জীবন চিতা-(পর্ব৫)

আবু জাকারিয়া ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, শুক্রবার, ১০:৫৮:১১পূর্বাহ্ন সাহিত্য মন্তব্য নাই

বড় ছেলেকে মাদ্রাসায় ফোরে আর ছোট ছেলেকে স্কুলে ওয়ানে ভর্তি করে দিল জামিলা। অবশ্য জামিলার ইচ্ছা ছিল বড় ছেলেকে ক্লাস ফাইবে ভর্তি করার, কিন্তু স্যাররা বলেছে তা ঠিক হবেনা। বড় ছেলে সানি যথেষ্ট মেধাবী, ফাইভে ভর্তি করলে সমস্যা হত না। কিন্তু দেখে বয়স অনেক কম বলে মনে হয়। তাই ফাইভে ভর্তি করতে রাজি হলনা শিক্ষকরা।
কিছুদিন পরে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে টাকা আসলো জামিলার নামে, সাথে একটা চিঠি। মুহাম্মদ পাঠিয়েছে।
জামিলার মা বলল, কিছু টাকা নিজের কাছে রাখতে আর বাকি টাকাগুলো ছোট জামাইয়ের কাছে দিয়ে দিতে। সে বাজার করতে পারবে।
জামিলা মায়ের কথা মত কিছু টাকা নিজের হাতে রেখে, বাকি টাকাগুলো মরিয়ামের স্বামীর কাছে দিয়ে দিল। চিঠিটা পেয়ে খুব আনন্দ হল জামিলার। খুব উৎসাহের সাথে চিঠিটা খুলল। মোহাম্মদ ক্লাস ফাইভে পড়েছিল। হাতের লেখা তেমন ভাল নয়। অন্যদের কাছে হিজিবিজি হাতের লেখা বলে মনে হবে। কিন্তু জামিলার কাছে তা মনে হয়না। মুহাম্মদের হাতের লেখা সে ভালভাবেই বুঝতে পারে। পড়তে একটুও কষ্ট হয়না। জামিলার আশে পাসে কেউ নেই। জামিলা চিঠিটা খুলে চুপি চুপি পড়তে লাগল।

প্রিয় জামিলা,
আশা করি ছেলে দুটো নিয়ে ভাল আছ। আমিও ভাল আছি। তুমি যাওয়ার পর পুরো এক সপ্তাহ কাজ করতে পেরেছি। তারপর কিছুদিন কোন কাজ ছিল না। এখন আবার একটা কাজ পেয়েছি। সেই কাজটাই করছি এখন। কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলাম। ছেলেদের স্কুল মাদ্রায় ভর্তি করে দিও। ওদের যত্ন নিও। আমি সময় পেলে একবার তোমাদের দেখতে যাবো। টাকা বেশি পাঠাতে পারলাম না। একটু হিসাব করে চলার চেষ্টা করবে। তোমার চিঠির অপেক্ষায় থাকব। আশা করি চিঠি লিখে ভাল মন্দ জানাবে।

চিঠির নিচে আর কিছু লেখা নেই। এমনকি নিজের নামটাও লিখেনি মুহাম্মাদ। এটা মুহাম্মাদের অভ্যাস, ছিঠির শেষে নিজের নাম লেখেনা। নাম শুধু খামের উপরে লেখে।
জামিলা চিঠিটা আরো কয়েকবার পড়ল। তারপর খামের ভীতর ভরে ভাজ করে রাখল। সানি আর মনিকে আগেই স্কুল মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়েছে সে। সুতারাং চিন্তা করার কিছু নেই।

জামিলা ইদানিং খুব বেশি নামাজ কালাম করায় মনযোগ দিয়েছে। দিনের অনেকটা সময় কাটায় কোরয়ান পড়ে, জায়নামাজের পাটিতে। এ ব্যপারটা জামিলার মায়ের কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক লাগে, খটকা লাগে মনে মনে। নামাজ কালাম পড়তেই পারে, স্বাভাবিক ব্যাপার। কিন্তু তা এত সময় ধরে কেন। জামিলা সকালে ঘুম থেকে উঠেই নামাজ পড়বে, তারপর জায়নামাজের পাটিতে বসেই প্রায় দুপুর পর্যন্ত কোরয়ান পড়বে। তারপর আবার বিকেলেও, রাতেও অনেক সময় ধরে কোরয়ান পড়ে।
অথচ এই জামিলা আগে নামাজ ঠিক মত পড়লেও কোরয়ান সহজে পড়তে চাইতোনা। যদিও পড়ত, একটু সময় পড়েই বন্দ করে রাখত।

