ধর্ষকের উৎপত্তিস্থল

খাদিজাতুল কুবরা ৬ অক্টোবর ২০২০, মঙ্গলবার, ১১:৫৬:৩৬অপরাহ্ন সমসাময়িক ২৩ মন্তব্য

ধর্মীয় অনুশাসন না মানা:
পৃথিবীর কোন ধর্মেই ধর্ষণ তথা কোন  ধরনের  অপরাধকে অনুমোদন করেনা। ধর্মীয় অনুশাসন চর্চার মধ্যে তাবৎ ন্যায় নীতিমালা রয়েছে। একজন মুসলিম হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড তা-ও জনসমক্ষে। জিনাকারির শাস্তি ও তদরুপ। আজকাল আমরা যে কোন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে নিজ ধর্মের নাম উল্লেখ করা ব্যাতীত ধর্মীয় বিধি নিষেধ কতোটা মেনে চলি নিজেকে প্রশ্ন করলে নিজের সাথে চোখ মেলাতে পারবোনা। তাই নিজ ধর্ম মেনে না  চললে সন্তান নীতিবান হবে কেমন করে? ধর্ষক তৈরীতে ধর্ম অবমাননা ও মুখ্য ভূমিকা রাখে।

দুর্বল পারিবারিক ভিত:
আমাদের দেশের পরিবারগুলোতে মহিলা সদস্যকে কতোটুকু মূল্যায়ণ করা হয়? আমার জানামতে খুব কম পরিবার আছে যারা স্বামী-স্ত্রী সমমর্যাদায় বসবাস করেন। যেসব সন্তান জন্মের পর থেকে দেখে সংসারে বাবার থেকে মায়ের মূল্য কম। সব সুবিধাগুলো বাবা আগে ভোগ করেন। যে কোন বিষয়ে শেষ কথাটা বাবা বলেন মায়ের মতামতের কোনো গুরুত্ব নেই। কোন কোন পরিবারের মা বাবার মারধোর খেয়েই নিরবে সংসার করেন, এ দৃশ্য দেখে বড় হওয়া কন্যা সন্তানটি হীনমন্য মেরুদণ্ডহীন জড়পদার্থ হয় আর ছেলে শিশুটি হয় অসভ্য বর্বর। তার চোখে নারীর জন্য সম্মান তো  তৈরি হয়ই না বরং নারী হয়ে উঠে তার কাছে কামনা চরিতার্থের যন্ত্র। তাই ধর্ষক তৈরিতে পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিভেদ তৈরী :
যুগ যুগ ধরে প্রচলিত পরম্পরায় পুরুষের কতৃত্ব দেখে দেখে অভ্যস্হ পরিবারের মহিলা সদস্য ও নিজের অজান্তেই মেয়ের চেয়ে ছেলে অধিক গুরুত্ব দেন। এমনকি জন্মদাত্রী মা ও কন্যা সন্তানকে একভাবে মূল্যায়ন করেন আর ছেলেকে অন্যভাবে। ছেলেদের বেশির ভাগ অপরাধকেই নজর আন্দাজ করেননা। বয়স কালের দোষ বলে উড়িয়ে দেন। একই অপরাধ কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে অমার্জনীয়। পরিবারগুলোর সন্তানের মধ্যে বিভেদ তৈরি ও ধর্ষক তৈরিতে সহায়ক।

সামাজিক কুসংস্কার :
যখন কোন পরিবারের মহিলা কিংবা কন্যা শিশুটি ধর্ষিতা হয়, পুরো সমাজ আঙ্গুল উঁচিয়ে ঐ পরিবারকে কটাক্ষ করে যে তাদের মুখ দেখাবার জো থাকেনা। দলে দলে লোকজন ধর্ষিতাকে দেখতে আসে, মিডিয়ার লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ে।ধর্ষিতা মেয়েটিকে কেউ বিয়ে করতে চায় না। বিবাহিতা হলে স্বামী তার সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না। সামাজিক কুসংস্কার আর নীচ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে ধর্ষিতার গোটা পরিবারের জীবন দুর্বিষহ হয় পড়ে। অথচ এসব দুর্ভোগ ধর্ষকের জন্য বরাদ্দ হওয়া উচিত।

আইনের দুর্বলতা:
বাংলাদেশে ধর্ষিতার জন্য আইন এবং বিচার প্রক্রিয়া অত্যন্ত অবমাননাকর। থানায় অভিযোগ লিখতে গিয়ে ও হতে হয় হেনস্তার শিকার। মেডিকেল টেস্টের অবস্থা আরও জগন্য। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ধর্ষিতার চরিত্রের বিশ্লেষণ করা হয় সর্বত্র। কোর্টের জেরা ও ধর্ষিতাকে বাক্যবানে ধর্ষণ করে বারংবার। সে হিসেবে ধর্ষক ধরা পড়লেও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতার দরুন জেলখানা তথা শশুর বাড়িতে জামাই আদরের মধ্যেই দিন কাটে।

একসময় আইনের ফাঁক গলে খালাস পায়। ধর্ষিতা তখন চরিত্রহীন মিথ্যাবাদী প্রমানিত হয়। যেহেতু বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি কঠোর নয় কেউ কেউ যৎসামান্য সাজা খেটে বেরিয়ে এসে স্বাভাবিক জীবন যাপন করে।
ক্ষতি যা হওয়ার মূলত ধর্ষিতারই হয়। এরকম হাজার ও দুর্দশা ধর্ষিতাকেই ভোগ করতে হয়।

তাই  জাতির কাছে প্রশ্ন রাখলাম, ধর্ষক তৈরীতে কার ভূমিকা নেই?

১৯৫জন ৫০জন
0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