দ্বীপ জেলা ভোলায় সন্ত্রাস,নৈরাজ্য আর অরাজকতার পরিবেশ সৃষ্টিতে রীতিমত গডফাদার বনে গেলেন পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনির। সন্ত্রাসের লীলাভুমিতে পরিনত করে চলছেন ক্ষমতাধর এই জনপ্রতিনিধি। আধিপত্য বিস্তারে মরিয়া হয়ে শান্ত ভোলা শহর এখন অশান্ত। বেশামাল! বেপরোয়া ! একে অসভ্যতা বলা যেতে পারে ? শাসক দলের ব্যানার সেটে নাানাবিধ অন্যায় অপকর্মের ফিরিস্তি রচনা করে অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন তিনি। যেন সম্পদের পাহার গড়েছেন। রামরাজত্ব কায়েমে সেখানকার জনমনে ইতোমধ্যে রূপ নিয়েছে গডফাদার মেয়র মনিরুজ্জামান মনির। বর্বরোচিত কর্মকান্ডে নিজেকেও পরোক্ষভাবে জানান দিচ্ছে তিনি ভোলার আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ত্রক। পুরো শহর জিম্মিদশায় রেখেছেন। জিম্মি প্রশাসনও। যার জলন্ত দৃষ্টান্তও রয়েছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কি খাবি খাচ্ছে নাকি গডফাদারের ক্ষমতায় অসহায় ? প্রশাসনকে ব্যবহার করেই আবার হয়রানী করা হচ্ছে নীরিহ মানুষদের। করা হচ্ছে আটক। বাসায় বাসায় তল্লাসীর নামে হেনস্থা। সর্বত্র আতংক! পুরুষ শূন্য শহরের পাড়া মহল্লা। প্রশ্ন উঠেছে, ইতিহাসে পাকহানাদার’র ঘূন্যতম অধ্যায়’র পথ বেয়ে চলছেন গডফাদার আখ্যা পাওয়া মেয়র মনির। অবৈধ পন্থায় হাতিয়ে নেয়া অর্থের বিনিময়ে নিজের অন্ধকার অধ্যায় ধামাচাপা দিতেও পারঙ্গম। বিভিন্ন পন্থায় ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় আবার সমাজে সাধুও সাজেন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড’র প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমেদ’র ভাগ্নে তিনি। আর এর ফলেই যতসব ঘটন অঘটনের পটিয়সি হতে সক্ষম হতে পেরেছেন মেয়র মনির। দলের মধ্যে থেকেই কথা উঠছে, ভাগ্নের বিবেগবর্জিত কর্মকান্ডের খোঁজ রাখছেন মামা। এতে কি দলের ইমেজ  বাড়ছে ? নাকি ভেস্তে যেতে চলছে যারা দলের জন্য জীবনবাজী রেখে ত্যাগ শিকারের রাজনীতির নজীর স্থাপন করেছিলেন।
দলীয় একাধিক সূত্রের ভাষ্য,ভোলার আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত প্লাটফর্মে দাড় করতে যাদের ওপর  নেমে এসেছিল অত্যাচার,নীপিড়ন,নির্যাতন। মাসের পর মাস বন্দীশালায় কাটিয়েছেন। তৎকালীন সময়ে সেই নির্যাতনের ক্ষত এখনও শুকায়নি দলের নিবেদিত প্রানদের। নির্যাতনের খড়গ কিংবা রক্তের বিনিময়ে সংগঠনকে শক্ত ভীতে গড়তে অন্যতম ভুমিকায় ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের আদর্শ লালনকারী রাজপথের লড়াকু সৈনিক ভোলা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহিন। যিনি পুরো ভোলা পেরিয়ে দক্ষিনাঞ্চলে তুখোর ছাত্রনেতার পরিচিতি লাভ করেন। যিনি মেধার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অন্যায়ের কঠোর প্রতিবাদকারী। মোস্তাক আহমেদ শাহিন লেখনী শক্তির জগতেও দ্বীপ জেলা ভোলায় স্বচ্ছ কলম সৈনিক। দক্ষিন বাংলায় আওয়ামী ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যা দৃষ্টান্ত। সাবেক এই মেধাবী ছাত্রনেতা মেধার বিকাশে পরিচ্ছন্ন লেখনীতিতে জাতির বিবেগকে সর্বদা জাগ্রত রেখেছেন। বস্তুনিষ্ঠু সংবাদ পরিবেশনে অবিচল থাকায় ভোলায় মোস্তাক শাহিনের ইমেজ গড়ে বিবেগ বার্তা হিসাবে। ফলে রাজনীতি আর লেখনীতে মোস্তাক শাহিন ভোলার আপামার মানুষের কাছে হয়ে উঠে আপনজন। সর্ব