম প্রায়তো সাত আট বছর ওখানে এ দেশের মত নারী নিয়ে এমন কেলেংকারীর কখনো শুনিওনি দেখিওনি অথচ আপনিতো জানেন,সে দেশের নারী পোষাকের কি একটা অবস্থা।
      বিষয়টা পোষাকে নয় বিষয়টা মন মানষিকতা আর আমাদের গড়ে উঠা পুরুষ শাসিত সমাজ ব্যাবস্থার নোংরামীর বহিঃপ্রকাশ নারীকে পুরুষের তলে রাখার এ প্রয়াস।

      • নাজমুল আহসান

        প্রথমত, একটা শিশু যদি জন্মের পর থেকেই তার চারপাশের মেয়েদের বিকিনি পরা অবস্থায় দেখে, সে এসবে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। বোরকা পরা সমাজে একটা মেয়ে একদিন হঠাত করে সালোয়ার-কামিজ পরলেও আশেপাশের লোকজন রাতে ঘুমাতে পারবে না।

        দ্বিতীয়ত, হ্যারেসমেন্ট ঘটনা কোথাও কী পরিমাণ ঘটে সেটার খোঁজ আপনি নেননি। না জেনেই মন্তব্য করেছেন। শুধু আপনি না, মূলত সবাই এসব বিষয়ে আবেগের বশে মন্তব্য করে থাকেন।
        ২০১০ সালের উপাত্ত অনুযায়ী, মোট সংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে বেশি হ্যারেসমেন্ট/রেপের ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। এই পরিমাণ ৮৪৭৬৭টি, মাত্র এক বছরে। তালিকায় এরপর আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, মেক্সিকো, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, রাশিয়া। বাংলাদেশ ছিল ৯০ নম্বরে।
        জনসংখ্যার অনুপাতে সবচেয়ে বেশি হার দক্ষিণ আফ্রিকাতে, প্রতি লাখে ৯৬ জন! তালিকায় শুরুর দিকে আছে সুইডেন, গ্রেনাডা, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ। বাংলাদেশ ছিল তালিকার ৯১ নম্বরে আর ভারত ৫০ নম্বরে।

        আশা করি আমার বক্তব্য স্পষ্ট হয়েছে।

      • মাসুদ চয়ন

        স্পষ্ট বক্তব্য হচ্ছে এটাইঃ-কেউ নারী স্বাধীনতা সম অধিকারের পক্ষে,কেউ নয়।তবে আমি ব্যক্তিগত ভাবে নারীর স্বাধীনতা সম অধিকারের পক্ষে।আর আর্টিকেলটাও সেভাবেই লিখিত।

    • মাসুদ চয়ন

      ধর্ষণের দায় পুরোপুরি রাষ্ট্রব্যবস্থা ও পরিবারতন্ত্রের উপর বর্তায়”(দুটি প্রশ্নের উত্তর এখানে রয়েছব)
      ———-
      এভাবে আঁড়াল থেকে গর্জে উঠে কোনো লাভ হবেনা! যতই বিদ্রোহী আওয়াজ তুলুন মুক্তি আদৌ মিলবেনা।সিস্টেমটা এভাবে দাঁড়িয়ে গেছে অনেক আগে থেকেই।
      কিচ্ছু করার নেই। ধর্ষণ এখন চর্চার রুপক অর্থেে জৌলুশ ছড়াচ্ছে। নিয়মিতই এর রেশ বিস্তৃত হচ্ছে চারপাশে।শিশুরাই মূল টার্গেটে পরিনত হচ্ছে।কারণ তাদেরকে রাজি করানো সহজ। আপনি যেই সময় একটি ধর্ষণ বিষয়ক স্ট্যাটাস লেখার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন,আপনার শরীরে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে ভয়ে যন্ত্রনায়।ঘেমে অস্থির হয়ে বিক্ষোভ পুষছেন হৃদয় গহীনে,ঠিক সেই সময়ে আরও শত শত শিশু/নারীকে ধর্ষণ করা হচ্ছে একইভাবে।আপনার দৃষ্টিসীমার অগোচরে থেকে যাচ্ছে ঘটনাগুলো।যতোগুলো ঘটনা বাস্তবে ঘটছে_তার এক চতুর্থাংশও আপনার বা আমার চক্ষুপেয় হচ্ছেনা। সব খবরতো আর ভাইরাল হওয়ার মতো নয়।সব খবরে কি আর ইন্টারেস্ট থাকে! বাঙালী মস্তিষ্ক ইন্টারেস্ট প্রিয় ইস্যুকে ভালোবাসে।নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েরা ধর্ষিত হলে ধামা চাপা দেয়ার আয়োজন চলে।কারণ ওখানে ইন্টারেস্ট ইনভেস্ট দুটোই কম।

