জীবনের গল্প-৫

নিতাই বাবু ২০ জুলাই ২০২০, সোমবার, ০২:৩১:০৬অপরাহ্ন স্মৃতিকথা ২৩ মন্তব্য

জীবনের গল্প-৪ এখানে

জীবনের গল্প-৪-এর শেষাংশ:ওইদিন সবার খাওয়া-দাওয়া বন্ধ! বড়দাদা আর মা বাবাকে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল থেকে প্রথমে চিত্তরঞ্জন কটন মিলে আনে। তারপর বাসায় আসলো রাত দশটার সময়। বাবার অবস্থা তখন বেশি ভালো ছিল না। ওইদিন বাসার সবাই মিলে সারারাত বাবার পাশে বসে রাত পার করেছিলাম। 

বাবার হাতের অবস্থা দিন-দিন খারাপ হতে লাগলো।একদিন পর-পর আমি নাহয় আমার মা বাবাকে নিয়ে চিত্তরঞ্জন কটন মিলের অফিসের সামনে ফকির মিসকিনের মতো বসে থাকতাম, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাহায্যে বাবার ঔষধ কেনার টাকার জন্য। দুই-তিন দিন ঘুরা-ঘুরির পর একদিন তাঁদের দয়া হতো, নাহয় আরও দুই-তিন গিয়ে অফিসের সামনে ভিক্ষুকদের মতো বসে থাকতে হতো। মাস শেষে মূলবেতন পাওয়া যেতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দয়ার উপর নির্ভর করে। তাও মিলের সব শ্রমিকদের বেতনের পরই পাওয়া যেতো। একারণে আমাদের সংসারে তখন নতুন করে দেখা দিলো ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। সংসার চলতো একমাত্র বড় দাদার বেতনে। তখন বড়দাদা যেই টাকা বেতন পেতো, সেই টাকায় আমাদের ৯ সদস্যের সংসার ১৫ দিনও চলার মতো ছিল না। দোকান বাকি জমতে জমতে একসময় গলা সমান গয়ে গেলো। সাথে শেষ হয়ে যাবার উপক্রম হলো আমার লেখাপড়া। বাবা অ্যাক্সিডেন্ট হওয়ার পর থেকে আমার স্কুলে যাওয়াও আগের চেয়ে কমে গেলো। সপ্তাহে দুইদিন স্কুলে গেলে বাকি চারদিন স্কুলে থাকতাম অনুপস্থিত। বাসায়ও বই নিয়ে কখনো পড়তে বসতাম, সময়তে পড়তাম না। পড়তে বসতে মনও চাচ্ছিল না, বাবার অসুস্থতার কারণে।

স্কুলে না গিয়ে সারাদিন থাকতে হতো বাবার সাথে, আর মিলের ডেলি কাজ পাবার আশায়। একদিন কাজ পেতাম, দুইদিন বসা থাকতাম। এভাবে কেটে গেলো কয়েকমাস। এভাবে আমার কিছুতেই মন ভালো লাগছে না। তখন সংসারের অভাব আর বাবার হাতের ব্যথার ডাক-চিৎকারে আমার ঘরেই থাকতে মন চাচ্ছিল না। একদিন একটা চুক্তি কাজ পেলাম। কাজটা হলো মাটি কাটার কাজ। আমরা ছিলাম ছয়-সাত জন। দুইদিন মাটি কাটার কাজ করে ৩৫টাকা হাতে পেলাম। সেই টাকা পেয়ে সাথের একজনের সাথে আলাপ করলাম, ‘নারায়ণগঞ্জ থেকে কাঁচা বাদাম এনে বাসায় ভেজে বিকাল বিকাল মিলের গেইটে বসে বিক্রি করলে কেমন হয়!’ লোকটা বললো, “ভালোই তো হবে। বাদামে লাভ আছে! করতে পারলে ভালো হবে।” এর পরদিন আমি ৩৫ টাকা সাথে নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে নারায়ণগঞ্জ গেলাম কাঁচা বাদাম আনতে। ২০ টাকা দিয়ে ৪ সের কাঁচা বাদাম কিনলাম। ছোট দাঁড়িপাল্লা-সহ প্রয়োজনীয় বাটখারাও কিনে আনলাম। মাকে বললাম, বাদামগুলো ভেজে দিতে। আমার মা তো আগেই মূড়ি ভাজার ওস্তাদ ছিলেন। তাই কীভাবে বাদাম ভাজতে হবে, তা আর মাকে কিছুই বলতে হয়নি। মা বালুর সাহায্যে খুব সুন্দরভাবে বাদাম গুলো ভাজলেন। আমি পরদিন বিকালবেলা একটা মুড়ির টিনে করে বাদাম নিয়ে মিলের গেইটে গিয়ে বসলাম, বিক্রি করার জন্য।

