জীবনের গল্প-১৮

নিতাই বাবু ১৬ আগস্ট ২০২০, রবিবার, ১২:১৪:০৯পূর্বাহ্ন স্মৃতিকথা ৩৩ মন্তব্য

জীবনের গল্প-১৭ এখানে ☚

জীবনের গল্প-১৭-এর শেষাংশ:☛ তখন ঠাকুরবাড়ির সবাইর এমনই থমথমে অবস্থা ছিলো। কিন্তু না, সেদিন তেমন কোন খারাপ পরিস্থিতিতে আমার পড়তে হয়নি। খুব সুন্দরভাবে আমি একাই নয়াবাড়ি গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে জামাই-আদরে দুইদিন থেকে নারায়ণগঞ্জ ফিরে আসি।

বাসায় আসার পর আমার বড় দিদি জিজ্ঞেস করলো, কোথায় গিয়েছিলি।’ সত্যি কথাই বললাম, ‘বিক্রমপুর গিয়েছিলাম।’ বড় দিদি জিজ্ঞেস করলো, ‘কেন গিয়েছিলি? ওখানে কি মেয়ে পছন্দ করেছিস? মেয়ে পছন্দ হয়ে থাকলে বল, আমরা দেখতে যাবো।’ বললাম, ‘সময় হোক, পরে বলবো।’ দিদি আর কিছু বললো না। নিজের বাসায় চলে গেলো। এরপর মা বললো, ‘আমি একটা মেয়ের কথা শুনেছি। মেয়েটি নাকি সুন্দর! মেয়ে সুন্দর হলে তোর সাথে মানাবে খুব!’  মাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘মেয়েদের বাড়ি কোথায়?’ মা বললেন, ‘মেয়েদের বাড়ি নাকি নরসিংদী। তোর জোৎস্না দিদির জামাই যেখানে আবার বিয়ে করেছে, সাখানে। মেয়ে পক্ষ থেকে বেশকিছু টাকা-পয়সাও নাকি দিতে পারবে।’ আমার ওই ভগ্নিপতির নাম সুনীল। বললাম, ‘আমার বোন মরা ভাগ্নিটাকে পূজা উপলক্ষে একটা সুতার বাট্টা দিতে পারে না, অথচ এখানে এসে আমার বিয়ের ব্যাপারে নাক গলায়? আমার সাথে দেখা হলেই হয়। তখনই মজাটা দেখাবো।’ 

আমার কথা শুনে আমার মা আর ভয়ে আর কিছুই বলেনি, চুপ হয়ে গেলো। এদিন আর নিজের কাজের জাগায় গেলাম না, সন্ধ্যার আগে চলে গেলাম কিল্লার পুল ফাইন টেক্সটাইল মিলে। কলমের সাথে দেখা করলাম। বিস্তারিত সব ঘটনা বললাম। কালাম জিজ্ঞেস করেছিলো, ‘আদরযত্ন কেমন করেছে ওস্তাদ?’ বললাম, ‘ভালোই করেছে।’ আমার কথা শুনে কালাম বললো, ‘তাহলে তো এখন আর কারোর সাথে যাওয়ার দরকার হবে না। আপনি একাই যথেষ্ট,ওস্তাদ! কালামের সাথে দেখা করে কানাইর সাথে দেখা করলাম। দুইজনে অনেকক্ষণ ঘোরা-ফেরা করলাম। তারপর আমি চলে গেলাম নিজের বাসায়, কানাই ওর বাসায় চলে গেলো। 

