তিনি সোনালী সে মুখ- ৫

জিসান শা ইকরাম ২৮ আগস্ট ২০১৫, শুক্রবার, ১২:০৫:২৮পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৭০ মন্তব্য

** আমি গ্রামের মুখ্য সুখ্য মানুষ, এত বড় বড় রথি মহারথীদের সাথে বিশেষ অতিথি হয়ে পাশাপাশি চেয়ারে বসে তাদের অসম্মান করা ঠিক না। আমি কবিতার কি বুঝি?
# আমি এসবের কিছু শুনতে চাইনা, আমার কবিতার বই প্রকাশনী অনুষ্ঠানে তুমি থাকবে বিশেষ অতিথি হয়ে।
** তোর প্রকাশনী অনুষ্ঠান আমার কারণে অনুজ্জ্বল হয়ে যাবে।
# হলে হোক, তুমি থাকছো অনুষ্ঠানে। কথা শেষ, ব্যাস।

তাঁর প্রথম কাব্য গ্রন্থ প্রকাশনী অনুষ্ঠানে কবি অসীম সাহা, ভাস্কর চৌধুরী, জাপান দূতাবাসের একজন বাঙ্গালী কর্মকর্তা এমন সব গুনী জনের সাথে একই সারিতে একজন জিসান গিয়ে বসলো তার শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা মাথায় নিয়ে। এই শ্রদ্ধা কতটা আন্তরিকতা থাকলে অর্জন করা যায়? আমি এক সাধারণ বলতে গেলে গ্রামে থাকা একজন মানুষ। এমন শ্রদ্ধা পেলে তা রক্ষা করা তো আমার প্রধান দায়িত্ব হয়ে পরে। যাকে সে ভালোবাসে এমন উচ্চতায় নিয়ে বসায় সে।

পরিচয়ের পরে প্রথম দেখা হবে তার সাথে। অতি স্নেহের একজন আসছেন প্লেনে উড়ে। অভ্যর্থনা তো জানাবোই আমি। মানুষের উপরে বিশ্বাসী মন তার, আমাকে বলে ‘দেখবে অনেক বন্ধু পরিচিত মানুষ রিসিভ করবে বিমান বন্দরে আমাকে’। তাঁকে তখন বলিনি ‘যাদের বন্ধু ভাবিস তারা আসলে কতটা আন্তরিক, তা তুই বুঝবি না, কারণ মানুষের কথায় আস্থা রাখো তুই, বিশ্বাস করো। আজ বললাম এই কথা। এই মানুষদের মধ্যে ‘ দিদি তোমার জন্য প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে দেবো’ বলা মানুষও ছিলো।
বরিশাল হতে ঢাকা গিয়ে গাড়ি নিয়ে পথে আর একজনকে ফোন করে গাড়িতে নিয়ে ছুটলাম বিমানবন্দরে। আমি নিশ্চিত আমি তাঁকে গাড়িতে না নিয়ে নিলে নিজের ইচ্ছায় সে একা যেতো না বিমানবন্দরে।
ঐতো আমার স্নেহের আনন্দময়ী একজন, যেন কত জনমের চেনা। আমাকে এসে খুশীতে উড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো।ভিতরে আমার আনন্দাশ্রু। আনন্দে কাঁদাও কত আনন্দের তা আমি প্রকাশ করতে অক্ষম। অভ্যর্থনা জানাতে আসা আমি আর অন্য জনকে দেখে হতাশ কি হয়েছিল সে?

বই প্রকাশনী অনুষ্ঠানে আমি সপরিবারে গিয়েছিলাম। এর পূর্বেই সে আমার স্ত্রীর সাথে স্কাইপিতে কথা এবং কথা বলেছে। যেদিন আমরা ঢাকা থেকে ফিরবো, ঐ দিন বলে আসতে গিয়েছি যে চলে যাচ্ছি। শুনেই কেমন চোখ ছলছল।আমার ভিতরটাও কেমন শূন্য শূন্য লাগছিলো, আবার কবে দেখা হয়। বিদায়ের সময়ে আবার জড়িয়ে ধরে কান্না। অনেক চেষ্টা করেও আমার চোখ থেকে পানির প্লাবন বন্ধ করতে পারিনি।

২০০৯ এর সম্ভবত সেপ্টেম্বরের কোন এক দিন, ফেইসবুকের গ্রুপ’ তুই রাজাকার বা এমন একটি গ্রুপে আমি পোষ্ট দেই ‘ নিজামির দুই গালে জুতা মারো তালে তালে’ – সে পোষ্টে তিনি এসে মন্তব্য দিলেন ‘ ছেড়া জুতা মারতে হবে ‘। ঐ সময়ে নারীরা রাজাকারদের বিরুদ্ধে খুব কম লিখতো।তার এই মন্তব্য দেখে খুঁজতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া। ধীরে ধীরে জানি যে তার মা এর বাড়ি বরিশাল। বরিশাল তার নানা বাড়ি। বলি আপনার মা তো আমারই মেয়ে। সেই শুরু– নানা হয়ে গেলাম, নানা রয়ে গেলাম, থাকবো যতদিন বেঁচে আছি।
প্রচন্ড রকমের হিংসুটে সে। আমাকে নানা ডাকার পরে অন্য কাউকে সে আর নানা ডাকতে দিবেনা। ঐ সময়ে তার ছোট বোন মিতু ( তার আপন বোন না এটি জেনেছি আমি ৬ মাস পরে) কে পর্যন্ত নানা ডাকতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত মিতু আমাকে দাদু ডাকতে বাধ্য হয়।

