টিউলিপ এর ভালবাসা

স্বপন দাস ১৭ আগস্ট ২০১৩, শনিবার, ০২:৩২:৩৫পূর্বাহ্ন বিবিধ ৬ মন্তব্য

বহুবছর আগে আমাদের এই পৃথিবীর বাইরে অন্য একটা গ্রহ ছিলো। সেটার সবকিছু ছিলো প্লাস্টিক এর মানুষেরাও ছিলো প্লাস্টিক এর। সেখানে বাস করত একটা প্লাস্টিক এর পুতুল, তার নাম ছিলো টিউলিপ । টিউলিপ ছিলো খুবই মিস্টি একটা শিশু ।সে বেশিরভাগ সময় প্লাস্টিকের ভেড়া আর কুকুরছানা নিয়ে খেলতে ভালবাসতো। সে তাদের খাওয়াতো আর মাঝেমাঝে বাইরে হাঁটাতে নিয়ে যেত।
সেখানে সব প্লাস্টিক বাবা-মা দের অবশ্যই প্লাস্টিকের কারখানাতে কাজ করতে যেতে হতো , সারাদিন কাজ করতে। তবে টিউলিপ ছিল খুবই ললক্ষীমেয়ে, সে বাবা-মা আসামাত্র দৌড়ে তাদের কোলে উঠতো আর হাসাহাসি করতো। তার প্লাস্টিক বাবা-মা এর কঠোর পরিশ্রমের কারনে তাদের আর্থিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তারগ বাবা একটা প্লাস্টিকের টেলিভিশন কিনলেন।
টিউলিপের কাছে এটি ছিলো যাদুর বাক্সের মতো, কারন সে তাতে তার মতই আরো প্লাস্টিকের পুতুল দেখতে পেত। সে পুতুলরা নাচত,গাইত আর সেখানে ভালো পুতুলদের সাথে মন্দপুতুলদের যুদ্ধ হতো ।এসব দেখতে দেখতে টিউলিপ এতই মুগ্ধ হয়ে গেল যে টিভিতে কখন কোনগ অনুষ্ঠান হয় সব তার মুখস্ত। শুধু মাঝরাতে তার টিভি দেখা নিষেধ ছিলো ।
একসময় টিউলিপের স্কুলে যাবার বয়স হলো ।সেখানে তার অনেক বন্দ্বু জুটে গেলো, তারাও টিভিতে ঐ অনুষ্ঠান গুলি দেখতো।
তারা টিভিতে দেখা কাহিনী গুলি নিজেরাই অভিনয় করে খেলতে লাগল।
কেউ হতো বীরযোদ্ধা কাউকে সাজতে হতো ভয়ানক রাক্ষস ।
এভাবেই তার প্লাস্টিকের হৃদয়ে দুটি ভিন্ন সত্ত্বার জন্ম হলো — একটা ভাল প্লাস্টিক ও একটা মন্দ প্লাস্টিক ।।খেলায় যেহেতু সবাই ভালো প্লাস্টিকের অভিনয় করতে চাইতো, তাই এটা নিয়ে ওদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলো। টিউলিপ যেহেতু খুবই সচেতন মেয়ে ছিলো সে নিজে নেতৃত্ব নিয়ে একটা সমাধানের চেস্টা করলো ।কিন্তু আদতে কাজটা ছিলো খুবই কঠিন ।কারন একদলকে খুশী করলে আরেক দলড় তার উপর ক্ষেপে যায়। এভাবে দিনের পর দিন টিউলিপ অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো ।হয়ে গেলো একাকী, নি:সংগ ।।গ
সে তখন ভাবতো তার ছেলেবেলার কথা ।। তার কুকুরছানা নিয়ে খেলার কথা — তার স্কুলের কথা। সে কোনভাবেই বুঝতে পারছিল না তার ভুলটা কখন ও কিভাবে হয়েছে ?ড়
টিউলিপ আবারো টিভি দেখতে শুরু করলো এ আশায় যে হয়তোবা সে এর কোন একটা উত্তর খুঁজে পাবে।
এরপর একদিন টিউলিপ খেয়াল করলো,তার চেয়ে বড় ছেলেরা তার প্লাস্টিকের স্তন নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তখন টিউলিপ একটা পরীক্ষা করে দেখতে চাইল। সে এমন উত্তেজক পোষাক পড়া শুরু করল যাতে তার স্তনগুলি আরো ভালোভাবে ফুটে ওঠে। — সে দেখলগ এতে করে ছেলেরা তার প্রতি আরো আকৃষ্ট হলো।
