স্যার আজ গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না। ফিল্ডে যাবেন কিভাবে?
ড্রাইভারের চোখে মুখে চিন্তা। আজ মে দিবস তারপরেও সে এসেছে প্রতিদিনের মত ডিউটি করতে। কোন ড্রাইভার আজ গাড়ি চালালে তার খবর আছে। একই সময়ে মিছিল যাচ্ছে, বেশ বড় মিছিল। শ্লোগান ভেসে আসছে-
মে দিবস মে দিবস… সফল হোক সফল হোক
দুনিয়ার মজদুর… এক হও এক হও
শ্রমিকের ন্যায্য দাবী… মেনে নাও মানতে হবে
মালিকের কালো হাত……ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও
শ্রমিক রাজ শ্রমিক রাজ…… কায়েম করো কায়েম করো

শ্লোগান শুনতে শুনতে কি করবো ভেবে চুড়ান্ত করেছি। জরুরী কিছু কাজের জন্য আমার কর্মক্ষেত্রে যেতেই হবে। জিজ্ঞেস করলাম ড্রাইভারকে, তোর মটর সাইকেল এনেছো? উত্তরে জানায় সে, হ স্যার আনছি। বলি আমি, নিয়ে আয় মটর সাইকেল।
বিয়ে করেছে ড্রাইভার গত বছর। প্রতিদিন সকাল ৯ টার মধ্যে গাড়ি নিয়ে চলে আসে গ্যারেজ থেকে। আবার যায় রাত ৮ টা ৯ টায়। থাকে আমার বাসা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। পাবলিক বাসে এই আসা যাওয়ায় কস্ট হতো তার খুব। কিছুদিন আগে মটর সাইকেল কিনেছে সে। এখন আসা যাওয়াটা কস্টহীন হয়েছে তার।
মটর সাইকেল নিয়ে হাজির সে। চাবি নিলাম আমিই। ড্রাইভারকে বললাম পিছনে বস। নিজে মটর সাইকেল ড্রাইভ করে যাচ্ছি আমার কর্মক্ষেত্রে।কাজ শেষ হলে বিকেলে আবার একই ভাবে ফিরেছি।
প্রতিদিন ড্রাইভার হয়ে আল আমিন আমাকে বহন করে নিয়ে যায়। আজ আমি ড্রাইভার হয়ে আল- আমিনকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছি। আল-আমিন বুঝতেও পারেনি, আমি আসলে শ্রমিক রাজ কায়েমের শ্লোগানটা আজ একদিনের জন্য ধারণ করেছি।
বছরের ৩৬৫ দিনের মধ্যে একদিনই তো,

তবে শ্রমিকরা কি তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন? অধিকার এর সীমা তো তারা লংঘন করেছে বহু ক্ষেত্রে। ট্রাক বা যাত্রীবাহী গাড়ির কোনো এক্সিডেন্টের বিচার করা যাবে না। বিচার করলে কি হতে পারে তা কিছুদিন আগেই দেশ ব্যাপী অচলাবস্থায় ভালভাবেই উপলব্ধি করেছি। আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় মালিকরা অত্যন্ত অসহায় এই শ্রমিকদের কাছে। চুক্তি থাকলেও তা যখন তখন অবজ্ঞা করে ধর্মঘটে চলে যায় এরা। কিছু ভাল শ্রমিক যে নেই তা নয়, তবে এরা শ্রমিক নেতাদের হাতে জিম্মি।