পরদিন সকালে আমি মিলে গেলাম। কাজ করলাম। এর দুইমাস পর ওয়েল টেক্স থেকে বাৎসরিক ছুটির ৩,০০০/= টাকা টাকা একসাথে পেলাম। ৩,০০০/=টাকা হতে পেয়ে এর দুইদিন পরই দুইদিনের ছুটির আবেদন করলাম। ছুটি পাস হলে, মাকে কিছু টাকা দিয়ে আবার চলে গেলাম নয়াবাড়ি গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে। এভাবে দুই-তিন দিনের ছুটি পেলেই একা-একা চলে যেতাম নয়াবাড়ি গ্রামে। একসময় গ্রামের অনেকেই বিয়ে ছাড়া আসা-যাওয়া দেখে ছিছি করতে লাগলো। সবার ধারণা আমি ফাঁকিবাজ! এমনও বলতে লাগলো, ‘ছেলেটা কি সত্যিই  বিয়ে করবো? নাকি শুধুই মিছে মজা করার জন্য আসা-যাওয়া আসা-যাওয়া করছে!’ মানুষের কথাগুলো আমার কানে আসলো। আমি মেয়ের বাবা মা’কে নিশ্চিত থাকতে বললাম। আমি তাদের আশস্ত করলাম, ‘লোকে যা-ই বলে বলুক তাতে আপনারা মন খারাপ করবেন না। আমি অর্চনাকে বিয়ে করবই।’ 

একসময় নয়াবাড়ি আসা-যাওয়ার ব্যাপারটা আমার বড় দাদার কানে গেলো। বড়দাদা মাকে জানালো। মা বড় দাদাকে তাড়াতাড়ি বিয়ের কথাবার্তা পাকাপাকি করতে বললো। মায়ের কথায় বড়দাদা ফাইন টেক্সটাইল মিলের কালামকে বললো, ‘তুমি বাড়ি গিয়ে মেয়ের বাবাকে নারায়ণগঞ্জ আসতে বন বলবে।’ বড় দাদার কথা শুনে কালাম বাড়ি গিয়ে মেয়ের বাবাকে সবকিছু খুলে বললে, একদিন মেয়ের বাবা উনার ছোট ছেলেকে সাথে নিয়ে আমাদের বাসায় আসে। তারপর বাসায় খাওয়া-দাওয়ার পর তাদের নিয়ে যাওয়া হয়, কিল্লার পুল ফাইন টেক্সটাইল মিলে; বিয়ের কথাবার্তা ফাইনাল করার জন্য। করণ, ফাইন টেক্সটাইল মিলের বেশিরভাগ শ্রমিকই ছিলো সুবচনী এলাকার, তাই। সন্ধ্যার পর ফাইন টেক্সটাইল মিলের ভেতরে অফিসরুমে সবাই বিয়ের আলোচনায় বসলো। মিলের ম্যানেজারও সেখানে উপস্থিত ছিলো। সবাই বসে কীভাবে সুন্দর হবে সেসব বিষয়ে আপাল আলোচনা করতে লাগলো।  

আমার বড় দাদার দাবি-দাওয়ার মধ্যে সোনা-দানা কিছুই নেই, মেয়ের বাবা যা পারে তা-ই মেনে নিবে। কিন্তু বিয়ের আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ৫,০০০/= টাকা নগদ দিতে হবে।কিন্তু এতে মেয়ের বাবা নারাজ! মেয়ের বাবা ৩,০০০/= টাকার বেশি দিতে পারবে না বলে জানিয়ে দেয়। আমার বড় দাদাও ৫,০০০/= টাকার কম হবে না বলে জানিয়ে দেয়। এভাবে দর-কষাকষি করতে করতে রাত প্রায় ১২ টার মতো বেজে যায়। উভয়োপক্ষের কেউ যখন কাউকে ছাড় দিচ্ছিল না, তখন আমি লোক মারফত কালামকে বাইরে ডেকে আনলাম। কালামকে বললাম, ‘আমার বড় দাদাকে বুঝিয়ে বলতে, যাতে ৩,০০০/= টাকাই রাজি হয়। আমার কথা শুনে কালাম আমার কথা বলে বড় দাদাকে রাজি করায়। এরপর বাঁধলো বরযাত্রী নিয়ে। 

