তাজমহল (২য় পর্ব)

ইঞ্জা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার, ১২:১৯:১৭অপরাহ্ন ভ্রমণ ৪০ মন্তব্য

বিদেশি হিসাবে তাজমহলে প্রবেশের টিকেট বেশিই দাম পড়লো ভারতীয়দের তুলনায়, কাউন্টার দিয়ে প্রবেশ করে ভিতরের দিকে অগ্রসর হলাম আমরা তিনজন, সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা স্ত্রীর জন্য শখ করে বানিয়েছিলেন এই তাজমহল যা আজও প্রেমের প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়ে আছে, দূর থেকে দেখা যাচ্ছে তাজমহল তা অপার সৌন্দর্য্য বিলিয়ে যাচ্ছে।

আসল প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগে আরেকটি তোরন (গেইট) দেখা যাচ্ছে।
গাইড আমাদেরকে বললো, আপনারা তোরনের উপর কিছু লেখা দেখতে পারচ্ছেন?
আমরা বললাম “হাঁ আরবিতে লেখা দেখছি”।
আপনারা খেয়াল রাখুন লেখা গুলোর সাইজের দিকে।
আমি বললাম, ” কেন সব গুলোই তো বড় বড় হরফে লেখা দেখছি”।
চলুন এগুতে থাকি।
আমরা এগুতে থাকলাম, তোরনের সামনে এস গাইড বললো, এখন দেখুন, নিচ থেকে উপরে উঠে আবার নিচের দিকে এসেছে, আরবী হরফে লেখা সব গুলো আল্লাহর নাম, যত নামে উনাকে ডাকা হয় সব নাম আছে, এই নাম গুলো এমন ভাবে লেখা হয়েছে যে তা আপনি দূর থেকে দেখুন আর কাছ থেকে, সব গুলোই এক সমান লেখা যা আপনি দূর থেকে এবং কাছ থেকে বা ডান বাম যেদিক থেকেই দেখবেন তা সমান ভাবেই দেখবেন।
আমরা অবাক হয়ে ঘুরে ঘুরে দেখলাম, সব হরফই সমান সাইজের, কোনো হেরফের নাই।

 

আমরা আবার এগুলাম ভিতরের দিকে, দূর থেকে দেখা তাজমহল এখন আরও কাছ থেকে দেখে আরও অভিভূত হয়ে গেলাম, মাঝে পানির ফোয়ারা আর দুই পাশে চলাচলের পথে প্রচুর পর্যটক হাটাচলা করছেন, আমার বন্ধু কিছু ছবি তুললো ওর ডিজিটাল ক্যামেরায়।

এরপর আমরা ধীরেসুস্থে এগুলাম তাজমহলের দিকে।
তাজমহলের উপরে উঠে আসতে কয়েকটা সিঁড়ি ভেঙ্গে উঠে আসতে হয়, আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে দেখছি তাজমহলের দিকে, গাইডের কাছে শুনলাম ও দেখলাম তাজমহলের চার কোনায় চারটি মিনারের মত আছে, এই মিনার গুলো এমন ভাবে তৈরি যেন ভূমিকম্প, বাতাস বা যেকোনো কারণে মিনার গুলো যদি ভেঙ্গে পড়ে তাহলে তা বাইরের দিকে ভেঙ্গে পড়বে, কোন কারণেই তা ভিতরে পড়বেনা, এমন করেই বানানো হয়েছে সেই চার মিনার, এর কারণও আছে আর তা হলো যদি ভেঙ্গে ভিতরে পড়ে তাহলে তাজমহলের বড় ধরণের ক্ষতি হয়ে যাবে, এই মিনার গুলো এক একটি ৪/৫ তলার সমান।

 

এরপর আমরা বাইরের দিকে ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম, আমরা তাজমহলের ডান পাশে এলে দেখলাম লাল রঙের এক মসজিদ পশ্চিম দিকে মুখ করা, গাইড বললো এইখানে নামাজ পড়া হয়, দেখতে খুবই সুন্দর মসজিদ, মুগ্ধকরা তার ডিজাইন।
এরপর আমরা ঘুরে পিছনে এলাম, পিছনে যমুনা নদী কিন্তু পানি তখন খুবই অল্প, নদীর অপর পাশে কিছু স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছিলো যা এখন বন্ধ আছে, গাইড আমাদেরকে অবাক করে দিয়ে বললো, ঐ যে অপর পাশের স্থাপনা দেখছেন তা হলো ব্ল্যাক তাজমহল।
আমরা অবাক হয়ে আবার তাকালাম, আমি বললাম ” কি বলেন, ওখানে তো দেখছি সবই ইটের স্তুপ, কালো তাজমহল কই?
গাইড তখন সব খুলে বললো, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র হুমায়ুন চেয়েছিলো তাজমহলের অনুরূপ কালো তাজমহল গড়ার কিন্তু পরবর্তীতে ফাইনান্সিয়াল ক্ষতি হচ্ছে দেখে সেই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যদি সেই কাজ বন্ধ করা না হতো, তাহলে আজ আমরা দ্বিতীয় তাজমহলও দেখতে পারতাম।

চলবে।

ছবিঃ গুগল।

২২৫জন ২৫জন
37 Shares

৪০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য