৩১৯জন ৩১৯জন
0 Shares

১১টি মন্তব্য

  • মিষ্টি জিন

    মে দিবসে আল- আমিন কে যে আপনি ড্রাইভ করে নিয়ে গেছেন যা ও সারাজীবন মনে রাখবে।
    ঠিক বলেছেন সব জায়গায় ই ভালো মন্দ আঁছে। শ্রমিকদের মধ্যেও আঁছে। আমার নিজের ড্রাইভারের ব্যাপারে আমার বেশ বাজে অভিজ্ঞতা আছে। তেমনি আমি জীবনে দেয়ে বিদেশে এমন ভালো কিছু কিচেন হেলপার পেয়েছি যাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।আর জাতীয় ব্যাপারে শ্রমিক আন্দোলন নামে হচ্ছে তা জনগনকে ভোগান্তি দেয়া ছাডা আর কিছু না।
    ছোট করে লিখে অনেক কিছু বলে গেলেন।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    আমার একটা বন্ধু ও কোটিপতি। কিন্তু ওর নিজের ড্রাইভারের পাশে বসে, প্রায়ই নিজেই ড্রাইভ করে। ও বলে দিয়েছে স্যার বলে না ডাকতে। বন্ধুটি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যবসায় এওয়ার্ড পেয়েছে। ওর অফিসে যারা কাজ করে, এতোটাই ভালোবাসে ওকে। কারণ সে শুধু বস হয়ে অর্ডার দেয়না, সাধারণ একজনের মতো হয়েও সাহায্য করে। একদিন আমি বলেছিলাম বন্ধুটিকে শ্রমজীবীদের প্রতি এমন ব্যবহার যদি সকলে দিতো, তাহলে অধঃস্তন কর্মচারীরা কখনও মালিককে ঠকাতো না।
    আমার ভালো লাগছে নানা তুমিও তেমনই একজন মানুষ, যে কখনো অধঃস্তনকে অধঃস্তন হিসেবে দেখেনা।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    আপনার পোস্টের সাথে সহমত। শ্রমিকদের এই বিশৃঙ্খলার জন্য আমাদের দেশের রাজনিতিকরণ অনেকাংশে দায়ী। আর দায়ী আইন প্রয়োগ করতে না দেওয়া। সকল সংগঠনে যদি আইনের আওতায় আনা না যায় তাহলে কিছুই সম্ভব নয়। আমার এক বন্ধু গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ে চাকরি করে, সে ঢাকায় থাকতে চাই আর কর্তারা তাঁকে ধাকার বাহিরে পাঠায়, তো সে এক সংগঠনের পদ কেনে তাঁর পর আর তাঁকে ঢাকার বাহিরে পাঠানোর ক্ষমতা হারায় কর্তারা।

    আর এইসব ফুইফোড় সংগঠোন সব রাজনৈতিক দলের ছত্র ছায়ায়। সরকারী অনেক অফিস আছে যেখানে অনেক বড় অফিসারদের বেতনের ভাগ নেয় শ্রমিক সংগঠন গুলো, ভাগ মানে চাদা।

  • বাবু

    মালিক শ্রমিকের সুসম্পর্কটা আমাদের দেশে নাই বললেও চলে । আর সব শ্রমিকরাই শ্রমিক নেতা কর্তৃক জিম্মি । নেতারা জিম্মি রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জিম্মি, শ্রমিক নেতাগণ চায় শ্রমিকদেফ পূঁজি করে বড় নেতেদের আদর সোহাগ পেতে । তাই সময় অসময়ে কারণে বিনা কারণে শিককে বাঁধা শ্রমিকদের মাঠে নামায় ওইসব শ্রমিক নেতারা। এ-হলো আমাদের নেতাদের নিয়ম, আর সেই নিয়মের মধ্যেই শ্রমিকরা আবদ্ধ ।

  • মৌনতা রিতু

    বিকালেই পড়েছি। একটা অনুষ্ঠানে ছিলাম তাই মন্তব্য দিতে পারিনি।
    সত্যি ভাইয়া, ভাল লেগেছে পোষ্টটি। সেদিন মিস্ত্রিরাই বলতেছিল,”নেতারা তো বলেই খালাস, পেট চলবো কেমন করে?”

  • শুন্য শুন্যালয়

    সব দিবসের মতো এও শুধুই একদিনের দিবসমাত্র, অতএব ঠিকই করেছেন। তবে একাজ সবাই করতো না।
    আমরা সাধারনরা শ্রমিকদের হাতে জিম্মি এটা পুরোপুরি সত্যি। শ্রমিকরা তাদের নেতাদের হাতে, নেতারা পাতিদের হাতে কিংবা তাদের কোয়ালিশনের হাতে। মে দিবসের আসল লক্ষ্য থেকে আমরা যোজন দূর।
    এমন দিনলিপি প্রায়দিন বা বেশিদিন হলেও আল-আমিনরা সেই শ্রদ্ধার মূল্য দিতে জানবেনা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এমন দেখছি।
    দিনলিপি টা চালু রাখলে মন্দ হয়না 🙂

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