জামিলা দুপুরের খাবার খাওয়ার পর ছোট ছেলে মনিকে কোলের কাছে নিয়ে ঘুমিয়ে রইল। মনির ঘুম তারাতারি ভাংলেও, জামিলার ঘুম ভাংল আছরের পর। ঘুম থেকে উঠে নামাজ পড়ল জামিলা। তারপর কোরয়ান পড়তে বসল। কোরয়ান পড়ল একটানা সন্ধ্যা পর্যন্ত। তারপর মাগরিবের নামাজ পড়ে আবার কোরয়ান পড়তে বসল।
জামিলার কোরয়ান পড়ার সুর আসে পাসের বাড়ি থেকেও স্পস্ট শোনা যায়।
হঠাৎ একটি অদ্ভুত কান্ড ঘটল। জামিলা কোরয়ান পড়ার মধ্যেই অদ্ভুত ভংগিতে হেসে উঠল। ব্যাপরটা জামিলার মা খেয়াল করল।
জামিলার মা জামিলার কাছে গিয়ে বলল, কি হলরে জামিলা, অমন করে হেসে উঠলি কেন?
জামিলা মুচকি হেসে বলল, এমনি মা।
মরিয়াম টের পেয়ে কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে মা?
জামিলার মা বলল, কিছনা, তুই চুপ কর।

জামিলার দুইটা মুরগী ঘরের এক কোনে একটা ঝুড়ির মধ্যে বসে আছে। ওরা এর মধ্যে ডিম পাড়া ছেড়ে দিয়েছে।
সানি মুরগী দুইটা ধরতে গেল। অমনি বড় মুরগীটা সপ করে ছোবল বসিয়ে দিল সানির হাতে। সানি ভয় পেয়ে দুরে সরে গেল।
মরিয়াম বলল, কি হয়েছে সানি?
সানি বলল, মুরগীতে ছোবল দিছে।
মরিয়াম চিৎকার করে বলল, জামিলা আপা তোর মুরগী উমাইন্না হইছে।
জামিলা তখনও কোরয়ান পড়ছে, বলল, ওদের জবাই কর, রাতে মুরগী দিয়ে ভাত খাব।
মরিয়াম মনে করেছে ওর বোন রসিকতা করে কথা বলছে। তাই মুরগী জবাই করল না।

রাতে ভাত খেতে বসল সবাই। তরকারী বেগুন ভর্তা আর চিংরি মাছ।
জামিলা মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, মা মুরগীর মাংস কোথায়?
জামিলার মা অবাক হয়ে বলল, মুরগীর মাংস কই পাবো?
জামিলা বলল, কেন, আমিতো মরিয়ামকে আমার উমাইন্না মুরগী দুইটা রান্না করতে বলছিলাম।
মরিয়াম বলল, আমিতো ভাবছিলাম তুই আমার সাথে রসিকতা করছিস।
জামিলা রেগেমেগে ভাত না খেয়ে উঠে গেল। বলল, আমি ভাত খাবনা, তোরা সবাই খা।
জামিলার এমন আচরন দেখে সবাই অবাক হল। কেউ কোন কথা বলল না।

জামিলা রাগ করে বারান্দার চৌকাঠের উপর বসে আছে। জামিলার মা এগিয়ে গেল জামিলার কাছে। সে বিস্ময়ের ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেনা। এত বড় মেয়ে তার, হঠাৎ এমন কি পাগলামি শুরু করল।
জামিলার মা নরম গলায় বলল, তোর মুরগী খেতে ইচ্ছে করেছে, আমার কাছে বলবিতো। আমি তোকে রান্না করে খাওয়াতাম।
জামিলা চুপ করে আছে।
জামিলার মা জামিলার হাত ধরে বলল, আয় এখন ভাত খেতে আয়, কাল দুপুরে মুরগী রান্না করব।
জামিলা ঝাকি মেরে মায়ের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিল, বলল, আমি খাবনা, তোমরা খাও।

রাত অনেক হয়ে গেছে, জামিলাকে কিছুতে ভাত খাওয়ানো যাচ্ছে না। তাই জামিলার মা রাতেই মুরগী দুটো জবাই করে রান্না করতে লেগে গেল। মরিয়াম মাকে সাহায্য করছে রান্নার কাজে। জামিলার দুই ছেলে ভাত খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়েছে। জামিলা জেগে আছে। বারান্দার চৌকাঠের উপর বসে আকাশের তারা গুনছে একা একা।
অনেক রাতে মুরগী রান্না শেষ হল। জামিলা মুরগীর মাংস দিয়ে ভাত খেতে বসল। জামিলা নিজের ছেলে দুটো আর মরিয়ামের ছেলেমেয়ে দুটোকে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছিল মুরগীর মাংস খাওয়াবে বলে। কিন্তু জামিলার মা বলেছে, ওরা সকালে খাবে, এখন তুই খেয়ে ঘুমিয়ে পর।

