দিবা রাত্রির কাব্য

অপার্থিব ১০ মার্চ ২০১৯, রবিবার, ০৯:২৮:৫৩অপরাহ্ন গল্প ১৮ মন্তব্য

এক চৈত্রের সন্ধ্যা… শীতলক্ষ্যার ঘাট… চুলে নদীর শীতল হাওয়া… মেঘের ঘোমটা চিরে উঁকি দেওয়া এক টুকরো হলদে চাঁদ… এক ঝাল মুড়ি বিক্রেতা আর তার হাতের অনুপুম ভঙ্গীতে করা বিচিত্র শব্দ সম্ভার… মায়ের স্নেহময় হাত আর লাল-নীল-হলুদ বেলুন হাতে দাঁড়ানো একটা ৫ বছরের মেয়ে… ল্যাম্প পোষ্টের নিয়ন আলোকে পিছনের রেখে দাঁড়ানো একটা ক্লান্ত দাঁড় কাক… এক জ্যোস্না তাড়িত খেয়ালী যুবক… পারাপারের অপেক্ষায় থাকা তিনটি হলুদ তরুণী…

এদের মধ্যে একজনের হয়তো বিয়ে আজ। কোন মেয়েটির? হলুদ শাড়ি আর মাথায় এক গুচ্ছ গোলাপের ভার নিয়ে ভয় ভয় চোখে দিগন্তে তাকিয়ে থাকা বাম পাশের ঐ মেয়েটির? কি আছে নদীর ওপারে? আচ্ছা বিয়ে তো যৌনতার সমাজ নির্মিত কাঠামো তাই না? যৌনতার মত একটা খুবই সাধারণ মৌলিক ব্যাপার ঘিরে এই সব লৌকিক অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যটা কি? বিয়ের মধ্য দিয়ে একটা ছেলে আর একটা মেয়ে সন্তান উৎপাদন করবে, সেই সন্তান সমাজকে টিকিয়ে রাখতে ভুমিকা রাখবে। তাহলে বিয়ে কেন্দ্রীক এই সব লৌকিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সমাজ কি প্রকারান্তরে তার নিজের টিকে থাকাকেই উদযাপন করতে চায়?

হলুদ শাড়ির সেই মেয়েটির দিক চোখ পড়ে যুবকটির। মেয়েটিও চোখ নামায় না। দু জোড়া চোখের নৈব্যক্তিক চাহনিতে লেখা হতে থাকে দিবা রাত্রির কাব্য। বুদ্ধদেব বসুর কবিতা মনে পড়ে-

রুপোলি জল শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছে, সমস্ত আকাশ
নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকের উপর
সূর্যের চুম্বনে। এখানে জ্বলে উঠবে অপরুপ  ইন্দ্রধনু
তোমার আর আমার রক্তের সমুদ্রকে ঘিরে
কখনো কি ভেবেছিলে?

এক সময় ঘাট থেকে মাঝির ডাক শোনা যায়। ল্যাম্পপোষ্ট ও তার নিয়ন আলোকে পিছনে ফেলে উড়ে যায় দাঁড়কাক। ছেড়ে দেয় নৌকা, ধীরে ধীরে সে এগিয়ে যায় প্রাগৈতিহাসিক অন্ধকারের সরু টানেলে। এক সময় মিলিয়ে যায় রাত্রির হলুদ কোমল ছোঁয়া। গুঢ অন্ধকার, মেঘের ফাঁকে জ্বলতে থাকা হলদে চাঁদ আর টুকরো টুকরো দীর্ঘ শ্বাসে লেখা হয় একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম প্রেমের গল্পটা…

৯৬৯জন ৭৬১জন
5 Shares

১৮টি মন্তব্য

  • তৌহিদ

    কি সুন্দর সময়ের বর্ননা দিলেন। যুবকের এক চাহনিতেই মেয়ে কুপোকাত!