সেসময় আদর্শ কটন মিলের গেইটের সামনে আর কেউ বাদাম বিক্রি করতো না। গেইটের সামনে আমিই ছিলাম একমাত্র বাদামওয়ালা। মায়ের হাতে ভাজা বাদাম গুলো ১০ টাকা সের দামে, আধা ছটাক, এক ছটাক, আধা পোয়া, একপোয়া করে মুহূর্তে সব বাদাম শেষ করে ফেললাম। লাভ  হলো ১০-১২ টাকার মতো। পরদিন সকালে আবার কাঁচা বাদাম আনতে চলে গেলাম নারায়ণগঞ্জ। এদিন কাঁচা বাদাম আনলাম ৫ সের। সেগুলো ভাজে আগের দিনের মতো বিকালবেলা আবার মিল গেইটের সামনে গিয়ে বসলাম। এদিনও সব বাদাম বিক্রি করলাম। এভাবে প্রতিদিন সকালবেলা আমি নারায়ণগঞ্জ পায়ে হেঁটে যেতাম, আবার বাদাম মাথায় করে পায়ে হেঁটে বাসায় আসতাম। আমার এরকম কষ্ট দেখে একদিন আমার বড়দাদা আমাকে ৫০ টাকা হাতে দিলেন, বেশি করে বাদাম আনার জন্য। যাতে প্রতিদিন নারায়ণগঞ্জ যেতে না হয়। তা-ই করলাম। বড় দাদার দেওয়া ৫০টাকা আর আমার কাছে থাকা কিছু টাকা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে একসাথে ২০ সের (আধা মণ) কাঁচা বাদাম কিনে আনলাম। এতো অন্তত ৫/৬ দিন নারায়ণগঞ্জ যাওয়া-আসার ভেজাল শেষ করলাম।

প্রতিদিন ৪-৫ সের বাদাম মিল গেইটে নগদে বাকিতে মিলিয়ে বিক্রি করতাম। বিক্রি করে যা পেতাম, সব মায়ের কাছে এনে দিতাম। লাভের টাকা থেকে মা কিছু সংসারেও খরচ করতো। টুকটাক বাবার ঔষধে খরচ আনতো। মায়ের পান-সুপারি আনতো। আমি মাঝে-মধ্যে স্কুলে যাওয়া সময় আমাকেও চার আনা, আট আনা দিতো। এভাবেই চলতে থাকলো আমাদের দুর্ভিক্ষের সংসার। তখন আমাদের দুর্ভিক্ষপীড়িত সংসারের দায়িত্ব যেন বড় দাদার সাথে আমার উপরেও বর্তাল। আমি তখন মাঝে-মধ্যে স্কুলে যেতাম। বাবাকে নিয়ে চিত্তরঞ্জন কটন মিলেও যাতাম। আবার প্রতিদিন বিকালবেলা শ্রমিকদের ছুটি হবার আগেই মিল গেইটে বাদামের টিন নিয়ে বসে থাকতাম। বাদাম বিক্রি শেষে আবার সময়তে সন্ধ্যার পর ওই ডেলি লেবারদের সাথেও কাজ করতাম। তবু্ও আমরা দুই ভাই আমাদের ৯ সদস্যের সংসারে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কোনো-কোনো দিন রাতে কিম্বা সকালে দুপুরে না খেয়ে থাকতাম।

এরমধ্যেই কুমিল্লা গৌরীপুর থেকে আমার এক বোনের বড় সেজো দিদির বিবাহের প্রস্তাব আসে। ছেলে ভালো। দাবি-দাওয়া নেই। নগদ টাকা, সোনা-দানা কিছুই দিতে হবে না। এমনকি আমাদের এখানে বিবাহ অনুষ্ঠানও করতে হবে না। বিবাহের দিন বড় দিদিকে ছেলে পক্ষ থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাবে তাঁদের নিজ খরচে। এ-বাবদ আমাদের এক টাকাও খরচ করতে হবে না। আমাদের পাশে থাকা গৌরাঙ্গ কাকা-সহ মিল কোয়ার্টারের আরও অনেকেই বিয়েতে মত দিয়ে বলেছে, যদি আমার মা মেয়ে দিয়ে দিতে রাজি হয়; তাহলে আমরা সম্মিলিতভাবে মিলের সমস্ত শ্রমিক কর্মচারীদের কাছ থেকে সাহায্য উঠিয়ে বিবাহের কাজ শেষ করবো। সবার কথা শুনে আমার মা ও বড় দাদা আরও দশজনকে সাথে নিয়ে কুমিল্লা ছেলেদের বাড়ি গিয়ে বিয়ের দিনতারিখ ঠিক করে আসলো।