রাতে জামিলার মায়ের ঘুম হল না। গভীর চিন্তায় পড়ে গেল সে। হঠাৎ জামিলার এমন আচরন তাকে চিন্তায় ফেলে দিল।

কিছুদিন পরে মুহাম্মদ আসল জামিলাকে দেখতে। আসার সময় অনেক কিছু কিনে নিয়ে এসেছে সে।
কয়েক কেজি কমলা, কয়েক কেজি আপেল সাথে দুই কেজি মিষ্টি। ছেলে দুটোর জন্য আনল দুটো জামা। অনেক দিন পর স্বামীকে পেয়ে জামিলার খুশি দেখেকে। ছেলে দুটোও খুশিতে লাফালাফি করতে শুরু করে দিয়েছে।

জামিলার মা উঠোনে ঘুরছে আর একা একা চিন্তা করছে। জামিলার ব্যাপারটা মুহাম্মদকে জানিয়ে রাখা দরকার।
অনেক সময় পর মুহাম্মদকে একা পেল জামিলার মা। জামিলার মা বলল, বাপু একটা কথা আছে।
বলেই মুহাম্মদকে ডেকে আড়ালে নিয়ে গেল।
মুহাম্মদ অবাক হয়ে শাশুড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।
জামিলার মা আস্তে আস্তে বলল, বাপু ইদানিং আমার মেয়ের অবস্থা ভাল ঠেকছিনা।
-কি হয়েছে আম্মা? মোহাম্মাদের চোখে মুখে বিস্ময়।
জামিলার মা এদিক ওদিক তাকিয়ে বলল, মেয়েটা ইদানিং কেমন আচরন করছে, আমার সুবিধা মনে হচ্ছে না।
-কি আচরন করছে?
-কি আর, সারাদিন গুন গুন করে কোরয়ান পড়বে, ঠিক মত খাবেনা।
মুহাম্মদ হেসে ফেলল, বলল, ও এই কথা! হয়ত একটু টেনশনে আছে তাই খাবার দাবারে রুচি নাই, নামাজ রোজা করে।
জামিলার মা বলল, কিন্তু আমার কেমন যেন মনে হচ্ছে।
মুহাম্মদ কথাগুলো গায়ে মাখল না। বরং মনে করল স্বাভাবিক ঘটনা। মানুষ টেনশনে পড়লে খাবারের রুচি কমে যাবে, বিপদে পড়লে নামাজ কালাম করবে, এটাই স্বাভাবিক।
মুহাম্মদ দুইদিন থেকেছে শশুর বাড়ি। এই দুই দিনে জামিলার মধ্যে কোন অস্বাভাবিক আচারন দেখতে পায়নি মুহাম্মদ। বরং জামিলার আচার আচারন ছিল বরাবরের মত স্বাভাবিক।
মুহাম্মাদ চলে যাওয়ার তিন চারদিন পরে জামিলা আবার আগের মত আচারন শুরু করে দিল। ঠিক মত খাবেনা, গোসল করবেনা, শুধু কোরয়ান পড়বে অনেক সময় ধরে।
শক্রবার দিন। বাড়ির পুরুষ মানুষেরা গেছে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে। জামিলা ঘরে জায়নামাজের পাটিতে বসে কোরয়ান পড়ছে। মাথায় লম্বা একটা ঘোমটা দিয়েছে।
জামিলার মা জলচৌকিতে বসে পান খাচ্ছে। মরিয়াম গেছে পুকুরে গোসল করতে। হঠাৎ জামিলা খিল খিল করে হেসে উঠল। জামিলার মা জামিলার অদ্ভুত হাসি শুনে অবাক হয়ে গেল। জামিলার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, জামিলা, তোর কি হয়েছে, এমন ভাবে হেসে উঠলি কেন?
জামিলা কোন উত্তর না দিয়ে আবার খিল খিল করে হেসে উঠল। সানি আর মনি মায়ের পাশে দাড়িয়ে আছে। মায়ের এমন অদ্ভুত আচরন দেখে ওরাও অবাক হচ্ছে। জামিলা হেসেই চলছে এক ভাবে। জামিলার মা যখনই জিজ্ঞেস করে, হাসছিস কেন জামিলা, তখনই আরো জোড়ে খিল খিল করে হাসে জামিলা।
মরিয়াম গোসল করে ঘরে আসল। বাইরে থেকেই বোনের হাসির শব্দ শুনতে পেল ও। ঘরে এসে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে মা?
জামিলার মা বলল, কি আর হবে, দেখ তোর বোনটা কেমন হাসছে।
মরিয়াম জামিলার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করল, আপা কি হয়েছে তোর?
জামিলা এবার হাসি বন্ধ করল, বলল, কই কিছুনাতো।
জামিলা এমন ভাব করল, মনে হল কিছুই ঘটেনি।
শুক্রবার দিন তাই মরিয়ামের স্বামী বাড়ি এসেছে। মসজীদ থেকে নামাজ পড়ে এসেছে সে। ভাগ্যিস জামিলার এমন আচরন কেঊ টের পায়নি। টের পেলে মানুষ কি মনে করত, কে যানে।

