জাতিস্মর…..৪

বনলতা সেন ২৩ এপ্রিল ২০১৪, বুধবার, ০৯:২২:৫১পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৩৪ মন্তব্য

প্রাণের সই , লতা ,

তোকে চিঠি লেখার পরে পরেই মজার ঘটনাটি ঘটে এবং তা শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছি না । এ জন্য উত্তরের অপেক্ষা না করেই তড়িঘড়ি করে লিখতে বসে গেলাম । ঐ যে তিনটে তাগড়া মাছের প্রেমের আখুটিপনার কথা বলেছিলাম , এবারে নীরবতার শব্দে নয় , সেই দুষ্টুগুলো এবারে গাছের রঙ্গিন পাতায় লিখে প্রেম পত্র দিয়েছে । চিঠি ফেলে রেখে যে পালিয়েছে আর এ মুখো হচ্ছে না । তোকে তা না দেখিয়ে পারছি না ।

মোদের প্রাণের দেবী ,
(দেবী না ছাই , খালি মারধোর করার চিন্তায় থাকে )

আমাদের ভালোবাসা গ্রহণ করবেন , না করলেও আমাদের পক্ষ থেকে সমস্যা নেই , আমরা নাছোড় বান্দা তা আপনি অচিরেই আরও ভাল করে ভাল ভাবেই বুঝতে পারবেন । আমরা আপনার প্রেমে পড়ে এখন কবি হয়ে উঠেছি , সত্যি সত্যি কবি নয় । নকল নবীশ কবি । কবি না হলে আর আজকাল নাকি দেবীদের রুচি হয় না , তা আপনার ও কি কবি হতে ইচ্ছে জাগছে ? নাকি হয়ে গেছেন ইত্যবসরে।

দেবী ,ওই খানে যেয়ো নাকো তুমি,
বোলোনাকো কথা ওই পরীদের সাথে;
ফিরে এসো দেবী :
নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে;
বা দিনের যে কোন ক্ষণে ।

ফিরে এসো এই সরোবরের , ঢেউয়ে ;
ফিরে এসো হৃদয়ে মোদের;
দূর থেকে দূরে – আরও দূরে
পরীদের সাথে তুমি যেয়ো নাকো আর।

কী কথা ওদের সাথে? – ওদের সাথে!
আকাশের আড়ালে আকাশে
মৃত্তিকার মতো তুমি আজ :
ওদের প্রেম ঘাস হয়ে আসে।

প্রাণের দেবী,
তোমার হৃদয় আজ ঘাস :
বাতাসের ওপারে বাতাস –
আকাশের ওপারে আকাশ,
তুমি এখন দাস
কচু খেকোদের দাসানুদাস।

দেবী মোদের,
বনপরী আর ফুলপরীদের সাথে কিসের এত মাতামাতি ? কিসের এত মাখামাখি ? অসহ্য অসহ্য । খুব তো বুড়ো মাছেদের সাথে ঘোরাঘুরি , আমদের বুঝি তোমার সাথে ঘুরতে ইচ্ছে করে না ? চল না যাই কোন নিরালায় লোকালয় এড়িয়ে গভীর থেকে আরও গভীরে , মত্ত হই নূতন নূতন কোন আবিষ্কারের নেশায় । জানিতো , আমরা বললেই তেড়েফুঁড়ে আসবে । বলবে – তোদের জলপরীদের চোখে লাগে না বুঝি ? ঐ পাখাওয়ালী খ্যাংরাকাঠি পরীদের কাছে আমরা যাই না ,ছুঁয়েও দেখি না , তা যতই কান্না করুক। আমরা তোমাকেই চাই , শুধু তোমাকেই ।
পাখির নীড়ের মত চোখ দু’টি কে ভালোবাসি ।তোমাকেই শোনাব স্বর্গ মর্ত ও পাতালের সব কবিতা । আসল ও নকল করে , তোমার অনুমতি নিয়ে ।
তোমার পায়ের কাছে জমা দেব সব কাব্য মহাকাব্য । শোনাব গান । মাছেদের ডিম খেত দেব , আমাদের রঙ্গিন পাখনা খুলে খোপায় দেব গুজে । সাদা সাদা দাঁতগুলো দেব তোমার শাড়ির আচলে বেঁধে , তুমি হেঁটে যাবে ঝুনুর ঝুনুর শব্দ তুলে । তাও কথা দাও ভালোবাসার , এক বার বল ‘ভালোবাসি’ ।

