সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

ঠিক কখন বা কতদিন আগে মানব জাতি ধর্ম বা বিশ্বাস  সম্বন্ধে ভাবতে আরম্ভ করে তা অজানা। তবে প্রত্নতাত্ত্বিকরা রিসার্চ করে দেখেছেন যে, মধ্য paleolithic যুগ থেকে মানব জাতি ধর্ম পালনের ধারণা করতে থাকে।

Dunbar নামক একজন গবেষক গবেষণা করে বলেন, ধর্মের উদ্ভব হয় “A way to promote co operation in social group”, অর্থাৎ এক সঙ্গে দলবদ্ধ হয়ে থাকার জন্য এটা একটা ভালো মাধ্যম।

৫২০০ বি.সি. ধর্ম ধারনার প্রাথমিক যুগ  শুরু হয়। যখন থেকে মানুষ লিখতে আরম্ভ করে তখন থেকে তারা কী বিশ্বাস করে তা জানা যায় । তার  আগে লিখিত কোনো দলিল না থাকাতে তা সম্বন্ধে তেমন কিছু  জানা যায় না। ষোড়শ এবং সপ্তদশ শতাব্দীতে ধর্ম ধারণা গোড়ে ওঠে।

মধ্য এবং নিম্ন paleolithic যুগে ধর্মের ধারণা প্রথম পাওয়া যায়। ৩,০০,০০০ বছর আগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা হোমো সফিয়ানদের কবরস্থান উল্লেখ করেন। বর্তমানে ধর্মের ইতিহাস লিখতে গিয়ে ৫০,০০০-১৩,০০০ পর্যন্ত ঊর্ধ্ব প্যাললিক যুগে ধর্ম নিয়ে যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তাতে দেখা যায় : ১) সিংহের মতো দেখতে মানুষ, ২) শুক্রের মূর্তি, ৩) চাউট  গুহার সমাধি,  ৪) গুহা চিত্র ইত্যাদি। আসল কথা, ধর্মের প্রথম উৎপত্তি সম্বন্ধে বিস্তৃত কোনো ঐক্যমত নেই।

নিওলিথিক যুগে অর্থাৎ প্রাক মৃৎপাত্র যুগে “গবেকলি তেপে” এখন থেকে আবিষ্কৃত প্রাচীনতম ধর্মীয় স্থান। এটি তুরস্কের দক্ষিণ পূর্বে এনাতালিয়েতে প্রায় ১০,০০০-১২,০০০  বছর আগে স্থাপিত হয়েছিল বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা ধারণা করেন। ৯০০০ বছর আগে কৃষি ও পশু পালন শুরু হয় এবং “গবেকলি তেপে”-এর কাছে স্থায়ী বসতির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
প্রত্নতাত্ত্বিকগণ মনে করেন, আরও খোঁড়াখুঁড়ি করলে হয়তো ধর্মের সাধারণ ইতিহাস পাওয়া যাবে।

এই ছিল মানব জাতির থিতু হয়ে বসার আগে ধর্ম বা বিশ্বাস সম্বন্ধে ধারণা। তারপর যখন কৃষিযুগ আরম্ভ করল তখন ধর্মের ধারণা কিছুটা অন্যরকম হতে শুরু হলো। প্রাচীন কালে প্রায় সব মহাদেশে মানব জাতি প্রাচীন পদ্ধতি অবলম্বন করে ধর্ম পালন করত।

মধ্য যুগে জুধিজম, খ্রিষ্টানীটি এবং ইসলাম ধর্মের উত্থান হয়। এই তিন ধর্মকে বলা হয় “আব্রাহামিক ধর্ম”। কারণ ইব্রাহিম ( সা: আ: ) এই তিন ধর্মের কেন্দ্রবিন্দু। মধ্য এশিয়াতে এই তিন ধর্মের জন্মস্থান। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারণে এই তিন ধর্ম দেশে দেশে যেতে থাকে।