জামিলা বাইরে গিয়ে বসে আছে, ছোট ছেলে মনিও তার মায়ের কাছে বসে আছে আর এটা ওটা জিজ্ঞেস করছে মাকে। জামিলা কোনটার উত্তর দিচ্ছে, কোনটার দিচ্ছেনা।
জামিলার মা জামিলার কাছে এসে নরম গলায় বোঝাতে লাগল জামিলাকে, দেখ জামিলা, এরকম পাগলামি করিসনা, মানষে খারাপ বলে।
জামিলা কিছুটা রেগে বলল, কে বলেছে আমি পাগলামি করি? তোমরা কি আমাকে পাগল ভাবতে শুরু করেছ?
জামিলার মা বলল, না, তা বলছিনা। বলছি ইদানিং তুই কেমন কেমন করছিস।
জামিলা কোন কথা বলল না।
তারপর দুইদিন স্বাভাবিক আচরন করল জামিলা। পরের দিন সকালে ফজরের নামাজ পড়ে যায়নামাজের পাটিতে অনেক্ষন বসে রইল। মাথায় লম্বা ঘোমটা দিয়েছে। জামিলা হঠাৎ গুন গুন করে গান গাইতে শুরু করল। কি গান গাচ্ছে বোঝা যাচ্ছে না। গানের শুর অদ্ভুত, পরিচিত কোন গান গজলের মত নয়।
জামিলার মা কিছুক্ষন অবাক হয়ে শুনল। তারপর জামিলার গায়ে হাত দিয়ে বলল, কি শুরু করেছিস এসব?
জামিলা মাহের হাতটা ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বলল, গায়ে হাত দিবেনা আমার, দেখছনা ধেয়ানে আছি?
জামিলার মা অবাক হল। এটা কোন স্বাভাবিক ব্যাপার হতে পারেনা। নিশ্চিত জামিলাকে কোন জ্বীন ভুতে আচর কেটেছে। দুপুর পর্যন্ত জামিলার গুনগুনানি চলল।
জামিলার মা মুহাম্মদকে চিঠি লিখছে,

প্রিয় জামাই বাবাজ্বি,
আশা করি ভাল আছ। কিন্তু আমি ভাল নেই, জামিলাকে নিয়ে অনেক চিন্তায় আছি।ওর আচার আচারন খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন। পাগলামি শুরু করে দিয়েছে ও। তুমি যত তারাতারি পারো, চলে আস।
ইতি তোমার শাশুড়ি আম্মা।

মোহাম্মদের কাছে চিঠি পৌছাতে তিন চার দিন লেগে যাবে। তবুও মুহাম্মদককে ব্যাপারটা জানিয়ে রাখা ভাল।

সানি ছানাটাকে ঘাস খাওয়াতে নিয়ে গেল। একটা খুটির সাথে বেধে রেখে চলে গেল সানি।
ছাগলটা হঠাৎ দড়ি ছাড়িয়ে ছুটে গেল। একটা শব্জি বাগানে ঢুকে শব্জি নষ্ট করতে শুরু করল। হঠাৎ বাগানের মালিক চলে আসল। ছাগলটাকে পেটাতে লাগল ইচ্ছা মত। পিটিয়ে একটা পা ভেংগে দেয়া হল।
ছাগলটা খোড়াতে খোড়াতে বাড়ি চলে আসল আর ভ্য ভ্য করে ডাকতে লাগল। জামিলা টের পেয়ে ছুটে আসল, দেখল ছাগলের একটা পা ভাংগা। আর পা দিয়ে রক্ত পড়ছে।

জামিলা চিৎকার করে গালাগালি ছুড়তে শুরু করল, কোন হারামির বাচ্চা আমার ছাগলটাকে পিটিয়েছে, কোন হারামির বাচ্চা আমি দেখতে চাই..
খারাপ ভাষায় গালাগালি করতে লাগল জামিলা।