আমার বড় দাদার কথা ১০০ জন বরযাত্রী যাবে এবং আসা-যাওয়ার ভাড়া পুরোটা মেয়ে পক্ষে বহন করতে হবে। এতে মেয়ের বাবা রাজি হচ্ছিল না। মেয়ের বাবার কথা, বরযাত্রী যাবে ৫০ জনের বেশি যাতে না হয়। আর আসা এবং যাওয়া কোনটার ভাড়াই দিতে পারবে না। এতে আমার দাদাও রাজি হচ্ছিল না। তারপর সবার অনুরোধে মেয়ের বাবা যাওয়া বাবদ গাড়িভাড়া ১,০০০/= দিতে পারবে বলে সম্মতি দেয়। এতেও আমার বড় দাদা যখন রাজি হচ্ছিল না, তখন আমি কালামকে আবার ডেকে আনি। কালামকে বললাম, ‘মেয়ের বাবাকে ১,৫০০/= টাকা রাজি হতে বলো। ১,০০০/= টাকা মেয়ের বাবা দিবে, আর বাকি ৫০০/=টাকা আমি গোপনে তোমার কাছে দিয়ে দিবো, তুমি মেয়ের বাবার হাতে দিয়ে দিবে। আমার কথামতো কালাম তাই করলো। মেয়ের বাবাও কলমের কথামতো রাজি হয়ে গেলো। বিয়ের দিনতারিখ ঠিক হলো। এরপর বাঁধলো বিয়ের অনুষ্ঠান নিয়ে। 

আমার বড় দাদা টাউনের ভাড়া বাড়িতে কোনপ্রকার নিয়মকানুন করবে না। যা করার মেয়েদের বাড়িতেই করতে হবে। তখন সবার প্রশ্ন, তাহলে বিয়ের আগের দিন যে ছেলে পক্ষের কিছু নিয়মকানুন থাকে, সেসব নিয়মগুলো কীভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে? তখন আমার বড় দাদা বললো, ‘বিয়ের আগের দিন সকালে ছেলে মেয়ের বাড়িতে চলে যাবে, অধিবাসের নিয়ম পালনের জন্য। আর বিয়ের দিন বরযাত্রীদের নিয়ে ঠিক সময়মতো বিয়েবাড়িতে আমরা উপস্থিত হয়ে যাবে। এতে মেয়ের বাবা রাজি হয়ে গেলো। এবার বাঁধলো আড়াইউল্লা বা ফিরাউল্টা নিয়ে। আমার বড় দাদা বললো, ‘বিয়ের কার্যসম্পাদন সম্পন্ন হলে বরযাত্রীদের নিয়ে আমি চলে আসবে। আর আমার ছোট ভাই আড়াইউল্লা বা ফিরাউল্টার নিয়ম পালন করে বিয়ের দুইদিন পর নতুন বউ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ চলে আসবো।’ আমার বড় দাদার কথা মেয়ের বাবা মেনে নিলো। যৌতুক বাবদ ৩,০০০/= টাকা, আর বরযাত্রীদের গাড়িভাড়া বাবদ ১,৫০০/=টাকা মেয়ে বাবা বিয়ের দুইদিন আগে যেভাবেই হোক ফাইন টেক্সটাইল মিলেই পৌঁছে দিবে। বিয়ের কথাবার্তা পাকা-পাকি হলো। বিয়ের দিন ধার্য করা হলো, ১ আষাঢ় ১৩৯৩ বঙ্গাব্দ। 

কিন্তু রাত অনেক হওযাতে পাটিপত্র (সাদা কাগজে অথবা স্ট্যাম্প) করার সুযোগ ছিলো না। তাছাড়া তখন উপস্থিত সবাইর মাঝে  মিষ্টি বিতরণ করার মতো উপায়ও ছিলো না। তাই সবাই সিদ্ধান্ত নিলো পরদিন একজন পুরোহিত দিয়ে পটিপত্র করে বিয়ের জোকার (উলুধ্বনি) দিতে। সবার কথামতো তা-ই করা হলো। মেয়ের বাবাকে বড়দাদা সাথে করে বাসায় নিয়ে গেলো। পরদিন সন্ধ্যাবেলা একজন পুরোহিত দ্বারা পাটিপত্র করে ভাড়া বাড়ির সবাইকে মিষ্টিমুখ করানো হয়। রাতে ফাইন টেক্সটাইল মিলেও কিছু মিষ্টি বিতরণ করা হলো। এর পরদিন সকালে মেয়ের বাবাকে ফতুল্লা লঞ্চঘাট পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হলে, মেয়ের বাবা বাড়িতে চলে যায়।

