“ডাল মে কুছ কালা হে” ।

বায়রনিক শুভ্র ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৪, সোমবার, ১১:৩৫:২২অপরাহ্ন বিবিধ ৮ মন্তব্য

তোমার নাম ভাঙিয়ে কেউ সন্ত্রাস করছে ???? নিজের বদনাম যদি আটকাতে চাও তাহলে তোমাকেই তাদের প্রতিহত করতে হবে । আর যদি ভাবো “আমি তো করছি না,তাহলে আমি আটকাতে যাবো কেন ??? বা আমার বদনাম হবে কেন???” তাহলে তুমি বোকার স্বর্গে আছো । কারণ পৃথিবীর নিয়মটাই এরকম, “যার নাম ব্যাবহার হবে ধরে নিতে হবে সে এর পিছনে আছে । না থাকলে সে অবশ্যই এসব আটকাত” । এবং এই যুক্তি অকাট্য । কারণ কেউ ভুল পথে তোমাকে ব্যাবহার করলে তুমি নিশ্চয়ই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না । যদি থাকো তাহলে বুঝতে হবে তোমার সম্মতি আছে ।

খন একটু অন্য বিষয়ে আসি । যখন কেউ ধর্মের দোহাই দিয়ে সন্ত্রাস করে তখন স্বাভাবিক ভাবেই সন্ত্রাসীর ধর্মীয় পরিচয় আমাদের মত সাধারণ মানুষদের চোখের সামনে চলে আসে । এবং সন্ত্রাসীর চেয়ে ধর্মধোলাইয়ে আমরা বেশি ব্যাস্ত হয়ে পড়ি (জানি আগে ধর্মভিত্তিক সন্ত্রাসী ধোলাই করা উচিৎ) । কিন্তু অনেক জ্ঞানী গুণী জন আপত্তি তুলে চোখে চশমা এঁটে বলেন “সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নেই,তার একটাই পরিচয় সে সন্ত্রাসী” । কিন্তু এই কথাটি কিভাবে অম্লান বদনে মেনে নেই । কারণ যে ধর্ম তারা ব্যাবহার করছে সেই ধর্ম তো কোন প্রতিবাদ করছে না । হ্যা গুণী জনেরা বলতেই পারেন “ধর্ম কোন ব্যাক্তি নয় যে ‘মশাল মিছিল’ করে প্রতিবাদ করবে” । আসলে প্রতিবাদ টা মূলত আসা উচিৎ মোল্লা-পুরুত গোত্রীয় কারো কাছ থেকে , কারণ ধর্মের ধারক বাহক তারাই । তারাই ঠিক করেন কোনটা করলে ধর্ম রক্ষা হবে বা হবে না । তারাই মাইকে গলাফাটিয়ে এলাকাবাসীর ঘুমের এবং আমার মত নিশচরের একাকীত্বের বারোটা বাজিয়ে ঘোষণা করেন মেয়েদের ফেসবুক ব্যাবহার করা নিষেধ,গরু খাওয়া নিষেধ,শুকর খাওয়া নিষেধ,ভিন্ন বর্ণে বিয়ে করা নিষেধ ইত্যাদি ইত্যাদি । ওনাদের কথা শুনলে মাঝে মাঝে মনে হয় এই পৃথিবীতে ওনাদের সৃষ্টিকর্তা ওনাদের পাঠিয়ে বিশাল প্যাড়ায় ফেলে দিয়েছেন । যা হোক ছোট বেলা থেকে এখনও মোল্লা-পুরুতদের মুখে শুনি যে কেউ নিজের ধর্মের ধর্ম-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটা যুক্তি যুক্ত প্রতিবাদ করেছে । কেউ ফতোয়া দিয়ে বলেছে তালেবান করা হারাম বা শিব সেনা নাস্তিক । উলট তাদের কাজ-কাম অনেক সময় এই ধর্ম সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করেছে । সমর্থন যুগিয়েছে । এমনকি বেশির ভাগ ধর্মজীবী মনে মনে বা প্রকাশ্যে ধর্ম-সন্ত্রাসীদের সমর্থন করে । নাস্তেক/ম্লেচ্ছদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার পাশাপাশি এইসব ধর্ম-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলে তাদের ঠিক কোন অনুভূতিতে আঘাত লাগে ঠিক বুঝি না । কোন ধর্মজীবী বাধা দেবে না , প্রতিবাদ করবে না আবার গলা ফাটিয়ে বলবে “ইহা ছহি ধর্ম নয়,ইহার জন্য ধর্মকে গাল পাড়িও না” তা কি হয় ??? ধর্মজীবী হয়ে তারা হয়ত অনেক সহজ সরল বা তাদের সমর্থক হয়ে জ্ঞানী-গুণী জনেরা হয়ত অনেক সহজ সরল । কিন্তু পৃথিবীটা এত সরল নয় । মানুষ এসব নিয়ে ত্যানা পেচাবেই । এবং কিছু অর্বাচীন মূর্খ ধর্মকে গালি দেবেই । গালি বর্ষণের পর ধর্মজীবীরা কি করবে ??? তারা গালিবাজটার কল্লা ফেলানর জন্য ঘুরে বেড়াবে । কিন্তু গালি কেন দিচ্ছে তা খুজে বের করবে না ।

এত প্যাচাল হুদাই পাড়লাম , মোদ্যা কথা হল ধর্মের অপব্যাহার রোধে ধর্মজীবীদের এগিয়ে আসতেই হবে না হলে আমরা ধরে নেব “ডাল মে কুছ কালা হে” ।

২০৬জন ২০৬জন
0 Shares

৮টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

️️ 🍂️️ 💝 ️️ 🌟 🌺 💐 💥 🌻 🍄 🌹 💐 ⭐️ 🎉 🎊