11057908_10206282920448301_1949717251032263604_n
একঃ অনেকক্ষণ থেকেই ভাবছে অমৃতা, এই বুঝি ফোনটা আসবে। অপেক্ষা মানুষকে ধৈর্য্য ধরতে শেখায় নাকি ধৈর্য্যের পরিণতি অপেক্ষা, এখনও বুঝে উঠেনি। সে বলে গেছে ফোনটা যেনো মুঠোর ভেতরই রাখে। অনেকগুলো টেক্সট করেও উত্তর আসেনি। একদিনে অশান্তি-অস্থিরতা আর অন্যদিকে অভিমান। সূর্য এমন কেন? অপেক্ষা করেছে, কিন্তু এভাবে অপেক্ষা এ জীবনে কোনোদিনও করেনি।

দুইঃ অধিকার এমন একটি অনুভূতি, একটু বুঝে নিলে আকাশের চেয়ে বিস্তৃত হয়ে যায় তার সীমানা। যখন পরিচয়, তখনকার সেই অমৃতা আর এই এখনকার অমৃতার মধ্যে দিন-রাতের পার্থক্য। কোমলতা কেমন জানি রূক্ষ্ণ, সহজিয়া সারল্যও অনুপস্থিত। এসব কথা সূর্য প্রায়ই বলে। আচ্ছা একা একা কি বদলে যেতে পারে কোনো মানুষের মন কিংবা চরিত্র? সময়-পরিবেশ সর্বোপরি সঙ্গতাও কি এজন্য কোনো প্রভাব বিস্তার করেনা?

তিনঃ মুঠো থেকে ফোনটা আবারও বের করলো। একটা টেক্সটও নেই। আবারও হাওয়ায় ছুঁড়ে দিলো কন্ঠ। “সূর্য কোথায় তুমি?” উত্তর কবে পাবে সে কথা না ভেবে আরোও একটি টেক্সট দিলো অমৃতা। সকলেই বলে আবেগ-অনুভূতি এক তরফা হয়না। আমরা যখন কাউকে ভাবি, সেও ভাবে। তাহলে কেন এমন ছটফটানি নেই সূর্যর? এখনও যখন “অমৃতা” বলে ডেকে ওঠে, কাঁপতে থাকে সে। কিভাবে বোঝাবে সেই একই লাজুক-সহজ-সরল অমৃতার সে আজও? যদিও রাগ বেড়েছে, কিন্তু একটু আহ্লাদীর সাথে টেনে নিলে এখনও সেই কিশোরী বালিকা আবেগ।

চারঃ এতোক্ষণে প্লেন শুধু মাটি স্পর্শ করেনি, সূর্য ওর গন্তব্যেও পৌঁছে গেছে। অথচ একটা ফোন নেই। মেনে নিলো ফোন করতে পারছেনা কোনো না কোনো সমস্যায়। তা বলে একটা শব্দও কি লেখা যায়না, “পৌঁছেছি?” নিশ্চিন্তে নিঃশ্বাসটুকুর বিদায় হয়েছিলো সেদিন, যেদিন থেকে সূর্যর প্রেমে পড়েছিলো অমৃতা। হায়রে প্রেম। সূর্য এসে একদিন বলে, “আমি কি বলেছি, আমায় তুমি ভালোবাসো?” ওই কথায় খুব যন্ত্রণা হয়েছিলো অমৃতার। সেও বলেছিলো তখন, “তোমাকে তো আমিও বলিনি ভালোবাসি বলে, আমাকেও ভালোবাসতে হবে?” ওভাবে অমৃতা বলবে সূর্য কিন্তু ভাবেনি।

পাঁচঃ বারোটি দিন কেটে গেলো, সূর্যের মনেও নেই একটি বছর হয়েছে ওদের দাম্পত্য জীবন। যোগাযোগের মাধ্যমগুলো অসমাপ্ত সেতুর মতোই ঝুলে আছে। কিন্তু অমৃতার আবছায়াময় আবেগ এখনও উপচে পড়ে। এটুকু বুঝে গেছে এ জীবনে আর ফেরার উপায় নেই। আসলে ফিরতে কি আদৌ চায় অমৃতা? “সূর্য একটু তো জানাও। কোথায় তুমি?” চারদেয়ালের বাইরে চোখ রাখার জন্যে একটি জানালা, আকাশ দেখা যায়না। রাত জড়িয়ে নিয়েছে। আর কৃত্রিম আলোগুলো কেড়ে নিয়ে রাতের সৌন্দর্য। একদিন এভাবেই দাঁড়িয়ে ছিলো অমৃতা, জানালার বাইরের আকাশ দেখেছে মাটি থেকে শূণ্যে উঠে গেছে ও। চোখটা অজান্তেই বন্ধ।

ছয়ঃ অতঃপর ফোনটা বেজে উঠলো। নাহ সূর্য তার কন্ঠ শোনাতে চায়না। টেক্সট ম্যাসেজ, “পৌঁছেছি।” অভিমান সাঁতার কেটে কেটে পাড়ে এলো তীব্র জোয়ার হয়ে। “এতোক্ষণে? একদিন বুঝবে কি হারালে!” আবার বিপ বিপ শব্দ, “কি মিষ্টি একটা চরিত্র ছিলে,আহ্লাদী শিশুর মতো।” রিপ্লাই গেলো অন্যরকম, “এর জন্যে তুমি কি মোটেও দায়ী নও?” আর কোনো উত্তর আসেনি। অমৃতা আয়নার সামনে দাঁড়ালো, একই আছি, মোটেও বদলে যাইনি সূর্য। সময়ের গভীরতায় অধিকার প্রবল হয়েছে আর চাওয়ার পরিধি বেড়েছে। চাওয়া যখনই না-পাওয়ার পথে চলে, তখনই কষ্ট-যন্ত্রণার জন্ম হয়। আর সেই কষ্ট জমে জমে আগ্নেয়গিরি হয়ে যায়। কেন বোঝোনা সূর্য ভালোবাসি এখনও? দিনকে দিন বেড়েই চলছে এই পাগলামী। ভালোবাসার আরেক নাম যে পাগলামী, জানো সেটা? মিস করছো ভালো করেই অনুভব করছি, অস্বীকার করবে? করো।

হ্যামিল্টন, কানাডা
২২ জুন, ২০১৫ ইং।

৬১৬জন ৬১৬জন
0 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