প্রতি বছরই বৈশাখ মাসের শেষদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মুখে শোনা যায় জামাই ষষ্ঠীর কথা। যাঁদের ছেলে অথবা মেয়ের কেবল বিয়ে হয়েছে, তাঁদের মুখেই জামাইষষ্ঠী শব্দটা বেশি শোনা যায়। এর কারণ হলো, ছেলে কেবল বিয়ে করে নতুন বউ ঘরে এনেছে। বিয়ের পর এই প্রথম জৈষ্ঠ্য মাসের আগমণ ঘটেছে। ছেলের শ্বশুরবাড়ি থেকে অর্থাৎ বেয়াই বাড়ি থেকে জামাই ষষ্ঠীর নিমন্ত্রণে ছেলের ডাক পড়বে। ছেলেকে এটা দিবে। ওটা দিবে। ছেলেরও শ্বশুরবাড়ি যাবার সময় এটা ওটা নিতে হবে। এছাড়াও ছেলের সাথে দু’একজন বন্ধুবান্ধবও জামাই ষষ্ঠীর নিমন্ত্রণে শ্বশুরবাড়ি যাবে। ছেলের সাথে কে যাবে আর কে যাবে না, এসব বিষয়গুলো নিয়েও অনেক সংসারে আগে থেকেই আলাপ-আলোচনা হয়ে থাকে। যেসব ছেলেরা নতুন বিয়ে করেছে, সেসব ছেলেদের অভিভাবকরা জৈষ্ঠ্যের আগমণে এসব নিয়েই বেশি টেনশনে থাকে। অন্যদিকে মেয়ের বাবা-মা বড়ভাই-সহ আরও অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই জামাই ষষ্ঠী নিয়ে টেনশনে থাকে, যতক্ষণ পর্যন্ত জামাই ষষ্ঠীর দিন-তারিখ লগ্ন তিথি শেষ না  হয়।

আসলে এই জামাইষষ্ঠী হিন্দু সমাজে স্থান পেয়েছে মাত্র কয়েক শতাব্দী আগে থেকে। এর আগে হিন্দু শাস্ত্রমতে  ষষ্ঠী হলো লৌকিক দেবদেবীর মধ্যে অন্যতম মা ষষ্ঠিদেবী। মানে ষষ্ঠিপূজা। এই ষষ্ঠি আরও আছে। যেমন– অরণ্য ষষ্ঠী, লোটন ষষ্ঠী,ভমন্থন ষষ্ঠী, দুর্গা ষষ্ঠী, মূলা ষষ্ঠী, পাটাই ষষ্ঠী, শীতল ষষ্ঠী, অশোক ষষ্ঠী। বারোমেসে এসব  ষষ্ঠির মধ্যে জৈষ্ঠ্য মাসের অরণ্যষষ্ঠী বা জামাই ষষ্ঠীই বর্তমানে হিন্দু ধর্মাম্বলীরা পালন করে থাকে।

প্রাচীন বাংলার হিন্দুদের বিশ্বাস দেবী ষষ্ঠির কৃপায় সন্তান আসে বন্ধ্যা নারীর কোলে। তবে কোনও নির্দিষ্ট মন্দিরে ষষ্ঠিদেবীর নির্দিষ্ট প্রতিমা সাধারণত দেখা যায় না। তবুও তিনি পূজিত হন ষষ্ঠিতেই। অন্য দিক দিয়ে দেখতে গেলে তিনি মাটির উর্বরতার দেবী। কিন্তু এখনকার সময়ে হিন্দুদের অন্যান্য পূজার মতো ঢাকঢোল পিটিয়ে ষষ্ঠিদেবীর পূজা না হলেও, তাঁর ঘরোয়া ষষ্ঠি পুজোর সঙ্গেই জড়িয়ে গেল জামাই-আদরের পরম্পরা।

