জ্বীনের খিটমিটে হাসি

বোরহানুল ইসলাম লিটন ৩০ আগস্ট ২০২২, মঙ্গলবার, ১১:৪২:২৫পূর্বাহ্ন অণুগল্প ১২ মন্তব্য

এক সময় ষষ্ঠ শ্রেণীর উপরে অধ্যয়ণরত প্রতিটি ছাত্রেরই
লজিং অথবা বোডিং -এ থেকে লেখাপড়া করার সুবাদে
নিজেস্ব ট্রাঙ্ক থাকতো।
তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র।
তাই —

ক’দিন থেকেই চলতে ফিরতে মনে হচ্ছিল
সব সময় কে যেন আমাকে ফলো করে।
কখনো ডানে কখনো বামে আবার কখনো পিছে ধুপধাপ শব্দ,
ফিরে তাকালে কিছুই নেই
যেন নিজের স্যান্ডেলই গোপনে চটকা মেরেছে,
তবুও ভিতরে ভিতরে একটা জমিদারী ভাব তৈরী হতে লাগলো
কারণ এহেন কর্ম নাকি জ্বীনেরা করে,
শুনেছি একবার যদি জ্বীন কারো বশীভূত হয় তো লালে লাল শাহজালাল,
সুতরাং বুঝতেই পারছেন!

এরই মাঝে অবাক করা এক ঘটনা ঘটলো –
চিঠি রাখবো বলে সেদিন তালা খুলে দেখি
আমার ট্রাঙ্কের কোণায় বেশ কিছু ঝকঝকে পয়সা,
সিকি আধুলী মিলিয়ে সারে নয় টাকার মতো।
তখন টাকার যথেষ্ট মূল্য ছিল –
একটা আধুলীতেই পাওয়া যেতো পূরো এক ছটাক ভাজা ছোলা।
বুঝলাম নিশ্চয় ওই জ্বীনের কান্ড
কাউকে বলা যাবে না,
প্রকাশ করলে নাকি ওরা কোনদিন আর কাছে আসে না
তাই গম্ভীর হয়ে ঘুরি আর ছোলা কিনে দেদারসে আড়ালে একা খাই।
এক বন্ধু থাকতো আমার কাছে
ওকেও ব্যপারটা বুঝতে দিতাম না।

কয়েক দিনে পরে –
সাঁঝের কুপি জ্বেলে দু-বন্ধু পড়তে বসেছি,
এক ফাঁকে হঠাৎ-ই ও’ বললো –
’জানিস তোর ট্রাঙ্কে তালা মারা থাকলেও চাইলে ডালা জাগিয়ে
অনায়াসে কোণায় কিছু রাখা যায়
কিন্তু বের করা যায় না!’
শুনা মাত্রই স্তব্ধ হয়ে গেলাম
মুহুর্তেই হারিয়ে গেলো সেই জমিদারী ভাব,
ঘোরালো এক চিন্তা ছটফট করতে লাগলো মাথায়।
ওর ট্রাঙ্ক ছিলো না
বোকামিটা বুঝলাম যখন
ততক্ষণে ভেসে এসেছে কানে ফোকলা দাঁত অ’লা এক জ্বীনের
বিদ্রুপাত্নক খিটমিটে হাসি।

ছবিঃ সোনেলা গ্যালারী থেকে।

২১৫জন ৯৯জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