বাংলা সাহিত্যের পরিবর্তন

বাংলা সাহিত্যের বিরাট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় দ্বাদশ শতাব্দীর একেবারে শেষভাগে। এই পরিবর্তনের কথা পরে অনেক জনপ্রিয় বাংলা উপন্যাস গুলোতেও লেখা হয়ে ছিল। এদেশে তুর্কি আক্রমণ শুরু হলে কিছুদিনের মধ্যেই হিন্দু রাজত্বের অবসান ঘটে। বর্ণভেদ, বংশ কৌলীন্যের ভেদ নানাবিধ সংস্কারে প্রায়-নিঃশেষিত প্রাণশক্তির হিন্দুরা লুন্ঠন ও ধর্মান্তরিকরণের সেই সন্ত্রাসের সময়ে পুথি নিয়ে কেউ নেপাল-তিব্বতে আশ্রয় নিলেন, অনেকে রাজশক্তির অনুগ্রহভিক্ষার আকর্ষণে ধর্মান্তরিত হলেন। কেউ বা ওড়িশা ও মিথিলার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়লেন। এই সময় বৌদ্ধদের সঙ্ঘারামও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং কিছু সংখ্যক বৌদ্ধ ধর্মান্তরিত হয়ে শূদ্রদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়েন।

প্রায় দেড়শ বছর গৌড়বঙ্গ-বিজেতা সুলতানদের জীবনচিত্র দেখলে বোঝা যায় তাদের বিবাদ-বিসম্বাদের প্রকৃত চেহারা। সেখানে শুধুই গৃহবিবাদ, ষড়যন্ত্র, পদচ্যুতি, হত্যা। তাই অশান্তি ও অরাজকতার এই এয়োদশ-চতুর্দশ শতাব্দীতে কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকীর্তির নিদর্শন পাওয়া যায়নি। দীর্ঘকালের বিপর্যয় ঘুচে গিয়ে পঞ্চদশ শতাব্দীতে বাঙালীর সৃষ্টিশীলতার প্রকাশ লক্ষ করা গেল ভাষায়, গীতে ও পাঁচালী কাব্যে। এই সব পাঁচালী কাব্যেগুলোতে যে সব গান থাকতো তা থেকে পরে অসাধারণ প্রেমের গল্পের বই তৈরি হয়েছিল, যে গুলোর প্রধান চরিত্রে সাধারনত কোন দেব-দেবী থাকতেন।

চতুর্দশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সামসুদ্দীন ইলিয়াস শাহ গৌড়বঙ্গে শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপন করলে, তখন থেকেই বাংলা সাহিত্য-সংস্কৃতি নতুন পথ ধরে এগোনোর সুযোগ পায়। পঞ্চদশ শতাব্দীর প্রথম দিকে ইলিয়াস শাহী ধারার সাময়িক পতন ঘটে। হিন্দুরাজা দনুজমর্দনদেব আপন শক্তি ও প্রতিভাবলে গৌড়ের সিংহাসন লাভ করলে তাঁরই আনুকূল্যে হিন্দুশাস্ত্র ও বাংলা সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত হয়। তাঁর পুত্র যদু ‘জালালুদ্দিন’ নাম গ্রহণ করে সিংহাসনে বসেন এবং তাঁর পরে ইলিয়াস শাহী বংশই আবার গৌড়ের অধিকার লাভ করে। পঞ্চদশ শতাব্দীর অষ্টম দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত(১৪৮৪) এই বংশই নানাদিক থেকে বাংলা সাহিত্যের পৃষ্টপোষকতা করে যান। এরপর কয়েক বছর হাবসী খোজাদের শান্তি বিঘ্নিত হয়। তারপর গৌড়ের সিংহাসনে বসেন সম্রাট হোসেন শাহ(১৪৯৩-৯৪)। হিন্দু কবিদের ভাষায় তিনি ছিলেন ‘নৃপতিতিলক’। তাঁর সময় থেকেই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বঙ্গের সাহিত্য-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা হয়। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে এদেশে যে সাহিত্য সৃষ্টি হতে থাকে, তাতে দুটি সংস্কৃতির অভূতপূর্ব সমন্বয় স্পষ্ট লক্ষ করা যায়—এক, লৌকিক সংস্কৃতি এবং দুই, ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতি। বঙ্গদেশে লৌকিক সংস্কৃতির ধারাটিই প্রাচীনতর। এদেশে আর্য অধিকার বিস্তৃত হওয়ার আগে অস্ট্রিক, দ্রাবিড়, ও মোঙ্গল গোষ্ঠীর জনতা বাস করতেন। ভারতীয় ধর্মসাধনায় যোগ ও তন্ত্রমতে সাধন এঁদেরই দান বলে অনুমান করা হয়। ইহলোকের চেতনা ও সমৃদ্ধি এঁদের জীবনবোধের অঙ্গ ছিল। অলৌকিক সিদ্ধি অর্জন করা ছিল ধর্মসাধনের প্রধান লক্ষ্য। এঁরা তুকতাক মন্ত্র ও মুষ্টিযোগে বিশ্বাস করতেন। গাছে ও পাথরে দেবকল্পনাও এঁদের ধর্মবিশ্বাসের বৈশিষ্ট্য ছিল। এঁদের সাহিত্য মৌখিক সাহিত্য—যার পরিচয় বিধৃত রয়েছে এঁদের ছড়ায়, গানে, লোককথায়।

