কোথায় শুরু করি, আর কোথায় যাইবো … সবই স্রষ্টার হাতে। আমি কেন? কারো পক্ষেই সামনের একইঞ্চি বা একমুহুর্ত পর কি হবে বা ঘটবে জানিনা। আর সেটাই আমি জানি- ভবিষৎ।

আজ আছি , কাল নাই। প্রবাদ কথন। আমি মনে করি, কাল অনেক সময় মুহূর্ত আছি কিনা সেটার দাবি কিন্তু আমি করতে পারিনা।

ছোট্ট এই জীবন। জন্ম হতে শিশুকাল পুর্বের কাহিনী মানে শিশুকাল কারোই মনে থাকেনা। আসে কিশোরকাল থেকে। তবে ছোট ভাইবোন আর নিজের ওরসজাত সন্তান-এর চোখ মেলে দেখা, পিটিস পিটিস করে তাকানো, হাতের আঙ্গুলে চেপ্টেধরা, খামছা-খামছি দেখে আমরা শিশুলাকালের গহ্বরে মনের অজান্তে ঘুরে আসি। আমার মনে হয় সকল লোকই এই অতীতে ফিরে যান বাচ্চাদের শিশুসুলভ আচরণ দেখে।

বাস্তব জীবন খুবই অর্থবহ। সবাই যদি বুঝে উপলদ্ধি করে ছাড়/মেনে নিয়ে আনন্দচিত্তে চলতে পারি। ধৈর্য্যধারণ, সহনশীলতা শিখতে হবে। তার জন্য অনেক কিছুই দেখতে/বুঝতে হবে প্রকৃতি থেকে।

মাটি। মাটিতে যতই আঘাত করো , কোন প্রতিউত্তর নাই। এখান থেকে সহনশীল ও ধৈর্য্য শিখতে পারি।
আকাশ। সে এক বিশাল ক্ষেত্রে। উড়ো। ভ্রমণ কর। তার বিশালতার শেষ নাই। তাই এখান থেকে মনের বিশালতা গ্রহণ করতে পারি।

তাই, জিবনে অনেক সময় দোষ না করেই শাস্তি পেয়েছি। সংগে অনেক অনেক কষ্ট। কি জন্য এমন হলো।
একজনের জিবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা শেয়ার করি। এক দোকানে ছোট ভাই তার বড় ভাইয়ের আশ্রয়ে থাকত। পাশাপাশি অনেক দোকান। যাওয়া আসা হয়। শার্টপিস, প্যান্টপিস চিকন বাঁশের আড়া উপর ঝুলিয়ে রাখে প্রদর্শনের জন্য। ছোট ভাই পাশের দোকানের ভিতর থেকে যাওয়া আসা করে। একদিন শার্টের পিস ঝুলে থাকা অবস্থায় নিচে পড়ে যায়। কিন্তু ঐমুহুর্তে ছোট ভাই গেছে। ঐ দোকান্দার ভাবল কাপড়টি ছোটভাই ফেলে দিয়ে গেলো। যথারিতি বড়ভাইয়ের নিকট বিচার। ছোট ভাই কিছুই জানেনা। আসলে এখানে বাস্তবে ঘটেছিলো, পিসটি ছিলো ঝুলন্ত অবস্থায়, ফ্যানের বাতাসে অনেকক্ষন ঝুলতে থাকায় এমনিতেই পড়ে গেছে।

তাই বলি ঘটনার পিছনে থাকে ঘটনা। আর ঘটকের কথায় থাকে যুক্তি সেটা ঘটকের মতই।

সংসার এক আজব জায়গা। ঘটনা ঘনঘটা এখানেই। একান্নবর্তি পরিবার নাই ভারতীয় উপমহাদেশে কেউ বলতে পারবেনা। কিন্তু আজকাল এটার ছিটেফোটাও খুজে পাওয়া যাবেনা আমাদের দেশে। কোথায় হারালো দাদাদাদি, চাচাচাচি, চাচাতো ভাইবোনের আসর। ঘটা করে খেতে বসা, পড়তে বসা, গোসল করতে যাওয়া। নাই এখন শহুরে স্বল্প ঘরে আপন ভাইবোনই মিল নেই, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারেনা।

