জন্মদিনের শুভেচ্ছা-

তৌহিদ ৩১ আগস্ট ২০১৯, শনিবার, ১২:০১:৪৩পূর্বাহ্ন একান্ত অনুভূতি ৮৭ মন্তব্য

এই সুন্দর ধরাধামে প্রতিটি মানুষই একটি নির্দিষ্ট দিনে জন্ম নেয়। পরিবারে কত হাসি কত সুখ নেমে আসে সেই শিশুটির জন্মদিনে তা বলাই বাহুল্য। শিশুটি ধীরে ধীরে বড় হয়, সামাজিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরিচিত হয় বিভিন্ন মাধ্যমে। পুরো প্রকৃয়াটি আমার কাছে প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় বলে মনে হয়। আর সে কারণেই পরিচিত আপন মানুষদেরকে আমি সব সময় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতাম একটা সময়।

এরপরে পরিচিতি ঘটে বিভিন্ন অনলাইন সামাজিক মাধ্যমগুলোর সাথে। ফেসবুক, ব্লগ, ট্যুইটার যারা ব্যবহার করেন এমন কিছু মানুষের সাথে গড়ে ওঠে সখ্যতা। ভার্চুয়াল জগতের মানুষদের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে দেখলাম বেশিরভাগ মানুষই আসলে তাদের জন্মদিন পালন করছে বছরের দু’টো। একটি ভার্চুয়াল আর একটি সত্যিকারের জন্মদিন। ভার্চুয়াল জন্মদিন হলো মনগড়া সার্টিফিকেট বয়স। এই কার্যকারণটিতেই আমার চরম খারাপলাগা তৈরি হয়। আমার নিজের জন্মদিনের ভার্চুয়াল বা সার্টিফিকেট তারিখ আর সত্যিকারে তারিখ আলাদা। একজন মানুষ আমাকে ভালবেসে, শ্রদ্ধা-সম্মান জানিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন অথচ আমি স্বীকার করছিনা যে সেই তারিখটি আসল তারিখ নয়। এটি যখন বুঝতে পারলাম তখন এই খারাপলাগা থেকেই আমি আর কাউকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাইনা। দীর্ঘ কয়েক বছর পর আজ তার ব্যত্যয় ঘটলো।

আজ ব্লগার আরজু মুক্তার জন্মদিন🌹

সোনেলা ব্লগে লেখার জন্য আমার আমন্ত্রণ গ্রহণ করে প্রথম যে মানুষটি সাড়া দিয়েছিলেন তিনি ব্লগার আরজু মুক্তা। সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে অনেক অভিনন্দন এবং প্রাণঢালা শুভেচ্ছা রইলো।

গত ঈদুল ফিতরের দিন আমার নানা প্রচন্ড অসুস্থ হন, রক্তশূন্যতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। রক্তের জন্য সারা শহরে আমার পরিচিতদের জানিয়ে ফোন দিচ্ছিলাম পাগলের মতো। ফেসবুকে একটা রক্ত চাই শিরোনামে সাহায্য পোস্টও দিয়েছিলাম। সেই পোস্ট দেখে আমার কাছে প্রথম যিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ইনবক্স করেছিলেন তিনি ব্লগার আরজু মুক্তা আপু। মজার বিষয় হচ্ছে তিনি যখন আমাকে ইনবক্স করেন তখন আমার কাছ থেকে তিনি প্রায় হাজার কিলোমিটার দূরে ছিলেন। সেখান থেকেই তিনি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে সেদিন ভার্চুয়াল জগত থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারে নিজের বোনের মতন আমাকে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করেছেন। হয়তো কোনও একদিন দেখা হবে ভেবে ভার্চুয়ালি ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাকে ছোট করতে চাইনি সেদিন আরজু আপু। সুযোগ পেয়ে আজ এই লেখার মাধ্যমেই মন থেকে তা জানিয়ে দিলাম।

আরজু মুক্তা অনেক ভাল লেখেন, অত্যন্ত স্পষ্টবাদী মানুষ। সোনেলার প্রতি তিনি হচ্ছেন নিবেদিতপ্রাণ। পরিবার-পরিজন এবং নিজের ব্যক্তিগত কাজের ফাঁকে সময় করে সোনেলায় অন্যান্য লেখকদের লেখাতে তার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তার লেখা সিনেমা রিভিউ থেকে শুরু করে রম্য, কবিতা, গল্প এবং নিজের ভালোলাগা স্বনামধন্য লেখকদের লেখা বইয়ের রিভিউ – এসবের প্রতিটি মাধ্যমেই তিনি নিজেকে দারুণভাবে প্রকাশ করেছেন সোনেলার পাঠকসমাজে। এভাবেই পাশে থাকবেন প্রিয় লেখক।

সোনেলা পরিবারের পক্ষ থেকে আপনার জন্য এই লেখাটিঃ

প্রিয় লেখক, আপনি কি জানেন- অপরূপা টাঙ্গাইল শাড়ি পরিহিতা আপনি যেদিন অপেক্ষায় ছিলেন সোনেলার প্লাটফর্মে, আপনার সেই লালচে ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়ে আপনাকে দেখবো বলে আমরাও সেদিন ধরেছিলাম মধ্য রাতের ট্রেন? সোনেলায় আগমনের কারণ জানতে চেয়ে অকালকুষ্মাণ্ডদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়েও আপনি আমাদের শুনিয়েছেন নীলাম্বরী কবিতা। কাঁশফুলের শুভ্রতায় নিজেকে সজ্জিত করে হাতে আকাশী কাঁচের চুড়ি পরে প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা আপনাকে পেয়ে পাঠক হিসেবে এক অদৃশ্য মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলাম আমরা সেদিন। সময়ের সাতকাহনে দিন মাস বছর পেরিয়ে সোনেলা আপনাকে প্রিয় বৃষ্টি নূপুরের লেখক বলে সম্মোধন করে একটি চিঠি দিয়েছে আজ। সেই চিঠির প্রতিটি লাইনে লেখা আছে বৃষ্টি কাব্যের কথা। জানি সোনেলাকে ভালোবাসেন বলেই আপনার ভালোবাসারা অভিমানী । তবুও চিঠিটি পড়বেন জেনে আমরা সত্যিই আনন্দিত।

কখনো যেন শুনতে না হয় আপনি ভালো নেই আরজু মুক্তা। ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন সবসময়।

সোনেলা পরিবার আপনাকে পেয়ে গর্বিত।

৪৯৪জন ৩জন
330 Shares

৮৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য