      হাজারে দু’একটা ফোকাসে আসে অমন ঘটনাগুলো।মিডিয়ার সমস্ত ফোকাস উন্নত স্তরের মানুষদের নিয়ে।
      এই যেমন মাদ্রাসা,স্কুল,কলেজ,­ভার্সিটি,শপিং কমপ্লেক্স,রেস্তোরা,আবাসিক এলাকা। হাই প্রোফাইল কাভারেজ দিতে তাদের সমস্ত সময় অতিবাহিত হয়ে যায়।
      অথচ তারা জানেনা-এমন একটি ভাইরাল ইস্যু,সহস্র বিকৃত চেতনাকে উস্কানি দিচ্ছে ঠিক সেই সময়ে। ধর্ষণ কি শুধুমাত্র একটি আলোচিত খবর,আর কিছুই নয়!
      কি আশ্চর্য!তারাতো এই মনোভাবেই প্রচারণা চালচ্ছে-পরিত্রানের উপায় নিয়ে গঠনমূলক কাজ পরিচালনা করছেনা।

      যে জীবনটি লজ্জার চাদরে চিরদিনের মতন হারিয়ে গেলো-শুধুই কি তারটা হারালো।সে খবর কেউ রাখেনা কেউ না। এতো এক স্বাভাবিক ঘটনা তাই নয় কি!আহা!কত্তো সহজে ভেবে নিলাম। গভীরে গেলাম না। হিউম্যান রিসোর্স কিচ্ছু করছেনা। ওইসব মহিলার আলোচনা দেখলে থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করে।
      নিয়মিত ঘটছে ধর্ষণ ল। এভাবেই চলছে বাঙালী/বাংলাদেশী জীবন।এদেশের শতকরা ৫০ ভাগ পুরুষই নীরবে ধর্ষক মনন লালন করছে। কল্পনায় লক্ষ লক্ষ রমনীকে ধর্ষণ করে চলেছে। সুযোগ আসলে ছাড়া পাওয়ার উপায় নেই,জাস্ট মাইন্ড ইট। ওরা মুখোসের আঁড়ালে ভদ্র মানুষ নম্র মানুষ।
      তাহলে আপনি নারী হয়ে কার কাছে আশ্রয় চাবেন? নারীর আশ্রয়তো নারীও নয়। একে অপরকে শত্রু মনে করে হেয় করতে চায়।
      আপনার নিজের পরিবার সদস্যেের মধ্যেও ধর্ষক লালন করছেন। আপনি হয়তো জানেন-তবুও না জানার ভান করছেন।