বাংলা সাহিত্যে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির আবির্ভাব :-

বাংলা সাহিত্যের পরিবর্তন

যখন এদেশে ব্রাহ্মণ্য সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটল, বেদ-পুরাণের সংস্কার হল, স্মৃতি-শাস্ত্রের বর্ণাশ্রম বিধান এল, এল সংস্কৃত কাব্য-সাহিত্য ধারা, তখন প্রাণধর্মে চঞ্চল লৌকিক সংস্কৃতি ধারার সঙ্গে সুউচ্চ দার্শনিকতা ও সূক্ষ্ম চিন্তাশক্তির ব্রাহ্মণ্য আদর্শের সংঘাত তৈরি হল। যাতে আর্য ব্রাহ্মণ্য ধর্মের স্রোত প্রাণধর্মকে ভাসিয়ে দিল। সমাজের উচ্চ মঞ্চে অভিজাত বর্ণ অধিষ্ঠিত রইলেন। নিম্নস্তরে রইলেন লৌকিক সংস্কার-বিশ্বাস নিয়ে সমাজের সংখ্যাগরিষ্ঠের দল। বাংলাদেশে দেখা যায়, সংস্কৃতির এই দুই ধারার মিশ্রণ সুপ্রাচীন কাল থেকেই ঘটে আসছে। সংস্কৃত পুরাণ স্মৃতির শাসন যেমন নিম্নস্তরের বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তেমনই ‘শূদ্র’ ও মহিলাদের মাধ্যমে লৌকিক সংস্কৃতি উচ্চস্তরের হিন্দুদের মধ্যে সংক্রমিত হয়েছে। বর্ণ হিন্দুদের প্রতিটি অনুষ্ঠানে ‘স্ত্রী আচার’ একটি অবশ্যপালনীয় বিশিষ্ট অঙ্গরূপে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এই স্ত্রী-আচারের ভিত্তি লৌকিক আচারবিচার। এই প্রসঙ্গে আর্যসমাজে কিছু লৌকিক দেবদেবীর অনুপ্রবেশও স্মরণীয়। বটগাছে কুবের-লক্ষ্মীর অধিষ্ঠান কল্পনা ও জাগরণ উৎসব দ্বারা ‘কোজাগর’ লক্ষ্মীর আরাধনা, ‘দুর্গাপত্রী'(বিন্নী ধানের গাছ বা বেলপাতা) নিয়ে রাত্রি জাগরণ প্রভৃতি উল্লেখ, দ্বাদশ শতাব্দীর কবি গোবর্ধন আচার্যের সংস্কৃত কাব্য ‘আর্যাসপ্তশতী’তে পাওয়া যায়।

এই মিশ্রণের পথ আরও প্রশস্ত হল মুসলিম অভিযানের ফলে। পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে বিভিন্ন মঙ্গল দেবদেবীর মহিমা বিষয়ক কাব্যগুলি এই মুসলিম আক্রমণের ফলেই অঙ্কুরিত হয়। এই আক্রমণে হিন্দু ব্রাহ্মণ্য জীবন ও লৌকিক জীবন সমভাবে বিপন্ন হয়ে পড়ে। সমাজের নেতৃত্ব থেকে অপসারিত বর্ণহিন্দুরা সংখ্যায় কম ছিলেন, তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজের অবতলবর্তী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে ধর্ম বাঁচাতে ও সাংস্কৃতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তাঁদের পূজিত দেবদেবীদের সঙ্গে নিজেদের দেবদেবীর সমন্বয় ও সম্পর্ক গড়ে তুলতে তৎপর হলেন। এভাবেই মঙ্গলকাব্যের মনসা, চণ্ডী, ধর্মঠাকুর প্রমুখ লৌকিক দেবতা উচ্চ হিন্দুস্তরে সম্মানের আসন লাভ করলেন।

