দশ টাকার সালতামি

হালিমা আক্তার ২৮ জুন ২০২২, মঙ্গলবার, ১২:২৩:২৪পূর্বাহ্ন বিবিধ ১৭ মন্তব্য

ঈদের আগের দিন।

রিকশা সেন্টার পয়েন্ট এর সামনে থামল।

টাকা দে মার্কেট করবো।

আমার তথৈবচ অবস্থা।

আল্লাহ যানে কতো খসে।

দোয়া দুরুদ পড়ে ব্যাগে হাত দিলাম।

বিশ টাকার একটি বিশাল নোট উঠে এল।

দিতেই। আল্লাহ তোরে ভালো রাখুক।

মনে মনে বললাম। দিলেই দোয়া।

না দিলে চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করা।

 

কাজিন অসুস্থ। হাসপাতালে ভর্তি।

অফিস থেকে ফিরে মাকে নিয়ে বের হলাম।

মালিবাগ মোড় থেকে শুরু।

একজন কে দিলাম। বরাদ্দকৃত দশ টাকা।

আজ মনে হয়, এদের বিস্ফোরণ ঘটেছে।

মগবাজার মোড় পর্যন্ত যেতে আরো চার জন।

ভাগ্য ভালো। বললাম – একজন নিয়ে গেছে।

সুন্দর একটি হাসি দিয়ে চলে গেল।

নিয়ে গেছে বলতেই। আর চাইলো না।

বুঝলাম নীতি বোধ আছে।

ফেরার পথে আবার দেখা।

দেখলেই অন্য দিকে তাকিয়ে ভাবনায় ডুবে থাকি।

তবু রক্ষা হয় না। রিকশা বেইলী রোডের জ্যামে আটকা।

সামনে একজন এসে দাঁড়ালো।

সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বললাম। আপনাদের একজন নিয়ে গেছে।

যাক, এ যাত্রায় দশ টাকা জীবন পেল।

একদিন বাসে একজন শিক্ষার্থীর কাছে টাকা চাইলো।

মেয়েটি বলল – আমি তো স্টুডেন্ট।

তোর বাপে তোরে টাকা দেয় না। তোর বাপে তোরে দেয় তুই আমাগো দিবি। নাছোড়বান্দা। মেয়েটির কাছ থেকে নিয়ে ছাড়লো। মনে মনে ভাবলাম। দেরি করে লাভ নাই।চাওয়ার আগেই দিয়ে দেই। বরাদ্দকৃত দশ টাকা।

ঢাকা চট্টগ্রাম যাওয়া আসার সময়। ট্রেনেও হামলা।দেখলেই চোখ বন্ধ করে ঘুমের ভান ধরতাম।যাওয়ার সময় বলতো। দেখ দেখ টাকা দেওয়ার ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে। নাহ, কষ্ট করে ঘুম ভাঙতে হতো না। লাভের লাভ দশ টাকা বেঁচে যেত।

এতক্ষণ যাদের কথা বলছিলাম। তাদের খপ্পরে পড়ে নাই এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। সমাজে যারা তৃতীয় লিঙ্গ বা হিজড়া নামে পরিচিত। এরা কেন জানি না মেয়ে সেজে থাকতে মনে হয় ভালোবাসে। এদের অত্যাচারে মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ লাগে। আবার কষ্ট হয়। এরা পরিবার, পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা ভাবে বাস করে।

১৬১জন ৩৬জন
0 Shares

১৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