চাকরদের জবাবদিহিতা
বিভিন্ন ভাবে সরকারের রাজস্ব আয় হয় , আমরা আয়কর দেই , ভ্যাট দেই , ভুমির খাজনা , ভুমি হস্তান্তরে সরকারী নিয়ম অনুযায়ী ষ্ট্যাম্প কিনি , পে- অর্ডার দেই , ডাক টিকেট , বিচিন্ন রকম টোল ইত্যাদি সরাসরি দেই আমরা । এ ব্যতীত বিভিন্ন পরোক্ষ উপায়ে সরকার আমাদের কাছ থেকে রাজস্ব আয় করেন । সরকারী কর্মকর্তাদের বেতন পরিশোধ করা হয় এই রাজস্ব আয় থেকেই । সে হিসেবে প্রতিটি সরকারী কর্মকর্তা আমাদের টাকায় চাকরী করেন । তাঁরা জনগনের চাকর । এমন কোন সরকারী কর্মকর্তা নেই যিনি নিজের বেতন নিজে দেন , অর্থাৎ বিনা বেতনে চাকরি করেন। আমাদের চাকর যেহেতু , সেহেতু কিছু কথা বলাই যায় এখন।

পররাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের অধীন বিশ্বের বিভিন্ন দুতাবাসে চাকরিরত চাকরদের কাছে প্রশ্ন করছিঃ
বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দুতাবাস সমুহে চাকরি করেন আপনারা । আপনাদের কাজটা কি ওখানে ? শুধু মাসে মাসে বেতন , ডিপ্লোম্যাটিক ব্যাগে বিভিন্ন দামী অবৈধ দ্রব্য দেশে পাচার করা ? বিল ভাউচার দিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা ? প্রবাসী বাঙ্গালীদের অসহায়ত্বকে পুজি করে হাজার হাজার টাকা ঘুষ নেয়া ? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে দেশে । এ বিষয়ে আপনাদের কোন ভাবনা আছে ? আপনারা বিদেশে বসে কি করেন ? আপনারা থাকতে বিদেশে কেন প্রতিষ্ঠিত করতে পারলেন না যে ‘ বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে , কোন ধর্মীয় নেতার বিচার হচ্ছে না ।” কেন আন্তর্জাতিক পত্রিকা গুলোতে খবর আসবে রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসীর পরে ” বাংলাদেশে ইসলামী লীডাররের ফাঁসি ” ? একমাত্র করাচীর ডন পত্রিকায় এসেছে খবর ” বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে জামায়াত নেতার ফাঁসি ” । মনে হচ্ছে ১৯৭১ এর শত্রু দেশ পাকিস্থানে আমাদের দুতাবাসের কর্মচারীগণ সঠিক দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা গনপ্রজান্ত্র বাংলাদেশ সরকারের কর্মচারী । পাকিস্থানের কর্মচারী নন বা বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী রাজাকারদের কর্মচারী নন। গনপ্রজাতন্ত্র অর্থ জানেন ? না জানলে বাংলা অভিধান দেখে নিবেন ।
চাকরদের প্রশ্ন করতেই পারি – ঐ চাকর , তোরা আমাদের টাকায় ওখানে চাকরী করো , কেন এসব দায়িত্ব পালন করলি না ? তোরা কি রাজাকারের টাকা খেয়েছ ? আমাদের জনতার সব টাকা ফেরত দিবি , রাজাকারদের স্বার্থ দেখা চাকরেরা ।

এবং ইসলাম ধর্মের নেতা ?
বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে রাজাকার কাদের মোল্লার ফাঁসি মানে একজন ইসলামী নেতাকে পরিকল্পিত ভাবে খুন করা । একজন নৃশংস খুনি , একজন প্রমাণিত হত্যাকারি , একজন রাজাকার যদি ইসলামের মডেল হয় , তবে সে ইসলাম যে কি তা সহজেই অনুমেয়। এই রাজাকার কসাই কাদের যদি ইসলামী নেতা হয় – তাহলে সে ইসলামের উপর আমার আস্থা নেই। সবার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে , রাজাকার কাদের ইসলাম ধর্মের নেতা নয়, সে ‘ জামায়াত ইসলাম ‘ ধর্মের নেতা । দুই ধর্ম আলাদা ।

সূরা আল বাকারার ১০, ১১, ১২ নং আয়াত পড়ুন
আয়াত ১০: তাদের অন্তঃকরণ ব্যাধিগ্রস্থ আর আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। বস্তুতঃ তাদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে ভয়াবহ আযাব, তাদের মিথ্যাচারের দরুন।”
আয়াত ১১ : “আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, দুনিয়ার বুকে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে আমরা তো মীমাংসার পথ অবলম্বন করেছি।”
আয়াত ১২ :
“মনে রেখো, তারাই হাঙ্গামা সৃষ্টিকারী, কিন্তু তারা তা উপলদ্ধি করে না।” ***”হে ঈমানদারগণ ! তোমরা যখন আল্লাহর পথে সফর কর, তখন যাচাই করে নিও এবং যে, তোমাদেরকে সালাম করে তাকে বলো না যে, তুমি মুসলমান নও। তোমরা পার্থিব জীবনের সম্পদ অন্বেষণ কর, বস্তুতঃ আল্লাহর কাছে অনেক সম্পদ রয়েছে”

উপরের আয়াত সমুহ ইসলাম ধর্মের । এসব জামায়াত ইসলাম ধর্মে নেই । তারা এই সব আয়াতের বিরোধী ।

১৭২জন ১৭২জন
0 Shares

১২টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য