দাদাদাদীর, চাচাচাচীর, বড়ভাইবোনের কাছে আবদার করে পাওয়ার যে আনন্দ এখন উঠে গেছে, তারা বন্দী ডিজিটালে। ঈদ গিফট এখন বিকাশে/নগগে যেটাই সেলামি নামেই থাকে দর্শন বাদেই পাওয়া যায়, তৃপ্তি আছে? নাই। তাদের হাতের শাসন, আদর্শ, কয়টি শহুরে ফ্যামিলির পোলাপানের ভাগ্যে জোটে? একটাও না। জোটে কেয়ার হোমে আয়ার সেবা। রুটি, গুড়, কুইসুর(ইক্ষু/আখ) ভেংগে ভাগ করে খেতে শেখেনা। দাদাদাদীর, চাচাচাচীর, বড়ভাইবোনদের  মার বা শাসনেও একটা আলাদা তৃপ্তি বা ভালোবাসার রঙ থাকত। যেমন শাসন মারপিট থাকত পরক্ষনেই ডেকে কাছে আদর ছিলো অতুলনীয়।

এখন দাদাদাদী, চাচাচাচী, গাঁও গ্রামের কাউকেও চেনেনা। সবই ধোয়াশা কালো কালো! এখন অনেকেই আউশ, আমন ভাত খেতে চায় না পেলেও। আর মুরুব্বিরা বা গ্রামে যারা বড় হয়েছে তারা এখন আমন আউশ ধানের ভাতের লোভে লালায়িত। লাল রং-এর আটা/ময়দার রুটি খেতে পারেনা শক্ত বলে, তাই শক্তিও কমে গেছে বয়লার-এর মত। এখন বাজারে মেয়েরা মিষ্টি তেতুল খোজে, টক কি বুঝবো কেমন?

এখন নতুন সংসার করলেই বউয়ের কথা ভবিষৎএর কথা কি ভাবছ? আমাদের সন্তান হলে তার ও আমার জন্য কি ব্যবস্থা করছ?  স্বামী মা, বাবা, ভাইবোন এর পিছনে খরচ করলেই এই অভিযোগ বেশি উঠে।

স্বামী খুব শান্তভাবেই বলে আমি ভাবি আমার ঘরে বউ আছে। আল্লাহপাক সন্তান দিলে সে মোতাবেকই চলব। খরচ হবে সমস্যা নাই। আমার প্রশ্ন, বউরা এতো ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যৎ ভাবে কেন?

স্বামী যদি অন্যায়ভাবে অঢেল টাকা ও সম্পত্তি করে। দেখা গেলো, বাড়ির পরিবারের যেকারো কোন কঠিন রোগ বা সমস্যায় খরচ হয়ে যায় তখন কি শুধুই ভাগ্যের দোষ দেব? কর্মের দোষ দেবেনা।?

অথচ ভাবুন ঐ স্বামীর বাবা মা, চাচারা তাকে কিভাবে বড় করেছে , তাহা ভাবেনা। হ্যা অবশ্যই ভবিষ্যৎ নিয়ে সামনের দিনের কথা ভাবব , তবে বর্তমানকে ধ্বংস করে কি? না, কখনই না। আমরা অনুমান করে ভবিষ্যৎএর জন্য সঞ্চয় করব কিন্তু বর্তমানে বেঁচেই।

একদিন এক পরিবারের ঘটনাঃ সন্ধ্যা বেলার ।
বউঃ তোমাদের বউকে কার কাছে/হেফাজতে রেখে  গেছো? দিনেরাতে কত ঝামেলা হতে পারে, জানো?

স্বামীঃ কি হয়েছে?

বউঃ তোমার ভাই/ আব্দুল্লাহ’র আব্বা আব্দুল্লাহ’র  বউকে আচ্ছারকম গালিগালাজ করেছে।

স্বামীঃ কেন ? কি নিয়ে হলো।

বউঃ পায়গখানার বদনা ঠিক জায়গায় না থাকার জন্য।

স্বামীঃ কেন ? তোমার তো অনেক খুশি হওয়ার কথা।

বউঃ কেন?

স্বামীঃ সকালে অভিযোগ করলে ওদের হাসাহাসি ভালো লাগেনা। ওরা আমাদের নিয়ে খুব হাসিতামাশা করছে। তখন স্বামী বউকে বলেছিলো, অপেক্ষা কর আল্লাহ এর জবাব দেবে। এখন চুপ থাকো ওরা কি করে দেখ। বউ মহাখুশি। ভালো হয়ে গেলো। (এখানে বলে রাখা ভালো আব্দুল্লাহর বাবা একটু মানসিক রোগী। কেউ বিশ্বাস করে কেউ করেনা। ভাইদের ঘাড়ে ভাইকে দেওয়ার জন্য আব্দুল্লাহর বোন, মা ও বউ এই পরিকল্পনা করেছে যে, আব্দুল্লাহর মা দূরে থাক আব্বা চাচাদের কাছে থাক। সবার জানা উচিত বউ কাছে না থাকলে, সব কথা বউমার দ্বারা সম্ভব হয়না। (এই কাহিনী ঘটে সাধারণত যে ছোট ভাই বড় ভাইয়ের খেয়ে লেখা পড়া করে সেই পরিবারে।)

