লেখাটা কি ভাবে কোন দিক দিয়ে শুরু করব মাথায় আসছে না।সত্যি বলতে কি কে যেন বলেছিলো,আমরা খুব অল্প সময়েই স্বাধীনতা পেয়ে বসেছি তাই এ দেশ,এ দেশের জনগনের মাঝে দেশ প্রেমের ঘাটতি দেখা যায়।অবস্থা দৃষ্টে তাই দেখছি,স্বাধীনতা উত্তর এ যাবৎকাল এ দেশটাকে যারাই শাসন করতে নেতা সেজেঁছেন তারা কেবলি টাকার কুমিরই হয়েছেন।এ দেশকে ভবিষৎ এর ভাবনায় কেউ ভাবেননি।যারাই ভেবেছেন তারাই কোন কোন স্বদেশীও শকুনের কামড়ে ক্ষত বিক্ষত হয়ে হয় পরলোকে চলে গিয়েছেন অথবা কেঊ বা স্বদেশ প্রেমে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

একটি রাষ্ট্রের জনগনের যে মৌলিক অধিকারগুলো রয়েছে তার মধ্যে খাদ্য এক নম্বর।সুবিদাভোগী নেতাদের এ দেশে অভুক্ত জনগোষ্টীর সাথে সরকারী আমলাদের প্রতারনা নতুন কিছুই নয়।জনগনের জন্য আমদানীকৃত পচা গম থেকে শুরু করে সারে পর্যন্ত ভেজাল দিতে তারা বেশ উস্তাদ।বলাবাহুল্য এ দেশটা চলে আমলাদের তত্বাবধানে তাই তারা যা বলবেন তাই জ্বি হুজুর জ্বি হুজুর বলে বলে তপস্যায় কিছুটা ছাইভুষি না দিলে সু-সম্পর্ক আর টিকে না।নতুবা বহু বছর যাবৎ চলে আসা মাছ মাংস ফল মুলে ভেজাল ফরমালিনে ভরা এ দেশে দুগ্ধজাত বস্তুটিতেও ভেজালে সয়লাব হবে ভাবা যায়!।


সাম্প্রতীক কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক ও ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক আ ব ম ফারুক পাস্তুরিত দুধ নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন যে বাজারে বিক্রয় কৃত দুগ্ধ মিল্কভিটা, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, প্রাণ, ইগলু, ইগলু চকোলেট এবং ইগলু ম্যাংগোর পাস্তুরিত দুধ এই সাতটি নমুনার সব গুলোতেই মানব চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক লেভোফ্লক্সসিন, অ্যান্টিবায়োটিক সিপ্রোফ্লক্সাসিন এবং অ্যান্টিবায়োটিক এজিথ্রোমাইসিনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে৷যার ভক্ষণে মানব জীবনে মারাত্বক ক্ষতি সাধিত হবে।

পৃথিবীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মতে এ পৃথিবী আগামী প্রায় পঞ্চাশ বছরের মধ্যে মানব শুন্য হয়ে পড়তে যাচ্ছে।এ মানব শুন্য হয়ে যাওয়ার কারন কোন পারমানবিক যুদ্ধ নয়,নয় কোন ভয়ংকর রোগ বালাইয়ের কারনে মানব শুণ্য হবে -যখন তখন মাত্রাতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ঔষধ সেবনে।চিকিৎসকদের বিভিন্ন নিবন্ধ থেকে জানা যায় যে,গনোরিয়া সহ কিছু সাধারণ সংক্রামক রোগ চিকিৎসায় এক সময় পেনিসিলিন অত্যন্ত কার্যকর ওষুধ ছিল।মানব দেহে পেনিসিলিন যখন অকার্যকর হয়ে পড়ল, তখন বাজারে আসে টেট্রাসাইক্লিন। টেট্রাসাইক্লিন অকার্যকর  হয়ে পড়ল তখন আসে ক্লোরোকুইনোলন গ্রুপের সিপ্রোফ্লক্সাসিন, নালিডিক্সিক অ্যাসিড, ল্যাভোফ্লক্সাসিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক যা এখন এগুলোও অকার্যকর।এছাড়াও কিছু কিছু জীবাণুকে ধ্বংস করতে এখন  প্রয়োগ করা হচ্ছে সেফট্রিয়াক্সন ও অ্যাজিথ্রোমাইসিন কম্বিনেশন অ্যান্টিবায়োটিক।মানব দেহে অ্যান্টিবায়োটিকের এমন সচারচর ব্যাবহারে একটা সময় দেখা যায় রোগীর আর কোন ঔষধই কাজ হয় না বা রোগ সারে না।