জামিলার চিৎকার শুনে অনেকে এসে জড় হল জামিলার ঘরের সামনে। সবাই দেখতে লাগল ছাগলটাকে। অবাক হয়ে শুনতে লাগল জামিলার গালাগালি।
জামিলার মা সাসিয়ে বলল, তুই আমাদের সম্মান ডুবাবি নাকি, এমন ভাবে গালাগালি করছিস কেন?
জামিলা গলা ছোট করে বলল, দেখ মা, আমার ছাগলটার কি অবস্থা করেছে।
জামিলার মা বলল, ধৈর্য্য ধর। বিচার আল্লায় করবে।
পরের শুক্রবার জামিলা ছাগলটাকে খেয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিল। ছাগলটা রাখা ঠিক হবে না, রাখলে মানুষের সাথে ঝগড়া বাধতে পারে। জামিলার মা ও রাজি হল। মরিয়ামের স্বামী বলল, কিন্তু ছাগলটা তো এখনও বড় হয়না। মাংস খেতে স্বাধ লাগবেনা।
জামিলা তারপরেও ছাগলটাকে জবাই করতে বলল।
মরিয়ামের স্বামী ছাগলটা জবাই করল। মাংস কেটে কুটে জোগাড় করল সবাই মিলে। তারপর রান্না করা শুরু হল।
জামিলা বলল, আমার আরো একটা ছাগল ছিল, অনেক বড়।
জামিলার মা বলল, কি করেছিস সেটা?
জামিলা বলল, জব্বারের লোজজন চুরি করে খেয়ে ফেলেছে।
কিছুদিন জামিলা আচারন স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে পাগলামি শুরু হয়ে গেল তার। এবার ঘরে বসে উচ্চ শব্দে দুর্ভোদ্য ভাষায় গান গাইতে শুরু করল। সাথে সাথে বিচ্ছিরি ভাষায় গালাগালি করতে লাগল। অনেক লোকজন জামিলাদের ঘরের সামনে জড় হল। সবাই জানতে চাইল, কি হয়েছে জামিলার?
মরিয়াম বলল, কিছু হয়নি, আপনারা এখান থেকে চলে যান।
জামলার মা এই মুহুর্তে কি করবে বুঝতে পারছেনা। জামিলা হঠাৎ এমন পাগলামি শুরু করে দিল কেন?
অনেক সময় পর জামিলার পাগলামি থেমে গেল। জামিলার মা কিছুটা স্বস্থি পেল। এবার আর বসে থাকা যাবেনা, জামিলার পাগলামির চিকিৎসা করাতে হবে।
খুজতে খুজতে একজন কবিরাজের সন্ধ্যান পাওয়া গেল। কবিরাজের আলি আকবর কবিরাজ। আলি আকবর কবিরাজ একরাশ তাবিজ কবজ আর কিছু গাছ গাছড়া দিয়ে দিল।
তাবিজগুলো জামিলার গলায় আর হাতে পড়িয়ে দেওয়া হল। গাছ গাছড়া গুলো থেকে রস বের করে খাওয়ানো হল।
হঠাৎ করে জামিলার প্রচন্ড মাথা যন্ত্রনা শুরু হল। ঘরের মেঝেতে গড়াগড়া দিয়ে ছটফট করতে লাগল। জামিলার মা কি করবে বুঝতে পারছেনা।
জামিলা বলল, মা, তোমরা আমায় কেমন কবিরাজ দেখিয়েছ?
জামিলার মা বলল, কেন, আলি আকবর ভাল কবিরাজ, ভাল ডাক নাম আছে তার।
জামিলা বলল, কাজটা তুমি ঠিক করলে না মা, এই কবিরাজ ভাল না।
জামিলার মা অবাক হয়ে বলল, কেন?
জামিলা বলল, এই কবিরাজ আমাকে যাদুটোনা করেছে, যার কারনে আমার মাথা যন্ত্রনা শুরু হয়ে গেছে।
জামিলার মা চুপ করে বসে আছে।
জামিলা নিজের গায়ের তাবিজ কবজগুলো খুলে ছুড়ে মেরে ফেলে দিল আর খারাপ ভাষায় গালাগালি দিতে শুরু করল কবিরাজ আলি আকবরের নামে।
দুই তিন দিন হয়ে গেছে, জামিলার মাথায় যন্ত্রনা কিছুতে কমছে না। আর জামিলার পাগলামিও দিন দিন বেড়ে চলছে। (চলবে.....)

0 Shares

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