তাকে সামনাসামনি প্রথম দেখি পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে; সে তার কয়েকজন সহযোদ্ধার সঙ্গে হেটে আসছিল। দ্বিতীয়বার তার সাথে দেখা পাবলিক লাইব্রেরীর সিড়িতে; সে সেখানে তার ২ বান্ধবীর সাথে বসে গল্প করছিল। আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘাড় ঘুরিয়ে তার দিকে তাকালাম। দেখলাম, ও আসলে অনেক সুইট আর কিউট একটা মেয়ে; মাথায় সিল্কি চুলের সমাহার; শুধু গায়ের রংটা একটু কালো। আমাকে ওভাবে তাকাতে দেখে সেও ঘাড় ঘুরিয়ে ‘আগ্রহ সহকারেই’ আমার দিকে তাকালো। তখন আমি আবার নজর ফিরিয়ে সামনের দিকে হাটতে থাকলাম।

এরপর, ওর ওকে শাহবাগে অনেক দেখেছি। অনেক চোখাচোখি হয়েছে; আমিও সময় সময় দুষ্টামি করে ওর দিকে চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে থাকতাম। সেও হয়তো বুঝতো, এই ছেলেটা ‘হয় আমার সাথে দুষ্টামি করছে, নয়তো আমার প্রতি তার আগ্রহ আছে’! কিন্তু, মজার ব্যাপার হল, শাহবাগে যখনি আমি তাকে দেখতাম, আমার খালি হাসি পেত। অর ড্রেস আপ আর হাটার স্টাইল আমার কাছে খুবই মজাদার মনে হত!

একটা পত্রিকা অফিস থেকে সুকৌশলে ওর নাম্বারটা জোগার করে একদিন ওকে ফোন দিয়েছিলাম। প্রথম আলো পত্রিকায় ওর সাক্ষাতকার ছাপা হওয়ার জন্য ওকে অভিনন্দন জানালাম। ও আমাকে ধন্যবাদ দিয়ে আমার পরিচয় জানতে চাইলো। আমি বললাম, “আমি শেহজাদ আমান। চিনতে পেরেছেন?” ও বললো, “হ্যা, নামটা পরিচিত।” তারপর ও শাহবাগে আছে জানিয়ে পরে কথা বলবে জানিয়ে বিদায় বললো।

এর পর আর ওকে ফোন দেয়া হয়নি। আমার মোবাইল সেট হারিয়ে যাওয়ার কারণে ওর নাম্বারও হারিয়ে গেছে।

সে একটা বাম রাজনৈতিক দলের সাথে ভালভাবেই জড়িত! তার সাথে আবার দেখা হয় তার দলের একটা প্রোগ্রামে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার অডিটরিয়ামে। সে ঐ প্রোগ্রামের সঞ্চালক ছিল এবং ডায়াসের উপর বসা ছিল। আমি যথারীতি দর্শক সারিতে বসেছিলাম। ওখানেও আমাদের চোখাচোখি হল। ওকে দেখলেই আমার খালি হাসি পাচ্ছিল; তাই মাঝে মাঝে আমি মুখ ঘুরিয়ে রাখছিলাম! হথাট, দেখি ও আমার দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে ওর পার্টির একটা মেয়েকে কি জানি বল্লো। ওই সময় আমি আবার একটু নার্ভাস হয়ে পড়েছিলাম; আশঙ্কা করেছিলাম আবার কোন কেচাল না হয়! শেষ পযন্ত অবশ্য কিছুই হয়নি।

ওকে লাস্ট দেখলাম আমার স্বপ্নে, ঘুমের ঘোরে — কয়েকদিন আগে। দেখলাম ও যথারীতি তার মোবাইল প্যান্ট পরে আছে, সাথে নীল’ কালোর মধ্যে একটা চেক শার্ট। ওর লম্বা চুলের বেনিটাও আমার নজর এড়ায়নি :D। আমি স্বপ্নের মধ্যেই ওর সাথে হাত মেলালাম; দেখলাম ও আমাকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে।

মেয়েটার নাম না হয় নাই বললাম। তবে, আশা রাখি নিকট ভবিষ্যতেই ওর সাথে আমার ভালো একটা ‘দোস্তি’ হবে। কোন এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে আমিও বলতে পারবো, “এবার কিছু বলার জন্য আমি অনুরোধ জানাচ্ছি, আমার বোন, আমার বন্ধু, আমার সহযোদ্ধা ………কে।”

ওর প্রতি আমার অনুভূতিটা জাস্ট মানুষের প্রতি মানুষের ভালবাসা; বোনের প্রতি ভাইয়ের ভালোবাসা, বন্ধুর প্রতি বন্ধুর ফিলিংসের চেয়ে বেশি কিছু না।

আজকাল তো বেশিরভাগ ছেলে-মেয়ে একে অপরের সাথে জৈবিক সম্পকের বেশি কিছু ভাবতে পারেনা। সেখানে আমার চিন্তা-ভাবনা অনেকের কাছেই ছেলেমানুষী মনে হতে পারে। কিন্তু, আমি জানি আমি ওকে যেভাবে দেখি, বন্ধুত্বের স্বরুপ এমনই হওয়া উচিত!

ওর সম্পর্কে পুরোপুরি জানিনা; তবে, বিশ্বাস করি ও ভালো একটা মেয়েই হবে। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের জীবনে ওর কাছ থেকে শক্তিশালী একটা বন্ধুতা পেলে আমিই সমৃদ্ধই হব আশা করি!

আমরা তারপর একসাথে আন্দোলন করবো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে হাতে হাত রেখে রুখে দাঁড়াবো!

ওর বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা আর সহযোগিতার বাড়িয়ে দেয়া হাতের প্রত্যাশায় রইলাম! হে আমার অনাগত বন্ধু, তোমায় স্বাগতম!

৩৪৮জন ৩৪৭জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