      এখন প্রশ্নটা হচ্ছে এর পেছনের মূল কারণটা কি! আর পরিত্রানের উপায়ই বা কি!
      অনেকে বলবেন-নারীর স্বাধীন চলাচল,পর্দাশীলতার অভাব। কেউ বলবে ধর্মীয় শিক্ষায় গলদ আছে। কেউ কেউ সরাসরি পুরুষকে দোষারোপ করবে-তাদের যুক্তি-এটা পুরুষ নিয়ন্ত্রিত সমাজ।
      এমন বিকৃত কারুকাজ বহুকাল ধরে চলে আসছে।অনেকে বলবে আইনের শাসন নেই,বিচার বিভাগ নিষ্ক্রিয়।
      এগুলো কোনোটাই মূল কারণ নয়। একে অপরের ব্যক্তিগত মতামত মাত্র। যার চেতনা যেমন সে সেভাবেই চিন্তা করবে।একে অপরের দিকে কাঁদা ছুড়বে। আদৌ কি এরা মুক্তির স্বপক্ষে কিছু করার যোগ্যতা রাখে,কখখনো না।
      আমাদের মূল কারণ সম্পর্কে অবগত হতে হবে।
      ধর্ষন এবং যৌন মিলন দুটিই একই প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন জৈবিক ক্রিয়া। একটিকে পাশবিকতা এবং অন্যটিকে শিল্প চর্চা বলে আখ্যান দেয়া হয়। প্রক্রিয়া কিন্তু একটাই,পাশ্বপ্রতিক্রিয়া এবং ফলাফল ভিন্ন। উত্তরটাও ওখানে লুকায়িত। বাঙালী মনন ঠিক এই জায়গায় পিছিয়ে পড়েছে। তাদের শিল্প বিকশিত মন নেই। তাদের যৌন জীবনে শিল্পের ছোঁয়া নেই প্রেম ভালোবাসা নেই।
      তারা আজও জানেনা সুস্থ যৌনাচার প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। তাই তারা আঁড়ালে কষ্ট পুষে রাখে।ভালোলাগা ইচ্ছে আকাঙ্খা মুক্ত ভাবে প্রকাশ করতে জানেনা। এভাবে তাদের মধ্যে বিকৃত চেতনার বীজ বপিত হতে থাকে।যখন সীমা অতিক্রম করে,ঠিক তখনই তারা ধর্ষক হয়ে ওঠে। তার মানে ধর্ষণের বিকাশ ঘটার জন্য কোনো ব্যক্তি মানুষ দায়ী নয়। আমাদের পুরো সামাজিক সিস্টেমটাই দায়ী। আমাদের শিক্ষার শেকড় ভন্ডামোর গলদে পরিপূর্ণ। তাই নৈতিক মূল্যবোধ মানবিক নিমগ্নতা হারিয়ে যাচ্ছে।

      আমাদের মানবিক মূল্যবোধ অন্য সভ্যতা হতে বহুগুন পিছিয়ে যাচ্ছে। তাই আজ পশুরাও আমাদের থেকে মানবিক।
      শিক্ষক,ডাক্তার,বুদ্ধিজীবীদের মধ্যেও এমন বিকৃত চেতনা ছড়িয়ে যাচ্ছে।রাষ্ট্রকে এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবতে হবে।শিশুদের পাঠ্যচর্চায় সুস্থ যৌন বিষয়ক আলোচনা থাকতে হবে।
      সুস্থ যৌনাচার এবং বিকৃত যৌনাচারের পার্থক্য সম্পর্কে মৌলিক ধারণা দিতে হবে। আত্নকেন্দ্রিক পরিবার তন্ত্র থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। অন্যের সন্তানকেও নিজের সন্তানের চোখে দেখতে হবে।
      মনে রাখবেন আপনার ঘরের শিশুটিও ধর্ষক হয়ে উঠতে পারে। যদি আপনি নৈতিক স্বচ্ছতার শিক্ষা দিতে না পারেন। সার্টিফিকেট গত শিক্ষা শুধু চাকরি দিবে।আর কিচ্ছুনা কিচ্ছুনা!
      এর সাথে নারীদের সাহসী ভূমিকা একান্ত কাম্য। আর কতোকাল নিজেকে নারী পরিচয়ে খোলসবন্দি করে রাখবেন? নিজেকে মানুষ নামে ডাকুন। অনেক নারীই প্রগতিশীল চেতনায় বিকশিত হচ্ছে। আপনি নন কেনো? মনে রাখবেন আপনার চেতনা আপনার মেয়ে শিশুটির মধ্যেও জন্ম নিচ্ছে।

      • মাসুদ চয়ন

        মন্তব্যটি প্রথম পর্ব ছিলো।প্রায় ১ মাস আগের লেখা।আপনার প্রশ্নের উত্তর পর্ব ২ এবং পর্ব ১ এর মধ্যে রয়েছে। আর আপনার প্রশ্নগুলো অযৌক্তিক সাম্প্রদায়িক উস্কানি বার্তা বহন করে।এ নিয়ে উত্তর দেয়ার জন্য তৃতীয় পর্ব লিখতে হবে।আপনি অন্যের বউ প্রসঙ্গে কথা বললেন।ওই মন্তব্যটি একদম বাজে অনুধাবন আপনার।নারীকে অপমান করা ছাড়া আর কিছু নয়।সুতরাং আমার টপিক্স এর বিরুধী. কারণ এই টপিক্সে নারীর স্বাধীন অধিকার নিয়ে আলোচনা করেছি।আপনার প্রশ্নের উত্তর দেয়ার জন্য খুব কঠিন কিছু বলা উচিৎ।কিন্তু বললাম না।কারন,প্রত্যেকের স্বাধীন মত প্রকাশের অধিকার রয়েছ্র।তাই রিপ্লেত মাধ্যমে নয় ব্যক্তিগত আর্টিকেলের মাধ্যমে ও নিয়ে আলোচনা করবো। আর আমি পোষ্টটি লিখেছি সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে৷ নারীর সন্মানে ।আপনি সমর্থন করবেন কিনা এটাও আপনার ব্যক্তিগত ব্যপার।আপনাকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার মতো মানুষ আমি নই।আশা করি বুঝতে পেরেছেন নাজমুল ভাই।

