চিত্রায়িত চিত্রে দৃশ্যায়ন//

বন্যা লিপি ১৬ জুলাই ২০২০, বৃহস্পতিবার, ০৮:৫৬:৪৭অপরাহ্ন অন্যান্য ৩৭ মন্তব্য

প্রদর্শিত চিত্রে অপ্রকাশ্য চিত্রায়ন ?নাকি দৃষ্টি বিভ্রমে চিত্রিত দৃশ্যের কদর্য রূপের বোঝার ভ্রান্তি? প্রজ্ঞা মননের কড়চা কেবল মৌখিক বক্তৃতার খইমুড়ি! সোজা সপাট আক্রমনাত্মক উক্তি প্রকাশেও রহন সহন উধাও! আজিব সেলুকাস!

এবার একটু সোজা বাংলা ভাষায় কই?
উপরিউক্ত বাক্য বুঝতে অনেকেই দাঁত ভাঙবে নিশ্চিত। অসুবিধা নাই।
যার ভাঙবার, তার ভাঙবেই। আসলে কথা কি!! আমি যদি এখন একটা স্টাটাস দেই – ‘ আমার মন কেমন করে, কে জানে কে জানে কে জানে কাহার তরে…… ।আমি নিশ্চিত ৭০% পার্সেন্ট পাবলিক এবং আমার ফ্রেন্ডলিষ্টে থাকা ৭৯% আত্মীয় স্বজন, অতিপরিচিত কাছের ভাই বোন ব্রাদার সকলের হার্টবিট ধরাস কইরা আত্মারাম খাঁচাছাড়া হইয়া তো ভালো! চক্ষু দুইডা পারলে ৭০ বার রগরাইয়া ৭০ হাজাবার স্টাটাসটা পড়বে আর এ ওর কাছে নয়তো আমার ইনবক্স মেসেঞ্জার, নয়তো সরাসরি কেউ কেউ মোবাইল নাম্বারে কল করার হিড়িক পরে যাবে। শুধু তাইনা! কেউ কেউ চা কিংবা কফির আড্ডায় মুচমুচে গসিপ পেয়ে যাবেন নির্দ্ধিধায় । কেউ কল না করলেও, কেউ ইনবক্স মেসেঞ্জারে না এসেও ১০৪’ডিগ্রী শারীরিক উত্তাপে ভোগা শুরু করে দেবেন নিজ খুশিতে—‘আগেই জানতাম! শ্যাষ পর্যন্ত এরকম কিছু হবেই হবে……ব্লা ব্লা ব্লা….”

আমি নিশ্চিত, জরিপের ৭০% পার্সেন্ট শুভ হিতাকাঙ্খী নামক পাবলিকের জানাই নাই…..এটাও একটা ট্রিকস্! কিসের? চাতুরী’র।
অ-প্রকাশিত চেতনা টাইন্না বাইরে আনার চাতুর্য বলে ইহাকে😊 হ্যাঁ আমি এভাবেই বললাম। নানান ধরনের মুখের ভাষা আমরা প্রচলিত শব্দ তরঙ্গের ব্যাবহার করে থাকি সাধারনত। সেই ব্যাবহারটাই এখানেও ব্যাবহৃত করলাম।
ধান ভানতে শিবের গাজন বলে প্রচলিত বাগধারা দিতে বসিনায় বললেও , গাজন একটু বেশিই হয়েই যাচ্ছে।
কথা হচ্ছিলো স্টাটাসটা নিয়ে। এক বিশ্ব নাটের গুরু নোবেল প্রাইজ নিয়া বিশ্বকবির খেতাবে ভূষিত হয়ে যা রেখে গেছে! সেই ১০০ বছর আগে! তাঁর রেখে যাওয়া সমস্ত বাক্য, শব্দের প্রতিটা অনুপরমাণুতে রেখে যাওয়া আবেগ ,অনুভূতি, রোমান্স, পূজা, শীত,গ্রীষ্ম, আষাঢ়,শ্রাবণ,থেকে শুরু করে এমন কোনো ঋতু নেই, যা নিয়ে প্রকৃতি প্রেম বা মানব মানবির প্রেম ভালবাসা প্রকাশ রাখতে খামতি রেখে গেছেন।
তারপর আরো আছেন আমাদের জাতীয় পর্যায়ের বিদ্রোহী এবং দ্রোহের কবি নজরুল ইসলাম কাজীসাব!
মোদ্দা কথা এই তাবড় তাবড় কবি সাহিত্যিকের বেলায় ও এসেছে সেসব যুগ হতে শব্দার্থের শেকলে শৃঙ্খলিত হবার হাতকড়া। তো এখনকার সময়ে আমি/ তুমি/আপনি/আপনারা/ তুই/তোরা কারা ? ওই সেই প্রবাদ বাক্যের চুনোপুঁটি ছাড়া আর কিইবা?