এদিকে বড়দাদা আমাকে সাথে নিয়ে আমার বড় ভগ্নিপতির সাথে বিয়ের বিষয়-আশয় নিয়ে আলোচনায় বসলো। জামাইবাবু আমাকে মোটামুটি ১০,০০০/= টাকার একটা হিসাব দেখিয়ে বললো, ‘বরযাত্রীদের আসা-যাওয়া-সহ বিয়ের আগে পরে এই টাকা খরচ হতে পারে। এখন তুমি এই ১০,০০০/= টাকা যেভাবেই হোক অন্তত বিয়ের চার-পাঁচ দিন আগে বড় দাদার কাছে দিয়ে রাখবে।’ আমি জামাই বাবুকে বললাম, ‘আমাকে এক সপ্তাহ সময় দিতে হবে।’ তখন বিয়ের বাকি আছে ছিলো ১৪/১৫ দিন। আমার কথা শুনে জামাইবাবু বললো, ‘ঠিক আছে, তুমি এই ক’দিনের মধ্যে টাকা জোগাড় করো। এর বেশি যদি কিছু লাগে তা আমি দেখবো।’ 

পরদিন ওয়াল টেক্স মিলে গেলাম। কাজের মাঝেই মিলের শ্রমিক নেতাদের সাথে বিয়ের ব্যাপারে আলাপ করলাম। টাকা লাগবে, তাও বললাম। মিলের নেতারা আমাকে  বললো, ‘আপনি ১৫,০০০/=হাজার টাকা অগ্রীম চেয়ে একটা দরখাস্ত লিখে অফিসে জমা দিন, এরপর আমরা দেখছি।’ তাদের কথামতো আমি তাই করলাম। ১৫,০০০/=টাকা অগ্রীম চেয়ে একটা দরখাস্ত লিখে অফিসে জমা দিলাম। পরদিন মিলের মালিক নিয়াজ সাহেব মিলে আসলে, মিলের ম্যানেজার সহ শ্রমিক নেতারা মালিকের সাথে আমার অগ্রীম চাওয়া ১৫,০০০/=হাজার টাকার ব্যাপারে আলাপ করলো। এরপর মালিক নিয়াজ সাহেব ১০,০০০/=টাকা দিতে চাইলে, মিলের নেতারা আমাকে জানালে, আমি এতে রাজি হলাম না। আমি ১৫,০০০/= টাকার কম হবে না বলে জানিয়ে দিলাম। 

শেষতক শ্রমিক নেতারা মিলের মালিক ম্যানেজারের সাথে আলাপ আলোচনা করে ১৪,০০০/=টাকা মঞ্জুর করে। এর একদিন পরেই মিল থেকে আমি ১৪,০০০/=টাকা হাতে পেয়ে, মিলের সবাইকে বিয়ের নেমন্তন্ন করলাম। মিলের মালিক নিয়াজ সাহেব ও ম্যানেজার সাহেবকেও নিমন্ত্রণ করলাম। কিন্তু মিল মালিক ম্যানেজার তাঁরা কেউ বিয়েতে যাবে না বলে আমাকে জানিয়ে দেয়। আমি তাঁদের আর বিশেষভাবে অনুরোধ না করে, বাসায় চলে গেলাম। বাসায় গিয়ে ৭,০০০/=টাকা মায়ের কাছে দিলাম, জামাইবাবুর কাছে পৌঁছে দিতে। আর বাদ-বাকি ৭,০০০/=টাকা আমার কাছে রেখে দিলাম, আমার নিজের খরচের জন্য। বিয়ের বাকি আছে আরও ১০/১২ দিন। পরদিন বিকালবেলা ফাইন টেক্সটাইল মিলে গিয়ে আমার বড়দাদার সাথে বুঝলাম। ওয়েল টেক্স মিলের সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছি, তাও জানালাম। তারপর বড়দাদা ওয়েল টেক্স মিলের মতো কিল্লার পুল ফাইন টেক্সটাইল মিলের সবাইকে নিমন্ত্রণ করলো। এতে দুই মিলের লোক হলো, ৪০-৪৫ জনের মতো। নিজেদের আত্মীয়স্বজন-সহ বরযাত্রীর সংখ্যা হয়ে গেলো ৬০ জনের মতো। বিয়ের দিন দুই-চার-পাঁচ জন এদিক-সেদিক হলেও, কোনও সমস্যা হবে মনে করে– বড়দাদা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে যা-কিছু লাগে তা যোগাড় করতে থাকে। আমিও নিয়মিত মিলের কাজ করতে থাকি। 