এ ছাড়ও আমাদের শরিরে অ্যান্টিবায়োটিক ঢুকছে অনবরত প্রাণিজ আমিষ খাদ্যের মাধ্যমেও।যেমন মাছ,গরু ও খাসীর মাংস, মুরগীর মাংস, ডিম। খামারগুলোতে  প্রতিদিনই সকালে-বিকাল পানিতে মিশিয়ে মুরগীকে খাওয়ানো হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। এসব রেজিস্ট্যান্ট ব্যাকটেরিয়া মুরগীর মলমূত্রের মাধ্যমে প্রকৃতির গাছ গাছালিতেও ছড়িয়ে পড়ছে। ডিম ও মাংসের মাধ্যমে সরাসরি আমাদের শরীরেও প্রবেশ করছে। একই ভাবে মাছের জন্য জলে, গরু-ছাগলের শরীরেও পুষ করা হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক।এ সব জলে স্থলে ব্যাবহৃত অ্যান্টিবায়টিক এর একটা অংশ মাটি বায়ু জলেও আমাদের ফলায়িত ফসলে চলে যাচ্ছে।এভাবে ফলমূল, খাদ্য শস্য থেকে শুরু করে প্রাণিজ আমিষ মানুষের সব খাদ্যেই অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি আমাদের ভবিষ্যৎ বেচে থাকার আশা ক্রমশতঃ ম্লান হয়ে আসছে।


১৯২৭ সালে প্রথম অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কারক আলেকজান্ডার ফ্লেমিং জীবাণুর বিরুদ্ধে পেনিসিলিনের নাটকীয় কার্য কারিতার পাশা পাশি মানব সভ্যতাকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন যে, সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়, যখন অপব্যবহারের কারণে একের পর এক অ্যান্টিবায়োটিক জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাবে, ফলে এক অসম যুদ্ধে মানুষ পরাজিত হবে এবং মৃত্যুবরণ করবে। মানব জাতির বিলুপ্তির সেই সন্ধিক্ষণটি যেন দ্রুত আমাদের দিকে এগিয়ে আসছে। অথচ, আমরা রয়েছি নির্বিকার।

সব চেয়ে ভয়ের বিষয় হল ঐ সব অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধতো মানব দেহে রোগ হলে রোগের প্রতিরোধে ব্যাবহৃত হয় যার বেশ কয়েকটি ক্ষতিকর অ্যান্টিবায়োটিক বর্তমানে অধ্যাপক ফারুক স্যারের গবেষনা প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পাস্তুরিত দুগ্ধজাতের মাধ্যমে আমাদের দেহে না চাইতেই ঢুকে যাচ্ছে।

এখন কথা হচ্ছে এ দুগ্ধজাত খাদ্যটি কারা বেশী পান করেন।নিশ্চয় আমাদের দেশে একটি উঠতি জাতি শিশু কিশোররা।মানুষ এমন বিবেকহীন হয় কি করে! যদি টাকা কামানো তার উদ্দ্যেশ্য হয় তবে আমি বলব,তাহলে এ ভাবে মানুষের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে এ কেমন টাকা কামানোর ধান্দা আর কাদের জন্যই বা তারা এ সব ক্ষতিকর ব্যাবসা করছেন ? মনে কি একটুও ভাবনা আসে না যে,তার বাজারজাত কৃত এই দুগ্ধজাত খাদ্যটি তারও কোন না কোন আত্মীও পান করবেন? আর যারা খাদ্যে ভেজাল মুক্ত রাখতে রাষ্ট্রের কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যায় করে বিলাসীতার জীবন যাপন করছেন তারা কি দায়ীত্ব পালন করছেন? তারাতো এ যাবৎ কাল কোন খাদ্যের মান নিয়ন্ত্রনের ধারে কাছেও যাননি বরং “মা’য় বানায় পুতে বেচে” এই নীতিতে বিশেষ কৌশলে ব্যাবসা চালাতে সহয়তা করে যাচ্ছেন দিনের পর দিন।আর যখন দেশ ও মানবতার স্বার্থে কেউ একজন এ সবের মান নিয়ন্ত্রন ও মান পরীক্ষায় কাজ করতে আসেন এর মাঝে মানব দেহের কোন ক্ষতিকারক বস্তু আছে কি না তা জানান তখনি তার উপর আসে রাষ্ট্রপক্ষের মামলার হুমকি।

গত ২৫ জুন প্রথম দফায় ও ১৩ জুলাই শনিবার দ্বিতীয় দফায় পাঁচটি কোম্পানির সাতটি ব্র্যান্ডের গরুর দুধে অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়ার বিষয়ে গবেষণা তথ্য প্রকাশ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক আ ব ম ফারুক।তার মতে তার গবেষনা দল বিশ্ব মানের ল্যাবে পরীক্ষা করে দশটি স্যাম্পলের সব গুলোতেই অ্যান্টিবায়োটিক এর অস্তিস্থ পেয়েছিলেন।

তিনি সংবাদ মাধ্যমে জানান গত সপ্তাহে তারা আবার নমুনা পরীক্ষা করেছেন তাতে আগের পাঁচটি কোম্পানির সাতটি পাস্তুরিত প্যাকেট-জাত দুধের একই জায়গা থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং একই জায়গা থেকে খোলা দুধের সংগৃহীত তিনটি নমুনা অর্থাৎ মোট দশটি নমুনা উন্নত ল্যাবে পরীক্ষা করা হলেও এবারেও সবগুলো নমুনাতেই অ্যান্টিবায়োটিক সনাক্ত হয়েছে যা উঁচু মাত্রার এই অ্যান্টিবায়োটিক মানুষের দেহের জন্য ভয়ংকর ক্ষতিকর।তিনি বলেন ,আগের গবেষণায় দুগ্ধজাত পাস্তুরিত দুধে তিনটি অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া গেলেও  এবার তারা চারটির সন্ধান পান।এর মধ্যে আগের বার পাওয়া যায়নি এমন নতুন দুটি অ্যান্টিবায়োটিক অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ও এনরোফ্লক্সাসিনও পেয়েছেন।