একসময় জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লা পক্ষের ষষ্ঠী তিথিকেই বেছে নেওয়া হতো ষষ্ঠি পূজার লগ্ন ও তিথি। কালের বিবর্তনে এই সময়টাকেই বেছে নেওয়া হয়েছে জামাই আপ্যায়নের  জন্য জামাইষষ্ঠী। শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের দিনগুলো যাতে সুখের ও সুন্দর হয়, সেই ভাবনা থেকেই জৈষ্ঠ্য মাসের ষষ্ঠি তিথিতে জামাইবরণ। তবে পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে জামাইয়ের সম্পর্ককেও সুদৃঢ় করার ইচ্ছে লুকিয়ে আছে লৌকিকতার পিছনে। জামাইকেও নিজের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়ার মাধ্যম এই জামাইষষ্ঠী। সেইসঙ্গে কন্যা যাতে নিঃসন্তান না হয়, সেই প্রার্থনাও থাকে মা ষষ্ঠী দেবীর কাছে।

জৈষ্ঠ্য মাসের ষষ্ঠি তিথির আগেই যখন শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইকে নেমন্তন্ন করা হয়, জামাই বাবাজীও শ্বশুরবাড়ি খালি হাতে যেতে পারে না। কম নিক আর বেশি নিক, জামাইকে কিছু-না-কিছু হাতে করে শ্বশুরবাড়িতে নিতেই হয়। অনেক জামাই বাবাজী জৈষ্ঠ্য মাসের ষষ্ঠি তিথির অর্থাৎ জামাই ষষ্ঠীর একদিন আগেই বাজার থেকে আম কাঁঠাল, লিচু, আপেল, পেয়ারা, বেদানা, নাসপাতির টুকরী শ্বশুরবাড়ি পাঠিয়ে দেয়। জামাই ষষ্ঠীর দিন জামাই বাবাজী দু’একজন বন্ধুবান্ধব সাথে করে মিষ্টির হাঁড়ি হাতে ঝুলিয়ে হেলেদুলে শ্বশুরবাড়িতে রওনা হয়। জামাইর আগমণে শ্বশুর শ্বাশুড়িও জামাই বাবাজীর জন্য পঞ্চব্যঞ্জনে সাজিয়ে রাখে জামাইয়ের খাওয়ার পাত। জামাই আপ্যায়নের আয়োজনে থাকে কই মাছের ভাজা, রুইমাছের ঝোল, ইলিশের পেটি কিংবা কচি পাঠাঁর মাংস সহযোগে ভুরিভোজ-সহ আরও কত কী! আর তার আগে জামাইকে তালপাতার পাখার হাওয়া আর শান্তি জলের ছিটা দিতেও কোনও শ্বাশুড়ি ভুলে যায় না। এমনকী অনেক শ্বশুরবাড়িতে জৈষ্ঠ্য মাসে নতুন জামাইকে মা ষষ্ঠীর আশীর্বাদও মনে করে থাকে। তাই অনেক শ্বশুর বাড়িতে জামাই ষষ্ঠীতে জামাইয়ের হাতে হলুদ মাখানো সুতো পরিয়ে দেওয়া হয়!

আমি নিজেও বিয়ের পরপর দুই দুইবার জামাই ষষ্ঠীর নিমন্ত্রণে আমন্ত্রিত হয়ে শ্বশুরালয়ে গিয়েছিলাম। হাতে হলুদ খামা সুতো পরে ছিলাম। তবে এখন আমার শ্বশুর জীবিত নেই। শ্বাশুড়ি মরার মতো বেঁচে থাকলেও মেয়ের জামাইদের জৈষ্ঠ্য মাসের ষষ্ঠি তিথিতে আদর আপ্যায়ন করানোর মতো সক্ষমতা উনার নেই। তাই এখন আর জামাই ষষ্ঠীতে শ্বশুরালয়ে আমার ডাক পড়ে না। এখন নিজেই নিজের মেয়ে জামাইকে জামাই ষষ্ঠীতে ডাক দিতে হয়। এবার দেশে করোনা’র আলামতের জন্য শত ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও জামাই বাবাজীকে ডাকতে পারিনি। এমনকি জামাই ষষ্ঠীতে মেয়ে জামাইকে কিছু দিতেও পারিনি। শুধু মোবাইল ফোনে কল করে দুঃখপ্রকাশ করেছি মাত্র।

তবে আমার আজকের এই লেখা পড়ে অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন যে, জৈষ্ঠ্য মাসে মা ষষ্ঠীর সঙ্গে জামাইয়ের সম্পর্কটা কী এবং এ সম্পর্কে হিন্দুশাস্ত্রে কী বলা আছে? তাহলে জেনে নিন ষষ্ঠীপূজা কী, আর জামাই ষষ্ঠী-ই-বা কেন?

