টিপ পরে মেয়েটি টিপটপ

আরজু মুক্তা ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২১, শনিবার, ১২:০১:৪০পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৩ মন্তব্য

খোলা চুলে সিঁথি যেদিকেই হোক। শাড়ি টাঙ্গাইল, জামদানি, মনিপুরী আর নকশি পাড়ের হোক। কপালের মাঝে একটা টিপ। আভিজাত্য আর শতভাগ বাঙালিয়ানা নিয়ে বই এর পাতা থেকে বের হয়ে আসে লাবণ্য, সুচরিতা,  রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা কিংবা বিবি রাসেল। ললনার কপালে টিপের মহিমা এখন শাড়ি, কামিজ কিংবা টপস জিনসের সাথে। টিপ না পরলে মনে হয় ” কী যেনো নেই !” কপালে টিপ বসিয়ে দিলে অজানা আনন্দে মনটা ভরে ওঠে। চেহারায় বেশ নান্দনিকতা ফুটে উঠে। আয়নায় নিজেকে দেখে গানটা মনে মনে না গাইলেও ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজে, ” আয়নাতে ঐ মুখ দেখবে যখন ! ” অথবা সুস্মিতা আনিসের, ” কেউ জানুক আর নাই জানুক — আমি তো জানি! ”

সাজের ধরণধারণ মেনে টিপেও এসেছে নানারকম নকশা। লাল, নীল,সবুজ, হলুদ, কালো, মেরুন আরও কতো রং। একরত্তি টিপের গায়ে ফুটে উঠেছে নানা রকম নকশা, আলপনা, জ্যামিতিক নকশার বাইরে প্রকৃতির বিভিন্ন ফুল, পাখি, লতাপাতা, আবার জড়ি, পুঁথি, পাথরের কাজের টিপও নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে।

আবার আকারেও এসেছে ভিন্নতা। কোনটা লম্বাটে, চৌকণা, ত্রিকোণ, ওভাল, ওপরে গোল নিচের অংশ চিকন যেনো পানির ফোটা পরেছে এমন। অনেকেই আবার টিপের ওপর নিজের মতো পেইন্টিং করেও কপালে পরে। কেউ কেউ টিপের ওপর এ্যাক্রিলিক রং দিয়ে নিজে এঁকে নেয় ফ্লোরাল মোটিফ।

কপালের ধরন আর ব্যক্তিত্বের সঙ্গে যায় এমন আকার বেছে খোলা বা বাঁধা চুল ; শাড়ি কিংবা জিন্স : একটা টিপেই উৎসবে বেশ মানিয়ে যায় মায়াময় মুখখানি।

মানুষ কবে থেকে টিপ পরতে শুরু করেছিলো এটার নির্দিষ্ট ইতিহাস জানা নেই। তবে সুপ্রাচীন কাল থেকে কপালে নানা আকৃতির ফোঁটা দিয়ে এসেছে। তবে, কুমকুম দিয়ে টিপ আঁকতেন সেই আদিকাল থেকে। টিপ, কুমকুম, তিলক, পট্টু, সিঁদুর, বিন্দি। দুই ভ্রুর মাঝখানে কপালের এই সংক্ষিপ্ত এবং অপরিহার্য প্রসাধনটুকুর নাম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আলাদা, হয়তো আবেদনও।

বড় কপাল আর দীঘল চুলের মেয়েরা বড় টিপ পরে কপাল একটু ঢেকে দেয়ার জন্য। ছোট কপালের সঙ্গে ছোট টিপ, বড় কপালের সঙ্গে বড় টিপ। ছোট কপালে আরও সুন্দর দেখায় একটু লম্বাটে টিপ পরলে। তবে, কপাল যদি খুব ছোট হয় তাহলে একটা ছোট টিপ দেয়াই যথেষ্ট। গোল মুখে সব টিপেই মানিয়ে যায়। লম্বাটে মুখে গোল টিপ একটু বড় টিপ পরতে হলে ভ্রুর সামান্য ওপরে পরলে চমৎকার লাগবে। জোড়া ভ্রু যার, তারাও খানিকটা ওপরে। সবসময় উজ্জ্বল রঙ বেছে নেয়াই উত্তম। দেশীয় কাপড়ের সাথে হাতে আঁকা টিপ। জমকালো অনুষ্ঠানে পাথরের টিপ আর পশ্চিমা লুকে চুল হালকা ফুলিয়ে বড় টিপ পরলে মানাবে।

বেশিরভাগ টিপ ওয়ান টাইম। কারুকাজ করা টিপগুলো ব্যবহারের পর নির্দিষ্ট এয়ারটাইট বক্সে রেখে দিতে হবে। পরে বাড়তি আঠার প্রয়োজন মনে করলে সেটি ব্যবহার করতে হবে। না হলে টুপ করে পড়ে যাবে। আর বেমানান লাগবে।

টিপের দোকানগুলোর ভেতরে আছে “বিবি প্রডাকশন”, “সারানা”, “বেগুনি প্রজাপতি “, ” গীতিকা “, ” দয়িতা”, “কথা ” ইত্যাদি টিপের দোকান এবং পেজ। দাম ২০ টাকা থেকে ২০০ টাকা।

যে নামেই টিপকে ডাকা হোকনা কেনো আর মেয়েরা যে অর্থে বা অনর্থেই পরুক না কেনো ; টিপ কিন্তু শিল্প, সাহিত্য বা গানে বিশেষ আদর পেয়েছে।

ফাগুনের হলুদ শাড়ি কিংবা ভালোবাসা দিবসে লাল শাড়ির সাথে টিপ পরে চলুন হয়ে যাই কারও কবিতা।

সবশেষে বলবো, টিপ আসলে মেয়েদের তৃতীয় নয়ন।

 

 

 

১০৭২জন ১০৭২জন
97 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