শ্রেনী পেশার মানুষের জনপ্রিয়। মুলত তাঁর জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে তীল তীল করে গড়ে তোলা ইমেজ ক্ষুন্নে উঠেপড়ে লেগেছে সমাজে বসবাসকারী মানুষরূপী শকুন। ইর্শ¦ান্বিত হয়ে মোস্তাক শাহিনের জনপ্রিয়তা ক্ষুন্নের অপচেষ্টায় মেকানিজম’র জাল বুনে চলছেন পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান মনির। তাকে সন্ত্রাসী বানানোর অপচেষ্টায় মত্ত মেয়র মনির। ফটোশপে ছবি এডিটিং করে সন্ত্রাসী বানিয়ে ক্রসফায়ারের মিশনে রয়েছেন গডফাদার আখ্যায়িত মেয়র মনির ও তার শলাপরামর্শদাতারা। গডফাদার মনিরের নোংরামীতে তাজ্জব বনে গেছেন পৌর শহরের নারী পুরুষা। দলীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোলার পৌর মেয়র সন্ত্রাসের গডফাদার আখ্যা পেয়েছেন অনেক আগেই। ভোলা আওয়ামী লীগকে বিভাজনের রূপ রেখার ভিলেন মনিরুজ্জামান মনির। যারা ২০০১ সালের পর জীবনের মায়া ত্যাগ করে ভোলায় দলকে সংগঠিত করেছে তাদের প্রান কেড়ে নিতে মাঠে নেমেছেন মেয়র মনির।
ওদিকে, ভোলায় পৌর মেয়র ও সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতির মধ্যে সৃষ্ট অপ্রতিকর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এজাহারভুক্তদের পুলিশ  গ্রেফতার করতে না পেরে এ পর্যন্ত ৫ জনকে আটক করেছে। এরা হলেন ঢাকায় পড়–য়া ছাত্র তাসভী, বাবুর্চি সোহাগ, মাংস ব্যবসায়ী কবির, রিক্সা চালক বিল্লাল হোসেন ও চা-দোকানী মোঃ বাকী। পুলিশের গ্রেফতার আতংকে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়েছে মুসলিম পাড়া এলাকা। গত ২৮ মার্চ সৃষ্ট ঘটনার পর থেকে প্রায় প্রতি রাতে মুসলিম পাড়া ও উকিল পাড়া এলাকায় পুলিশী উপস্থিতিতে ব্যাপক বোমাবাজীর ঘটনা চলছে অভিযোগ এলাকাবাসীর। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কে বা কারা এমনটা করছে সে ব্যাপারে কোন ক্লু উদ্ধারে সমর্থ হয়নি। নীরিহ দোকানী ও সাধারন মানুষকে পুলিশ অহেতুক আটক করায় জনমনে আতংক বিরাজমান। মুসলিম পাড়ার তেমাথা থেকে আলীনগর সংযোগ সড়ক পর্যন্ত রাস্তার দু’পার্শ্বের দোকান পাট বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মুসল্লীরা পুলিশী গ্রেফতার ও সন্ত্রাসী হামলার ভয়ে মসজিদে যেতে পারছেন না। অভিভাবকরা সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন এইচএসসি পরিক্ষার্থী ছেলে মেয়েদের নিয়ে। পুলিশী আতংকে নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র রাত যাপন করতে হচ্ছে।
এদিকে, পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান কর্তৃক জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহিনকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আটকের দাবী বাস্তবায়ন না হওয়াতে ১ এপ্রিল রোববার এক সমাবেশ থেকে পুলিশ প্রশাসনের পানি ও পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা বন্ধের ঘোষনায় হতবাক হয়েছেন প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারীগন। এর আগে ২৮ মার্চ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে প্রশাসনকে আসামী গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম অন্যথায় পৌরবাসীর নাগরিক সুবিধা,প্রশাসনের পানি ও পয়ঃনিস্কাশন সুবিধা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষনা দেন মেয়র মনিরুজ্জামান মনির। নিজেদের দলের অভ্যন্তরীন