→ জুধিজম ৩৫০০ বছর আগে, মিডলে ইস্টে গোড়াপত্তন হয়। মুসা (আ:) প্রথম নবী।
→ খ্রিষ্টান ধর্ম ১ম শতাব্দীতে গোড়াপত্তন হয়। জেরুজালেম থেকে এই ধর্মের প্রসার হতে থাকে। ঈসা সা: আ: প্রথম নবী।
→ ইসলাম ৫৭০ A.D.-তে আরবে গোড়াপত্তন হয়। মুহাম্মাদ সা: আ: হলেন প্রথম নবী।

কিন্তু পূর্ব দিকে ভারত উপমহাদেশে হিন্দুজম, বুদ্ধজম, যোইনজম এবং শিখোজম ধর্মের উৎপত্তি হয়।

হিন্দুজম সবচেয়ে পুরানো একটি ধর্ম । হিন্দি ভাষায় যাকে বলা হয় সনাতন ধর্ম । এই ধর্মের কোনো একক প্রতিষ্ঠাতা নেই । অনাদিকাল থেকে চলে আসছে এই ধর্ম । উপাস্য বোঝাতে দেবদেবী, ঈশ্বর, ভগবান, ভগবতী, শব্দগুলো ব্যবহার হয়।

বৌদ্ধ ধর্ম খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে ভারত বর্ষের পূর্বে বর্তমান বিহারের চারদিকে প্রসারিত হয়েছিল । সিদ্ধার্ত গৌতম এর  প্রতিষ্ঠাতা । প্রাচীন প্রধান ধর্মের এটি একটি। তৎকালীন মগধ রাজ্যর  (বর্তমান বিহার) সম্রাট বিম্বসার আমলে বৌদ্ধ ধর্ম ব্যাপক প্রসার লাভ করে। সেখান থেকে গাঙ্গেয় সমতাল এবং বর্তমান বাংলাদেশের উত্তরের অঞ্চলগুলোতে ব্যাপক প্রসার লাভ হয়। তারপর বৌদ্ধ ধর্ম পশ্চিমে প্রসার হতে হতে আফগানিস্থান, গান্ধারা মধ্য এশিয়া হয়ে তিব্বেত প্রবেশ করে । সেখান থেকে চিন এবং তারপর পুরো দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় প্রসার এবং প্রচার লাভ করতে থাকে।

সম্রাট অশোক হিন্দু ধর্ম থেকে ধর্মান্তরিত হয়ে বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহণ করেন এবং অনেক বৌদ্ধ মন্দির স্থাপন করেন। তাঁর আমলেই বৌদ্ধ ধর্ম শ্রীলঙ্কায়  প্রসার লাভ করে।

বৌদ্ধ ধর্মের উৎপত্তি স্থান এবং তা ছড়িয়ে পড়ার মানচিত্র

বৌদ্ধধর্ম, শিখধর্ম এবং জৈন ধর্মে কোনো দেবদেবী (Deity) নাই ।

ভারত উপমহাদেশে ইসলাম আসে ১১০০-১৫০০ CE-তে।

ধর্ম দেশে দেশে :

(আফ্রিকা মহাদেশ)

আফ্রিকার দেশগুলোতে প্রাচীন কালে আত্মা পূজা, প্রকৃতি পূজা, পূর্ব পুরুষদের আত্মা পূজা, ককু নৃত্ত ধর্ম হিসাবে প্রচলিত ছিল। আফ্রিকা ইউরোপের কলোনি থাকা কালে সেখানে  খ্রিষ্টধর্মের ব্যাপক প্রসার হয়। প্রথম শতক থেকেই খ্রিষ্ট ধর্মের গোড়াপত্তন হয়।

আফ্রিকায় ইসলাম আসে ৭ম শতাব্দীর প্রথম দিকে। আরবের পর আফ্রিকাই হলো প্রথম দেশ, যেখানে ইসলাম পৌঁছে। বিশ্বের মুসলিম জনসংখ্যার তিন ভাগের এক ভাগ এখানে বসবাস করে। মুসলমান জনগোষ্ঠী জিবুতি, সোমালিয়া ও ইরিত্রিয়া অতিক্রম করে ইথিওপিয়ায় আশ্রয় নেয়। পরে উত্তর আফ্রিকার সব দেশেই ইসলাম পৌঁছে যায়। বর্তমানে দক্ষিণের দেশগুলিতে খ্রিষ্টধর্ম, মধ্যের দেশগুলিতে অর্ধেক খ্রিষ্টান অর্ধেক ইসলাম ধর্মের মানুষ আছে।