    রুপোলি জল শুয়ে শুয়ে স্বপ্ন দেখছে, সমস্ত আকাশ
    নীলের স্রোতে ঝরে পড়ছে তার বুকের উপর
    সূর্যের চুম্বনে। এখানে জ্বলে উঠবে অপরুপ ইন্দ্রধনু
    তোমার আর আমার রক্তের সমুদ্রকে ঘিরে
    কখনো কি ভেবেছিলে?

    আহা আহা, কি দারুন অভিব্যক্তি। ভালোলাগা রেখে গেলাম।

  • সাবিনা ইয়াসমিন

    সুন্দর বর্ননায় চৈত্রের সন্ধ্যাটি চোখের সামনে স্পষ্ট হয়েই ধরা দিলো। খেয়ালে / বেখেয়ালে কত নিত্ত নতুন দৃশ্য চোখে ধরা দেয় ! দিবা-রাত্রির কাব্য কথায় সব গল্প লেখা হয়না , লেখা যায়ওনা হয়তো।

    বিয়ে একটি সম্পর্কের বৈধতা নিশ্চিত করে। ধর্মীয় রীতিনীতিতে সেই সম্পর্ক পবিত্রতা লাভ করে। বিয়েকে কেবল মাত্র অযাচিত যৌন বৈধতা বা সন্তান উৎপাদনের সার্টিফিকেট ভাবার কারন কি আসলেই আছে ? আমরা মানুষ, সমাজ তৈরি করে সেখানে বসবাস করবো অথচ সামাজিকতা মানবো না এটা কিভাবে সম্ভব ! তাহলে অন্যান্য প্রানীদের সাথে আমাদের পার্থক্য থাকবে ? বিয়ে মানুষের জীবনে অনেক স্বপ্নের মাঝে একটি যা বাস্তবায়িত করতে চায়। সম্পর্কের টান-পোড়োনে অনেক বিয়েই হয়তো টিকে না তাই বলে বিয়ে নামক পবিত্র সামাজিক সুন্দর সিস্টেম কে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করাটা মেনে নিতে পারছি না।

    লেখা দিয়ে নিয়মিত হয়েছেন দেখে ভালো লাগলো। আরো লিখবেন, শুভ কামনা।

    • অপার্থিব

      //বিয়ে একটি সম্পর্কের বৈধতা নিশ্চিত করে। ধর্মীয় রীতিনীতিতে সেই সম্পর্ক পবিত্রতা লাভ করে। বিয়েকে কেবল মাত্র অযাচিত যৌন বৈধতা বা সন্তান উৎপাদনের সার্টিফিকেট ভাবার কারন কি আসলেই আছে ? আমরা মানুষ, সমাজ তৈরি করে সেখানে বসবাস করবো অথচ সামাজিকতা মানবো না এটা কিভাবে সম্ভব ! তাহলে অন্যান্য প্রানীদের সাথে আমাদের পার্থক্য থাকবে ? বিয়ে মানুষের জীবনে অনেক স্বপ্নের মাঝে একটি যা বাস্তবায়িত করতে চায়। //

      সম্পর্কের বৈধতা বা সামাজিকতার প্রশ্নগুলো কি স্বতঃসিদ্ধ সর্বজনীন কোন ব্যাপার স্যাপার? মানব সমাজ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে, সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে এই বৈধতা বা সামাজিকতার মানদণ্ডগুলো পরিবর্তিত হবে। অধিকাংশ মানুষের জীবনে বিয়ে হচ্ছে এক ধরনের প্রথা, কিংবা অভ্যেস। চারপাশে খেয়াল করুন, দেখবেন অনেক প্রেমহীন সম্পর্কই টিকে আছে বিয়ে নামক এই বেঁচে থাকার অভ্যেসে।

      আমি বিয়ের বিপক্ষে নই তবে শুধু বিয়েকেই সম্পর্কের বৈধতার একমাত্র মাধ্যম বলে মনে করি না। পারষ্পরিক সম্মতিকেই আমার কাছে প্রধান বৈধতা বলে মনে হয়।

