তিন এককে তিন

জিসান শা ইকরাম ২১ অক্টোবর ২০১৮, রবিবার, ০৯:৪১:২৬অপরাহ্ন অন্যান্য ৬ মন্তব্য

ওভার ব্রীজে:
স্পট উত্তরা হাউজ বিল্ডিং মোরের ওভার ব্রীজ। ব্রীজের উপর থেকে রাস্তার বহুদুর পর্যন্ত গাড়ীর সারি। হঠাৎ ইচ্ছে হলো নিজের একটা পুর্নদৈর্ঘ্য ছবি তুলব, সেলফিতে তো শরীরের সবটা আসেনা।
একজনকে অনুরোধ করায় সানন্দে রাজী হয়ে গেলো। মোবাইলটা তার হাতে দিয়ে রেলিং এ হাতের কনুই রেখে পোজ দিয়ে তাকালাম ছবি তোলকের দিকে। আরে গেলো কই সে? ভীরের মধ্যে এদিক ওদিক তাকাই।
ওইতো বদমাসটা ওভার ব্রীজের সিড়ি ভেংগে দৌড়ে নামছে। ওকে ধরার জন্য দিলাম দৌড়, আহারে আমার এত দামের মোবাইল। চোর দৌড়ায় আমিও দৌড়াই, দুরত্ব কমে যাচ্ছে প্রতি মুহুর্তে। কিছুক্ষনের মধ্যেই পিছন থেকে খপ করে ওর কলার ধরলাম। পায়ের গতি ছিল তার, কিন্তু গলার দিকে টান পরায় চিৎ হয়ে পরে গেলো ও। ওর হাত থেকে ছিটকে পরে গেলো আমার মোবাইল। দ্রুত তা কুড়িয়ে নিয়ে পকেটে ঢুকালাম আমার। এরপর লাথি আর সুবা কুবা গালি। উৎসুক জনতাও জোগ দিল আমার সাথে। এক ফাকে কেটে পরলাম আমি…….. মাইর চলছে তখনো,
@এমন হতে পারতো বলে ছবিই তুলিনি

বাদাম কথন:
বাদাম লাগবে বাদাম? বাদাম বিক্রেতার এই ডাক কখনোই উপেক্ষা করতে পারিনি আমি। মুড ভাল থাকলে ১০০ গ্রাম দাও আর মুড ভাল না থাকলে ১০ টাকার দাও। বাদামের ছোলা বিশেষ কায়দায় চাপ দিয়ে ভেংগে ফেলার সময় যে কুটুস শব্দ, তা ভাল লাগে আমার। ছোলার মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা বাদাম হাতে ঢেলে খেতে ভাল লাগেনা। কুটুস শব্দ হতেই দুই হাত দিয়ে বাদাম ধরে মুখ একটু উচু করে মুখে ঢেলে দেয়াতেই অনেক আনন্দ। ছোলা ফেলে জায়গা নোংরা করিনি কখনোই, একটি নির্দিস্ট স্থানেই রাখি।
বাদামের স্বাদ যে কত আলাদা তা বুঝিয়ে কেউ বলতে পারবে বলে মনে হয়না। বাদাম খাবার সময় স্মরনাতীত কাল থেকে একটি ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়ে আসছে আমার সাথে। বাদাম খাবার আনন্দ সব মাটি করে দেয় শেষ বাদামটি। কত মজা করে খেলাম প্রায় সব বাদাম, শেষ বাদামটি মুখে নেয়ার পর সব শেষ। কেন যে শেষ বাদামটিতে বালু থাকে তা এক রহস্য………

ঘুমের ছবি:
ঘুমন্ত মানুষের ছবি তুলতে আমার ভাল লাগে খুব। এটি একটি নেশা আমার। ঘুমাচ্ছে, ঝিমাচ্ছে অনেকে আর আমি জেগে থেকে ঘুরে ঘুরে ছবি তুলছি গোপনে, দারুন এক নেশা।
সেবার ফিলিপাইন যাবার সময় সিংগাপুর এয়ারপোর্টে অনেক রাতে ট্রানজিট। রাত তিনটার পরে সহযাত্রী প্র্রিয় বন্ধুকে নিয়ে ঘুমের ছবি তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছি। বন্ধু নিজেও দেখিয়ে দিচ্ছে কিছু অস্বাভাবিক ঘুমন্ত মানুষ- বসে ঘুমানো, দাঁড়িয়ে ঘুমানো, বউকে পা দিয়ে আটকিয়ে ঘুমানো – আরো যে কত ধরনের ঘুম আছে!
বন্ধুর ঘুমের ছবিও তুলেছি তার অগোচরে 🙂 সে ভাবতেই পারবেনা যে কেমন করে ঘুমায় সে।
অতএব, আমার সামনে ঘুম থেকে সাবধান, নেশা আমার ঘুমের ছবি তোলা।