প্রাচীন আফ্রিকার ডাইটি (  deity)

প্রাচীন কালে মিশরে তারা একটা নিজস্ব ধর্ম গড়ে তুলেছিল, যা লিখিতভাবে দেখা যায় তাদের পিরামিড, মন্দির আর কবরের দেয়ালে। সৌর দেবতারা, রহস্যময় দেবতা আমুন, মাতৃ দেবী আইসিস, সূর্য দেবতা আটেন এবং অনেক সময় রাজারাই নিজেদেরকে দেবতা বলে ঘোষণা দিতেন। তাছাড়া অনুবাস মৃত মানুষের দেখাশোনা, জ্ঞানের দেবতা thoth, ঝড়-বন্যার দেবতা সেতে এবং মৃত্যুর দেবতা অসিরিস। A.D. ৬৩৯-৬৪৬ ইসলামের গোড়াপত্তন হয়। রোমান বাইজেনটাইনদের ক্ষমতার অবসান হয়।

প্রাচীন মিশরের ধর্ম বিশ্বাস

(এশিয়া মহাদেশ)

আরবে ইসলাম ধর্ম আসার আগে সেখানে দৈত্য, জিন, উপদেবতার পূজা হতো। এগুলোর নাম লাত, উজ্জা, মানাত, আবগন, আগ্লিবল, কাউম, আমতারতে, বেল ইত্যাদি । ইসলাম আসার আগে সেখানে ৩৬০টি মুর্তির সংখ্যা ছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয় ৮ম শতাব্দীতে আরব ব্যাবসায়িদের মাধ্যমে। ইসলাম ধর্ম প্রসার লাভ করে ১৩তম শতাব্দীতে ইসলাম ধর্মের অনেক পণ্ডিতের মাধ্যমে । ইসলাম ধর্ম আসার আগে এখানে হিন্দু ধর্ম ছিল। ভারত, নেপাল, বাংলাদেশের পরেই বেশি হিন্দু ইন্দোনেশিয়াতে। ২০১০ সালের গণনা অনুযায়ী ৪ মিলিওন হিন্দু এখানে বসবাস করে। পুরো ইন্দোনেশিয়ায় ১.৭% এবং বালি দীপে ৮০.৫% প্রথম শতাব্দীতে হিন্দু ধর্ম প্রভাব বিস্তার করে। তামিলনাডু এবং অন্ধ্র প্রদেশ থেকে ব্যাবসায়িদের মাধ্যমে হিন্দু ধর্মের প্রসার হয়। ৮ম শতাব্দীতে প্রাচীন শিলালিপি তে শিবলিঙ্গ ও তার সঙ্গী পার্বতী, গণেশ, বিষ্ণু, ব্রম্ভা ও অর্জুন-সহ অন্যান্য দেবদেবীর ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতার প্রমাণ পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ার হিন্দুরাজ্জ ছিল তরু নগর।

চীনে প্রাচীন কালে যেভাবে ধর্ম পালন হতো তা হলো : ম্যাজিক, ড্রাগন, ভূত এবং নিরাপত্তা ও সাহায্যের জন্য কিচেন দেবতাকে স্মরণ করা হতো। তাদের নিদৃষ্ট ধর্ম ছিল না। এখন সেখানে বৌদ্ধজম, কনফুসিয়াজম, তাইওজম এই তিন মতবাদের অনুসারী চলমান আছে।

পারস্য বা  বর্তমানে ইরানে প্রাচীন ধর্ম হলো জরথুস্ট্রিয়ানিজম (Zoroastrianism)। পৃথিবীর এটা একটি প্রাচীন ধর্ম । ‘মিথ্রা’ বা মিথরা একটি গুরুত্বপূর্ণ দেবতা। আলোর দেবতা ‘যোদাইযম’ চার হাজার বছরের পুরানো।  যা লিখিত অবস্থাতে পাওয়া যায়। যা কিনা সংস্কৃতির হিন্দু ধর্মের চেয়েও পুরানো।