মুসলিম বিজয়ের ফলে নানাভাবে সংস্কৃতির সমন্বয় ক্রমশ নিবিড় হয়েছে। পঞ্চদশ শতাব্দীতে সুলতানগণ এদেশের ধর্মসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আগ্রহ থেকে রাজসভায় কবি-পণ্ডিতদের আহ্বান জানালেন। সংস্কৃতিবান, শিক্ষিত পণ্ডিতেরা রাজ-নির্দেশে রামায়ণ-মহাভারত-ভাগবত প্রভৃতি শাস্ত্রগ্রন্থ বাংলা ভাষায় কাব্যাকারে অনুবাদ করলেন। এযাবৎকাল সংস্কৃত পাঠে যাদের অধিকার ছিল না, তারাও অনূদিত কাব্যপাঠের অধিকারী হয়ে উঠলেন। এইভাবেই বাংলা ভাষায় অনুবাদ সাহিত্যের গোড়াপত্তন হল এবং তাতে এসে মিশল পৌরাণিক আখ্যানের সঙ্গে জনশ্রুতিমূলক লৌকিক আখ্যান, ব্রাহ্মণ্য সংস্কার-বিশ্বাসের সঙ্গে সমন্বিত হল লৌকিক সংস্কার-বিশ্বাস। আর এইভাবে সুলতানদের মধ্যস্থতায় বাংলার দুটি বিচ্ছিন্ন, আলাদা সংস্কৃতিধারা যেন একত্রিত হল। এই ভাব-সমন্বয়ের লক্ষণ যে কেবলমাত্র উচ্চবর্ণের হিন্দু ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, তা নয়—হিন্দু-মুসলমান মিলনের ভিত্তিও এভাবে রচিত হয়েছে। মুসলিম সুলতানেরা হিন্দু কবিদের যেমন ‘খান’ উপাধিতে ভূষিত করেছেন(যশোরাজ খান, গুণরাজ খান); আবার হিন্দু কবিরাও সুলতানদের ‘শ্রীযুক্ত’ করে তুলেছেন(‘শ্রীযুক্ত হুসেন জগত ভূষণ’)। সংস্কৃতির সমন্বয়ের দিক থেকে এসকল ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বস্তুত, বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ কাব্য-শাখা সুলতানদেরই প্রেরণাসঞ্জাত। পরবর্তীকালে পির-ফকিরদের দ্বারা সুফিমত ও হিন্দুমতের যে মিলন ঘটেছিল, তারও মূলে ছিল সুলতানদের পৃষ্ঠপোষকতা। পঞ্চদশ শতাব্দীতে মুসলিম আমলেই মিথিলার সঙ্গে বাংলার যোগ নতুন করে স্থাপিত হয়েছে। মুসলিম লস্করদের মাধ্যমে আরাকানের সঙ্গে এদেশের সংস্কৃতিগত যোগসূত্র হয়েছে।

পঞ্চদশ শতাব্দীতে যেসব কাব্য-কবিতা রচিত হয়েছে, সেগুলিকে প্রধানত দুটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
(১) বৈষ্ণব গীতিকবিতা
(২) কাহিনি সমন্বিত পাঁচালি কাব্য

পাঁচালি কাহিনিগুলির একভাগ রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত, পুরাণাদির অনুবাদ। অন্যভাগ, লৌকিক দেবদেবীর মহিমাজ্ঞাপক ‘মঙ্গল-গীতি’। পঞ্চদশ শতাব্দীর বাংলা সাহিত্যকে স্পষ্টত তিনটি শাখায় ভাগ করা যেতে পারে—-
(১) গীতিকবিতা বা পদাবলি
(২) অনুবাদ শাখা
(৩) মঙ্গলকাব্য শাখা

