তিতা কথা-(৪)

চাটিগাঁ থেকে বাহার ৬ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার, ০৯:২৭:৫১অপরাহ্ন রম্য ১৫ মন্তব্য

♪♪__তিতা কথা-(৪)__♪♪
===>>>^^^^<<<===

[আক্কেল আলী ও সবজান্তা পরস্পর দুই বন্ধু]
আক্কেল আলী বন্ধু সবজান্তাকে বলল, দোস্ত তোর কি সেই মিষ্টির কারিগরের কথা মনে আছে?

সবজান্তাঃ ঐ যে অবসর টাইমে লাকী ফটোষ্ট্যাটে বসে সুন্দর সুন্দর গল্প শোনাতো?

আক্কেল আলীঃ হ্যাঁ ঠিক ধরেছিস, দুই যুগ হয়ে গেল এখনও ভুলিশনি!

সবজান্তাঃ তিনি মিষ্টির কারিগর হলে কি হবে? তাঁর বলা গল্পগুলো ছিল অসাধারণের চেয়েও বেশী। সে ছিল অবহেলিত পন্ডিত।

আক্কেল আলীঃ তাঁর বলা শয়তানের গল্পটি কি তোর মনে আছে?

সবজান্তাঃ না, মনে নেই। বল না প্লিজ, আমি আবার শোনব।

আক্কেল আলীঃ তাহলে শোন, একদিন বড় শয়তান কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে পায়ের উপর পা তুলে মনের সুখে নিশ্চিন্তে হাওয়া খাচ্ছিল। তাই দেখে কয়েকজন পর্যটক তাকে প্রশ্ন করল, কিরে ইবলিশ, তোমাকে খোশ মেজাজে এখানে অবকাশ জীবনে দেখা যাচ্ছে, ব্যাপার কি? তোমার ডিউটি নেই?

ইবলিশঃ আমার কাজ আমি শুরু করে দিয়ে এসেছি, আপাতত আমার কোন কাজ নেই, বাকী কাজ আমার সাগরেদরা করবে।

প্রশ্নকারী পর্যটকঃ অনেক দিনের ইচ্ছা তোমার শয়তানীর কৌশলগুলো জানব, প্লিজ বল না আজকে কী শুরু করে দিয়ে আসলে!

ইবলিশঃ বিশ্বযুদ্ধ শুরু করে দিয়ে এসেছি।

পর্যটকঃ বল কি! কিভাবে?

ইবলিশঃ হ্যাঁ, আমি যেটা করেছি সেটা হচ্ছে, একটি মিষ্টির দোকানে মিষ্টি পরিমাপের স্কেলের পাশ থেকে ঝরে পড়া একটুখানি মিষ্টি নিয়ে মিষ্টির শো-কেসের গ্লাসে লাগিয়ে দিয়ে এসেছি। আমার কাজ ওখানেই শেষ, বাকিটা মানুষের ভেতর থেকে আমার অনুসারিরাই করবে?

পর্যটকঃ এতেই বিশ্ব যুদ্ধ?

ইবলিশঃ হ্যাঁ!

পর্যটকঃ ইম্পসিবল! গাজাখুরি গল্প বলার আর জায়গা পাওনা!

ইবলিশঃ শোন, আমি শয়তান হতে পারি কিন্তু মিথ্যা কথা বলি না।

পর্যটকঃ কিন্তু কিভাবে সম্ভব?

ইবলিশঃ শোনবে?

পর্যটকঃ হ্যাঁ শোনব, বল।

ইবলিশঃ তাহলে শোন, আমি শো-কেসের গ্লাসে মিষ্টি লাগাবার কিছুক্ষণের মধ্যে ঐ মিষ্টির চারপাশে মাছি’রা এসে ভন্ ভন্ শুরু করে দিল। মাছির আনাগুনা দেখে সেখানে চলে এসেছে টিকটিকি। টিকটিকির উপস্থিতি লক্ষ্য করে বক্সের কোণা থেকে উঁকি মারল ইঁদুর। ইঁদুর দেখে বিলেতি কাস্টমারের কোল থেকে লাফিয়ে পড়ল বিড়ালটি……… এতটুকু বলে ইবলিশ থামল। পর্যটকেরা যেন আনমনে গিলছিল শয়তানের কথাগুলো।

একজন পর্যটক উৎকণ্ঠিত ভাবে জিঙ্গেস করল, তারপর?

ইবলিশঃ বিলেতী কাস্টমারের বিড়াল দেখে অপর কাস্টমার পশ্চিমা শেতাঙ্গের হাত থেকে শিকারি ডগটি শিকলসহ লাফ দিল বিড়ালটির গায়ের উপর এবং গর্দানে এক কামড়ে বিড়ালটিকে মেরে ফেলল। শখের বিড়ালকে চোখের সামনে ছটফট করে মরতে দেখে বিলেতি সাহেব কাঁধের বন্দুক দিয়ে এক গুলিতে ডগটিকে মেরে ফেলল।

পর্যটকঃ ও মাই গড! তুমি এত বড় শয়তান! তারপর কি হল?

ইবলিশঃ নিজের ছেলেমেয়ের চাইতে প্রিয় ডগটিকে গুলি করে মারার কারণে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে নিজের পিস্তল দিয়ে বিলেতি সাহেবকে সাথে সাথে শুইয়ে দিল পশ্চিমা শ্বেতাঙ্গটি।

পর্যটকঃ ইয়া আল্লাহ, তুমি তখন কি করছিলে? এরপর কি হল?

ইবলিশঃ আমি প্রথমে গ্লাসে মিষ্টির টুকরা লাগিয়ে দিয়ে বাইরে এসে নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে ঘটনা পর্যবেক্ষন করছিলাম। ঘটনার সাথে জড়িত দু’জন পূর্ব ও পশ্চিম দুই শত্রু পরাশক্তির বাসিন্দা। ৫ মিনিটের মধ্যে দুই দেশেই রেড এলার্ট বেঁজে উঠল এবং আমি মনে করলাম আপাতত আমার কাজ শেষ।

পর্যটকঃ তারপর ?

ইবলিশঃ এখনও ঘটনার ১০ মিনিটও হয়নি। খবর পেয়েছি দু’দেশই তাদের বোম্বিং স্কোয়াডকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে। তোমরা a to z নিউজ চ্যানেল গুলোতে খোঁজ নিয়ে দেখতে পার।

পর্যটকঃ আচ্ছা ইবলিশ, তুমি মানুষকে কিভাবে এত সহজে প্রভাবিত করে তোমার ফাঁদে আটকাও?

ইবলিশঃ আকাশে যত তারা আমার আছে তত ধারা। তবে আমি শুধু একটি ধারার কথা বলব, সেটি হচ্ছে মানুষ যখন রাগান্বিত অবস্থায় থাকে তখন আমি আলগোছে তাদের মাঝে অবস্থান নিই এবং উভয় পক্ষকে উঁচকে দিয়ে আমার স্বার্থ উদ্ধার করি। তারপর হঠাৎ শয়তান উদাও হয়ে গেল।

১১১জন ৯জন
5 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য