এরপর মিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেক্রেটারি-সহ ইউনিয়নের আরও সদস্যবৃন্দ বসে মিলের সকল শ্রমিকদের কাছে ১০ টাকা করে চাদা ধার্য্য করে এবং মিলের নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যানেজার সাহেব থেকেও কিছু দাবী করে। এতো সেসময় আমার সেজো দিদির বিয়ে জন্য  মিল থেকে প্রায় ১০০০/= টাকার মতো সংগ্রহ হয়ে যায়। তারপরও একেবারে কিছু না দিয়ে তো দিদিকে পরের হাতে তুলে দেওয়া শোভা পায় না। হিন্দুদের বিয়েতে এক রত্তি স্বর্ণ হলেও লাগে, দিতে হয়। আমার বড় বৌদি বললেন, “প্রয়োজনে আমার হাতের চুড়ি, কানের দুল জোরা দিয়ে দিবো, তবুও যেন মায়ার ঠাকুরজির বিয়ে হয়।’

আমার বৌদি ছিলো আমাদের মায়ের মতো। আমার বড়দাদা বিয়ে করেছিল নোয়াখালী জমিদার হাট সংলগ্ন এক গ্রামে। বিয়ে করেছিল, দেশ স্বাধীন হবার পর দাদা ভারত থেকে দেশে ফেরার পর। আমার বড় দাদা বিয়ে করেছে এক গরিবের মেয়ে। মেয়ে পছন্দ করেছিল, নারায়ণগঞ্জ থেকে যেই ভগ্নিপতি আমাদের বাড়ি গিয়েছিল, সেই ভগ্নিপতির পছন্দের মেয়ে বলে কোনও দাবি-দাওয়া ছাড়াই বিয়ে হয়েছিল। তারপরও বিয়ের সময়  বৌদির বাপের বাড়ি থেকে বৌদিকে হাতের, কানের, গলার তিনপদ সোনার জিনিস দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেই সোনার জিনিসগুলো থেকে আমাদের অভাবি সংসারের জন্য আগেই গলার হার বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল। বাকি হাতের চুড়ি, আর কানের দুল এই বোনের বিয়েতে দিতে হচ্ছে, বৌদিকে। তারপরও বৌদি এ-ব্যাপারে কোনদিন টু-শব্দও করেছিল না। বরং কোনও অভিযোগ অনুযোগ ছাড়াই তিনি খেয়ে-না-খেয়ে আমাদের অভাবি সংসারে হাসি-খুশিতেই থাকতো।

এখন বোনের বিয়েতে বৌদি হাতের চুড়ি, আর কানে দুল দিয়ে দিলেও হিন্দু বিয়েতে নানারকম নিয়ম পালন করতে হলে আরও অনেক টাকার দরকার। উপায়ান্তর না দেখে বাবা বড় দাদাকে বললো, “নোয়াখালী গিয়ে বাড়ির নিজের অংশটুকু স্থানীয় বাদশা মিয়ার কাছে বিক্রি করে যা পাছ, তা এনে আমার মেয়ের বিয়ের কাজ শেষ কর।” আমাদের বাড়িটার ছিল তিন ভাগ। বাবার একভাগ। আমার দুই কাকার দুইভাগ। আমার দুই কাকা আরও আগেই তাঁদের নিজ-নিজ অংশ এই বাদশা মিয়া নামে কন্ট্রাক্টরের কাছেই বিক্রি করে দিয়েছিল। বাড়ির তিন অংশ থেকে বাকি থেকে যায় আমাদের অংশটুকু। সেই অংশটুকু বাবার সম্মতিতে বড়দা বোনের বিয়ের জন্য  বিক্রি করতে গ্রামের বাড়িতে চলে যায়। কিন্তু বাবার স্বাক্ষর ছাড়া কোনও মতেই দাদার কাছে বাড়ি বিক্রির টাকা বাদশা কন্ট্রাক্টর বুঝিয়ে দিতে চাচ্ছিল না। তখন বড়দাদা বুদ্ধি করে বলে-কয়ে বাড়ি বিক্রির টাকা-সহ বাদশা কন্ট্রাক্টরকে সাথে করে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে আসে, বাড়ি বিক্রির দলিলে বাবার একটা স্বাক্ষরের জন্য। বাদশা কন্ট্রাক্টর নারায়ণগঞ্জ আমাদের বাসায় এসে দলিলে আমার অসুস্থ বাবার স্বাক্ষর নিয়ে বাবার হাতেই তখনকার সময় ৪০০০/= হাজার টাকা বুঝিয়ে দিয়ে চলে যায়। সেই টাকা সেজো দিদির বিয়েতে খরচ করে বেঁচে যাওয়া যৎসামান্য কিছু টাকা দোকান বাকি-সহ আরও কিছু ধার-দেনা পরিশোধ করা হয়।