এই সাহিত্যের সম্পূর্ণ আয়োজন কেবল ধর্মকে কেন্দ্র করে। অথচ তুর্কি অভিযানের আগে এদেশেই সংস্কৃত রসসাহিত্যের বিচিত্র কাব্যশাখার অনুশীলন হয়েছে—নাটক রচিত হয়েছে, মহাকাব্য রচিত হয়েছে, প্রেমাশ্রিত খণ্ডকাব্য রচিত হয়েছে। সেসব সাহিত্য ধর্ম-বহির্ভূত জীবনের স্বাদে পূর্ণ। অথচ পঞ্চদশ শতাব্দী থেকে বাংলায় যে কাব্যরচনার ধারা প্রবর্তিত হল, তাতে ধর্মই মুখ্য। ইংরেজ-অভ্যুদয়ের আগে পর্যন্ত সাহিত্যের জগৎ এমনই ধর্মাশ্রিত থেকেছে। এই প্রথাবদ্ধ, সংস্কারাচ্ছন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই সাহিত্যে কোনো নতুনত্ব ছিল না। কাহিনি, ঘটনা, চরিত্র, ভাষা, ছন্দ পর্যন্ত বৈচিত্র্যহীন, একঘেয়ে রকমের ক্লান্তিকর, ক্লিশে হয়ে পড়েছিল। তবে এরই মধ্যে কোনো কোনো কবি নিজেদের মৌলিকতা প্রকাশ করেছেন, যার মাধ্যমে বাঙালির গীতিপ্রবণতা, গল্প শোনার আগ্রহ পরিতৃপ্ত হয়েছে। ধর্মের গণ্ডিতে আবদ্ধ থেকেও কাব্যসাহিত্যে প্রকাশ পেয়েছে প্রকৃতির কথা, জীবনের সুখ-দুঃখের কথা, সমাজের নিয়ম-নীতের কথা, এসেছে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট ভঙ্গিমা-প্রবাদ প্রবচন, লোকশ্রুতি, ধাঁধা-প্রহেলিকা, রঙ্গ-রসিকতা। সমগ্র বাঙালি জীবনই প্রতিফলিত হয়েছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে।

তুর্কি আক্রমণ ফলে সামাজিক, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক পরিণাম :-

বাংলা সাহিত্যের পরিবর্তন

আনুমানিক ১২০৩ খ্রিস্টাব্দে ইফতিকারউদ্দীন বিন বখতিয়ার খিলজি বাংলাদেশের শাসক লক্ষ্মণ সেনকে পরাজিত করে নবদ্বীপ জয় করেন। সেনবংশকে গৌড়দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করে খিলজি একে একে পশ্চিম ও উত্তরবঙ্গও অধিকার করেন। এভাবেই বঙ্গদেশে মুসলিম শাসনের সূত্রপাত হল। ধ্বংস হল মন্দির, বৌদ্ধ বিহার, ধর্মীয় নিদর্শন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, নথিপত্র, পাণ্ডুলিপি প্রভৃতি। চলল ব্যাপক হত্যা, ধর্মান্তরিকরণ। সমাজে তখন চরম নিরাপত্তাহীনতা। সমাজজীবনে উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণের হিন্দুদের ভেদাভেদ কমে এল। ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে সমন্বয়বাদী দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ করা গেল। সাংস্কৃতির প্রতিরোধ গড়ে উঠতে লাগল। অখন্ড বাঙালিত্বের ধারণার বীজ বপিত হল। ১৪৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলার সিংহাসনে বসেন আলাউদ্দিন হুসেন শাহ। তাঁর সুশাসনে আর পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা সাহিত্যে পুনরুজ্জীবন লক্ষ করা যায়। ক্রমশ সাহিত্যের ক্ষেত্রে আর্য-অনার্যের সমন্বয়, পৌরাণিক কাহিনির সঙ্গে লৌকিক কাহিনির সংমিশ্রণ ঘটতে থাকে। সংস্কৃত সাহিত্যধারার বঙ্গানুবাদ শুরু হয়। মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি রচনা শুরু হয়। বাইরের শক্তির আঘাতে বাঙালির জাতীয় জীবন তার নানা অসঙ্গতি, ভাঙন, ভেদাভেদ ভুলে সংহত শক্তিরূপে আত্মপ্রকাশে উন্মুখ হয়ে ওঠে।

২২৫জন ১৪০জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

  • কোনো মন্তব্য নেই!