জগা খিচুড়ি

আরজু মুক্তা ১৫ জুন ২০২১, মঙ্গলবার, ০৮:৫০:১২অপরাহ্ন রম্য ২৫ মন্তব্য

লকডাউন সর্বাত্মক বিধিনিষেধ মেনে আবার বাড়লো। বৃষ্টিও টিপ টিপ ঝরছে। আবার ঝড়ও হচ্ছে। খিচুরি হবে না, তাও মানতে চাচ্ছে না মন। ইলিশ খিচুরি খাইতে মন আকুলিবিকুলি করতেছে।

আপনারা আবার কিছু ভাবিয়েন না। করোনাকালে কোনটা রসিকতা, কোনটা সিরিয়াস, কোনটা রস + সিরিয়াস বোঝা মুশকিল। এক রসিক বন্ধু বললো, সবটা ঐ মাস্কের দোষ। কেউ পরছি মাথায়, কেউ থুতনিতে, কেউ কানে পতাকার মতো, কেউ আবার উপরে হেলমেটের মতো। মানুষ এখন তাই তাপ ও চাপ দুটা মিলায় আছে।

যাই হোক, কন্যা রাশির জাতিকা ধনু ভাঙ্গা পণ যখন করেছি ; তখন মিস নাই। আজ রাতেই খাবো ইলিশ খিচুরি। রেডি হয়ে গেলাম বাজারে। জানেন তো মাছের বাজারের হাউ কাউ। পরিচিত হলে তো কথাই নেই। আপা, ম্যাডাম আসেন, টাটকা মাছ, এখনি আসছে, লেজ বড়, ফুলকা লাল, নদীর মাছ, আজ দাম কম, কাল কিন্তু পাইবেন না। হায়রে কথার ফটফটানি।

শেষ পর্যন্ত কার্তিকের দোকানে দাঁড়ালাম। আফা পানির দরে আজ ইলিশ, নিয়া যান। এই দেখেন : এখন আনছি। জাল শুকায় নাই। পাশের মাঝি বুধো আবার হাঁক দিচ্ছে।  আফা, আমারটা কোয়ারেন্টাইন ইলিশ।

কোয়ারেন্টাইন ইলিশ মানে?

মাছ এখানে  নিয়ে আসার আগে কোল্ড স্টোরেজে ছিলো। ওখানে তো সামাজিক দূরত্ব মেইন টেইন হয়নি। আমি কিনে এনে, এই দেখেন আলাদা আলাদা বক্সে রাখছি।

সিন্ধান্ত নিলাম, কোয়ারেন্টাইনড মাছ কিনবো। বাসায় এসে কেটে বেছে, যেগুলো ভাজি করবো তা আলাদা করে হলুদ, মরিচ, লবণ, ধনিয়া গুঁড়া দিয়ে মেখে রাখলাম। খিচুরি রাইস কুকারে দিলাম পেঁয়াজ ছাড়া। এই রান্না,  যখন পেঁয়াজের দাম বেড়েছিলো। তখন শিখেছিলাম। মেথি দিয়ে খিচুরি। পিঁয়াজ + আদা + রসুন ছাড়া।

ভাবলাম, টেবিলে যাই। একটু লেখালেখি করি। লেখকরা লেখা ছেড়ে দিচ্ছে। রাইটার্স ব্লক নিয়ে ই লিখি। আশ্চর্য ! ঘুম থেকে উঠে দেখি…..১২:০৫ ! বিলাসিতা পাইছে ঘুমকে।

কিন্তু একি। রাইস কুকার ফাঁকা। ওভেনে এক পিস ইলিশ ভাজাও নেই। ডাইনিং তন্ন তন্ন করে খুঁজে নিশানাও পেলাম না। কে খেলো ? ভুত ঢুকছে নাকি ? হঠাৎ শুনি ঘড় ঘড় আওয়াজ। আক্কেলগুড়ুম। গেস্ট রুমে ভুড়িওয়ালা এক লোক ঘুমাচ্ছে নাক ডেকে। কি এক সুর যে তুলছে ? বিসমিল্লাহ সাহেবের সানাই এর সুরও হার মেনে ফেলেছে।

: এ…ই..ই ! তুমি কে ?

: আমি, আবদুল। ম্যাডাম আমি মামদো চোর।

: ঐটা আবার কি?  যাই হও। তুমি আফ্রিকান হও। সোমালিয়া হও। কিন্তু খিচুরি খেয়েছো কেনো?

: কি করবো ? আপনার সব ঘর খুঁজে কিছুই পাইলাম না। তাই খাইলাম। এতো মজা হইছে। আমি ওভারলোড করে ফেললাম। শরীল চলছিলো না। ঘুমায় গেছি। আচ্ছা,  এখন যাবো আমি।

বলেই, দূরে কি এক্টা দড়ির সাথে প্যাঁচানো রিং ছুঁড়ে দিলো। কিছু বোঝার আগেই পাইপ বেয়ে নামতে লাগলো।

: আচ্ছা।  তোমরা চোরেরা লকডাউন মানো না ?  আবার মাস্ক ছাড়া, চুরি করতে এসেছো?

: কি যে কন না ! লেখকদের মাথা আসলে আউলা ঝাউলা। করোনাভাইরাস চুরি করে আমাদের শরীলে ঢুকে। ওরা কি মাস্ক পরে ?

৫২৪জন ২১৩জন
0 Shares

২৫টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

সাম্প্রতিক মন্তব্যসমূহ