একদিন এক প্লাস্টিক ছেলে তার কাছে এসে বললো :
হাই টিউলিপ ।। আমার দাঁত খুব সুন্দর, এসো আমরা শরীর নিয়ে খেলা করি। ” টিউলিপের কথাগুলি শুনতে ভালো লাগলেও খুবই অস্বস্তিতে পড়লো ।কিন্তু প্রতিদিনই বিভিন্ন ছেলেরা তার শরীর গ প্রার্থনা করতে লাগলো ।টিউলিপ জানতে পারলো ছেলেরা মাঝরাতে টিভিতে কি এক অনুষ্ঠান দেখে তাই সেও সেদিন মাঝরাতে টিভি দেখতে লাগলো। সে দেখলো টিভিতে ছেলে ও মেয়ে নিজেদের কাপড় খুলে ফেললো তারপর পরস্পরের শরীর নিয়ে খেলা শুরু করল।
এটা টিউলিপকে বিস্মিত করল —- সে ভাবলো শরীরের কাপড় খুলে গ ফেললেই তার আর একাকীত্বের কস্ট থাকবেনা, কারন অন্যরা তখন তার প্রতি দৃষ্টি দিবে।
পরেরদিন এক যুবক আবার তার কাছে এলো আর বললো:
হাই টিউলিপ ।। আমার সুন্দর দন্ড আর দুটি বল আছে
— এসো আমরা শরীর নিয়ে খেলা করি। ” টিউলিপ তখন তার পোষাক খুলে ফেললো এবং টিভিতে যেভাবে দেখেছে সেভাবে যুবকটি
র সাথে মিলিত হলো ।। এটা ছিলো তার জন্যে চরম আনন্দের।
অঅনেকদিন পর সে তার নি:সনগতা ভুলে গেলো । বিবাদ-অশান্তি, একাকীত্ব কোথায় জানি উড়ে গেলো ।।
এর কিছুদিন পর একদিন টিউলিপ আশ্চর্য হয়ে দেখলো তার পেটটা উঁচু হয়ে উঠেছে এবং তার স্তনও বড় হয়ে গেছে — এটা ছিলো তার কাছে দারুণ ব্যাপার ।। কিন্তু টিউলিপ বুঝতে পারছিল না কেন তাকে তার সমস্ত বন্দ্বুরা এমনকি তার বাবা-মা ও ঘৃণা করছে,এড়িয়ে চলছে। ।
তখন তার টিভি দেখা নিয়ে কথা উঠল :
*অপ্রাপ্তবয়স্কা হয়েও কেন সে মাঝরাতে টিভি দেখতো।
*নিষিদ্ধ হওয়া সত্তেও কেন সে পুরুষের সাথে মিলিত হলো।
*মায়েদের যেহেতু কাজ করতে হয় সে কেন বাচ্চা তৈরি করল।
*** প্লাস্টিকের বেশ্যা কোথাকার ***
সমস্ত প্লাস্টিক গ্রহ তার বিপক্ষে চলে গেলো, যদিও সে কোনভাবেই বুঝতে পারছিলো না কেন ? — এবারে সে পুরোপুরি একা হয়ে গেল।
সে টিভি দেখা ভুলে গেল,খাওয়া-দাওয়া ভুলে গেলো, এমনকি কথা বলাও বন্ধ করে দিলো ।
অবশেষে সে একটা প্লাস্টিক বেবীর জন্ম দিলো। বাচ্চাটা ছিলো জঘন্য রকম কদাকার ।টিউলিপের তার প্রতি কোন মায়াও জন্মালোনা — কারন সে জানতো, এটাই তার একাকীত্বের কারন ।
কিন্তু বাচ্চাটা কোন কারন ছাড়াই সবসময় খিলখিল করে হাসতো।
ফেলে থাকা প্লাস্টিকের খেলনা নিয়ে একাকী খেলতো আর মাঝেমাঝে
কোন কারন ছাড়াই টার মাকে এসে ছুঁয়ে থাকতো, যেন তাকে অনুভব করছে ।। বাচ্চাটা টিউলিপের কাছে আলাদা কিছুই চাইতো না। শুধু চাইতো মা তার কাছে বন্দ্বুর মতো থাকুক — বিশেষ করে বাচ্চাটা যখন ভয় পেতো। সে ভালো প্লাস্টিক মন্দপ্লাস্টিক বুঝতোনা-—-সে শুধু টিউলিপের স্নেহ চাইতো ।।এভাবেই একদিন
প্লাস্টিকের সেই ঘৃণা আর বিবাদের গ্রহে খুঁজে পেলো
তার আসল ভালবাসা ।।

২৬৯জন ২৬৯জন
0 Shares

৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য