জন্মটান

নিবিড় রৌদ্র ২০ জুলাই ২০২২, বুধবার, ০৪:০২:২৯অপরাহ্ন কবিতা ৪ মন্তব্য

 

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে ভাটির পাড়া গাঁয়ে
জলে ভাসা জন্ম যদি দিতো আবার মায়ে,
হাঁসের শ্রীতে মাছের হৃতে কাটতো সারাবেলা
ঢেউয়ের প্রীতে জমতো কত স্বভাবজাত খেলা;

কলমি কলার ভেলায় চড়ে বর্ষা মোদের বাড়ি
আসবে বলে ঠিক সময়ে দিতো বছর পাড়ি,
নাও ঝিমানো তামুক জ্যেঠুর ডাকতো নাকে মেঘ
জলের ‘পরে নাওয়া-খাওয়া জলের ‘পরে ত্যাগ!

রোজ বিহানে খোকাখুকু দিঘির সাঁকো বেয়ে
পাঠশালা ধায় কিচিরমিচির ফিঙে শালিক রা’য়ে,
ক্ষেত-ডোবা ওই শ্যামলা ঘাসের দিঘির চারিদিক
ভরতো বানের ফুলকুঁড়িতে গড়তো প্রাচীন ঋক্।

শান্ত দুপুর শ্রান্ত মাঝির গামছা বটমূলে
সাষ্টাঙ্গে মায়ার শরীর হেলিয়ে দেওয়ার ছলে,
জালের ভাঁজে ছড়িয়ে দিতে কনক জেলের গান
অলস চাষীর রাখাল বাঁশির নিগূঢ় কলতান;

অচিন গাঁয়ের কদম ভেসে মেটো গাঙের স্রোতে
আমার গাঁয়ে ঠেকতো যে কার উদাস পরান ছুঁতে,
পুঁথির সুরে নকশি বুনে হিজল বনের মউ
গৌর চানের মেয়ের পাশে সুরুজ আলীর বউ!

শেওড়া তমাল তালের রূপে অরুণছটা এসে
গোধূলি রাগ সওদাগরের বজরাতে যায় মিশে,
মহাজনী ঘাটের হাটে নামার আগেই রাত
মা নামাতো চুলার থেকে গরম হাড়ির ভাত;

কুপির তেলে সলতে জ্বলে বেড়ার ফাঁকে তারা
অমানিশার অবাক-কৃষ্ণ পূর্ণিমাতে সাড়া,
খরের গাদার পিঠে মিঠে হাওয়ায় দোলে নীড়
খালের ওপার উজান ভিটার গীত আসরে ভিড়;

গল্প বুড়োবুড়ির মুখে ডাইনি- প্রেত- পরী
কোন সে দেশের রাজারকুমার রাজ্য গেলো ছাড়ি,
কোন সে হাওড় ভেঙ্গে আঁধার রাণীর মহল ঘরে
রাক্ষস-দল ঝাপিয়ে পড়ে- হা-রে রে-রে রে-রে!

স্বপ্ন জুড়ে দৈত্য দানব তাড়িয়ে- গহীন ঘুম
পারাতে এলে পাতালপুরীর কন্যা নিয়ে চুম,
বলব তাকে হেসে তখন যাও ফিরে যাও ভাই
আমার পিরিত জলের সনে- নদীর জীবন চাই;

আমার কেবল ইচ্ছে জাগে শালুক ফুলের মন
মালার মত জড়িয়ে র’বে অঙ্গে সারাক্ষণ,
জ্যোৎস্নাবালা নাম হবে তার কালো হওয়ার পরও
এমন কালোর প্রতি আমার জন্মটান যে বড়ো।

৯৯জন ৩০জন
0 Shares

৪টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