৬৫০ A.D.-তে ইসলাম আসে ইরানে।

প্রাচীন পারস্যের ধর্মীয় বিশ্বাস

উত্তর আমেরিকাতে রেড ইন্ডিয়ানদের প্রাচীন ধর্ম হলো ‘সুইট লজ’, সান ডান্স এবং ঘোস্ট ডান্স।

সুইট লজ একটা গম্বুজের মতো করে কঞ্চি দিয়ে তৈরি ডোম। যার  চারদিকে  ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকে এবং তার চার পাশে ‘পবিত্রকরণ’ করা হয়।

সান ডান্স যা কিনা কানাডার আদিবাসী এবং ন্যাটিভ আমেরিকানদের  মধ্যে প্রচলিত। পুরো কমুইনিটি বা ব্যক্তিগতভাবে সুস্থতার জন্য কোনোকিছু বিসর্জন দিয়ে থাকত।

১৬০০ সালে ইউরোপিয়ানদের আগমনের সাথে সাথে খ্রিষ্টইনিটি সেখানে পৌঁছে। বর্তমানে সেখানে নানান দেশ থেকে যাওয়া নানান দেশের মানুষ বাস করে।  সঙ্গে নিয়ে গেছে  যার যার ধর্ম।  সাউথ আফ্রিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া আর কানাডার মতো রেইনবো কান্ট্রি। কারণ এই সব দেশে নানান দেশ থেকে আগত নানান ধর্ম, কালচারের মানুষ বসবাস করে। ল্যান্ড অফ ইমিগ্র্যান্ড বলা হয় এই সব দেশকে। ইসলাম সেখানে তৃতীয় বৃহত্তম ধর্ম।

(ইউরোপ)

১৫থ সেনচুরিতে (৩৮০ AD) রোমান সম্রাট খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করেন। তারপরেই মধ্য যুগে প্রায় সমস্ত ইউরোপে খ্রিষ্টিনিটি ছড়িয়ে পড়ে। এই ধর্ম আসার আগে ইউরোপের প্রায় সব দেশই পলিথিইসটিক যুগের ছিল। তার আগে বেশিরভাগ লোক পেগ্যান (Pagan) ছিল।

পেগ্যান মানে একের অধিক গড। প্রকৃতি পূজা, আত্মিক ও সামাজিক আচার ও বিশ্বাস।

(ব্রিটেন)

জন নেলসন নামক প্রথম এক ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ১৬থ সেনচুরিতে। ১৬৪৯ এ প্রথম কুরআন শরীফ ইংরেজিতে অনুবাদ করা হয়। এখন ইসলাম দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ২০১১ সালে ২,৫১৬,০০০ মুসলমান ছিল । এখন ৩,৩৭২,৯৬৬জন। সবই বাইরের দেশ থেকে আসা ।  ভারত বর্ষ যখন ব্রিটেন এর কলোনি ছিল তখন অনেক লস্কর স্থায়ীভাবে এখানে বসবাস করে। তারপর ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর পাকিস্থান এবং বাংলাদেশ থেকে অনেক মুসলমান এখানে স্যাটেল হয় । তার সাথে যোগ হয় তুরস্ক, আরব,  মরক্কো এবং সোমালিয়া থেকে আসা ইসলাম ধর্মী মানুষ। বর্তমানে যোগ দিয়েছে ইটালি থেকে আসা বাংলাদেশি মানুষ। যারা কিনা প্রথমে বাংলাদেশ দেশ থেকে ইটালি এসেছিল।

এইভাবে দ্রুত গতিতে বাড়ছে মুসলমানের সংখা। সবচেয়ে বেশি দ্রুত গতিতে বাড়ছে ইসলাম ধর্ম এখানে। পুরো ব্রিটেনে ১,৮০০ মসজিদ  এবং ৩ মিলিওন ইসলাম ধর্মী লোকের বাস  ।

রিজেনট পার্ক মসজিদ লন্ডন

(স্পেন)

