তাজমহল (শেষ পর্ব)

ইঞ্জা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার, ১১:৩০:৩৫অপরাহ্ন ভ্রমণ ৩২ মন্তব্য

তাজমহলের প্রবেশ দুয়ার।

আমরা এগুলাম তাজমহলে প্রবেশ করার জন্য, ভিতরে প্রবেশ করে আশ্চর্য হলাম কোথাও কোন বাতি নেই, কেমন যেন অন্ধকার ধরণের।
গাইডকে জিজ্ঞেস করাতে বললো, এ পুরানো স্থাপত্য, এইখানে বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন কি, এমনিতেই সন্ধ্যার আগে তাজমহল বন্ধ হয়ে যায়।
আমরা ঘুরে ঘুরে দেখতে লাগলাম তাজমহল, তাজমহলের ঠিক মাঝ বরাবর দুইটি কবর মার্বেল টাইলস দিয়ে গড়া, গাইড বললো “এই দুইটির বড়টি সম্রাট শাজহানের আর দ্বিতীয়টি বেগম মমতাজের কবর, কিন্তু দুইটি কবরই কিন্তু আসল না, ডামি কবর”।
আমরা অবাক হয়ে বললাম, ডামি কেন?
ডামি কবর করা হয়েছে সিম্বল হিসাবে।
তাই, তাহলে আসল কবর গুলো কই?
গাইড আমাদেরকে নিয়ে এগুলো সামনের দিকে, সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখলাম একটা সিঁড়ি নিচের দিকে নেমে গিয়েছে কিন্তু সিঁড়ির মুখে লোহার গেইট লাগানো।
গাইড বললো, একটু নিচু হয়ে দেখুন, আপনারা উপরের অনুরূপ কবর দুইটি দেখতে পাবেন।
আমরা নিচু হয়ে দেখলাম, দুইটি কবরের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে।
গাইড বলতে লাগলো, আসল দুইটি কবর ঐ নিচেই আছে, কেউ যেন উপর দিকে কবরের উপরে হাটতে না পারে তার জন্য উপরে ডামি কবর তৈরি করা হয়েছে, এছাড়া নিচে এমন কিছু গুহা আছে যা রহস্যে ঘেরা, এই জন্যই এই লোহার গেইট দেওয়া আছে যাতে কেউ নিচে গিয়ে ঐসব গুহাতে হারিয়ে না যায়।

তাজমহলের ভিতরের ছবি।

এরপর আমরা ঘুরে দেখতে লাগলাম ভিতরের তাজমহলকে, ছোট ছোট কিছু ঘুলঘুলি (জানালা বিশেষ) দেওয়া আছে যেন বাইরের আলো ভিতরে আসতে পারে, চারিদিকে নয়াভিরাম কারুকার্য করা তাজমহলের প্রতিটি দেওয়াল, পিলার।
উপরের অনেক উঁচুতে তাজমহলের আসল ঘুম্বুজ গোল হয়ে আছে যা সম্পূর্ণ টাইলস দেওয়া।

ভিতরের কারুকাজ।

গাইড আমাদেরকে এক দেওয়ালের কারুকাজ দেখিয়ে বললো, ” দেখুন এইসব কারুকাজ যা রত্নখচিত, এই পাথর বা রত্ন গুলো কিন্তু আসল যা সুদূর ইরান থেকে আনা হয়েছিলো, এগুলো এমন ধরণের রত্ন যাতে আলো রিফ্লেক্ট করবেনা, আলো সোজা রত্নের ভিতর দিয়ে অপর পাশে চলে যাবে।
কেমন, আমি প্রশ্ন করলাম?
গাইড এদিক ওদিক তাকিয়ে পকেট থেকে ছোট পেন বের করলো যাতে ছোট টর্চলাইট লাগানো, টর্চটি অন করে রত্নের উপর ধরে বললো, দেখুন।

আমরা অবাক হয়ে দেখলাম, টর্চের আলো রত্ন পাথরে রিফ্লেক্ট না করে সোজা পাশ করে গেলো যা ভিতরের দেওয়াল পর্যন্ত দেখা যায়।

মূল্যবান পাথর খচিত কারুকাজ।

আমরা ঘুরে ঘুরে তাজমহলের ভিতরের সৌন্দর্য দেখতে লাগলাম, এর অপরূপ কারুকাজ ও স্থাপত্যকলা দেখে বুঝা যায় ততকালিন মোঘল সাম্রাজ্য কত সমৃদ্ধ ছিলো, খুবই উচ্চমানের কারুকলায় ভরপুর তাজমহল।
সূর্য ঢলতে শুরু করেছে, আর কিছুক্ষণের মধ্যে সন্ধ্যা নামবে, আমরা বেড়িয়ে এলাম তাজমহল থেকে, তাজমহলের বের হওয়ার গেইটের কাছাকাছি এসে ফিরে তাকালাম তাজমহলের দিকে, লালাভ হয়ে উঠেছে তাজ, গাইড বললো ওর কাছে উজ্জ্বল সাদা তাজমহলই পছন্দ।
আমরা সবাই গাড়ীতে গিয়ে উঠার পর গাইড বললো, চলুন আপনাদেরকে তাজমহলের কারুকার্য যারা করেছে তাদের বংশধরদের দেখিয়ে আনি।
আমাদেরকে নিয়ে সে এক ছোট মার্কেটে নিয়ে গেলো, যেখানে বেশ অনেক গুলো ছোট ছোট দোকান ঘর, প্রত্যেক দোকানেই বিভিন্ন ধরণের শোপিস তৈয়ার করে বিক্রি করে, আমরা ঘুরে ঘুরে দেখছি প্রতিটি দোকান, এ দোকানের সামনে দেখলাম এক লোক টুক, টাক আওয়াজ করে টাইলসের উপর কেটে কেটে রত্ন বানাচ্ছে আর বসাচ্ছে, অবিকল যেমন তাজমহলে দেখেছিলাম, আমি অবাক হয়ে লোকটার কাজ দেখছিলাম, গাইডকে বললাম ” কি ব্যাপার সবার নাকি আঙ্গুল কেঁটে দেওয়া হয়েছে, এ এলো কোথা থেকে”?
গাইড হেসে বললো, এ এবং সামনে আরও অনেক লোক দেখবেন যারা ঐসব কারুশিল্পীদের বংশধর।
কিন্তু ওদের তো আঙ্গুল কাঁটা হয়েছিলো, তাহলে এরা শিখলো কি করে?
আসলে ওদের আঙ্গুল কাটলেও ওদের বিদ্যা তো কেড়ে নিতে পারেনি, ওরাই তাদের বংশধরদের বংশানুক্রমিক ভাবে শিখিয়ে গিয়েছে।
তাই, খুব সুন্দর।
গাইড বললো, আপনারা চাইলে এইসব কারুকাজ করা টেবিল, ওয়ালসেট ইত্যাদি কিনতে পারবেন।
আমরা টুকটাক কিছু কিনে নিয়ে হোটেলের ফিরতি পথ ধরলাম।

সমাপ্ত।

ছবিঃ গুগল।

১৮৩জন ৩৮জন
35 Shares

৩২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য