একটুখানি গালিব শোনাই তোমাকে (নকল নয়)

কিউ জ্বল গ্যয়া না তব-এ রুখ-এ য়ার দেখ কর,
জ্বলতা হুঁ আপনে তাকত –এ দীদার দেখ কর ।

প্রিয় ’র মুখের দীপ্তি দেখে কেন জ্বলে মরলাম না,
দেখার এই শক্তি দেখেই জ্বলে মরছি এখন ।

প্রিয়তম,
যদিও ‘আজ’ আজই ‘গতকাল’ নয় কোনভাবেই , প্রাপ্যতার চেয়েও বেশি সহৃদয়তা আমাদের প্রয়োজন আগামীকাল। আমাদের নীরস সুরহীন চিঠিটি মধুর আলাপিয়া হয়ে তোমার নিরুত্তেজ ঘুমহীন স্বপ্নচোখের পাতা ছুঁয়ে হৃদয়ে স্থান করে নিক এ প্রত্যাশা নিয়ে সুনির্দিষ্ট বিরতি টানছি ।
আমাদের সাথে যোগাযোগের বাৎলে দেয়া পদ্ধতি শেষে বলে দিয়েছি ,মনে থাকে যেন । ফিরতি চিঠির প্রত্যাশা এখনই করছি না । তবে লিখতে তোমাকে হবেই । আপাতত আকাশ সমান নিঃসঙ্গতা ও ভীষণ একাকীত্ব তোমাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলুক তা সত্যি কামনা করছি ।
খেলামকুচি না হয়ে এ চিঠিটি তোমার ‘বুক পকেটে’ স্থান পাক মনে মনে আমাদের এই প্রার্থনা । যদি দেবীর পাথর হৃদয় গলে এক ফোটা ভালোবাসা চুঁইয়ে পড়ে ।

দেবীজী,
স্বর্গ মর্ত্য পাতাল মালিকের কাছে আমাদের ক্ষুদ্র প্রার্থনা আপনি পৌছে দিয়ে আমাদের মনোবাঞ্ছা পুরনে সাহায্য একমাত্র আপনি-ই করতে পারেন ।

শেষেও,
আমরা একান্ত রূপমুগ্ধ তোমার-ই । (শীঘ্র এ মুখো হচ্ছি না )
রাগ কমে এলে (কমবে জানি) একটি ঢিল ছুড়ে মেরো।

লতা ,
কেমন তেঁদড় প্রেমিকদের পাল্লায় পড়েছি দেখ একবার । এ দেখছি শকুন্তলা, অনুষূয়া ও প্রিয়ংবদার পুরুষ ভার্সন । কথা বলতে হবে বাঁদরদের সাথে , আগে জানতে হবে শকুন্তলাটি কে ?
তুই এলে যে কী মজাই না হত ভাবতে পারছি না । ওদের ডেকে কথা বলে তোকে জানাচ্ছি সব বৃত্তান্ত ।

তোর
নাছরিন ।

এ চিঠির উত্তর দেয়ার ভাষা আমার জানা নেই । নিরুপায় আমার হৃদয়বানদের সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কী-ই বা করার আছে ।
====================================================================
অধ্মের ক্ষীণ কণ্ঠের সুউচ্চ নিবেদন………………………………

অগাধজলসঞ্চারী বিকারী ন চ রোহিতঃ ।
গণ্ডুষ জলমাত্রেণ শফরী ফরফরায়তে।।
(অর্থাৎ -রুইমাছ অগাধ জলে বিহার করে, অথচ তাহার বিকার নাই।
পুঁটি মাছ গণ্ডুষ মাত্র জলে ফরফর করিয়া বেড়ায়।)
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