অন্য একটি ব্লগে তাঁকে লিখতে বললাম, লেখাও শুরু করে দিলো। ব্লগে সাধারণত অন্য ব্লগারকে আপনি বলেই সম্মোধন করা হয়। বিশাল পরিসরের ব্লগে এটিই করা হয়ে থাকে। যখন তার পোস্টে আপনি বললাম তাঁকে মন্তব্যে, তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি।’ তুই কেন বলছি না? এটি আবার কেমন সম্বোধন? বুঝিয়েও কোণ লাভ হয়নি তাকে। কী এর ব্লগ কিসের কি? আমি তার নানা, তাঁকে তুই ডাকতে হবে।
এই সোনেলায় তাঁকে তুমি বলি আমি, মাঝে মাঝে এজন্য ঝাড়ি শুনতে হয় 🙂 কত শ্রদ্ধার আর সম্মানের নির্ভরতার ডাক ; বুইড়া।

২০১২ সনে হঠাৎ তার আবদার, তার ছবি দিয়ে ভিডিও বানাতে হবে। নাতনী জামাইও সাবধান করে দেয় আমাকে ‘ নানা অবস্থা কিন্তু ভালো না, ভিডিও বানিয়ে দাও জন্মদিনের আগে, নইলে দেশে গিয়ে তোমার মাথার চুল ছিড়ে ফেলবে সব, মাথায় হেলমেট দিয়ে তার সামনে আসলেও রক্ষা পাবে না।’ অবশেষে কি আর করা চুলের মায়ায় ( তার প্রতি স্নেহ ভালোবাসার নয় ) এই ভিডিওটি বানালাম… নীলাঞ্জনা ঐ নীল নীল চোখে চেয়ে দেখোনা  / ঐ সময়ে এই গুন্ডিটাকে গার্লফ্রেন্ড ও ডাকতাম। কিন্তু এখন গার্ল ফ্রেন্ড পাল্টাইছি, পেতনিরে গার্ল ফ্রেন্ড রাখার মত পাগলা আমি না, তাই আর ডাকি না :p
গতকালকে আবার হুমকি এসেছে ‘ আর একটা ভিডিও বানাতে হবে নচিকেতার নিলাঞ্জনা-১ গান দিয়ে, নিজের কণ্ঠে গান গাইয়ে শুনালো, কোন গানটা দিতে হবে। নইলে কানাডা হতে ভেজালমুক্ত ঘি এনে আমার চুলে মেখে দিয়ে সব চুল সাদা করে দিবে   ^:^ ইডেনের এই মাস্তানের হাত হতে আমাকে কেউ বাঁচান। প্রকাশ্যে ফেইসবুকের আমার স্ট্যাটাসে হুমকি দিয়েছে। প্রমাণ আছে ফেইসবুকেই।

আনন্দের মাঝে থাকতে চান তিনি। যতদিন দেখেছি মুখে হাসি, কষ্ট দুঃখকে কবে গুড বাই জানিয়েছেন তিনি। সব কিছুর মাঝে আনন্দ খুঁজে নেন তিনি। একজন আনন্দময়ী।

মানুষকে একান্ত আপন ভাবেন তিনি। অধিকার নিয়ে বলে, নানা ঐ ছেলে পাসপোর্ট করবে তাঁকে টাকা পাঠাও, মিতুকে একটা কিছু করে দাও যাতে সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে।এক বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা, রাত ৩ টায় ফোন ‘নানা তুমি একটু দেখো, ওকে পাওয়া যাচ্ছে না’ ( কান্না তো আছেই সাথে ), কয়েকদিন আগে জগৎ থেকে চলে গেলো ওর এক বন্ধু, কান্না কাটি করলো খুব, আমি এ সময় সময় দিচ্ছি না, খুব অভিমানও আমার উপর।

কত লিখবো আর তাঁর সম্পর্কে?
আত্মায় আত্মায় সম্পর্ককেই তো আত্মীয় বলে। রক্তের সম্পর্ক তো রক্তীয় সম্পর্ক। সে তো আমার পরমাত্মীয় বনে গিয়েছে বহু আগেই।

আজ এই আনন্দময়ীর জন্মদিন

আজকের দিনে প্রার্থনাঃ
হাসি খুশী আনন্দে পূর্ণ থাক তোর জীবন, নিজে আনন্দের মাঝে থেকে সবাইকে আনন্দ বিলি করবি আজীবন। ( সবার সামনেই তুই বললাম তোকে পেতনি)
শুভ জন্মদিন নাতনী
শুভ জন্মদিন নীলাঞ্জনা নীলা 
-{@

৪৯৩জন ৪৯৩জন
0 Shares

৭০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