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ।

      • সাবিনা ইয়াসমিন

        এটা ঠিক প্রেমহীন বহু সম্পর্ক টিকে আছে শুধুমাত্র বিয়ে নামক অভ্যাসের কারনেই। আবার খেয়াল করে দেখবেন, অনেক প্রেমহীন মন একে অপরের প্রেমে মগ্ন হয়েছে বিয়ের পিঁড়িতে বসেই। আসলে প্রেম, সম্পর্ক, বন্ধন, ভালোবাসা গড়ে উঠে নিশ্চয়তা থেকেই। আমাদের সমাজ জীবনে বিয়েহীন সম্পর্ককে এখনো পূর্ন নিশ্চয়তা দেয়া হয়নি। আদিম যুগে হয়তো বিয়ে ছিলো বা ছিলো না। কিন্তু সভ্যতার শিখড়ে না উঠা পর্যন্ত আমরা এই প্রথাকে বাদ দিতে পারবো না।

        সম্পর্ক বড়োই জটিল জিনিস, কখন কিভাবে , কোন রীতিতে গড়ে-ভাঙে বলা মুশকিল। আপনাকেও ধন্যবাদ অপার্থিব। লেখালেখিতে মন্তব্য প্রতি মন্তব্য থাকে/ থাকবেই। আমরা নিজেরা নিজেরদের মতামত দিবো। আপনার প্রতিমন্তব্যতে খুশি হয়েছি। ভালো থাকুন, শুভকামনা।

    • অপার্থিব

      দুটো বিপরীত লিঙ্গের মানুষের মধ্যকার প্রেমের সম্পর্ক কোন নিশ্চয়তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠে না, গড়ে ওঠে সেক্সুয়াল হরমোনের প্রভাবে, টেষ্টেষ্টোরন আর এস্ট্রোজেন। আপনি নিশ্চয়তা বলতে যা বোঝাতে চাইছেন তা আসলে নারীদের জন্য সমাজের তৈরী করা মিথ। সো কলড নিশ্চয়তাবিহীম সম্পর্কে জড়ানো নারীরা অপবিত্র বা দুশ্চরিত্র এরকম ধারনা আমাদের সমাজে বেশ প্রবল ভাবে গেথে আছে। ফলে এই নিশ্চয়তার ধারনা শক্ত ভাবে মেনে চলে মুলত আমাদের সমাজের নারীরা, বলা যায় তারাই এর ধারক-বাহক। সমাজ পরিবর্তন হচ্ছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই নিশ্চয়তার ধারনাও ভেঙ্গে পড়বে।

      বিয়ের পিড়িতে না বসলেও হয়তো প্রেমহীন মন কোন একদিন অন্য কোন প্রেমে মগ্ন হত, কারনটা আগেই বলেছি, হরমোনের প্রভাব। বলা যায় বিয়ে একটা উপলক্ষ্য মাত্র।

      • সাবিনা ইয়াসমিন

        হতে পারে হরমোনের প্রভাবে বিপরীত লিঙের দুজন মানুষ একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়। এটা একটা বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। সমকামীদের ক্ষেত্রেও কি একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য? মনের কি কোনো আলাদা ক্ষেত্র নেই? বিজ্ঞান ও বিধান কি একই কথা বলে? আসলে সম্পর্কের ভিত্তি কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। সমাজ ততোক্ষন পর্যন্ত এই ব্যবস্থা মেনে নিবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক প্রথাগুলো চালু থাকবে। বিয়ে সামাজিক প্রথার মধ্যে অন্যতম। একজন সিঙ্গেল মা বা বিধবা স্ত্রীলোক যে স্ট্রাগল করে তার দায়ভার সমাজকেই বহন করতে হয়। ভুল সম্পর্কের কারনে রাস্তাঘাটে যে সকল শিশু পরে থাকে / মরে থাকে তাও এই সমাজ বহির্ভুত মন-মানসিকতার কারনেই। সমাজের কেউ না কেউ ঠিকই এগিয়ে আসে অন্যের ভুলের মাসুল দিতে। সমাজ তৈরি হয় মানুষের প্রয়োজনে। সামাজিক প্রথা তৈরি হয় মানুষের কল্যাণে।