একসময় দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে সংস্কার ছিল কন্যা যতদিন পুত্রবতী না হয়, ততদিন কন্যার মা-বাবা কন্যাগৃহে পদার্পণ করবেন না ৷ এই ব্যবস্থায় একসময় খুবই সমস্যা দেখা দিল। সমস্যা হলো, কন্যার বা মেয়ের সন্তানধারণে সমস্যা থাকলে বা মাতৃগর্ভে সন্তান মৃত্যুর ফলে, মেয়ের মা-বাবাকে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হত; এবং কেউ কেউ মেয়ের বাড়ি যেতেও পারতেন না৷ সেক্ষেত্রে কি বিবাহিত কন্যার মুখদর্শনও কোনদিন হবে না? তাই সমাজের বিধানদাতার মানে তখনকার সময়ের পণ্ডিতগণ জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লা ষষ্ঠীকে বেছে নিলেন জামাই ষষ্ঠী হিসাবে ৷ যেখানে মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ করে সমাদর করা হবে ও বিবাহিত মেয়ের মুখ দর্শন করা যাবে ৷ আর সেইসঙ্গে মা ষষ্ঠীর পুজো করে তাঁকে খুশি করা হবে, যাতে মেয়ে শীঘ্র সন্তানসম্ভবা হওয়ার পর সন্তানের মুখ দর্শন করতে পারে।বর্তমানে অবশ্য এই সংস্কার পরিবর্তিত হয়ে দাঁড়িয়েছে এরকম, যেমন— মেয়ের মা-বাবা অথবা যে ব্যক্তি বিয়ের দিন কন্যা সম্প্রদান করবেন, তিনি এক বৎসর মেয়ের  বাড়ি যাবেন না বা গেলেও মেয়ের বাড়ির কিছু খাবেন না। মোটকথা এক গ্লাস জলও না।

যদিও আধুনিক শহুরে জীবনে এই সংস্কার বিশেষ গুরুত্ব পায় না ৷ সংস্কার যাই হোক না কেন, মেয়ে জামাইকে ডেকে এনে সমাদর করা ও সেইসঙ্গে মেয়ে যাতে সন্তানবতী হয় সেই লক্ষ্যে ‘মা ষষ্ঠী’কে জুড়ে দিয়ে উৎসবের নামকরণ হল জামাইষষ্ঠী৷

ষষ্ঠী-পালন সাধারণত করে থাকেন মেয়েরা। তাঁদের কাছে এর তাৎপর্য অন্যরকম৷ কথিত আছে, “এক পরিবারে দুটি বউ ছিল ৷ ছোট বউ ছিল খুব লোভী ৷ বাড়ির মাছ বা অন্যান্য ভাল খাবার রান্না হলেই সে লুকিয়ে লুকিয়ে খেয়ে নিত আর শাশুড়ির কাছে অভিযোগ করত ‘সব কালো বেড়ালে খেয়ে নিয়েছে”। এদিকে আবার বেড়াল হলো মা ষষ্ঠীর বাহন ৷ তাই বেড়াল, এ-বিষয়ে মা ষষ্ঠীর কাছে অভিযোগ জানালে মা ষষ্ঠী রেগে গেলেন৷ যার ফলে ছোট বউ-এর একটি করে সন্তান হয় আর মা ষষ্ঠী তার প্রাণ হরণ করেন ৷ এইভাবে ছোট বউয়ের সাত পুত্র ও এক কন্যাকে মা ষষ্ঠী ফিরিয়ে নেন ৷ ফলে স্বামী, শাশুড়ি ও অন্যান্যরা মিলে তাকে ‘অলক্ষণা’ বলে গালিগালাজ করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় ৷ অথচ বড় বউ পুত্রকন্যাদের নিয়ে সুখে ঘর করতে থাকে।