আমি লিখলাম, ‘আমার মন কেমন করে ‘ হগ্গলতে বুইজালাইলো….বুড়া বয়সে মন লইয়া টানাহেঁচড়ায় পড়ছি মনে লয়😳😳!!! সবাইরে এহন আমার ভাঙ্গাইয়া কইতে হইব……”আস্তাগ ফিরুল্লাহ্, নাউজুবিল্লাহ্ মিনজালেক! আসলে এসব কিছুই না, গানটা আজ সারাদিন ধরে শুনছি বলে একখান স্টাটাস মেরে দিলাম আরকি!
এহন লেজুড়বৃত্তি বলে কথা তো আছে! এক কথা থেকে আমরা গোলটেবিলে বলেন আর লম্বা চারকোনা টেবিলই বলেন! কথারা লেজেগোবরে না হলে কি আর গোল টেবিল বৈঠক মানায়? হতেই পারে না! সবকিছুই ফেসবুকে শেয়ার করতে হবে? ফেসবুকটারে পাইছো কি? আচ্ছা এদিকে না যাই।

বলছিলাম, কিছু কথা শব্দের চাতুর্যপনায় লিখে ছেড়ে দিলাম হাওয়া কাগজের বুকে, আমার তৃপ্তি এখানেই যে, আমি চাতুরিটা শিখেছি নিজের মত করে। পাঠক আপনি পড়ছেন! আপনার বোধ ব্যাবহার করছেন আপনার মেধা খরচ করে না বিপরীত মনোভাব নিয়ে! সেটা আপনি মন্তব্যে প্রকাশ করে দিচ্ছেন কিন্তু মন্তব্যের আকারে। সুযোগটাও করে দিচ্ছেন আপনার মনোজগতটাকে চেনাবার।
একজন লেখক লিখছেন তাঁর বোধকে সম্বল করে। পাঠক পড়ছেন তাঁর বোধ থেকে। মন্তব্যে তিনি কি বুঝলেন সেটুকু প্রকাশ না করে করলেন অতি বোধ সম্পন্ন মনোজগতের গতানুগতিক পরিচয় প্রদান! হতেই পারে! এটাও স্বাভাবিক পাঠকের জায়গায়। তাহলে লেখক কি তবে প্রশ্নবিদ্ধ হবার ভয়ে লেখা ছেড়ে দেবে? অথবা তেমনই লিখবে ৭০% পার্সেন্ট পাঠকের মনোজাগতিক ভাবনার মনগড়া ইচ্ছা মাফিক?
অর্থাৎ এখানেও লেখক স্বাধীন নয় লেখায়। তাহলেই লেখককে চরিত্রহীন নোবেল প্রাইজ ধরিয়ে দেয়া হবে খুব সস্তায়।

একটা চারলাইনের লেখা একজন লেখকের -” আমি তো প্রাচীন বট,নগ্ন ছায়া পুষি, কেউ খোঁজে স্বস্তি
কেউ করে দোষী”
এই লেখাটার অর্থ ভাঙতে আমার নিজেরই কয়েকমাস লেগে গেছে। আমার আফসোস হয়, এমন লেখা আমি লিখতে পারিনা।

আমি এমনও লিখতে পারি না—” আমার মনের ঘরে চান্দের আলো চুঁইয়া চুঁইয়া পরে”…..
আমি যা পারি তার দায় আমার। আমি সাধারন বোধ থেকে প্রকাশ করি দ্রোহ, আবেগ, অনুভূতি, রাগ, ক্ষোভ, হতাসা, ঘৃণার মতো কিছু শব্দবন্ধ বাক্য। যে বাক্য পাঠক বুঝতে না পারলে ,তার দায়ও আমার। আমি সহজে ব্যাখ্যা দিতে অপারগ। *তাকে আমি ভালবাসি না, তার সাথে আমার প্রেম,প্রণয় কিছুই নেই- যেটা আছে সেটা আর কারো সাথে নেই*
লেখাটুকু ছোটভাই সিকদার রহমান সাদএর লেখা। এই লেখাটায় “তাকে” শব্দটা বিতর্কিত করেছে লেখককে। এমনও পাঠক আছেন যে অবিবেচকের মতো পরকীয়া বলে মন্তব্যও করে বসলেন। তাতে কি হলো? আমাকে লেখাটুকু ভাবালো। এই “তা’কে ” বলতে কাকে বোঝালো? যখন ভাবতে গেলাম….আমি চমৎকৃত হলাম। আরে আশ্চর্য! এই ‘সে’ টা আছে বলেই তো আমি- আমি হয়ে উঠি নিজের কাছে যখন তখন!
তাকে এগিয়েও দেই কখনো সখনো আবার সামলেও রাখি যখন যেমন চাই!

দৃশ্যত দৃশ্যের পরিকল্পিত প্রেক্ষাপট বড়ই মোহনীয়, যদি বোধের ঘরে জন্ম লয় নবজাতক বোধদয়………

শুভস্য🌹

বন্যা লিপি//
১৬:৭:২০২০
সময়: ৬:৩৩

২২৯জন ১৪জন
0 Shares

৩৭টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য