এ শ্লোকের শেষ অংশটি আমার ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযোজ্য এবং আমার কথা মনে করেই লিখে গিয়েছেন । অল্প বিদ্যার ফরফরানিতে চমক আছে কিন্তু কোন খমকের ঝুলন ঝংকার। আপনাদের ক্ষমাসুন্দর প্রশ্রয় পেয়েই কিছু লেখার চেষ্টা করছি।

সবাইকে আবার নতুন বছরের শুভেচ্ছা ও অভিবাদন । আরও নিবিড় প্রশ্রয়ের একান্ত আশায় ।

২৮৩জন ২৮৩জন
0 Shares

৩৪টি মন্তব্য

  • প্রহেলিকা

    Prothome ekbar dukhit bolchi srodhheya shudhu matro banglate type korte parini bole…

    Jaihok montobbo rate korar iccha thakleo akhon akta kotha bolte chute aslam…
    Kolomer khuchate machder prem nibedonke khub sundor bengomoy kore tulechen… Na na abar nachrinke to kichu bola dorkar sudhu opekkhay etokori je machder kobole na se abar pore jay othoba ami na jeno abar ghumer ghore ghar motkani khai.. Jodi dutor konotai na ghote tahole nachriner jonno arekti mach hoye amar akkhana potro royeche. Preron korbo tar name apnake via dhore dekhi. Dekha hobe pukure..valo thakun.

    • বনলতা সেন

      প্রথম মন্তব্যের জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ ।
      বনলতা সেন উম্মি মানুষ , তার পক্ষে নাছরিনের চিঠির উত্তর দেয়ার ক্ষমতা নেই তা জেনেই সে সকলের
      সাহায্য প্রার্থী । এবং আপনি সহ যে কেউ নাছরিনকে আপন মন বেদনা বা ভালোবাসার কথা জানাতে পারে
      যদি বুকে প্রকৃত হিম্মত থেকে থাকে । অপেক্ষা আপনার চিঠির জন্য ।

  • অপরাজিতা সারাহ

    মাথার পুরাই উপ্রে দিয়া গেল।কি করে লিখেন এমন?আপনার যে কোন লেখাই আমাকে মিনিমাম দুইবার পড়তে হয়।প্রথমে গোগ্রাসে গিলি,তারপর রয়ে সয়ে আস্তে ধীরে রস তাড়িয়ে তাড়িয়ে ভাব বুঝে বুঝে পড়ি আর বোঝার চেষ্টা করি।এইবারে না হলে ৩য় বারে মাত্রা আরেকটু ধীর করে নেই। 😉
    অসাধারন পত্র।বিশেষ করে নকল কবিতাখানি তো সিরাম।আমি এর উত্তর কি হবে দেখার জন্যে অধীর……ভাবছি হেলাল ভাই কোন উত্তর দেবেন কিনা। 😉

    • বনলতা সেন

      লজ্জা দিচ্ছেন ?
      আমি আমার সামান্য প্রতিটি লেখায় যাদের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করি আপনি তাদের অন্যতম ।
      আমি মন দিয়ে পড়েন সে আমি বিলক্ষণ জানি । এবং আপনার মন্তব্য পড়েও তা বুঝতে পারি ।
      কিছু কঠিন বিষয় আছে বা থাকে , আমি এখনই তা বলছি না বিজ্ঞজনের আলোচনার অপেক্ষায় থাকি ।
      এই আপনি যেমন একটু বললেন । সহজ কথায় তিন জন পুরুষ মাছ তাদের থেকে বশি বয়সের একজন কে
      ভালোবাসে প্রেম পত্র দিচ্ছে ।
      পরে আবার বলব , কষ্ট করে আবার এসে আবার আলোচনা পড়ে কিছু লিখে যাবেন ।
      অপেক্ষা করব ।