ছোট বউ শ্বশুরালয় থেকে বিতারিত হয়ে মনের দুঃখে এক বনে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে থাকেন। একসময় মা ষষ্ঠী এক বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তার কাছে এসে কান্নার কারণ জানতে চান ৷ সে তার দুঃখের কথা মা ষষ্ঠীর কাছে বলে। তখন মা ষষ্ঠী তার পূর্বের অন্যায় আচরণের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে, ছোট বউ মা ষষ্ঠীর চরণে লুটিয়ে পড়ে অন্যায়ের ক্ষমা চান। মা ষষ্ঠী দেবী তখন তাকে ক্ষমা করেন। এরপর বলেন, “ভক্তিভরে ষষ্ঠীর পুজো করলে সাতছেলে ও এক মেয়ের জীবন ফিরে পাবে”৷ তখন ছোট বউ সংসারে ফিরে এসে ঘটা করে মা ষষ্ঠীর পুজো করে। তারপর মা ষষ্ঠীর কৃপায় এক এক করে তার সাত ছেলে-সহ এক মেয়ে ফিরে পায়৷”

এরপর থেকে দিকে দিকে ষষ্ঠী পুজোর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে৷ এটাই জামাইষষ্ঠী বা অরণ্যষষ্ঠী ব্রতকথার মূল মাহাত্ম্য।

এদিকে যে সময় জামাই ষষ্ঠী পালন করা হয় অর্থাৎ জৈষ্ঠ্য মাসে, প্রকৃতিতে আম-জাম-কাঁঠাল ইত্যাদি নানা ফলের সমারোহ ৷ তাই খুব ঘটা করে এদিন শাশুড়িরা ষষ্ঠীর পূজা করেন ৷ তারপর নেমন্তন্ন করে নিয়ে আসা জামাইকে আসনে বসিয়ে প্রথমে কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন ও দীর্ঘজীবন কামনায় মা ষষ্ঠীর স্মারক তেল-হলুদে চোবানো সুতো হাতের কবজিতে বেঁধে দেন ৷ এরপর আশীর্বাদী বস্ত্রাদি জামাইয়ের হাতে তুলে দেন ৷ আর সামনে মিষ্টান্নসহ নানা ফল খেতে দেন ৷ অবশ্য জামাই বাবাজীও শ্বশুরবাড়ি ঢোকার সময় দই-মিষ্টি তো সাথে করে আনেনই, আশীর্বাদের পর প্রণামী হিসেবে শাশুড়িকে বস্ত্রাদি দিয়েও দিতে হয় ৷ শুধু প্রণামী হিসেবে শ্বাশুড়িকেই বস্ত্র নয়, নিজের বিবাহিত স্ত্রী ও শ্বশুর-সহ শ্বশুরবাড়িতে থাকা শালা-শালিকেও নতুন বস্ত্রাদি দেওয়ার নিয়ম আছে।

যেভাবে মা ষষ্ঠীর আরাধনা করা হয়:

অন্যান্য ষষ্ঠীর মতো এই ব্রততেও উল্লেখযোগ্য হল পুজোর ডালি। থাকে কাঁঠালপাতার উপর সাজানো পাঁচ, সাত বা নয় রকমের ফল। তার মধ্যে একটি হতেই হবে করমচা। আর থাকে ১০৮ গাছা দূর্বা। ষষ্ঠীপুজো উপলক্ষ্যে শ্বাশুড়িরা ভোরবেলা স্নান করে ঘটে জল ভরে নেন এবং ঘটের ওপর স্থাপন করেন আম্রপল্লব(একসঙ্গে পাঁচটা পাতা) সাথে রাখেন তালপাতার পাখা। ১০৮টি দূর্বা বাঁধা আঁটি দিয়ে পূজোর উপকরণ সাজানো হয়। করমচা ফল-সহ পাঁচ থেকে সাত বা নয় রকমের ফল কেটে কাঁঠাল পাতার ওপর সাজিয়ে রাখতে হয় শ্বাশুড়িকে। একটি সুতো হলুদে রাঙিয়ে তাতে ফুল, বেলপাতা দিয়ে গিট বেঁধে সাজানো হয়। এর পর মা ষষ্ঠীর পুজো করা হয়। তার আগে সকালে ওই ডালি নিয়ে পুজো দিয়ে আসতে হয় মা ষষ্ঠীর। ব্রতকথা পাঠের পরে সবাইকে ‘বাতাস’ দিয়ে, হাতে ষষ্ঠীর সুতো বেঁধে তবেই উপবাস ভঙ্গ করেন বাড়ির গৃহিণী। জামাই এলে সেই গাছা ঘটের জলে ভিজিয়ে তালপাতার সঙ্গে ধরে বাতাস করা হয় সন্তানদের এবং অবশ্যই জামাইকেও। তাঁকে বসিয়ে সুতোটা হাতে বেঁধে দিয়ে শ্বাশুড়ি পাখার হাওয়া দিয়ে ‘ষাট-ষাট-ষাট’ বলে ধান-দূর্বা দিয়ে আশীর্বাদ করেন।

