জীবন বৃক্ষ

রিতু জাহান ৮ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার, ১১:১৭:৩৯পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২১ মন্তব্য

প্রচন্ড ঝড়েও যে গাছ মচকে ভেঙ্গে পড়ে না, কিন্তু সে গাছ জানে সবার অলক্ষ্যে মাটির গভীরে কতোটা শিকড় তার নড়ে গেছে,,,
মাটি ক্ষয়ে গেলে বেরিয়ে পড়ে প্রতিটা ক্ষত।
একটি গাছ হাজারটা শিকড় নিয়ে
মাটিকে আগলে রাখার হাজারটা প্রয়াস নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। কতো কতো কথার সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
দুই একটি শিকড় ছিঁড়েও সে দিব্যি টিকে থাকে শতো শতো ঝড় ঝাপটা সয়ে।
গোড়ায় আগলে রাখা ঘাষ প্রচন্ড খরতাপে তার কিছু আলোছায়া নিয়ে বেঁচে থাকে।
মধ্যরাতে এ গাছটির ফাঁক গলে যে চাঁদের আলো পড়ে তার আলোয় দেখা যায় নতুন সবুজ পাতা উঁকি দিয়ে উঠছে। একপাশে শুকনো পাতা ঝরে পড়ার অপেক্ষায়।
এ ঝরা পাতায় লেখা যেনো আমারই ব্যথিত অভিমানমলিন মুখের শেষ স্মৃতিটি।
মাঝে মাঝে এমন সব পাতায় তরুনি বা কোনো বালিকার হঠাৎ পাকা গৃহিনী হয়ে ওঠার গল্প পড়ি। কতো কি চাওয়া থাকে কতো কি পাওয়া থাকে। কতো কি তীরষ্কার!!
এ পাতা ছিঁড়ে মাঝে মাঝে অকরুণ এক সুর উঠাতে ইচ্ছে করে। যে সুর শেখা হয়ে ওঠেনি সে সুর বাজবে না জানি। তবু সে সুর বেসুরেই হোক একবার এক সুর উঠাতে বড্ড ইচ্ছে করে।
হিম-নিরেট প্রাণ যা অভিমান-ক্ষোভে গুমরে উঠতে পারেনি কোনো কালে সে সুরে এক অলৌকিক শক্তি বলে অশ্রু ঝরে পড়তে দিতে ইচ্ছে করে।
হঠাৎ সংসারী হয়ে ওঠা সংসার জীবনে অভিমানোক্তির যথার্থতা কোথায়!!
সে সব অশ্রুরই বা দামই কি!!
গতানুগতিক জীবনে চাইতে নেই কিছু। দোদুল্যমান জীবনে চাওয়াগুলোও দোদুল্যমান এ পাতার মতোই। যে কোনো সময় একটু হাওয়া হোক বা না হোক নীচে সে পড়বেই। চিরচারিত এটাও গতানুগতিক নিয়ম। এ ঝরা পাতার সাথে সব স্মৃতি যদি ঝরে যেতো কতো না ভালো হতো। কিন্তু এ বৃক্ষে এক পাতা ঝরে অন্য পাতায় আবারো স্মৃতি ভাসে। কিন্তু এ সকল স্মৃতি রবীন্দ্রনাথের কথার মতো,’আপনার মাঝে আপন আমরাবতী চিরদিন গোপন বিরাজে।’ যে প্রাণ হারায় সে প্রাণ আবারো সাজে নতুন পত্রপল্লবে। সকল নির্জনতায় নিজেই মেলে ধরি সে সব স্মৃতি বিস্মৃতি।

রিতু

৮৯৮জন ৭৪২জন
14 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য