  • শুন্য শুন্যালয়

    কতো সুন্দর সুন্দর কল্পনা বনলতা দি… হিংসেই তো হচ্ছে এখন, যাবো নাকি একবার?
    দিন না ধার কিছু কল্পনা, একটু হলেও চলবে …

  • ছাইরাছ হেলাল

    আমি কোন লেখক না হয়েও আমার অপার বিস্ময় লক্ষ্য করি কী করে প্রতিটি লেখায় ক্রমাগত
    নিজেকে উচ্চ থেকে উচ্চতর জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব । একই লেখায় বিদ্যাসাগর, জীবনানন্দ ও গালিব ও ভারতবর্ষের সর্ব্বপ্রধান কবি কালিদাসের নাটক অভিজ্ঞানশকুন্তলম (শকুন্তলা)। তিন বিখ্যাত নারী চরিত্রে নামও এখানে এনেছেন ।এ আমি ভাবতে পারিনা । এবং এর পর কোথায় নিয়ে যাবেন তা আঁচ করার সুযোগ পাচ্ছি না । আপনার লেখার আগাম পরিকল্পনাটি অনুগ্রহ করে একটু বুঝিয়ে বলুন । প্রতিটি লেখায় অসংখ্য ওপেনিং রেখে যাচ্ছেন এবং পরবর্তীতে যেখান থেকে আবার অন্য কোথাও নিয়ে যাচ্ছেন অবলীলায় । প্রত্যেকটি লেখা স্বমহিমায় সতন্ত্র হয়েও তুমুল ভাবে সংযুক্ত । বিষয় নির্বাচনে অভিনবত্ব, মাছদের প্রেম পত্র , অসম বয়সের প্রেম , তিন জন এক জনকে ভালোবাসে । সব থেকে অদ্ভুত যে তিন জন পুরুষ প্রেমিক তাদের নাম দিয়ে রেখেছে শকুন্তলা নাটকের তিন নারী চরিত্রের নামে । আবার চিঠির মধ্যে চিঠি , আপনি থেকে তুমি ,শেষে বিধাতার কাছে তিন জনের হয়ে ওকালতির অভিনব প্রস্তাব ।
    আপনি আমাদের মাথা নষ্ট করে লেখালেখি তুলে রাখার পাকা এবং চুড়ান্ত ব্যবস্থা ফেদে ফেলেছেন ।
    আপনাকে আরও শিখতে হবে এই গান ছেড়ে জীবনে একবারে জন্য সত্য কথা বলে আপনার ফেবু আইডি টি
    প্রকাশ্যে দিন ও আর কোথায় কোথায় লেখেন (যা আপনি কখনও বলেন না) তা অনুগ্রহ করে বলা দিন ।
    আপনি গালিব থেকে উদ্ধৃতি দিচ্ছেন!
    আসলে আপনার লেখা নিয়ে আলোচনা করা আমাদের সাজে না ।
    আপনি বিদ্যাসাগর থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলছেন আপনার অজ্ঞতার কথা ।
    অহেতুক মিথ্যে বলছেন কেন? সত্য মেনে নিয়ে আমাদের সাথে গপ-সপ করুণ , একদম পানসে হবে না
    সে কথা দিচ্ছি ।
    নাছরিনের ভুত আমাদের তিলে তিলে মেড়ে ফেলছে , এ দায় আপনি এড়াতে পারবেন না ।
    এত্ত পচা লেখা কেউ কোনদিন লিখেছে বা পড়েছে এমন জানা নেই ।
    আপনি খুব খারাপ ,খুবই খারাপ ।

