সোনেলা দিগন্তে জলসিড়ির ধারে

চুমুকে চুমুকে চায়ের গল্প

আরজু মুক্তা ৫ জুন ২০২১, শনিবার, ০১:০১:১২পূর্বাহ্ন সমসাময়িক ২৬ মন্তব্য

এক কাপ চা…..  একটু ভালোবাসায়, উষ্ণ ছোঁয়ায়, শুধু আমি তোমাকে চাই।

কাজের মাঝে, মাথা ব্যথায়, চাপ কমাতে, ঘুম থেকে উঠে, আবার ঘুম যাবার আগে , আলসেমির ফাঁকে, সকালের নাস্তায়, বিকেলের অবসরে, বন্ধুর আড্ডায়, টিফিনের ফাঁকে, রিমঝিম বৃষ্টিতে, মন খারাপে কিংবা কারণে অকারণে ———- আহারে !  শুধুই চা ; রং এর বাহারে।

” চলো সবাই চা খেয়ে আসি ! ” কোথায় নেই চা ? এসি রুমে, পথের বাঁকে, টং এর দোকানে। বড় মগে, ছোট কাপে কিংবা গ্লাসে গ্লাসে।

ইংরেজিতে চা বা টি কথাটি গ্রীক দেবি থিয়ার এর নামানুসারে করা হয়েছিলো। এর বৈজ্ঞানিক নাম ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস। ১৬৫০ সালে চীনে বাণিজ্যিকভাবে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়। ভারতবর্ষে চাষ শুরু হয় ১৮১৭ সালে। ১৬৫৭ সালে প্রথম চায়ের দোকান হয় ইংল্যান্ডে।

শোনা যায়, চীনেই এর আদি নিবাস। এক বৃদ্ধ একদিন বাগানে বসে পানি ফুটাচ্ছিলেন। এমন সময় ঝড়ে কিছু পাতা পানিতে এসে পরে। তিনি খেয়াল করলেন পানির রং ও বদলে গেছে। তিনি খেয়ে দেখলেন , এর স্বাদও আলাদা। এবং চনমনে লাগছে।

পৃথিবীতে আসাম ও চীন জাতীয় দুই ধরণের চা গাছ পাওয়া যায়। আসাম গাছ বেশ বড় এবং বহু পাতা যুক্ত। চীন জাতীয় গাছ আকারে ছোট এবং পাতার সংখ্যাও কম। বিভিন্ন প্রকারের চা পাওয়া যায়। গ্রীন টি, কালো চা, সাদা চা, ওলং টি, মাচা টি। দুধ চা পান করার সংস্কৃতি কিন্তু ব্রিটিশদের অবদান। এখন তো মাল্টা চা, স্ট্রবেরি চা, তেঁতুল চা, তুলসি চা, কাঁচা মরিচের চা, তন্দুরি চা ; কতো যে চা। তবে, পুরান ঢাকার সর ভাসা মালাই চা এর আবেদনই আলাদা। সিলেটের সাত রং এর চা পান করতে ছুটে যাই ” নীল কণ্ঠ চা কেবিনে। ”

চা গাছ রোপন, আগাছা নিধন, সার প্রয়োগ, কচি পাতা তোলা,, শুকানো, প্যাকিং, ইত্যাদি কাজে দক্ষ অদক্ষ শ্রমিক কাজ করে। তবে, যেহেতু বিষয়টি বেশ ধৈর্যের তাই নারী শ্রমিকদের নিয়োগ দেয়া হয়।

জাপান ও চীনে চায়ের ঔষধি গুণাগুনের জন্য খুব গুরুত্ব দিয়ে চা পান করা হয়। তুর্কি আর পারসিরা তাদের প্রাণীজ আমিষ ও ফ্যাট নির্ভর ভারি গোছের চর্ব্য ও চোষ্য ভোজনের পর মুখশুদ্ধি হিসেবে চা পান করে। আর আমরা চায়ের কাপেই ঝড় তুলেই ফুঁসে তুলেছি, ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা আন্দোলন, নব্বই এর আন্দোলন।  চা নিয়ে কতো কবিতা, কতো গান, কতো কাহিনী। আমরা তো বেঁচে থাকার আশা খুঁজে পাই এক চুমুক চা পান করে। ডাল ভাত খেয়েও চাই এক কাপ চা।

চা এর উপকারীতার কথা আর কী বলবো?

★ চা এনার্জি রিগেইন করে।

★ চা ইমিউন সিস্টেম বৃদ্ধি করে।

★ লেবু চা রিফ্রেশিং করে।

★ মশলাযুক্ত চা শরীরের জন্য ভালো।

★আদা, লেবু ও মধু যুক্ত চা সর্দি কাশিতে উপকারী।

★ স্বাদের জন্য মালাই চা।

★ চা ফোটার পর চা পাতা সারের কাজ করে।

★ মাথায় চায়ের লিকার কন্ডিশনের কাজ করে।

ইস !  এ সময় বৃষ্টি হলে মন্দ হতো না। এতো ইতিহাস জেনে, আরাম কেদারায় বসে, হেড ফোন কানে দিয়ে, চাই শুধু এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চা।

৫২১জন ১৫৮জন
0 Shares

২৬টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য