বর্তমানে শহরাঞ্চলে অনেকেই এ ধরনের নিয়ম পালন না করলেও, জামাই ষষ্ঠীর দিন অবশ্যই জামাইদের নিমন্ত্রণ করেন। কোথাও কোথাও আবার শ্যালিকারা বাঁশের কঞ্চি বেঁকিয়ে ‘হার্ট শেপ’ তৈরি করে তাতে লালসুতো দিয়ে ধান বেঁধে সুন্দর আকৃতি করে ভগ্নিপতিকে উপহার দেন। জামাই ষষ্ঠীর আসল উদ্দেশ্য হল মাতৃত্ব, সন্তান ধারণ এবং বংশবৃদ্ধি। মেয়ে যাতে সুখে শান্তিতে দাম্পত্য জীবন যাপন করতে পারে, তার জন্য মঙ্গল কামনা। ষষ্ঠী পূজার উপকরণ: আম্রপল্লব, তালপাখার পাখা, ধান, দূর্বা, পাঁচ থেকে নয় রকমের ফল, ফুল এবং বেলপাতা, সাদা সুতো ও হলুদ। আর জামাইকে পাখার বাতাস দেওয়ার সময় একটি ছড়া বলতে হয়। ছড়াটি বর্তমান শহুরে কেউ বলে, কেউ বলে না। ছড়াটি মূলত এ রকম:

‘জ্যৈষ্ঠ মাসে অরণ্য ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

শ্রাবণ মাসে লোটন ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

ভাদ্র মাসে মন্থন ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

আশ্বিন মাসে দুর্গা ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

অঘ্রাণ মাসে মূলা ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

পৌষ মাসে পাটাই ষষ্ঠী, ষাট ষাট ষাট

মাঘ মাসে শীতল ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

চৈত্র মাসে অশোক ষষ্ঠী,ষাট ষাট ষাট

বারো মাসে তেরো ষষ্ঠী ষাট ষাট ষাট |’

জামাইষষ্ঠীর অনুষ্ঠানের আচরণগুলোর প্রত্যেকটিই অর্থবহ। যেমন:

১। ‘ষাট-ষাট-ষাট’ হলো, সেই ‘বালাই ষাট’। অর্থাৎ সব বিপদ থেকে যেন আমার  জামাতা রক্ষা পায় এবং  তাঁর জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করা।

২। ফুল, বেলপাতা দিয়ে হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেওয়ার অর্থ, তোমার সঙ্গে আমাদের পরিবারের বন্ধন এবং আমার মেয়ের সঙ্গে তোমার বন্ধন অটুট থাকুক ও সুখপ্রদ হোক।

৩। পাখা দিয়ে হাওয়া করার অর্থ, তোমার সমস্ত আপদ-বিপদ দূরে যাক! শান্ত থাকুক তোমার সাংসারিক পরিবেশ।

৪। ধান সমৃদ্ধি ও বহু সন্তানের প্রতীক। দূর্বা চিরসবুজ ও চির সতেজতার প্রতীক।

এ-সব কিছুই জামাইর মঙ্গলের জন্য। যেমন: শুভ কামনা, তেমনই মেয়ের সুখে-শান্তিতে থাকার জন্য মঙ্গল চিন্তা এবং সুন্দর সাংসারিক জীবন যাপনের জন্য মা ষষ্ঠীর কাছে প্রার্থনা করা। সমাপ্ত–

ছবি গুগল থেকে সংগ্রহ। 

৩৫৪জন ২৩০জন
14 Shares

২১টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য