  • ছাইরাছ হেলাল

    আপনি কি ম্যাজিক রিয়ালিজমের নিরীক্ষা চালাচ্ছেন এই নাদানদের সাথে ?
    বড়-ই জানতে ইচ্ছে করে ।
    তবে একটি উপকার আপনি করেছেন , আমাদের আর কষ্ট করে কী-বোর্ডের উপর হামলে পড়তে হবে না ।
    আপনার লেখা পড়ার সুযোগ থাকতে কাহাতক আর পণ্ডশ্রম । ন্যাড়া মাথা নিয়ে এ-জায়গায় সে-জায়গায় ঘুরে
    লাভ কী , আপনার বেল তলায় চিরস্থায়ী ঘাঁটি হিসেবে মেনে নেব ভাবছি ।
    বিধাতা এক চোখা হয়ে কলমের দায়িত্ব যখন আপনার সোনার হাতে তুলে দিয়েছে তখন খামোখা কেঁদেকেটে
    কী লাভ ?
    জয় গুরু বলে এই গাছের নীচেই বসে গেলাম ।
    হিংসে করতে হলে যে যোগ্যতাটুকু লাগে সেটুকূ-ই যে নেই তা আপনি চোখে আঙ্গুল দিয়ে নয় মরিচ ডলে দিয়ে
    বুঝিয়েছেন । আমাদের পদে পদে পিষ্ট করে আপনার অগ্রযাত্রা চালু রাখুন ।

    • প্রহেলিকা

      আপনাকে একা একা বসতে দেওয়া যাবে না ভাইয়া আমিও আপনার ঠিক পিছনে বসে পরলাম। নতুন কোনো সিডর আসার পূর্বে আর নড়াচড়ার সম্ভাবনা নেই।

    • বনলতা সেন

      ম্যাজিক রিয়ালিজম হচ্ছে বুঝি ! আপনি আগে কখনও বলেননি । এটিও ঠিক নয় ।
      আপনাদের লেখা না পড়লে যে আমাদের লেখাও ছুট হয়ে যাবে , এটিও ঠিক নয় ।
      এতটা রাগ হলে তো হবে না । আপনার লেখা থেকেই যদি বলে ফেলি ‘ পিত্তল দি না সোনা দি’
      তখন আপনি কী বলবেন ?
      আমার কিন্তু কোন দোষ নেই সব দোষ কিন্তু ঐ নষ্টের গোঁড়া নচ্ছার মুখপুড়ি হতচ্ছাড়ি নাছরিন শালির ।
      আপনি একটু ভাল করে বকে দিয়েন তো ।

      সাহস হচ্ছে না ধন্যবাদ বলার ।

      • ছাইরাছ হেলাল

        আচ্ছা এই যে মিষ্টি মিষ্টি করে সুন্দর গুছিয়ে উত্তর কী করে দেন ?
        মাথার মধ্যে গুছিয়ে সব কিছু সাজিয়ে বসে থাকেন ?
        কী করে রপ্ত করলেন সব গোছানো সব কিছু ?

        এখানে আর কাউকে এমন করে মন্তব্যের উত্তর লিখতে দেখেছি বলে আমার মনে পরে না ।
        কপাল এক খানা , আবার আমার কথা দিয়েই আমাকে উত্তর দেয় … পিত্তল দি না সোনা দি ।
        আশ্চর্য ! আপনি ওটাও জানেন ?

  • ছাইরাছ হেলাল

    প্রহেলিকা……
    নাছরিন কে লিখতে হলে নাছরিনের সব তথ্য মাথায় রাখলে যে ছবি মানস চোখে ভাসবে তাকে নিশানা করে
    লিখতে হবে । সে নান হতে চেয়েছিল, সে কুংফু ক্যারাতে জানে , সূচী কর্মে পারদর্শী , সে বিখ্যাত লেখককে চ্যালেঞ্জ
    করার সক্ষমতা রাখে । অবলীলায় নারকেল গাছে উঠতে পারে । সে গাছের সাথে কথা বলতে পারে । সর্বোপরি সে বিখ্যাত লাইব্রেরিতে সময় কাটায় । ঐতিহ্য প্রিয় হিসেবে পুরনো ঢাকায় সে ঘুরে বেড়ায় বিখ্যাত সব জায়গায় । বাকরখানি তার প্রিয় খাবার । এই চরিত্রটির কাছে প্রেম পত্র লেখা যাবে না এমন নয় , কিন্তু কথা হল কতটুকু যেতে পারবেন ?