সেজো দিদির বিয়ের দিনতারিখ যখন ঠিক হয়, তখন কথা ছিল ছেলের পক্ষের খরচে সেজো দিদিকে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। সেই কথামতো ছেলে পক্ষ থেকে মেয়ের সাথে আরও দশজন যাওয়ার ভাড়া বাবদ ১০০ টাকা লোক মারফত বিয়ের একদিন আগেই আমার বড় দাদার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিয়ের দিন বড় দাদা-সহ মিলের আরও ৫/৬ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি সাথে করে সেজো দিদিকে ছেলের বাড়িতে নিয়ে যায়। আমি আদরের ছোট ভাই, তাই সেজো দিদির সাথে আমিও ছিলাম। তখন চিটাগং রোড সংলগ্ন কাঁচপুরে ব্রিজ ছিল না। মেঘনা ব্রিজ ছিল না। দাউদকান্দি ব্রিজ ছিল না। ডেমরা ফেরিঘাট থেকে বাসে গৌরীপুর পর্যন্ত জন প্রতি ভাড়া ছিল মাত্র ৫ টাকা। বাস থেকে গৌরীপুর নেমে শুধু আমিই সেজো দিদির সাথে রিকশায় চড়ে ছেলেদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। আর সবাই পায়ে হেঁটে ছেলের বাড়িতে পৌঁছেছিল। সাজো দিদির বিয়ের দিনই একই আসরে একই পুরোহিত দিয়ে ছেলের ছোট এক বোনের বিয়ে হয়। ছেলের ছোট বোনের বিয়ের কার্যসম্পাদন হয় আগে, আমার সেজো দিদির বিয়ে কাজ আরম্ভ হয় পরে।তবে খুব সুন্দরভাবে ঢাকঢোল বাজিয়ে আমার সেজো দিদির বিবাহের কার্যসম্পাদন সমাপ্ত হয়। বিয়ের পরদিন সবাই নারায়ণগঞ্জ চলে আসে। শুধু আমিই থেকে গেলাম সেজো দিদির সাথে। সেজো দিদির বাড়িতে সাতদিন থেকে জামাইবাবু-সহ আট দিনের দিন নারায়ণগঞ্জ চলে আসি।

সেজো দিদির বাড়ি থেকে ৮ দিন পর এসে দেখি, আদর্শ কটন মিলের গেইটের সামনে একজনকে বাদাম বিক্রি করতে। যিনি মিল গেইটে বাদাম বিক্রি করছে, তিনি শ্রমিক কলোনিরই একজনের মেয়ের জামাই ছিলেন। তাঁকে বাদাম বিক্রি করতে দেখে নিজের মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। মন খারাপের কারণ হলো, এর আগে শুধু আমিই বাদাম বিক্রি করতাম। এখন মিল গেইটের দুইজন বাদামওয়ালা থাকলে এগের তুলনায় অর্ধেক বাদামও  বিক্রি করতে পারবো না, তাই মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেলো। আগের তুলনায় এখন অর্ধেক বাদাম বিক্রি হলে, তার চেয়ে বাদাম বিক্রি না করে অন্য কাজ করা ভালো হবে বলে মনে মনে ভাবতে লাগলাম। তাই বাসায় যে ক’সের বাদাম ছিল, সেগুলো শেষ করে বাদাম বিক্রি বাদ দিয়ে ১০ টাকা মজুরিতে ডেলি হাজিরায় লেবারের কাজে লেগে গেলাম। কিন্তু তখনও লেখাপড়া শেষ করিনি, ফাইল পরীক্ষার আশায়। একসময় ষষ্ঠ শ্রেণিতে ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম। টেনেটুনে পাসও করাম। জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তিও হলাম।

অনেক কষ্ট করে পুরাতন বই কিনলাম। সপ্তাহে দুই-তিন মিলের কাজ বাদ দিয়ে স্কুলেও যেতাম। এরমধ্যেই লক্ষ্মীনারায়ণ কটন মিলে থাকা আমার মেজো বোন জোৎস্না দিদি এক মেয়ে রেখে মৃত্যুবরণ করে। মেজো দিদি মারা যাবার চার-পাঁচ মাস পর জামাইবাবু আরেক বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করে। দিদির রেখে যাওয়া এক বছরের মেয়েটি শেষতক আমাদেরই লালন-পালন করতে হয়। মেজো দিদির মৃত্যুর পর বাবার অবস্থার আরও অবনতি হতে থাকে।            

চলবে…

জীবনের গল্প-৬  

জীবনের গল্প-১

২৬৩জন ১৬২জন
0 Shares

২৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য