একসময় বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলে, ৭দিন ছুটি চেয়ে একটা দরখাস্ত লিখে মিলে জমা দিই। ৭দিন ছুটি মঞ্জুর হলো। দুইদিন পরই বিয়ে। বিয়ের একদিন আগে নিজের বাসার কিছু নিয়মকাজ সেরে কানাইকে সাথে নিয়ে মেয়েদের বাড়িতে উদ্দেশে রওনা দিলাম। লঞ্চ থেকে সুবচনী ঘাটে নেমে বাজার থেকে মিষ্টি পান সুপারি কিনে নয়াবাড়ি গ্রামে কালামদের বাড়িতে গিয়ে উঠলাম। কালামদের বাড়ি থেকে কালামের বড় ভাই, ভাবী, বোন-সহ আরও কয়েকজন মিলে মেয়েদের বাড়িতে গেলাম। এরপর মেয়ের বাড়ি থেকেই হিন্দু বিয়ের ছেলে পক্ষের যা নিয়ম করা দরকার, সবকিছু করা হলো। সেদিন রাতে আমি আর কানাই কালামদের বাড়িতে থাকলাম। পরদিন বিয়ের দিন  ১ আষাঢ় ১৩৯৩ বাংলা। বিকাল হতে না হতেই ওয়েল টেক্স, ফাইন টেক্সটাইল মিলের লোকজন-সহ নিজেদের আত্মীয়স্বজন সবাই সুবচনী বাজারে এসে জড়ো হলো। 

খবর পেয়ে মেয়ের বাড়ি থেকে লোক গিয়ে চার-পাঁচটা নৌকা করে তাদের বিয়ে বাড়িতে আনা হলো। বিয়ের বাড়ি লোকে লোকারণ্য হলো। মেয়ে পক্ষ থেকে আগত বরযাত্রীদের মিষ্টিমুখ করারানো হলো। বিয়ের লগ্ন রাত ১০.৩০ মিনিট। সময়মতো ঢাক-ঢোল পিটিয়ে সাতপাক ঘুরে বিয়ের কার্যসম্পাদন সম্পন্ন হলো। বিয়ের পরদিন বরযাত্রী-সহ আমার আত্মীয়স্বজন সবাই নারায়ণগঞ্জ চলে আসলো। মেয়ের বাড়িতে আড়াই দিনের নিয়ম পালন করার জন্য থেকে গেলাম, আমি আর কানাই। একসময় আড়াইউল্লা নিয়ম করে কানাই, কালাম-সহ নতুন বউয়ের সাথে তার ছোট ভাইকে নিয়ে আমি চলে আসি নারায়ণগঞ্জ নন্দিপাড়া নিজের বাসায়। এর দুইদিন পরই বৌভাত অনুষ্ঠান। বউভাত অনুষ্ঠানে দুই মিলের লোক-সহ প্রায় ১০০জন লোকের আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে চলতে লাগলো, স্বামী-স্ত্রীর সংসার।

চলবে…

জীবনের গল্প-১৯ এখানে ☚

জীবনের গল্প-১ এখানে☚

৩৫৬জন ১০০জন
0 Shares

৩৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য