দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন

মারজানা ফেরদৌস রুবা ২৫ জানুয়ারী ২০১৫, রবিবার, ০৭:২৭:২১পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ২৬ মন্তব্য

মানবসভ্যতা দাঁড়িয়ে আছে দুষ্টের দমন শিষ্টের পালনের উপর।

দুষ্টলোককে প্রশ্রয় দিলে ফলাফল কখনোই ভালো হয়না। কিন্তু আমাদের তথাকথিত বুদ্ধিজীবী, যারা সমাজে সুশীল বলে পরিচিত, কেনো যেনো তাঁদের অনেকেই কথা বলার সময় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যান দেশের বড় দুদলের মধ্যে একটা ব্যালেন্স মেনটেইন করার জন্য। মানুষ যে কতো ডাবল স্ট্যান্ডার্ড হতে পারে, তাঁদের বুদ্ধি বিতরণের ধরণ দেখলে বুঝা যায়। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির দোলাচলে আটকে আজ তাঁরা সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে পারছেন না। দিনকে দিন তাঁদের এই দ্বিধাগ্রস্ত মনের কুপ্রভাব সমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সাধারন মানুষ, এমনকি রাজনতিবিদরাও এর কুপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারছেন না।

নিরপেক্ষ থাকা মানে তো এই নয় যে, একের সমান্তরালে অন্যকেও টেনে এনে দাঁড় করাতে হবে! কিন্তু তাঁরা তাই করছেন। মুলতঃ তাঁরা দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার চেষ্টা, সুবিধাবাদী অবস্থান বজায রাখার চেষ্টা করতে গিযে নীতিতে অটল থাকতে পারছেন না। কখনো কখনো তাঁরা স্বার্খের কাছে নীতিকেও বিক্রি করে দিচ্ছেন। সুবিধাভোগের জন্য অন্ধভাবে একচোখা হয়েও কথা বলে যাচ্ছেন।

আজকের বাঙলাদেশের রাজনৈতিক দুরাবস্থার জন্য জ্ঞানপাপী এই সুশীল সমাজ অনেকাংশেই দায়ী। তা না হলে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন পুড়ে কয়লা হযে যাচ্ছে তা নিয়ে তাঁদের তেমন কোন আওয়াজ শুনা যায়নি কিন্তু যারা কয়লা বানাচ্ছে তাদের যখন বিজিবি গুলি করে মারার ঘোষণা দেয় তখন তাঁদের সরব হতে দেখা যায়, তাঁদের বুকে জ্বালা শুরু হয়ে যায়। মানবাধিকার! মানবাধিকার! বলে তাঁরা আহা-উহু শুরু করে দেন।

হায়রে আমাদের সুশীল!!

সমস্যার শিকড় উপড়ানো নয়, বিচ্ছিন্ন ভাবে আহা উহু করে সংস্কারের প্রলেপ লাগিয়ে মানুষকে তাক লাগিয়ে দেয়াই মুলত তাঁদের কাজ।
উচ্চ ও উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সুবিধাভোগী এ গোষ্ঠী পুঁজিবাদী টোপ গিলতে সব সময়ই প্রস্তুত। পুঁজিবাদী বিশ্বব্যবস্থায় তাঁরা নিজেদের প্রকাশ করেন ‘বিকল্প নতুন শক্তি’ গড়ার কারিগর হিসেবে।

সারাদেশ যখন পুড়ছে একজনের আঙুলের ইশারায়, যখন পুরু দেশজুড়ে মানুষ পুড়ে অঙ্গার হযে যাচ্ছে তখনো তাঁরা চোখ বন্ধ রেখে দুনেত্রীকে সংলাপে বসতে বলেন কিন্তু বলেন না এ সহিংসতার আশ্রয় যারা নিয়েছেন তাঁরা ভুল পথে আছেন। এই করেই তাঁরা সমস্যার সমাধানের পরিবর্তে জল ঘোলা করতেই যেনো আদাজল খেয়ে লেগে পড়েন।
আর সমাজের সাধারন মানুষগুলো তাঁদের কথা শুনে বিভ্রান্তিতে জড়িয়ে পড়ে। যার ফলসশ্রুতিতে দিনকে দিন নষ্ট লোকের সংখ্যা সমাজে বেড়েই চলেছে।

৭২১জন ৭২১জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