ওইসব দেখার সুযোগ তো আর হয় নাই, যতটুকু বুঝেছি, জেনেছি সে অনুযায়ী বলছি:

১. খন্দকার মোশতাক, যিনি ৭১ মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশ মন্ত্রী ছিলেন, ২নং সেক্টর কমান্ডার ও বীর উত্তম, একজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা ,একজন দেশপ্রেমিক। তৎকালীন জাসদের মতে, তার গ্রুপ হল ভারতের মদদকারী বা সাহায্যপুস্ট, দালাল।

খালেদ মোশারফ যখন সেক্টর কমান্ডার হিসাবে যুদ্ধ করছিলেন তখন তার রিক্রুটদের অস্ত্র আর প্রশিক্ষন ও খাবার দাবার দিত ইন্ডিয়ান একটা ব্রিগেড। ঢাকা গেরীলার অধিকাংশই উনার নিজের হাতে গড়া। সৈন্য সংখ্যায় তার সেক্টরেই সবচেয়ে বড়। তাই রেশনও অন্যান্যদের চেয়ে বেশী লাগতো।ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার একদিন উনাকে বললেন, খালেদ তোমার সেক্টরে রেশনে অন্যান্যদের তুলনায় বেশী লাগে কেন? আই এম স্যরি এবার থেকে রেশনিং এর জন্যে ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে তোমাকে রিপোর্ট করা লাগবে। উনি বললেন। স্যার, আমরা মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মনে রাখবেন বন্দুকের নল দু-দিকেই ঘোরানো যায়। ঐ ভারতীয় ব্রিগেডিয়ার আর কোন কথা না বলে চুপ করে গেলেন।
এমন সাহসি খালেদ মোশারফ হয়ে গেলেন ভারতীয় দালাল!

২. মুজিব হটাও, মুজিবপন্থি হটাও, ভারতীয় দালাল দুর করে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কর। ৭৫ শুধুই রক্তাক্ত! যারা এনেছিল দেশ, তাদের বেশির ভাগ নেই। ১৫ আগষ্ট, ৪ নভেম্বর, ৭নভেম্বর। নিজের চাহিদামত, ইতিহাস লেখা হল। প্রতিবাদ করলো না কেও। (দেশপ্রেম) বা দেশের জন্য কিছু করতে হলে কি এভাবে করতে হয়? কথা ওইটাই অস্ত্র হাতে তো ‘মাইরালা সবগুলারে’।

৩. এই যে ৭ নভেম্বরে জাসদের নেতা কর্মীরা বিপ্লব করল, সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য উপসেনাপ্রধান জিয়াকে মুক্ত করলো নিজেদের স্বপ্ন পূরণে অথচ সমাজতন্ত্র নয়, উদ্ভব হল জাতীয়তাবাদের। (জিয়া তাহের কে হত্যা করে সমাজতন্ত্র ওয়ালাদের আই্ক্কাওয়ালা বাঁশ ঠিকই দিয়েছেন)। পরবর্তীতে নিজেও খুন হলেন কোন এক অজানা কারণ নয়, ইতিহাসের বলয়ে পরে।

তাতে দেশের কি ক্ষতি হয়েছে? এই সময় জাসদের নেতা কর্মীদের হাতে নিহত হলেন সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম খালেদ মোশাররফ, মেজর জলিল(সেক্টর কমান্ডার ও জাসদের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং তার একটি বই “অরক্ষীত স্বাধীনতা মানে পরাধীনতা”) আর মেজর আসাদের নেতৃত্বে খালেদ -হুদাকে হত্যার পর কিল ঘুষি লাথি মারতে মারতে দু’তলা থেকে নিচে নামিয়ে এনে গুলি করে হত্যা করা হয় বীর উত্তম লে. কর্নেল এ টি এম হায়দারকে, গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণত্যাগ করলেন আগরতলা ষড়যন্ত্রমামলার অন্যতম আসামী মুক্তিযুদ্ধে ৮নং সেক্টরের সাবসেক্টর কমান্ডার বীর বিক্রম কর্নেল নাজমুল হুদা, সহ অসংখ্য সেনাবাহিনী যারা ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুজিবপন্থি, দেশ হারালো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাদের যাদের অধিকাংশই ছিলেন বীর উত্তম, বীর বিক্রম, বীর প্রতীক।

কি মর্মান্তিক ! আজ পর্যন্ত এই হত্যার বিচারের কোন উদ্যোগই নেয়া হয়নি।

৪. সবকিছুর সাক্ষী হয়ে ছিলেন তঃকালীন সময়ে বঙ্গভবনের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা মইন ইউ আহমেদ। পরবর্তীতে সেনাপ্রধান। যদিও এত ইতিহাস, হত্যা, রক্ত রাতের আধাঁরে ঘটে যাওয়া। ইতিহাসের প্রতিদান দিতে তত্ত্বাবধায়কের বেশে ঠিকই চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি, যার ফলে সংবিধান বাতিল হল, চার নেতা হত্যা বিচার হল। সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, মুজিবতন্ত্রের ভুল, শুদ্ধ, প্রয়োজনীয়তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চেষ্টা করলো। যারা দেখার মন নিয়ে তাকিয়েছে, তারা বুঝেছে এদের চরিত্র।

-স্বার্থপরদের বাঙলা, স্বার্থপরতার বাঙলা। যেখানে ক্ষমতায় যাওয়াই শেষ কথা। যেভাবেই হোক না কেন। নিজেই ভাবুন আপনার কি দায়িত্ব, ইতিহাস সত্য জানবেন, নাকি যখন যে যেভাবে মামুর বাড়ির গল্প পড়ে শোনায় তাতে মনযোগ দিবেন?

-নিজস্ব মতামত, ইতিহাস সংক্ষেপিত, নিরপেক্ষ।

২১৭জন ২১৭জন
0 Shares

১০টি মন্তব্য

মন্তব্য করুন

ফেইসবুকে সোনেলা ব্লগ

লেখকের সর্বশেষ মন্তব্য