    • প্রহেলিকা

      শ্রদ্ধেয় হেলাল ভাইয়া লিখব যখন বলেছি লিখতে বসবোই। হতে সে বিখ্যাত সব লেখককে চ্যালেঞ্জ
      করার সক্ষমতা রাখে আমি সেগুলো আপাতত মাথায় রাখছি না।তবে আপনাকে অনেক ধন্যবাদ তার চরিত্রটি আবার আমার সামনে তুলে ধরার জন্য হয়তো কিছুটা চলে আসবে আমার লিখে তার চরিত্রের প্রতিচ্ছবি। তবে আমি ভাবছি অন্য কথা শ্রদ্ধেয় বনলতা সেন কিভাবে নিবেন আমার লিখাতিকে।যেভাবেই নেন না কেন আমি লিখবই তার আপন সন্মানটুকু বজায় রেখে। আমি একজন অধম কারো সাথে কোনো প্রতিযোগিতায় কোনদিন যাইনি আর যাবোও না কোনদিন শুধু তাকে প্রেম নিবেদন করবো। আমি নিজেও জানি কার লিখার বিরুদ্ধে আমি লিখতে যাচ্ছি। যাইহোক যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সবার সম্মুখে আমার প্রেম নিবেদন করবো। মাথায় রইল আপনার কথাগুলো শ্রদ্ধেয়।

    • বনলতা সেন

      এ তুমি কেমন তুমি চোখের তারায় আয়না ধর
      এ কেমন কান্না তুমি আমায় যখন আদর কর
      জন্মের আগেও জন্ম পরেও জন্ম তুমি এমন
      সুরের ও গভীর সুরে পদাবলির ধরন যেমন
      কথা নয় নীরবতায় সজলতার আখর ভরন
      এ কেমন কান্না তুমি আমায় যখন আদর কর
      এসেছি আগেও আমি যখন তিমি পদ্মাবতী
      কবেকার পুথির শ্লোক তোমার মতই অশ্রুমতি
      অশ্রুর একটি ফোটায় জন্ম আমার আমার মরণ
      নীরবে জাতিস্মরে গল্প বলা তোমার ধরন
      ঝরেছ বৃষ্টি হয়ে আগেয় তুমি আবার ঝর
      এ কেমন কান্না তুমি আমায় যখন আদর কর
      এ তুমি কেমন তুমি চোখের তারায় আয়না ধর
      এ কেমন কান্না তুমি আমায় যখন আদর কর

  • জিসান শা ইকরাম

    এত সুন্দর ভাবে কল্পনা করে লেখা যায় , এই চিঠি না পড়লে তা আমার বিশ্বাস হতো না ।
    স্বপ্নেও কি এমন চিঠি পাওয়া যায় ?
    প্রতিটি লেখায় আপনি নিজকে অতিক্রম করে যাচ্ছেন
    এ কেবল আপনার পক্ষেই সম্ভব – এ বিশ্বাস আপনার গত কয়েকটি লেখা পড়ে জন্মেছে ।

    • বনলতা সেন

      সুন্দর কী না তা আমি জানিনা , এটি আপনাদের বোধের বিষয় । আর উত্তরণ কী না তাও আপনারাই
      দেখবেন । তবে লেখাগুলো যেখানে পৌঁছেছে তা অসম্ভব একটি জায়গা আমার কাছে অন্তত ।
      তাই এখানে আর হয়ত বেশি সময় অবস্থান করা যাবে না ।
      মাটিতে নেমে আসতেই হবে ।
      আপনি সহ সবার উৎসাহে হয়ত আমার সামান্য লেখাকে সমৃদ্ধ করছে বলেই মনে করি ।
      ভাল থাকবেন ।