‘আল-আন্দালুস’ ছিল স্পেনের আদি নাম। কারণ তখন ছিল এটা একটা মুসলিম দেশ। ৭১১ থেকে ১৪৯২  খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত  উমাইয়া বংশ এখানে সম্রাজ্য বিস্তার করেছিল। ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হওয়ার একশত বছরের মধ্যেই এখানে ইসলাম ধর্মের গড়াপত্তন হয়। এখানে অনেক ইসলামি যুগের  স্থাপত্য শিল্প ছড়িয়ে আছে। উমাইয়া বংশের বংশধরেরা এখনো এখানে আছে। ৭৫০ সালে আব্বাসিওরা উমাইয়ারাকে সরিয়ে দেয়। তাদের মতে উমাইয়ারা বেশি ধর্ম নিরেপক্ষ ছিল। স্পেনে ইসলামের পরাজয়ের কারণ তারা এখানে ক্রমাগতভাবে রাজ্য বিস্তার করছিল এবং খ্রিষ্টান অদ্ধুসিত এলাকা দখল করে নিচ্ছিল। তাছাড়া নিজেদের মধ্যেও বিভেদ আর দ্বন্দ্ব ছিল।

স্পেনে এখনো অনেক ইসলাম ধর্মী লোকের বাস। বেশিভাগ মরক্কো থেকে আসা। কারণ মরক্কোর সর্ব উত্তরের কিছু অংশ  ১৯১২-১৯৭৫  স্পেনের কলোনি ছিল। ১৯৩৬-১৯৩৯ এর গৃহযুদ্ধে মরক্কোর মুসলমানদের একটা বড়ো ভূমিকা ছিল। ১৯৮৫ পর্যন্ত মরক্কো বাসীর জন্য স্পেনে আসতে কোনো ভিসা লাগত না।

নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, এই সব দেশে ধর্মের খুব একটা গুরুত্ব নেই। ধর্ম তাদের কাছে একটা ব্যক্তিগত ব্যাপার। দয়নিন্দন জীবনে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড নাই। বেশিরভাগ দেশ ধর্ম নিরেপক্ষ।

গ্রীসে প্রাচীন কালে যে ধর্ম প্রচলিত ছিল তা খুব বেশি কাল্পনিক আর গল্পে ভরা। তাদের দেবতাগুলো মানুষের মতো। অনেক দেবদেবতা ছিল যা প্রায় সব দেশেই ছিল। অলিম্মপিয়া, যেসাস, এথেনা, এপলো, আবটেমিস, পসিড্রন, হেরা, ডেমোটায় ইত্যাদি। ৪র্থ সেনচুরিতে বেশিরভাগ গ্রীক অর্থাডেকস খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে।

গ্রীক দেবতা

ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেখা যায় হাজার হাজার মানুষ হজ পালন করতে যায়। প্রায় ১০ মিলিওন জিউজ সাবাথ পালন করে। কারণ ধর্ম একটা গাইড হিসাবে কাজ করে। দেয় প্রশান্তি। মানুষ যখন বিপদে পড়ে অসহায় হয়ে যায় তখন ধর্মের উপর নির্ভরতা একটা শক্তি দেয়, শান্তি দেয়।

ধর্ম জীবনকে পরিচালনা করে। একটা নীতি (principle) দিয়ে থাকে।

Secularism বা ধর্ম নিরপেক্ষতা

১৬১৮-১৬৪৮ পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর ধরে ধর্মকে কেন্দ্র করে অনেক যুদ্ধ হয়েছে। এই জন্য বর্তমানে বেশিরভাগ দেশের কন্সটিটিউশনে ধর্ম নিরেপেক্ষ বিধানকে যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্ম মতালম্বি মানুষ হারমনির সাথে বসবাস করতে হবে।  ১৮ শতকে ধর্ম নিরেপক্ষ রাষ্ট্র গড়ে ওঠে। ২০০১ সালে বিলিফ নেট চালু  হয়। বিভিন্ন স্কুলে সব বিশ্বাসকেই মর্যাদা দেওয়া হয়।

ছবিঃ উইকিপেডিয়া

তথ্য সংগ্রহঃ

ভ্রমণ থেকে অভিজ্ঞতা

উইকিপেডিয়া

৩৬৩জন ৪৪জন
0 Shares

১৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য