      • মাসুদ চয়ন

        আপনি এখানে বিকিনির মতো থার্ড ক্লাস ইস্যু অহেতুক টানলেন।এখানে পোশাকের নাম কি উল্লেখ করা হয়েছে।বলা হয়েছে কি পড়বে কি করবে ওটা তারাই ঠিক করবে।আপনি আমি পুরুষ,তাই আমাদের জীবন নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিবো।তাদেরটা তাদের। আই মিন দ্যাটঃ-তারা আমাদের দাসী নয়।তারা তাদের মতো ভাববে চলবে

      • নাজমুল আহসান

        আপনাদের মতো বুদ্ধিজীবীদের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। স্পষ্ট দুইটা প্রশ্ন করেছি, সরাসরি উত্তর দিলেই পারতেন। এতো ত্যানা কেন প্যাচালেন, সেটা আমি জানি। সহজ প্রশ্নের সহজ উত্তর আপনাদের কাছে নেই।
        আপনাদের মানসিক বৈকল্যটা বুঝি। নিজে বিশ্বাস না করলেও টুপি হারানোর ভয়ে আধুনিকতার বুলি আওড়াতে হবে। নইলে আপনাদের জাত থাকবে না।
        আমরা আমজনতা। মনে জিজ্ঞাসা ছিল, স্পষ্ট বক্তব্য দিয়ে প্রশ্ন করেছি।

        আমার মন্তব্যের উত্তর দিয়েন না। পড়ার রুচি হবে না। বিদায়।

      • মাসুদ চয়ন

        নাজমুল সাহেব নিজের দেশের হ্যারাজমেন্ট নিয়ে ভাবতে হবে।বহিঃর্বিশ্ব নিয়ে ভাবার বিষয় এটা নয়,তুলনারো নয়।বহিঃবিশ্বের ওই দেশগুলো যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ।সম অধিকার সাম্যে বেশ এগিয়ে গেছে

  • নিতাই বাবু

    এসব ট্রল থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।এদেশে নারীকে এখনো ভোগ্য পন্য হিসেবে চিন্তা করেন বিশাল সংখ্যক মানব সার্কেল।নারীর উপর ব্লেইম চাপিয়ে তারা নিজেদের বিকৃত স্বার্থ উদ্ধার করতে চায়।

    এই সমাজে এমনই দেখা যায়। লেখাটি খুবই ভালো লাগলো। লেখককে ধন্যবাদ।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    পোষাক ধর্ষণের ক্ষেত্রে কতটা অবদান রাখে তার যুক্তিগত ব্যাখ্যা এখনো দৃঢ় ভাবে পাওয়া যায়নি। নুপুংশ কিছু জানোয়ার সব দেশে সব সমাজেই বাস করে। একটা শ্রেণি এসবে অংশ নেয় আর আরেক শ্রেণী নিজেদের অক্ষমতা ঢাকতে এগুলোর উপর নানাবিধ আবরণ জড়ায়। আমরা যতদিন না মানসিক উন্নতি ঘটাতে না পারবো, ততোদিন পর্যন্ত এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক চলবে।

    ভালো লিখেছেন। লেখায় নিজের মতবাদ স্বাধীন ভাবেই ব্যাক্ত হয়েছে। আলোচনা / সমালোচনা লেখায় প্রান আনে। তাই লিখুন, এবং ধৈর্য সহকারে মন্তব্য দিন প্লিজ।

    শুভ কামনা 🌹🌹

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য