    • অপার্থিব

      //সমকামীদের ক্ষেত্রেও কি একই ব্যাখ্যা প্রযোজ্য? //
      সমকামিতা মুলত এক ধরনের জেনেটিক মিউটেশন, হাজার মানুষের মধ্যে হয়তো এক জনের মধ্যে ঘটা এক ধরনে্র জিন গত ভ্যারিয়েশন, যদিও সমকামিতার জন্য আলাদা কোন জিন এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। ঊদাহরন দেই, আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে আমাদের দেশে কিছু মানুষ আছে যাদের চোখ ঘোলা যেটাকে আমাদের দেশের গ্রাম্য ভাষায় অনেক সময় বিড়াল চোখা বলা হয়, যদি খোঁজ করেন দেখবেন তার বাপ দাদা, নানা নানী চৌদ্দ গোষ্ঠীর কারো মধ্যে এই ঘোলা চোখ ছিল না , সে এটা পেয়েছে জেনেটিক মিউটেশনের কারনে। সমকামিতাও এই ধরনের ভ্যারিয়েশন। এই ভ্যারিয়েশন খুব কম ঘটে কাজেই এক্সেপশন ইজ নট এক্সাম্পল।

      // সমাজ তৈরি হয় মানুষের প্রয়োজনে। সামাজিক প্রথা তৈরি হয় মানুষের কল্যাণে।//
      একমত , সেই সঙ্গে এটাও মানতে হবে যে কোন সামাজিক প্রথাই চিরস্থায়ী নয়, এগুলো সমাজের চাহিদা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। একটা সামাজিক প্রথা এখন আছে সেটা সারা জীবন থাকবে এমন কোন কথা নেই, একে ঐশ্বরিক বা অপরিবর্তনীয় ভাবার কোন কারন নেই। যে সমাজ পরিবর্তনকে মেনে নিতে পারে তারাই আসলে প্রকৃত প্রগতিশীল সমাজ। বিজ্ঞান প্রমানে বিশ্বাসী, বিধান বাস্তবতায়, সেই বাস্তবতা প্রমাণ সাপেক্ষেও হতে পারে, প্রমান না সাপেক্ষেও। বিধান পরিবর্তন হয় খুবই দ্রুত।

      // একজন সিঙ্গেল মা বা বিধবা স্ত্রীলোক যে স্ট্রাগল করে তার দায়ভার সমাজকেই বহন করতে হয়। ভুল সম্পর্কের কারনে রাস্তাঘাটে যে সকল শিশু পরে থাকে / মরে থাকে তাও এই সমাজ বহির্ভুত মন-মানসিকতার কারনেই।//

      সিঙ্গল মা বা বিধবা স্ত্রীলোকের ষ্ট্রাগলের পিছনে মুলত সমাজে বিদ্যমান পুরুষতন্ত্র দায়ী, নারীরা যত এগোবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তাদের আত্ননির্ভরতা যত বাড়বে , পুরুষতন্ত্রের সৃষ্ট সামাজিক প্রথাগুলোকে সে তত বেশি পেরিয়ে যেতে পারবে। আর আমাদের সমাজের নিয়মের কথা কি বলবো , এখানে দুই জন মানুষের প্রেমের সম্পর্কের ফসল হিসেবে জন্ম নেওয়া সন্তানের ঠিকানা অনেক সময় হয় ডাষ্টবিন কারন তাদের দোয়া-মন্ত্র যুক্ত কোন সামাজিক স্বীকৃতি নেই আবার সম্পূর্ণ ভালবাসা বিহীন কিংবা এক পক্ষীয় প্রেমের সন্তান ( স্রেফ দিন শেষে রুটিন শারিরীক সম্পর্কের ফলে জন্ম নেয়া) শুধু বিয়ে নামক স্বীকৃতির কারনে সমাজে পূর্ণ স্বীকৃতি নিয়ে বড় হচ্ছে । এই জাতীয় উদ্ভট হাস্যকর প্রথা সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে এক দিন ঠিকই হারিয়ে যাবে, এটাই স্বাভাবিক।

      এনিওয়ে, সব মতের সাথে সবার এক মত হতে হবে এমন কোন কথা নেই, ভিন্নমত সব সময় স্বাগত।

