থমকে যাওয়া সময় ( খোলা চিঠি )

উর্বশী ১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার, ০৯:১৭:০০পূর্বাহ্ন চিঠি ১২ মন্তব্য

থমকে যাওয়া সময় ( খো লা চি ঠি) 

অনেকদিন থেকে ভাবছি তোমায় কিছু লিখি। কিন্তু কিছুতেই লেখা হয়ে ওঠেনা  অসুস্থতার জন্য।ভাবনায় অনেক্ কিছু এসে যায়। চলমান যান্ত্রিকতার যুগে সব মানুষগুলো  যেন বেশী যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে।আর হবেই  না কেন?  কেউ আর কারো জন্য চাতকের মত অপেক্ষায়  থাকেনা।
আগের মত ডাকঘর নেই। রানার বা  ডাক হরকরা এখন তো মানুষের দ্বারে দ্বারে দৌড়ায় না। প্রিয়জনের কোনো  চিঠি  এখন আর সযতনে জমায় না নিরাপদ  স্থানে। প্রযুক্তি আবৃত মানুষগুলো  সব সময় কথা বলে ম্যাসেঞ্জারের  মাধ্যমে। যুগ দিনকে দিন  এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুত গতিতে,  মহাকালকে ছুঁতে চায়।
এই ডিজিটাল  যুগে একটি  এনালক যুগের লেখা তোমায় লিখছি। মেঠোপথ  পেরিয়ে মোড় ঘুরলেই একটি  গাছ। পথিকেরা যাওয়া — আসার মাঝে  খানিকটা  জিরিয়ে  নেয় ক্লান্ত দেহ। ধরে নাও আমিও  ক্লান্ত পথিকের একজন  গাছের গোড়ায় বসে। ঝরাপাতার মত শব্দ  ঝরাই সাদা কাগজে। আচ্ছা, তুমি এই এনালক যুগের জং ধরা  লেখার টুকরো  কাগজ সযতনে  রাখবে? 
আগে তো সারাদিনের  ব্যস্ততায়  সময়গুলো  তাড়া করে ফিরতো তোমার সাথে কাটানো  ফেরারী স্মৃতি গুলো।
সেই সজীব সকাল,  ঘুঘু ডাকা দুপুর, সিঁদুর রঙের বিকেল মনে পড়ে যায়। এখন এই প্রহরগুলো পার হয় হাসপাতালের  ধবধবে  সাদা বিছানায়  বেলা — অবেলায়।
ঝুল বারান্দায় গ্রীল ধরে দাঁড়িয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা আকাশ দেখতাম, সেটা কমে গিয়েছে  অসুস্থতার বেড়াজালে ।
জানিনা তুমি কোথায় আছো?  কেমন আছো? 
এটা তো বাস্তব আর মস্তিষ্কের   প্রশ্ন হয়ে গেল। তবে আবেগীমন জানে  তুমি কোথায় ও কেমন আছো!  তোমার  অস্তিত্ব  জেগে আছে আমার মনের সকল সীমানাজুড়ে, প্লাবিত প্রেমে।
হঠাৎ  সেদিন চোখের কোণে  শীতলতা  জাগলো।হয়তো বিরহী  শিশির কনা  অজান্তে বারি ঝরার উপক্রম। কিছু অভ্যাস এখনো রয়ে গেছে। সাঁঝের  ধুপছায়ে  নীড়ে ফেরা পাখিদের মেলা দেখি। অতীতের  ফেরারী সময়ে হারিয়ে যাই সবুজ শ্যামলী ময়ে।
ভরা পূর্নিমায় চারিদিক  জ্যোস্না ঝলমল করছে।  চাঁদ ডেকে বলে যায়, আমায় দেখছে মায়াবী আলোয়। আমিও তাকে দেখি। এখনো  স্বপ্নগুলো তাড়া করে  ফিরে।আচমকা  যদি দেখা পাও শান বাঁধানো ঘাটে কলসি কাখে নিয়ে দাঁড়িয়ে —- তখন কি উঁকি  দিবে আমার  মনের অন্তপুরে?
যেখানে, যেভাবে থাকো,ভাল থেকো।ভালোবাসার   নিটোল  স্মৃতি  নিয়ে নিজস্ব অস্তিত্বে।
এক আকাশ ভালোবাসা  নিয়ে   দাঁড়িয়ে ছিলাম সৈকতে অনুভবের ছোঁয়ায়।
দুঃ খ আমার সাজঘর,কান্না আমার বাসর,
স্বপ্নের বুনন গুলি  ডেকে বলে সময়ের প্রহর।
তোমার দেখা স্বপ্ন গুলো নীল আকাশে ছেড়ে দিলাম,
আমি না হয় অবুঝ হলাম তোমার মাঝে মন হারালাম।
আমি একাকিত্ব শূন্য বারান্দায় বসে, ক্লন্তিহীন ভাবনার  তাঁত বুনে যাব।দূর থেকে দেবদারু গাছ আমায় চেয়ে দেখবে। সবুজ পাতায়, বৃষ্টির  ফোঁটায় মধুর আলিংগন। আমিও মুগ্ধতায়  চেয়ে চেয়ে উপভোগ  করবো । যদি  হয় ঝুম বৃষ্টির  সুমধুর ক্ষণ, দু’ হাত বাড়িয়ে বৃষ্টির জল ছোব।
তুমি  কি তখনো  দূর থেকে আমায়  দেখবে?
শব্দের কথামালার  বৃষ্টি  না হয় আজ বন্ধ রাখি।
ভালোবাসা ও  অভিমানের সারাংশ টুকু,নীল সাদা মেঘের কাছে, নীল খামে  ভাসিয়ে দিব স্পর্শ  ও  সীমারেখা  ছাড়িয়ে।
                                                     –অসমাপ্ত  ডাইরি—-। 

৩২৩জন ১৬৭জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