৪৯৮জন ৪৯৮জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

  • ছাইরাছ হেলাল

    প্রথম ঘটনাটি কাল্পনিক হলেও,
    মাইর সব সময় চালু হয় না, চলতে থাকেও না, তবে ফটুক উৎসাহীদের প্রিয় দামী ফোন
    লোপাট হর-হামেশাই হয়, হচ্ছেও, হবেও;
    তাই ফটুক লোভীরা সাবধান!

    বাদামের শেষেরটি বালি বা পচা বাদামেই শেষ হয়, তাই সাবধান,
    শেষ-টাইমে হুশে থাকার চেষ্টা করা উচিৎ, যদিও লেজেগোবরেরে সম্ভাবনাই বেশি বেশি থাকে।

    হ্যা, ঘুমন্ত মানুষদের নিয়ে একটি লেখা আমারও আছে, তাতে কে কী করে-টরে সবই বলা আছে বিস্তারিত ভাবে।

  • রিতু জাহান

    শেষ বাদামটা সত্যিই তিক্ততার হয় কেনো? বাদাম খেয়ে নোংড়া করেন না জেনে ভালো লাগলো। আফনে একদম খাঁটি লোক। বাদামের পাতলা খোসা আপনার কথা শোনে।
    ঘুমের মানুষের ছবি তোলা নেশা! এ দেখি আজব নেশা। বন্ধুর নাম জানতে মনচায়। তবে মনে হয় আন্দাজ করতে পারতেছি।
    পা দিয়ে বউ আটকে রাখতে দেখছি ভারতের রেল স্টেশনে। একটা ছবিতে। হেসেছিলাম খুব আমি।
    বন্ধুর সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে মনচায়।

  • মোঃ মজিবর রহমান

    সাবধানঃ- মোবাইল/ক্যামেরা অপরিচিতের হাতে দিয়া সৈখিন ফটু তুল্বার গিয়া ক্যেমেরা/মোবাইল হারানো থেকে বিরত থাকুন।
    সাবধানঃ- কুটুশ শব্দে আনন্দত আছে বোতে কিবতু শেষ বাদামে বালি সব নষ্টে মনে থাকে কস্টে
    সাবধানঃ- ঘুমের মাঝে অন্যের ক্ষতি করে ছবি তুলনেন না প্লিজ। কারন ঐসময় কি অবস্থায় য্বে থাকে অপমানিত বোধ হতে পারে।

  • নীলাঞ্জনা নীলা

    ফোন চোরের গল্পখানা এক কথায় ফাট্টাফাট্টি। বাস্তব লেগেছে।

    নানা বাদাম খাওয়ার চেয়ে বেছে দিতেই ভালো লাগে আমার। যদিও প্রেমিককে বেছে দেইনি। তবে আমার বন্ধুরা, ছোট ভাই-বোনদের বেছে দিতাম। ভাঙার সময়ের চেয়ে কুটুর-কাটুর করে খাওয়াটা বেশ মজা লাগতো দেখতে। আমার একটা বন্ধু বলেছিলো, “দোস্ত তুই কি জানিস যারা বাদাম বাইছ্যা দেয় অন্যরে, তাদের মনে অনেক মায়া?” 😃

    তুমি ঘুমের ছবি তুলতে ভালোবাসো? তাহলে তো তোমার ভাগ্যে নেই আমার ঘুমন্ত ছবি তোলার। 😃 \|/

  • মায়াবতী

    স্যার , আপনার নিজের ঘুমন্ত ছবি কি কেউ কখনো তুলেছে ? ঘুমন্ত মানুষের প্রিয় মুখে অদ্ভুত এক ছায়া দেখা যায় যা খুব হাতছানী দিয়ে ডাকে।
    বাদামের খোসা ছাড়তে গিয়ে শুরু এবং শেষের জার্নি টা নিদারুণ হোঁচট খেয়েছি।
    নিজের ছবি তোলা নিয়ে যে ভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন তা তে তো বিঘ্ন ঘটিয়ে দিলো কল্পনার ফানুস টা!
    আচ্ছা এই তিনের মধ্যে কি কোনো এক মিশে গেসে!

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