জন্মের এই দিনে

রিমি রুম্মান ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০১৬, শনিবার, ১১:০৫:৫৪পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২৪ মন্তব্য
প্রতিবার জন্মের এই দিনে এদেশে কোন না কোন বন্ধু চম্‌কে দেয়। চমৎকার এক ডিনারের আয়োজন করে দামী কোন রেস্তোরাঁয়। আলো-আঁধারির ঘোরলাগা এক পরিবেশ। রকমারি সুস্বাদু খাবার। শেষে রেস্তোরাঁয় কর্মরত ইউনিফর্ম পরিহিত’দের কেক এবং ক্যান্ডেল হাতে টেবিলের চারপাশে দাঁড়িয়ে “হ্যাপি বার্থডে” গান গাওয়া __ সবমিলে সে এক অসাধারন ভালোলাগা ময় পরিবেশ ! জানি, আমার প্রতি এটি বন্ধুদের ভালোবাসা’র অংশবিশেষ। 
দেশে আমার মধ্যবিত্ত পরিবারে কখনোই ঘটা করে জন্মদিন পালন করা হয়নি। আর তাই অনভ্যস্ত আমি মনে মনে হিসেব করি। ভালোবেসে এই বিদেশ বিভূঁইয়ে যে এতকিছুর আয়োজন করলো, তাঁর কত ডলার খরচ হলো ! ততো ডলারে কত টাকা হয় ? টাকা এবং ডলারের গুন, ভাগ করি। চোখের সামনে ভেসে উঠে সেই মায়ের ফ্যাকাসে মুখ, যাকে বেইলি রোডে কে এফ সি’র সামনের ফুটপাতে দেখে আঁতকে উঠেছিলাম এইতো সেদিন, শেষবার যখন দেশে গিয়েছিলাম। কোলে এতো ছোট শিশু, যেন একেবারেই সদ্য জন্মানো ! এতটুকুন শিশুটিকে কোলে নিয়ে এমন ধুলো-বালিময় খোলা রাস্তার ধারে বসে থাকা এক মা ! কেবলই খাবারের আশায় !
ক্ষুধার্তের করুন চোখজোড়া আমায় কেবলই তাড়া করে ফিরে খাবারের টেবিলে। ইউনিফর্ম পরিহিতা সোনালি চুলের মেয়েটি যখন স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসের কোক এ দু’টুকরো বরফ দিয়ে যায়, ঢেউ খেলে যাওয়া সেই কোকের মাঝেই ভেসে উঠে অভুক্ত মুখগুলো। আমার আর সে পানীয় গলা বেয়ে নামতে চায় না……
প্রতিবার জন্মের এই দিনে স্বামী উপহার হিসেবে নিজের পছন্দমত কিছু কেনার জন্য অর্থ দিয়ে থাকেন। সেই অর্থটুকু সকলের অগোচরে ব্যয় করি। কিছু মানুষ থাকে, যাঁদের বুকের গহিনে অদম্য ইচ্ছা নিজের জন্যে, পরিবারের জন্যে, সমাজের জন্যে কিছু করার।  দু’চোখে স্বপ্ন’রা ডানা ঝাঁপটায়, অথচ সামর্থ্য নেই তা বাস্তবায়নের। হেঁটে যেতে চায় জীবনের পথ ধরে অনেকদূর। শুধু একটু হাতটুকু ধরে কিছুদূর এগিয়ে দিলেই একাকি পাড়ি দিতে পারে দুর্গম সব পথ__ এমন কারো জন্যে উৎসর্গ করা হয় আমার উপহারটুকু।
এই যে “হাত ধরে কিছুদূর এগিয়ে দেয়া” কিংবা অনেকগুলো মানুষের সুখী মুখ দেখা __ এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে ?
শো’কেস এ সাজিয়ে রাখা ব্র্যান্ডনেইম ব্যগ কিংবা দিনের পর দিন বাক্সবন্দী হয়ে থাকা গহনা কি আমায় সে আনন্দ দিতে পারে ?
অতঃপর একদিন আমি দেশে গেলে, সেইসব মানুষগুলোর সাথে দেখা হয়। তাঁরা আমায় সাফল্যের গল্প শুনায়। হাতের উল্টোপিঠে চোখ মুছে। ভেজা চোখ। সেই নোনাজল সংক্রামক হয় নিমিষেই। ভেসে বেড়ায় নোনা বাতাসে। সব নোনাজলই তো আর কষ্টের নয়। কখনো কখনো তা আনন্দের, আশীর্বাদের।
শুভকামনা সকলকে…
২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬
নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্র
৩৮৭জন ৩৮৬জন
0 Shares

২৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