অধ্যাপক ফারুক এর মতে বিএসটিআই এখনো দুধের মাত্র ৯টি উপাদান নিয়ে পরীক্ষা করে থাকেন৷ অ্যান্টিবায়োটিক ও ডিটারজেন্ট-এর  উপস্থিতি পরীক্ষা করেন না। এটা অবশ্যই করতে হবে। আমরা ১৯ ধরনের পরীক্ষা করেছি। সিঙ্গাপুরে করে ৫০ ধরনের পরীক্ষা করে  আমেরিকা করে ৩৮ ধরনের পরীক্ষা।তার মতে বিএসটিআই এর স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী আদর্শ দুধ হতে গেলে ঐ নয়টা প্যারামিটার থাকতে হবে৷ কিন্তু আমরা মনে করছি, সঠিক ফলা ফলের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, ফরমালিন, ডিটারজেন্ট এগুলোও পরীক্ষা করা দরকার৷এসব শুধু যে আমাদের পরীক্ষায় ধরা পড়েছে তা কিন্তু নয়৷ আইপিএস, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরীক্ষাতেও এসব ধরা পড়েছিলো৷ তার গবেষনায় কোন ভুল থাকলে নমুনা জমা দেয়া আছে তা বিএসটিআই যাচাই করে দেখতে পারেন তা অধ্যাপক ফারুক তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন।

অধ্যাপক ফারুক তার গবেষনায় দুধে অ্যান্টিবায়োটিক এর অস্তিত্ব পেয়েছেন অন্য দিকে বিএসটিআই তার গবেষনাকৃত দুগ্ধজাত পরীক্ষা না করেই বলেন,অ্যান্টিবায়োটিক এর অস্তিত্ব তারা পাননি।তারা তার গবেষনাটিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তার বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেবার হুমকি দিয়ে আসছেন।কিন্তু বিবিসিতে এক সময় এক সাক্ষাতকারে বিএসটিআইয়ের পরিচালক এসএম ইসহাক আলী বলেন, যেসব মানদণ্ড ধরে তারা খাদ্য পরীক্ষা করেন তাতে অ্যান্টিবায়োটিকের বিষয়টিই নেই। অর্থাৎ দুধ বা অন্য খাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক আছে কিনা তা আসলে কখনো পরীক্ষা করাই হয়নি,যা কি না  বিএসটিআই আদালতকেও তা জানিয়েন।তিনি আরো বলেন, মনিটরিংয়ের জন্য ১৮১ টি পণ্য  বাধ্যতামূলক করা হলেও  লোকবল কম নিয়েও আমরা তা করছি। আমরা আদালতে ৩০৫ রকমের দুধ ও দুগ্ধজাতীয় পণ্যের রিপোর্ট দিয়েছি। সেখানে আমরা বলেছি অ্যান্টিবায়োটিক টেস্টের ক্যাপাসিটি আমাদের নেই।সুতরাং সেটা আমরা টেস্ট করিনি”।তাহলে এর দায় দায়ীত্ব কার?

তাহলে এ নিয়ে আর কেন হুমকি ধামকি।নিজেদের ব্যার্থতা আর সক্ষমতাকে ঢাকতে আর কত টালবাহানা করবেন বিএসটিআই কর্তৃপক্ষ।আমরা সাধারন জনগণ চাই ভক্ষণে নিরাপদ খাদ্য।কে ব্যাবসা করল না করল বা কার ব্যাবসায় কি ক্ষতি হলো সেটা দেখার বিষয় জনগনের টাকায় বেতনভুক্ত বিএসটিআই এর কর্মকর্তাদের  নয়। পত্রপত্রিকায় অধ্যাপকের উপর হুমকি ধমকির অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে বিএসটিআই ঐ সব দুগ্ধজাত মালিকদের কেনা গোলাম তারা।অথচ জনগনকে দিনের পর দিন রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ সংস্থাটির  খাদ্যের ভেজাল এর নিশ্চয়তা না দিয়ে দায়ীত্ব অবহেলা করে যাচ্ছেন।আমরা এমনটি আর দেখতে চাই না।আমরা এ নিয়ে আর কোন কালক্ষেপন করতেও চাই না।চাই অতি দ্রুত এর সমাধানে আসবে বিএসটিআই সংস্থাটি।

———————————————————

তথ্য ও ছবি
বিবিসি নিউজ
বাংলা ট্রিবুনাল
ঢাকা টাইমস
বাঙ্গী নিউজ
উইকিপিয়া।

২৮৮জন ৪৪জন
116 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য