ঘটনায় পৌর মেয়রের ন্যাক্কারজনক ঘোষনায় অনেকেই হতাশ ! অন্যদিকে, সোমবার রাতে মোস্তাক শাহিনের বাড়ি সংলগ্ন ব্রীজের উপর এসআই শাহে আলমের নেতৃত্বে একদল পুলিশকে টহল পিকআপসহ পরিলক্ষিত হয়েছে। পিকআপের কাছে গিয়ে এসআই শাহে আলমকে খুঁজে পাওয়া না গেলে তার সেলফোনে কল করলে রিসিভ করেননি। পুলিশ সদস্যরা জানিয়েছেন,মেয়রের দায়ের করা মামলার তিনি তদন্ত কর্মকর্তা। ভোলা থানার ওসি মজিবুল হক জানিয়েছেন আটককৃতদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মুসলিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা শামছুল হক (৭০) বলেন, বিএনপি-জাতীয় পার্টির ক্ষমতার আমল দেখেছি। এমনকি আরো একবার আওয়ামী লীগের ক্ষমতাও দেখেছি। নিজের দলের মধ্যে সৃষ্ট তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন তুলকালাম কান্ড এ জীবনে দেখিনি। মামলা যাদের নামে হয়েছে পুলিশ তাদের ধরবে। কিন্তু নিরীহ মানুষ, দোকানদার রিক্সা শ্রমিকরা কি দোষ করেছে? গৃহিনী সাজেদা আকতার অভিযোগ করেন, লাশের গাড়িতে যারা হামলার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে মেয়রের আগে ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। মনিরুজ্জামানকে এই এলাকা থেকে আমরাও ভোট দিয়েছি। ভোটের আগে তার নামে অনেক নেতিবাচক কথা শুনেছি। আমরা বিশ্বাস করিনি। মুসলিম পাড়ার ঘটনায় তার স্বশরীরে উপস্থিতি সেদিনের শোনা কথা গুলোকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোস্তাক আহমেদ শাহিনের মা কহিনুর বেগম (৬১) কান্না জড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছেলে আওয়ামী লীগ আর পৌর মেয়রের মামা তোফায়েল আহমেদ এর জন্য অনেক নির্যাতন নিপীড়ন সহ্য করেছে। ছেলে আওয়ামীলীগ করার অপরাধে ওর স্কুল শিক্ষক বাবাকেও গ্রেফতার হতে হয়েছে। আমার বাড়িতে রাতের অন্ধকারে অগ্নিসংযোগ করেছে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনের ৩ দিন পর। আওয়ামী লীগের দুর্দিনে আমার ছেলে এই শহরের ছেলেদের নিয়েই আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছে। আজ আমার ছেলেকে হত্যা করতে যারা ষড়যন্ত্র করছে এদের জন্যই আমার মেধাবী ছেলেটা তার উন্নত জীবন গঠন করতে পারেনি। এক বছর পুর্বে আমার ছেলের ওপেনহার্ট সার্জারী হয়েছে। আওয়ামী লীগ এর কোন নেতা এক পয়সা দিয়ে সাহায্য করেনি। অসুস্থ্যতার কারনে গত দু’বছর শাহিন রাজনীতি থেকেও দুরে । সাবেক তুখোড় ছাত্রনেতা মোস্তাক আহমেদ শাহিনের মা আরো বলেন, শুনেছি, কম্পিউটার দিয়ে কিভাবে ছবি বানিয়ে বাজারে লিফলেট ছেড়েছে শাহিনের বিরুদ্ধে। এ সবই ষড়যন্ত্র। আমার ছেলেকে ভোলার মানুষ চিনে। আমার ছেলের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিতরা ওকে খুন করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। আমি ওকে আল্লাহ’র হেফাজতে আর ভোলার সাধারন মানুষের সেবায় উৎসর্গ করলাম। আমার সন্তানতুল্য জামাতার লাশবাহী গাড়িতে বাঁধা প্রদানের ঘটনায় বিএনপি-বিজেপির নেতারাও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমার জামাতা মারা যাওয়ার সাথে সাথে শাহিন প্রথম এসএমএস করে মনিরকে জানিয়েছে। শাহিনের সাথে ওর মনস্তাত্বিক দুরত্ব থাকলেও আমার বিশ্বাস ওকে কেউ ভুল পরামর্শ দিচ্ছে।
লেখক 🙁 সাংবাদিক/ রাজনৈতিক বিশ্লেষক)

২০০জন ২০০জন
0 Shares

৩টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