সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

চড়ুই পাখির সংসার

মুহম্মদ মাসুদ ১৪ মার্চ ২০২০, শনিবার, ১০:৩৩:০৭পূর্বাহ্ন অণুগল্প ৯ মন্তব্য

চড়ুই পাখির সংসার…

গান বাজছে। গুড়ুম গুড়ুম আওয়াজে। তীব্র গানের আওয়াজে আত্মা ধুকপুকানির চিপায় পড়ে চুপসে গেছে। পূর্ব পাড়ায় বিয়ের আয়োজন।
আত্মীয় স্বজনদের ভীড়ে পুরো বাড়ি মুখরিত। ইয়ার্কি মশকারি, ভাবি দেবরের খুনসুটি, রংচং রং মাখিয়ে, হৈ-হুল্লোড়ে মাতোয়ারা গোটা বাড়ির লোকজন।
বিয়ে বাড়ি। যেখানে বিষাক্ত বিষাদের দলাদলি নেই। নেই দুঃখ কষ্টের চিহ্ন টুকুও। আছে শুধু একরাশ নিরুত্তর আনন্দের অনুভূতি। হাসি-তামাশার মিছিল। যে মিছিলের দোরগোড়ায় শুধু সুখ আর সুখ।
কান্নাকাটির সুড়সুড়ি আওয়াজ। যে আওয়াজ হাতুড়ি ছাড়াই দেহমধ্যস্থে ঢুকে গলা অব্দি শুকিয়ে ঠোঁটেঠোঁটে নড়বড়ে করে ফেলে। কান্নার আওয়াজে মানুষের রোগশোক বেড়ে যায়।
পশ্চিম পাড়ার তেমাথার মোড়ের বাড়িতে কান্নাকাটির ঢাকঢোল। পুরো বাড়ির সবাই কাঁদছে। কেউ কেউ কেঁদে কেঁদে অশ্রু শুকিয়ে ফেলেছে। মাথায় হাত রেখে অনেকেই গাছতলায় বসে আছে। কোন কথা নেই। দুই একজন বুড়ো বয়সী মানুষ মুখ টিপে বিড়ি ধরিয়েছে।
ভাই বোন, আত্মীয় স্বজনের অনেকেই এ মহড়ায় উপস্থিত। দুই একজন অনুপস্থিত। রাস্তায় আছে। খুব দ্রুতই পৌঁছে যাবে।
পালকি। বিয়ের পালকি। বাড়ির উঠানের মধ্যমণি।
যে পালকিতে চড়ে নববধূ আসবে ঘরে। পুরো পালকি ফুল দিয়ে সাজানো গোছানো। লাল নীল হলুদ ফিতায় জরানো।
খাটিয়া। লাশের খাটিয়া। বাড়ির উঠানে চিন্তামণি। যে খাটিয়ায় চড়ে দেহ খাঁচা বিদায় নেবে চিরতরে।
খাটিয়া আতর লোবানে সুসজ্জিত। যে সুসজ্জিত সুগন্ধি কলিজার ভিতর অব্দি ঢুকে শুকিয়ে ফেলে দেহমধ্যস্থ গ্রন্থালয়।
বড়ই ভূত অদ্ভুত জীবন। রংতামাশার জীবন। গড়মিলের জীবন। উচ্চ আশা আকাঙ্খার জীবন। তবুও, দুজায়গার দরজায় বেরসিক।

ছবিঃ সংগৃহীত

৩৬২জন ২৫৪জন
23 Shares

৯টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য