ডাক্তার ঘরের টুকিটাকি …

শুন্য শুন্যালয় ২৩ জানুয়ারী ২০১৪, বৃহস্পতিবার, ০৭:৫৭:৪১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

ভালো লাগছে না কিছু, একটু বকবক করি। নিজ দায়িত্বে পড়ুন 🙂

✿এটা আমার ইন্টারনি সময়ের কথা। মাত্র ক্লাস টেন এ পড়া এক মেয়ে, ইন্টারে পড়া এক ছেলেকে বিয়ে করে বসলো। বাবা মা তো মানেই নি, শ্বশুর শ্বাশুরিও ঠিক ভাবে মেনে নেয়নি।এতো ছোট মেয়েটি ছেলেটির উপর কি এক অভিমান করে ২ পাতা গারডিনাল ট্যাবলেট খেয়ে বসেছিলো। আমি দুদিন ধরে তার কাছে ছিলাম, ছেলেটি খুব অসহায় ভাবে আমাকে অনেক কিছু শেয়ার করলো বড় বোনের মতো। খুব ক্রিটিক্যাল অবস্থায় তাকে আমরা ঢাকা ট্রান্সফার করেছিলাম। জানিনা সে বেঁচে আছে কিনা। এতো ইনোসেন্ট দেখতে ছিলো মেয়েটি, সেই অভিমানি মেয়েটি 🙁

✿শিশুবিভাগে যখন ডিউটি, দূর থেকে একদিন দেখলাম গ্রামের এক মহিলার কোলে অসম্ভব সুন্দর একটি ফর্শা ছেলে, আমার দিকে বড় বড় চোখে তাকিয়ে আছে, জানলাম তারই বাচ্চা। মনে মনে বললাম, কেমন যেনো বেমানান লাগছে। অপেক্ষা করতে হয়নি বেশি, ফাইল হাতে নিয়েই উত্তর পেলাম, বাচ্চাটি লিউকেমিয়াতে ভুগছে।এনেমিয়ার জন্যই তাকে এমন ফর্শা লাগছে।এসেছে ব্লাড দেবে বলে। তোর ঐ তাকিয়ে থাকা এখনো ভুলিনি আমি। জন্মই হয়েছিলো তোর মরে যাবার জন্য।তবুও পৃথিবীটা অনেক সুন্দর।।

✿বছরের পর বছর ধরে একটি বাচ্চার জন্য অপেক্ষা করা এক অসহায় গ্রামের মহিলা। মুরুব্বি আত্মীয়স্বজন নিয়ে, ডেলিভারির সব আয়োজন করে এসেছিলো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে।  আল্ট্রাসনোগ্রাম করে দেখলাম সে আসলে প্রেগন্যান্ট নয়। সিউডোসায়েসিস (pseudocyesis ) এ ভুগছে, যেখানে একজন পেশেন্টে পিরিয়ড বন্ধ থেকে শুরু করে প্রেগন্যান্সির সব ধরনের সাইন সিমটোম দেখা যাবে।৯ টি মাস ধরে স্বপ্নের জগতে থাকা এক মানুষ কে যখন আমি জানালাম সে আসলে মা হতে পারছেনা, সে কি চিৎকার করে কান্না তার। কত পেশেন্ট দেখেছি রোজ, কত কান্না হাসি। তবু কিছু শব্দ, কান্নার সে শব্দ ভোলার নয়।

শুধু মন খারাপের গল্প? 🙂 এবার একটা আনন্দের গল্প বলি…

✿ক্যারিয়ার নিয়ে যখন বেশ একটু চিন্তিত, আল্ট্রাসনোগ্রাফির উপর একটা কোর্স করার সুযোগ চলে এলো(সনোলোজিস্ট আমি আগেই বলেছি), আমি চুম্বকের মতো এখানেই আটকে গেলাম। একটা শিশু বীজ থেকে শুরু করে কিভাবে বেড়ে ওঠে, এ দেখা এক স্বর্গের অনুভুতি। তার প্রথম হার্টবীট শোনা, প্রথম একটু একটু নড়াচড়া, প্রথম প্লাসেন্টা তৈরি হওয়া, সব আমি দেখতে পাই, আমি প্রথম কাওকে বলি, তুমি এখন থেকে মা। নিজেকে ভাগ্যবতী মানলে দোষ হবে কি? এক মৃতপ্রায় সদ্যজন্ম নেয়া শিশুর রক্তমাখা ঠোঁটে আমি ঠোঁট লাগিয়ে আমার শ্বাস দিয়েছি, আমি অনেকের চাইতে অনেক সুখী 🙂

২৭৬জন ২৭৫জন
0 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য