      • সাবিনা ইয়াসমিন

        প্রথম থেকে একইধারায় মতামত দেয়া এবং মতামতের সুযোগ রাখা সব সময় স্বাগত হয় না। কথাটি আপনি সম্পূর্ন ভুল প্রমানিত করলেন। একজন নারী ও মানুষ হিসেবে আপনাকে আন্তরিকতার সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি অপার্থিব। সেই সাথে অভিনন্দন। আপনার উন্নত মনোভাব নিঃসন্দেহে প্রশংনীয়। বিজ্ঞান-বিধান-প্রথা-আইন-সমাজ এই সব কিছুই মানুষের জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন। তবে মানুষের জন্যে এগুলো অত্যাবশ্যক নয়। মৌলিক চাহিদাই যদি পূরন না হয়, তাহলে এসব লৌকিক চাহিদার বেড়াজালে মানুষকে আটকে রাখা মানবতার ধ্বংস ছাড়া কিছুই নয়। আমরা মুখে মুখে যতই মানবিকতার গান গাই বাস্তবিক ভাবে এর মূল্যায়ন যদি সিকিভাগও করতাম তাহলে পৃথিবীতে সব চাইতে সুখীজাতি আমরাই হতে পারতাম।

        সমাজের প্রভুত্ববাদীরা নিজেদের প্রয়োজনে অন্যদের মৌলিক চাহিদা হরন করে তাদের আটকে দেয় লৌকিকতকার খাঁচায়। লৌকিকতাকে আমার খাঁচাই মনে হয়। দানাপানি সব থাকে বা থাকেনা কিন্তু নিজ ইচ্ছায় খাঁচাবাসিরা অনেক কিছুই করতে অক্ষমতা লাভ করে। বেশিরভাগেরাই এটাকে অভ্যস্ত হয়ে যায়, কেউ অলসতায় বেরোতে চায় না। আবার কেউ এই খাঁচা ভাঙার জন্যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। স্রোতের বিরুদ্ধে চলা কঠিন, তবে অসম্ভব নয় যদি লক্ষ্য ঠিক করে নেয়া হয়।

        আমরা আশা করি ভবিষ্যতে হয়তো মানুষ শুধু মানবতায় বিশ্বাসি হবে। মৌলিকতার প্রয়োজনে লোক দেখানো লৌকিকতা বাদ দিয়ে নিজেকে সুসভ্য জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। সুন্দর সমাজ তৈরি হবে অসুস্থ মনমানুষিতাকে ত্যাগ করে।

        উন্নত সমাজ গড়তে উন্মুক্ত মন থাকা খুব দরকার। আপনার সেটা আছে। অনেক ভালো থাকুন। অজস্র শুভ কামনা রইলো।🌹🌹

        * নতুন লেখা দিন, পড়বো *

  • জিসান শা ইকরাম

    আহারে, আরম্ভ হতে না হতেই প্রেমের সমাপ্তি।
    সামাজিক বিশৃংখলা থেকে রক্ষা পেতেই হয়ত বিয়ের প্রচলন, নইলে এত মায়া সৃস্টি হতো না। মায়ায় টিকে আছে মানবকুল যা প্রবাহমান।
    চমৎকার বর্ননায় এত সুন্দর একটি গল্প উপহার দেয়ার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।
    আপনার লেখা মিস করি।
    শুভ কামনা।

  • শুন্য শুন্যালয়

    স্বপ্নের মতো দৃশ্যপট, স্বপ্নের মতোই গাঢ় অনুভূতি।
    লৌকিক অনুষ্ঠানের হয়তো প্রয়োজন ছিলই। না থাকলে যুগ যুগ ধরে চলে আসার পরেও আমরা তাকে ছুড়ে ফেলে দেইনি কেন।
    এই জটিল ব্যাপার স্যাপার নিয়ে আপনার এমন চমৎকার লেখাটি অন্যদিকে টেনে নিয়ে যাওয়া ঠিক হবেনা। 🙂
    আপনি কিন্তু সবসময়ই ভালো লেখেন।

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য