চিঠি- প্রথম অংশ

এস.জেড বাবু ১১ মার্চ ২০২০, বুধবার, ০৫:৫৫:৪৬অপরাহ্ন একান্ত অনুভূতি ২২ মন্তব্য

বাংলায় চিঠি লিখা অনেক কঠিন আজকাল। তা ও যা লিখা হয়, মোবাইল স্ক্রীনে, টাচ্ প্যাড কি বোর্ডে।
আগে কলমের কালি শেষ হতো, পৃষ্ঠা শেষ হতো। বাকি থাকা কথাগুলি, চিঠির বাম পার্শে খালি অংশে ভার্টিক্যালি লিখা হতো। ছোট থেকে ছোট, আরও ছোট, আরও ছোট হস্তাক্ষর।

আজকাল শুধু চার্জ শেষ হয় মোবাইলের। পৃষ্ঠা উল্টালেই পরে, পৃষ্ঠা শেষ হয়না।

সেই কবে একটা পুরো সাদা পৃষ্ঠার উপর কলম ধরেছিলাম মনে নেই,
সেই কবে লিখতে লিখতে চার পৃষ্ঠা লিখা শেষে, হাজারটা অনুভূতি লিখার বাকি থাকত, মনে নেই। সে সময়ের অনুভূতিগুলো কেমন ছিল, তা ও মনে নেই।

শুধু মনে আছে পড়ার টেবিলের ভাঙ্গা পায়াটার কাছে রাখা ময়লার ঝুড়িটা পূর্ণ হতো, প্রতিবার তোর নামে একপাতা ভাঁজ করে খামে ভরার আগে।
একদিন ক্লাশে যাওয়ার আগে নাস্তার টেবিলে যাচ্ছে তাই অবস্থা, ময়লার ঝুড়িতে রাখা অপূর্ণ চিঠিগুলির সবকটি পড়ে ফেলেছিলেন আমার মা- মিষ্টি করে চোখ রাঙ্গানীর শেষে, কানমলা দেয়ার ফাঁকে লতির নিচে একটু খানি কাজল লাগাতে গিয়ে বলেছিলেন- মুখপোড়াটা বড় হয়েছে।

এরপর যতবার চিঠি লিখতাম, ঝুড়িটা সে রাতেই পুকুরের জলে খালি করতাম। কেউ যেন না দেখে।
তবে, না দেখলেও কেউ যেন বুঝে! বোবা প্রাণী পড়তে না পারলেও, কিছু একটা বোঝে, কখনো দিনের আলোয় পুকুর পাড়ে গেলে- হাঁসের ছানাগুলি কোলাহল থামিয়ে, একেবারে চোখের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসত। হাত বাড়িয়ে আয় আয় ডাকলে এতোটা কাছে আসত, যেন ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়া যায়। সামান্য জলে নামলেই ধরতে পারতাম।

বন্ধুদের নিয়ে বড়শি ফেলে মাছ ধরতে গেলে- বড় বড় মাছগুলো আমার বড়শিতে উঠে আসতো। ভাল করে তাকালে মনে হত, ডিম ওয়ালা মাছগুলিও হাসছে। মনে মনে লজ্জা পেতাম, মাছগুলি কি আমার লিখা পড়ে !

পরের অংশ- পরের পোষ্টে চলবে;

১৮১জন ৩৭জন
12 Shares

২২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য