জীবনের গল্প-২১ শেষ পর্ব

নিতাই বাবু ২২ আগস্ট ২০২০, শনিবার, ১২:৩৪:১৬অপরাহ্ন স্মৃতিকথা ১৫ মন্তব্য

জীবনের গল্প-২০ এখানে ☚

জীবনের গল্প-১৯-এর শেষাংশ:☛ জায়গার নাম ফুলিয়া। সেই বাড়িতেই তোমরা থেকে বাড়ি দেখাশুনা করবে। এতে ভালোই হবে।’ এই বলেই কানাই আমার বাসা থেকে চলে গেলো ওদের বাসায়। পরদিন আমি নগর খানপুর রতন চক্রবর্তীর সাথে দেখা করে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করে ভারত যাবার প্রস্তুতি নিই। 

তারপর কানাইর সাথে ভারতের উদ্দেশে রওনা হলাম। সাথে কানাইর দুই বোন। সময়টা ২৭ চৈত্র ১৩৯৯ বাংলা। বর্ডারে দুইদিন আটকে থাকার পর পহেলা বৈশাখ ১৪০০ বাংলা ভারতের মাটি স্পর্শ করলাম। তখন রাত প্রায় ৯ টা। বনগাঁও রেলস্টেশনে পৌঁছলাম রাত ৯.৩০ মিনিটের সময়। রাত ১০ টায় শিয়ালদার একটা ট্রেন ছিলো। সেই ট্রেনে চড়ে গেলাম দমদম রেলস্টেশন। তখন রাত ১২টার মতো বেজেছিল মনে হয়। গিয়েছিলাম কানাইর এক পরিচিত বন্ধুর বাড়িতে। পরদিন সকালে দমদম থেকে শিয়ালদা, তারপর বাঘা যতিন সংলগ্ন কানাইর ভাড়া বাসায়।

কানাই যেই বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো, সেই বাসাটা ছিলো খুবই ছোট। সাথে যাওয়া ওর দুই বোন সারাদিন ঘরে থাকলেও, রাতে বাড়িওয়ালাদের ঘরে গিয়ে ঘুমাতো। আমি আর কানাই ছোট ঘরেই ঘুমাতাম। দুইদিন পর ফুলিয়ায় গেলাম, রতন চক্রবর্তীর বাড়ির ঠিকানায়। সেখানে গিয়ে দেখি রতন চক্রবর্তীর বাড়ি নেই। আছে একটুকরো কেনা জমি। সেই জমি দেখাশোনা করছিল, আমারই পরিচিত গৌরাঙ্গ নামে এক লোক। এই অবস্থা দেখে সাথে সাথে ফুলিয়া থেকে কলকাতা চলে আসি, কানাইর ভাড়া  বাসায়। ক’দিন পর রতন চক্রবর্তীর স্ত্রী বাংলাদেশ থেকে সেখানে গেলে, তাকে পাকড়াও করে মিথ্যা বলার জন্য অপমান অপদস্ত করে ছেড়ে দিই।

তারপর আমি কানাইর ওখান থেকে নিজের ভাগ্য নিজেই পরিবর্তন করার জন্য চলে গেলাম, জলপাইগুড়ি জেলা ভুটান ঘেঁষা বীরপাড়া বড় দিদির বাড়ি। সেখানে গিয়ে ভাগিনাদের সাথে গাড়ির গ্যারেজে বছর দেড়েক  কাজ করে খুব কষ্টে বুড়িমারী বর্ডার পাড় হয়ে বাংলাদেশে চলে আসি। আসার সময় বড় দিদির দেওয়া সব বর্ডারেই দালালরা লুটেপুটে রেখে দিয়ে আমাকে বুড়িমারী বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে দেয়। তারপর বুড়িমারী বাসস্ট্যান্ডে এসে এক বাস কোম্পানির ম্যানেজারের হাতে-পায়ে ধরে বিনা টিকেটে ঢাকা পৌঁছে সদরঘাট থেকে বেহায়ার মতো শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছাই।

এরপর কিছুদিন সেখানে থেকে আবার নারায়ণগঞ্জ এসে চাকরি করা শুরু করি। এরপর নিজের অভাবের সংসার চালাতে গিয়ে সিলেট, নরসিংদী, মাধবী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ-সহ আরও অনেক জায়গায় গিয়ে চাকরি করেছি। কিন্তু ভাগ্য আর পরিবর্তন করতে পারিনি। একসময় এলাকার দশজন থেকে সাহায্য তুলে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি। খুব কষ্টের মধ্যে নিজের একমাত্র ছেলেটাও ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছিল। কিন্তু একসময় নিজের ছেলেটা  দারিদ্রতার কাছে ছেলেটা দুর্বল হয়ে অভাবের সংসারের মায়া ত্যাগ করে পৃথিবী থেকে অচিন দেশে পাড়ি জমায়।

তারপর ছেলের রেখে যাওয়া মোবাইল ব্যবহার করে ২০১৫ সালে একটা ব্লগে রেজিষ্ট্রেশন করে একটা লেখা জমা দিয়ে বেশকিছু দিনের জন্য ব্লগ থেকে আত্মগোপন করি। একদিন  ব্লগে প্রবেশ করে দেখি আমার সেই ছোট লেখা প্রকাশ পেয়েছে। অনেক লেখক মন্তব্য করেছে। তাদের মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়েই আজ পর্যন্ত শুধু ব্লগ আর ব্লগ নিয়েই সারাদিন, সারারাত পার করে দিচ্ছি। জানি না সামনের দিনগুলোতে আমার জন্য কী অপেক্ষা করছে। সবার আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।

সমাপ্ত।

জীবনের গল্প-১ এখানে☚

                                                                           

২২২জন ১২০জন
0 Shares

১৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য