অনেক পরিবারেই ঘটে এইরকম কাহিনী।

সকলদেশের ডাক্তার ও পুলিশের চাকরী আমার নিকট খুব মহান বলেই মনে হয়। এই দুই পেশার মানুষ মানুষকে যত কাছ থেকে সার্বিক সহায়তা করতে পারবে, অন্য পেশার মানুষ পারবেনা। এটা আমি নিশ্চিত। একজন মহান পেশার মানুষ ডাক্তার। তার ব্যাবহার আচারে রোগী অর্ধেক সুস্থ থাকে। আর বাকিটা পথ্য দিয়ে সুস্থ করতে পারবে , ইনশাআল্লাহ।

আর পুলিশ তার ব্যাবহার আচারে রাস্তায় অফিসে মানুষকে সেবা করলে আমজনতা বেইমান হয়না গুটিকয়েক বাদে। সন্মান দিয়ে যায় সর্বদা।

অনেক দুর্নিতিবাজের/অবৈধ্ আয়ের অঢেল সম্পদ, টাকা বাড়ী আছে কিন্তু ঘরে বাইরে শান্তি নাই। বউ থাকে পার্লারে স্বামী থাকে নাইটক্লাবে। বাসায় ছেলে মেয়েও থাকে। কারণ যে বাবা মা রাত বারোটায় বাসায় ফিরবে সে বাসার সন্তানও রাত সাড়ে একটায় বাসায় ফিরবে/ ফিরতে পারে এতে কোন সন্দেহ দেখিনা।

শান্তি কোথায় বিরাজ করে বলতে পারেন, কেউ? পাশাপাশি বাস, পাশাপাশি অবস্থায়, সুখে-অসুখে  পাশে থেকে মনের গহীনে জায়গা হয়ে যায়। যা অন্তরে প্রবহমান সদা জাগ্রত।

এই দুই শ্রেনীর সৎ পেশাদার ব্যক্তি যখন রাস্তাঘাটে, হাটবাজারে যায় বিক্রেতা ও সাধারণ মানুষের সালাম বিনিময়েই বুঝবেন তাদের ব্যবহার কেমন। সৎ ডাক্তার ও সৎপুলিশের বউ যদি সংগে থাকে তার স্বামীর সততার পুরুস্কার বা সন্মান খুজে পাবে ইনশাআল্লাহ। এর থেকে কি পেতে চান সম্পদ? একজন সৎ ব্যক্তির অনেক অনেক ফ্লাট-বাড়ি না থাকলেও সন্মানের ঘাটতি নাই তা বুঝতে পারবে। আর ঘুষখোর, অসাধু ডাক্তার বা পুলিশ বাজারে গেলে বিক্রেতা বা সাধারণ মানুষের নাক ছিটকানি দেখেও বুঝবেন, কেন মানুষ এরকম করে।

আমি মনে করি অন্যের ক্ষতিসাধন না করে, কাজ করে গেলেই সবাই ভালো থাকবো, ইনশাআল্লাহ।

সম্পদ , অসুখ সবই উপরের ঐ মহান অধিপতির কাছ থেকেই আসে। না পাওয়াতে আবার পাওয়াতেও আমরা কাড়াকাড়ি বা হাহুতাশ করি। তবে মহান পতির কাছে নামাজ শেষে, প্রার্থনা যত বিপদই দাও ইমানের সহিত ধৈর্য্যর সহিত মোকাবেলার শক্তি দাও। সক্ষমতা দাও প্রভু।

মানুষের তরে কাজ করলে ব্যর্থ হয়না, খোদার কাছে পুরুস্কার পাওয়া যাবে, সেটা শান্তির, পরকালের জনম জনম ধরে ভোগ করবে।

আল্লাহপাক পবিত্র কোরানে বলেছে, “যে একজন নির্দোষ মানুষকে হত্যা করল, সে সমস্ত মানুষকে হত্যা করল।“ সুরা মায়িদা-৩২.

আর এক সুরায় আছে, “কেউ কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলে , তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে।“ সুরা নিসা—৯৩।

হ্যা ভবিষৎ-এর ভাবনাই হলো স্বাভাবিক কাজ করে যাও সন্তানদের আদব-কায়দা, আদর্শ, সুব্যবহার শিখিয়ে গড়ে তোলাই ভবিষতের ভাবনা বলে মনে করি আমি। তাদের বাসস্থানেই যেন বাবা মা’র বাসস্থান হয়। তাতেই পরিতৃপ্তি, তাতেই সুখ বহে জীবনে।

১৪৬জন ২৪জন
0 Shares

১৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