  • অপরাজিতা সারাহ

    হেলাল ভাই আর প্রহেলিকার সাথে আমিও লাইনে দাঁড়ালাম। এত এত তাবড় লেখকেরা যেখানে হাল ছেড়ে দিয়ে চুপ করে গাছের তলায় বসে ক্ষান্ত দিয়েছে কলমের,সেখানে আমি অধম আর তাদের পিছু না ধরে কি করি?সত্যি,ছাইরাস ভাইয়ের মত আমাকেও এবার কলম থামাতে হবে।আপনি সবাইকে তো লেখায় ছুটি দিয়ে দিচ্ছেন।এইভাবে যা লিখে যাচ্ছেন তাতে আপনার একেকটি লেখা পড়ে নিজেদের কলম দিয়ে যা বেরোয় তা শুধু কলমের খোঁচাখুঁচি বলেই বোধ হচ্ছে আপাতত।লজ্জা পাচ্ছি ভিষন,কলম ধরতেই এখন লজ্জা।কেননা লেখক যেন তেন হলেও পাঠক কিন্তু রুচিশিল আমি,যা তা খেতে পারি না।সেখানে নাছরিনকে নিয়ে আপনার একেকটি লেখা যেন অমৃত,বুঝি নাই বুঝি,মনে হয় যেন তৃপ্তি পাচ্ছি লেখা পড়ে।অদ্ভুত এক আনন্দ হয়।মনে হয় বহুদিন পর সত্যি ‘লেখা’ বলতে যা বোঝায় তাই পড়লাম।সুতরাং,হেলাল ভাইয়ের মতই বলতে হয়,যখন এত ভালো লেখা পড়তেই পাচ্ছি,তখন ছাইপাশ আর লিখে কি লাভ বরং আপনার প্রসাদ গ্রহন করি।সবশেষে আবারো হেলাল ভাইয়ের মত করেই বলি,”আপনি কে?জাতিস্মর?”

    ধন্যবাদ @ছাইরাছ হেলাল,আমাদের হয়ে অনেক কিছু বলে দেয়ার জন্যে।আপনি বলেই বলতে পারলেন,অনেকটা কবিয়াল লড়াই,সেয়ানে সেয়ানে…তানাহলে আমাদের সাধ্য কই এত কথা লিখে জানানোর?
    @প্রহেলিকা, অপেক্ষায় রইলাম আপনার প্রেম পত্রের।উত্তর যুতসই হওয়া চাই।যেন নাছরিন পড়েই কুপোকাত হতে পারে। 🙂

    • বনলতা সেন

      আমার তো মনে হয় ভাল জেনে একটু বেশি ই বলছেন । আসলে ওনারা অনেক ভাল লেখেন বলেই
      হয়ত এমন করে বলেন । আপনি যতই বলুন না কেন , আমি মনে করি আপনি চাইলে আরও অনেক
      ভাল লিখতে পারেন , আমি বুঝছি না আপনি কেন নিয়মিত লেখেন না । আমার তো সবাই আপনার লেখা পড়ি
      মন দিয়েই ।
      আসলে সত্যি বলতে কী , আমার লেখা ,লেখার চরিত্রগুলো আমার খুব আপন , এদের আমি হৃদয়ে স্থান দিয়ে
      হৃদয় দিয়েই ভালবাসি । চরিত্রগুলোর আনন্দে আমি হাসি ,ওদের বেদনায় কী-বোর্ডের পানি মুছি ।

      আমি আসলে কেউ না , তবে ছিলাম একদিন আপনাদেরই কেউ এক জন , হয়ত পরিচিত বা অপরিচিত ।

      ছোট্ট আর একটি চিঠি লিখব যে কোন সময় পরবেন ।
      যেহেতু লেখা বিরতিতে যাচ্ছি । তবে পাঠক হিসেবে আপনাদের কাছাকাছিই থাকব ।
      আপনি ভাল থেকে আপনার লেখা পড়ার সুযোগ দেবেন এ আশা করি ।

      আবার এসেছেন ,পড়েছেন ,এত্ত এত্ত লিখছেন এজন্য কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ।

      • অপরাজিতা সারাহ

        লেখা বিরতিতে যাচ্ছেন?এতো বড় শাস্তি দিচ্ছেন আমাদের?এটা কি ঠিক?আশা করি বিরতি খুব স্বল্প দৈর্ঘ্যেরই হবে? 😉

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য